০৬:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
রূপসায় মেয়েকে বাল্যবিয়ে দিতে গিয়ে সাংবাদিক আটক-মুচলেকায় মুক্তি

বিয়ের প্যান্ডেল ভেঙ্গে দেয়ার পরও গোপনে বিয়ে, তদন্তর্পূবক আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন

###    খুলনার রূপসায় নিজের ৭ম শ্রেনী পড়ুয়া মেয়েকে বাল্যবিয়ে দিতে গিয়ে প্রশাসনের হাতে আটক হওয়ার পর ১৮বছর বয়স না হলে বিয়ে না দেয়ার মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পেয়েছেন আ: রাজ্জাক নামে স্থানীয় এক সাংবাদিক।এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভুমি) মোঃ সাজজাদ হোসেনের নেতৃত্বে প্রশাসন ও পুলিশ বিয়ের প্যান্ডেল ভেঙ্গে দেয়। শুক্রবার দুপুরে রূপসা উপজেলার গোয়াল বাথান গ্রামের বাসিন্দা সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাকের বাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে। তবে মুচলেকা দেয়ার পরও গোপনে অন্যত্র নিয়ে নিজের মেয়েকে বাল্যবিয়ে দিয়েছেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, মেয়ে বৈশাখী ইয়াসমিনের জন্ম নিবন্ধন জালিয়াতি করে বয়স বাড়িয়ে গোপনে নিজ কণ্যাকে বাল্যবিয়ে দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা করতে গিয়ে এই আইনী জটিলতায় পড়েন সাংবাদিক রাজ্জাক।এদিকে, গোপনে বিয়ে দেয়ার পর শনিবার বরের বাড়িতে অনুষ্ঠিত বউভাত অনুষ্ঠান করার সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)’র নেতৃত্বে প্রশাসন তা বন্ধ করে দেয়। অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকতার আড়ালে কয়েকদিন আগে উপজেলার নেহালপুর এলাকায় অবৈধভাবে ইটের ভাটাও গড়ে তোলে আ: রাজ্জাক। পরে খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন সে ইটের ভাটা উচ্ছেদ করে দেয়। ওই সাংবাদিকের এধরনের বেআইনী ও অনৈতিক এবং সম্মানহানীকর কমর্কান্ডে রূপসা উপজেলার সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

রূপসা উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভুমি) মোঃ সাজজাদ হোসেন জানান, উপজেলার গোয়াল বাথান গ্রামের বাসিন্দা সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাকের কণ্যা বৈশাখী ইয়াসমিন(১৪) কাজদিয়া সরকারী উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী। রাজ্জাক নিজের অপ্রাপ্ত বয়স্ক কন্যার সাথে বাল্যবিয়ে ঠিক করেন কুয়েত প্রবাসি হিরণ ফকিরের সাথে। হিরন ফকির উপজেলার আনন্দনগর গ্রামের ছোট ঝিলে গ্রামের খোশদেল ফকিরের ছেলে। কণের বয়স কম থাকায় জন্ম নিবন্ধন জালিয়াতির মাধ্যমে বয়স ১৭বছর তৈরী করে কয়েকদিন আগে গোপনে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করে। পরে ১০ফেব্রুয়ারী আনুষ্ঠানিকভাবে কণেকেেআনুষ্টানিকভাবে তুলে দেওয়ার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় রাজ্জাকের নিজ বাড়িতে। এ বাল্য বিয়ের বিষয়ে খুলনা জেলা প্রশাসকের নিকট অভিযোগ গেলে তিনি  সাথে সাথে বিয়ে অনুষ্ঠান বন্ধপূর্বক আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা মোতাবেক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ সাজজাদ হোসেনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালতের টিম দুপুরে হাজির হন সাংবাদিক রাজ্জাকের বাড়িতে। তিনি বিয়ে বাড়ি গিয়ে অনুষ্ঠানের প্যান্ডেল ভাংচুর করে দেন এবং বাল্যবিয়ে দেয়ার অভিযোগে মেয়ের পিতা সাংবাদিক আ: রাজ্জাককে আটকের নির্দেশ দেয়।পুলিশ তাৎক্ষনিকভাবে রাজ্জাককে আটক করে। এ সময় রাজ্জাক ভ্রাম্যমাণ আদালতকে জানায় “এখানে কোন বিয়ে হচ্ছে না। ছেলে পক্ষ কণে দেখতে আসছে।” কিভাবে বাল্য বিয়ের আয়োজন করা হলো জানতে চাইলে কণের পিতা রাজ্জাক একটি জন্ম নিবন্ধন দেখান। যেখানে বয়স উল্লেখ রয়েছে ১৭বছর। এ সময় ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জন্ম নিবন্ধন জাল বলে দাবি করেন। তখন জন্ম নিবন্ধন জব্দ করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় স্থানীয় মেম্বর ও চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় রাজ্জাক মেয়েকে বিয়ে না দেয়ার মুচলেকা দেয়ায় তাকে মুক্তি দেয়া হয়। মুচলেকায় রাজ্জাক বলেন, “আমি : রাজাক শেখ আমার মেয়ের বিয়ের অনুাষ্ঠানের আয়োজন করছি। কিন্তু মেয়ের বয়স ১৮ (আঠার) বছর পূর্ণ হয়নি। মেয়ে আইন অনুযায়ী প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত সাংসারিক জীবন অতিবাহিত করবে না। যদি এর ব্যাত্যায় ঘটে তাহলে আমার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে আমার কোন আপত্তি থাকবে না। আমার স্বীকারোক্তি আদালতের সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হইবে।”

