১১:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিশ্ব জলবায়ু অবরোধে উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবী

###    বিশ্ব জলবায়ু অবরোধ-২০২৩ এ উপকূলের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবী করেছে জলবায়ু অধিপরামর্শ ফোরাম নেতৃবৃন্দ। শুক্রবার সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা লিডার্স-এর সহযোগিতায় শ্যামনগর উপজেলা জলবায়ু অধিপরামর্শ ফোরাম ও শ্যামনগর উপজেলা যুব ফোরাম যৌথভাবে এ বিশ্ব জলবায়ু অবরোধ কর্মসূচী উদযাপন করে। জলবায়ু অবরোধ কর্মসূচীতে শ্যামনগর উপজেলা জলবায়ু অধিপরামর্শ ফোরামের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মাষ্টার নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস.এম আতাউল হক দোলন। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান খালেদা আয়ূব ডলি, ফোরামের সম্পাদক সাংবাদিক রনজিৎ বর্মন, ফোরামের সদস্য সহকারী অধ্যাপক মানবেন্দ্র দেবনাথ, শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি জিএম আকবর কবীর, সাংবাদিক আবু সাঈদ, সাংবাদিক মারুফ হোসেন মিলন, এ্যাকশন এইডের উপজেলা ম্যানেজার লস্কর হোসেন ও উপজেলা যুব ফোরামের সভাপতি মোমিনুর রহমান প্রমূখ। অবরোধ পালনকালে বক্তারা বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব উপকূলীয় অঞ্চল তথা সারাবিশ্বের উন্নয়নের সকল পদক্ষেপকে প্রভাবিত করছে। উন্নত দেশগুলি গ্রীনহাউজ গ্যাস নির্গমন করে জলবায়ু পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করছে। বাংলাদেশ কোন ভূমিকা না রেখেও বেশী ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চল আরো বেশী ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এই জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলা করা ও ক্লাইমেট জাস্টিস প্রতিষ্ঠার জন্য সুইডেনের স্কুল ছাত্রী প্রতিবাদী শিশু অগ্নিকন্যা গ্রেটা থানবার্গার ফ্রাইডেজ ফর ফিউচার সারাবিশ্বের সাধারন জনগণ, যুব ও স্কুল ছাত্ররা জনসমাবেশ, র‌্যালী, মানববন্ধন ও পথসভা করছে।” জলবায়ু অবরোধে বক্তারা আরও বলেন, “বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের বসবাসকারী মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে নানা ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। আজ যদি সচেতন না হই এবং আমাদের ক্ষয়ক্ষতি বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে না পারি তাহলে ভবিষ্যতে উপকুলবাসী ভয়াবহ বিপদের মধ্যে পড়বে। এজন্য সকলকে এই আন্দোলনের সাথে একাত্বতা ঘোষণা করার আহবান জানান।

সভায় ১১দফা দাবীনামা তুলে ধরা হয়। দাবীনামা হলো-সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট জেলাকে জলবায়ু ঝুঁকিপুর্ণ বা দুর্যোগ ঝুঁকিপুর্ণ এলাকা ঘোষণা করতে হবে, দক্ষিণ-পশ্চিম উপক‚লীয় অঞ্চলকে রক্ষার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে বাজেটে বিশেষ বরাদ্ধ দিতে হবে, উপকুলীয় এলাকায় একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের আদলে একটি বাড়ি একটি শেল্টার কার্যক্রম শুরু করতে হবে, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগকে মাথায় রেখে স্থায়ী ও মজবুত বেড়িবাঁধ পুন:নির্মান করতে হবে, উপকুলীয় সকল মানুষের খাবার পানির টেকসই ও স্থায়ী সমাধান করতে হবে, উপকূল উন্নয়ন বোর্ড গঠন করতে হবে, দ্রুততার সাথে ভঙ্গুর স্লুইসগেটগুলো মেরামত করতে হবে, জনসংখ্যার অনুপাতে পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টার সহ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, ঝড়-ঝঞ্ঝা, নদীভাঙ্গন ও ভূমিক্ষয় ঠেকাতে উপকূল, দ্বীপ ও চরাঞ্চলে ব্যাপকহারে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি গ্রহণ এবং প্যারাবন বা সবুজ বেষ্টনী গড়ে তুলতে হবে, উপকুলের রক্ষাকবচ সুন্দরবন রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং উপকূলে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ০৩মার্চ সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগরে ও খুলনা জেলার কয়রাতে পৃথকভাবে এই জলবায়ু অবরোধ কর্মসূচী-২০২৩ উদযাপন করা হয়। ##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik adhumati