পরবর্তীতে ১১ফেব্রুয়ারী শনিবার উপজেলার আনন্দনগর গ্রামে বরের বাড়িতে বউ ভাতের আয়োজন করা হয়। খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ সাজজাদ হোসেনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত সেখানেও হানা দিয়ে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। এ সময় বর ভ্রাম্যমাণ আদালতের আগমনের খবর পেয়ে পালিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে সরকারী কাজদিয়া কলেজিয়েট স্কুলের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ খান মারুফুল হক জানান, স্থানীয় সাংবাদিক আ: রাজ্জাকের মেয়ে বৈশাখী ইয়াসমিন আমার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৭ম শ্রেনীতে অধ্যায়নরত। লোক মারফত জানতে পেরেছি পারিবারিকভাবে তাকে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। যা বেআইনী বলে তিনি মনে করেন।

৪নং টিএসবি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর শেখ জানান, সাংবাদিক রাজ্জাক তার মেয়ে বৈশাখী ইয়াসমিনের যে জন্ম নিবন্ধন ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে পেশ করেছে তা আমার ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নেওয়া হয়নি। এমনকি ওই জন্ম নিবন্ধনে আমার যে স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে তাও আমার নয়-জাল স্বাক্ষর করা হয়েছে।ভ্রাম্যমান আদালতের কাছে মুচলেকা দিয়েও যদি সে মেয়েকে বিয়ে দিয়ে থাকে তবে সে গুরুতর অন্যায় করেছে। সরকারের আইন ভেঙ্গে এ ধরনের বাল্যবিয়ে দেয়ার কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত বলেও তিনি জানান।

রূপসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার কোনিুর জাহান জানান, স্থানীয় সাংবাদিক আ: রাজ্জাকের মেয়ের বাল্যবিয়ের খবর জানতে পেরে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা মোতাবেক তাৎক্ষনিকভাবে এসিল্যান্ডকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।কণের পিতা মুচলেকা দিয়েছে। তবে এ বাল্যবিয়ের বিষয়ে তদন্তের জন্য উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থ্যা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান। ##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik adhumati

জনপ্রিয়

দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত 

রূপসায় মেয়েকে বাল্যবিয়ে দিতে গিয়ে সাংবাদিক আটক-মুচলেকায় মুক্তি

বিয়ের প্যান্ডেল ভেঙ্গে দেয়ার পরও গোপনে বিয়ে, তদন্তর্পূবক আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন

প্রকাশিত সময় : ১১:২৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

###    খুলনার রূপসায় নিজের ৭ম শ্রেনী পড়ুয়া মেয়েকে বাল্যবিয়ে দিতে গিয়ে প্রশাসনের হাতে আটক হওয়ার পর ১৮বছর বয়স না হলে বিয়ে না দেয়ার মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পেয়েছেন আ: রাজ্জাক নামে স্থানীয় এক সাংবাদিক।এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভুমি) মোঃ সাজজাদ হোসেনের নেতৃত্বে প্রশাসন ও পুলিশ বিয়ের প্যান্ডেল ভেঙ্গে দেয়। শুক্রবার দুপুরে রূপসা উপজেলার গোয়াল বাথান গ্রামের বাসিন্দা সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাকের বাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে। তবে মুচলেকা দেয়ার পরও গোপনে অন্যত্র নিয়ে নিজের মেয়েকে বাল্যবিয়ে দিয়েছেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, মেয়ে বৈশাখী ইয়াসমিনের জন্ম নিবন্ধন জালিয়াতি করে বয়স বাড়িয়ে গোপনে নিজ কণ্যাকে বাল্যবিয়ে দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা করতে গিয়ে এই আইনী জটিলতায় পড়েন সাংবাদিক রাজ্জাক।এদিকে, গোপনে বিয়ে দেয়ার পর শনিবার বরের বাড়িতে অনুষ্ঠিত বউভাত অনুষ্ঠান করার সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)’র নেতৃত্বে প্রশাসন তা বন্ধ করে দেয়। অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকতার আড়ালে কয়েকদিন আগে উপজেলার নেহালপুর এলাকায় অবৈধভাবে ইটের ভাটাও গড়ে তোলে আ: রাজ্জাক। পরে খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন সে ইটের ভাটা উচ্ছেদ করে দেয়। ওই সাংবাদিকের এধরনের বেআইনী ও অনৈতিক এবং সম্মানহানীকর কমর্কান্ডে রূপসা উপজেলার সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

রূপসা উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভুমি) মোঃ সাজজাদ হোসেন জানান, উপজেলার গোয়াল বাথান গ্রামের বাসিন্দা সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাকের কণ্যা বৈশাখী ইয়াসমিন(১৪) কাজদিয়া সরকারী উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী। রাজ্জাক নিজের অপ্রাপ্ত বয়স্ক কন্যার সাথে বাল্যবিয়ে ঠিক করেন কুয়েত প্রবাসি হিরণ ফকিরের সাথে। হিরন ফকির উপজেলার আনন্দনগর গ্রামের ছোট ঝিলে গ্রামের খোশদেল ফকিরের ছেলে। কণের বয়স কম থাকায় জন্ম নিবন্ধন জালিয়াতির মাধ্যমে বয়স ১৭বছর তৈরী করে কয়েকদিন আগে গোপনে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করে। পরে ১০ফেব্রুয়ারী আনুষ্ঠানিকভাবে কণেকেেআনুষ্টানিকভাবে তুলে দেওয়ার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় রাজ্জাকের নিজ বাড়িতে। এ বাল্য বিয়ের বিষয়ে খুলনা জেলা প্রশাসকের নিকট অভিযোগ গেলে তিনি  সাথে সাথে বিয়ে অনুষ্ঠান বন্ধপূর্বক আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা মোতাবেক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ সাজজাদ হোসেনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালতের টিম দুপুরে হাজির হন সাংবাদিক রাজ্জাকের বাড়িতে। তিনি বিয়ে বাড়ি গিয়ে অনুষ্ঠানের প্যান্ডেল ভাংচুর করে দেন এবং বাল্যবিয়ে দেয়ার অভিযোগে মেয়ের পিতা সাংবাদিক আ: রাজ্জাককে আটকের নির্দেশ দেয়।পুলিশ তাৎক্ষনিকভাবে রাজ্জাককে আটক করে। এ সময় রাজ্জাক ভ্রাম্যমাণ আদালতকে জানায় “এখানে কোন বিয়ে হচ্ছে না। ছেলে পক্ষ কণে দেখতে আসছে।” কিভাবে বাল্য বিয়ের আয়োজন করা হলো জানতে চাইলে কণের পিতা রাজ্জাক একটি জন্ম নিবন্ধন দেখান। যেখানে বয়স উল্লেখ রয়েছে ১৭বছর। এ সময় ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জন্ম নিবন্ধন জাল বলে দাবি করেন। তখন জন্ম নিবন্ধন জব্দ করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় স্থানীয় মেম্বর ও চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় রাজ্জাক মেয়েকে বিয়ে না দেয়ার মুচলেকা দেয়ায় তাকে মুক্তি দেয়া হয়। মুচলেকায় রাজ্জাক বলেন, “আমি : রাজাক শেখ আমার মেয়ের বিয়ের অনুাষ্ঠানের আয়োজন করছি। কিন্তু মেয়ের বয়স ১৮ (আঠার) বছর পূর্ণ হয়নি। মেয়ে আইন অনুযায়ী প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত সাংসারিক জীবন অতিবাহিত করবে না। যদি এর ব্যাত্যায় ঘটে তাহলে আমার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে আমার কোন আপত্তি থাকবে না। আমার স্বীকারোক্তি আদালতের সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হইবে।”

পরবর্তীতে ১১ফেব্রুয়ারী শনিবার উপজেলার আনন্দনগর গ্রামে বরের বাড়িতে বউ ভাতের আয়োজন করা হয়। খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ সাজজাদ হোসেনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত সেখানেও হানা দিয়ে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। এ সময় বর ভ্রাম্যমাণ আদালতের আগমনের খবর পেয়ে পালিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে সরকারী কাজদিয়া কলেজিয়েট স্কুলের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ খান মারুফুল হক জানান, স্থানীয় সাংবাদিক আ: রাজ্জাকের মেয়ে বৈশাখী ইয়াসমিন আমার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৭ম শ্রেনীতে অধ্যায়নরত। লোক মারফত জানতে পেরেছি পারিবারিকভাবে তাকে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। যা বেআইনী বলে তিনি মনে করেন।

৪নং টিএসবি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর শেখ জানান, সাংবাদিক রাজ্জাক তার মেয়ে বৈশাখী ইয়াসমিনের যে জন্ম নিবন্ধন ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে পেশ করেছে তা আমার ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নেওয়া হয়নি। এমনকি ওই জন্ম নিবন্ধনে আমার যে স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে তাও আমার নয়-জাল স্বাক্ষর করা হয়েছে।ভ্রাম্যমান আদালতের কাছে মুচলেকা দিয়েও যদি সে মেয়েকে বিয়ে দিয়ে থাকে তবে সে গুরুতর অন্যায় করেছে। সরকারের আইন ভেঙ্গে এ ধরনের বাল্যবিয়ে দেয়ার কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত বলেও তিনি জানান।

রূপসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার কোনিুর জাহান জানান, স্থানীয় সাংবাদিক আ: রাজ্জাকের মেয়ের বাল্যবিয়ের খবর জানতে পেরে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা মোতাবেক তাৎক্ষনিকভাবে এসিল্যান্ডকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।কণের পিতা মুচলেকা দিয়েছে। তবে এ বাল্যবিয়ের বিষয়ে তদন্তের জন্য উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থ্যা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান। ##