জনপ্রিয়

কুয়েটে পবিত্র ঈদ-উল-আযহার জামাত সকাল ৭ টায় 

বিশ্ব জলবায়ু অবরোধে উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবী

প্রকাশিত সময় : ০৯:০৭:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ মার্চ ২০২৩

###    বিশ্ব জলবায়ু অবরোধ-২০২৩ এ উপকূলের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবী করেছে জলবায়ু অধিপরামর্শ ফোরাম নেতৃবৃন্দ। শুক্রবার সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা লিডার্স-এর সহযোগিতায় শ্যামনগর উপজেলা জলবায়ু অধিপরামর্শ ফোরাম ও শ্যামনগর উপজেলা যুব ফোরাম যৌথভাবে এ বিশ্ব জলবায়ু অবরোধ কর্মসূচী উদযাপন করে। জলবায়ু অবরোধ কর্মসূচীতে শ্যামনগর উপজেলা জলবায়ু অধিপরামর্শ ফোরামের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মাষ্টার নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস.এম আতাউল হক দোলন। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান খালেদা আয়ূব ডলি, ফোরামের সম্পাদক সাংবাদিক রনজিৎ বর্মন, ফোরামের সদস্য সহকারী অধ্যাপক মানবেন্দ্র দেবনাথ, শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি জিএম আকবর কবীর, সাংবাদিক আবু সাঈদ, সাংবাদিক মারুফ হোসেন মিলন, এ্যাকশন এইডের উপজেলা ম্যানেজার লস্কর হোসেন ও উপজেলা যুব ফোরামের সভাপতি মোমিনুর রহমান প্রমূখ। অবরোধ পালনকালে বক্তারা বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব উপকূলীয় অঞ্চল তথা সারাবিশ্বের উন্নয়নের সকল পদক্ষেপকে প্রভাবিত করছে। উন্নত দেশগুলি গ্রীনহাউজ গ্যাস নির্গমন করে জলবায়ু পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করছে। বাংলাদেশ কোন ভূমিকা না রেখেও বেশী ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চল আরো বেশী ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এই জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলা করা ও ক্লাইমেট জাস্টিস প্রতিষ্ঠার জন্য সুইডেনের স্কুল ছাত্রী প্রতিবাদী শিশু অগ্নিকন্যা গ্রেটা থানবার্গার ফ্রাইডেজ ফর ফিউচার সারাবিশ্বের সাধারন জনগণ, যুব ও স্কুল ছাত্ররা জনসমাবেশ, র‌্যালী, মানববন্ধন ও পথসভা করছে।” জলবায়ু অবরোধে বক্তারা আরও বলেন, “বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের বসবাসকারী মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে নানা ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। আজ যদি সচেতন না হই এবং আমাদের ক্ষয়ক্ষতি বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে না পারি তাহলে ভবিষ্যতে উপকুলবাসী ভয়াবহ বিপদের মধ্যে পড়বে। এজন্য সকলকে এই আন্দোলনের সাথে একাত্বতা ঘোষণা করার আহবান জানান।

সভায় ১১দফা দাবীনামা তুলে ধরা হয়। দাবীনামা হলো-সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট জেলাকে জলবায়ু ঝুঁকিপুর্ণ বা দুর্যোগ ঝুঁকিপুর্ণ এলাকা ঘোষণা করতে হবে, দক্ষিণ-পশ্চিম উপক‚লীয় অঞ্চলকে রক্ষার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে বাজেটে বিশেষ বরাদ্ধ দিতে হবে, উপকুলীয় এলাকায় একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের আদলে একটি বাড়ি একটি শেল্টার কার্যক্রম শুরু করতে হবে, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগকে মাথায় রেখে স্থায়ী ও মজবুত বেড়িবাঁধ পুন:নির্মান করতে হবে, উপকুলীয় সকল মানুষের খাবার পানির টেকসই ও স্থায়ী সমাধান করতে হবে, উপকূল উন্নয়ন বোর্ড গঠন করতে হবে, দ্রুততার সাথে ভঙ্গুর স্লুইসগেটগুলো মেরামত করতে হবে, জনসংখ্যার অনুপাতে পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টার সহ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, ঝড়-ঝঞ্ঝা, নদীভাঙ্গন ও ভূমিক্ষয় ঠেকাতে উপকূল, দ্বীপ ও চরাঞ্চলে ব্যাপকহারে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি গ্রহণ এবং প্যারাবন বা সবুজ বেষ্টনী গড়ে তুলতে হবে, উপকুলের রক্ষাকবচ সুন্দরবন রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং উপকূলে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ০৩মার্চ সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগরে ও খুলনা জেলার কয়রাতে পৃথকভাবে এই জলবায়ু অবরোধ কর্মসূচী-২০২৩ উদযাপন করা হয়। ##