১১:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ২২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
সংশ্লিষ্ঠ কৃষি বিভাগের উদাসীনতায় বাগেরহাটের চিতলমারীতে সার সিন্ডিকেটের দৌরত্ম চরমে 

ভর্তুকির সার বিক্রিতে ডিলারদের দুর্নীতিতে বিপাকে চাষিরা

###    কৃষি প্রধান বাংলাদেশ, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে” মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এমন ঘোষনায় কৃষিখাতকে গুরুত্ব দিয়ে সারের ভর্তুকি প্রদান করেছেন সরকার। কিন্তু সংশ্লিষ্ঠ কৃষি বিভাগের উদাসীনতা ও অব্যবস্থাপনায় বাগেরহাটের চিতলমারীতে সার সিন্ডিকেটের দৌরত্ম চরমে উঠেছে। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের সার ডিলারদের মধ্যে দুর্নীতি ও অনিয়ম যেন দেখার কেউ নাই। গোডাউনের মজুদ সার বর্ধিতমূল্যে বিক্রি করে চাষিদের কাছ থেকে প্রায় ৩৩ লাখ টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে হাতিয়ে নিতে বেচা-বিক্রি শুরু করে দিয়েছে ডিলাররা ।

একদিকে সরকারী নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সারের বাড়তি মূল্য নেওয়া হচ্ছে। অপরদিকে ইউনিয়ন ডিলাররা চাষি ও সাব ডিলারদের সরকারী নির্ধারিত মূল্যের সার বিক্রির রশিদ প্রদান করছেন না। ফলে গোজা মিলের হিসাব নিকাশে সরকারকর্তৃক কৃষকের ভর্তুকীর সার বর্ধিতমূল্যে বিকিকিনি চলছে। এমনকি সাব ডিলারদের কোটার সার কালোবাজারে বিক্রি করার কারণে উপজেলার বিভিন্ন মুদি দোকানে লাইসেন্স বিহিন বিভিন্ন সার ও কীটনাশক বিক্রি হচ্ছে। এর ফলে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে অপর দিকে সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন হচ্ছে । সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সরকার ঘোষিত সর্বশেষ সারের বর্ধিত মূল্যের আগে মজুদকৃত সার প্রকার ভেদে  প্রতি কেজি ২৭ থেকে ৩০ টাকায় খুচরা ও পাইকারী দরে বিক্রি করা হচ্ছে। গত ১০ এপ্রিল সরকার ঘোষিত প্রতি কেজি সার প্রকার ভেদে পাঁচ টাকা বাড়ানো হয়। তবে গোডাউনে ১০এপ্রিল নাগাত সার মজুদে আছে এমন ডিলারগণ বাড়তি মূল্যে সার বিক্রি করতে পারবেনা।

১০ এপ্রিল ২০২৩ তারিখ উপজেলা কৃষি অফিসের হিসাব মতে চিতলমারীতে জয় অয়েল এজেন্সির সার মজুদ ছিলো: ইউরিয়া ৯৭০ বস্তা, টিএসপি ৪১২, ডিএপি ৫১৪ ও এমওপি ১৩১ বস্তা। সানজিদা এন্টার প্রাইজের ইউরিয়া ২৪৭ বস্তা, টিএসপি ৭২০, ডিএপি ২০০ ও এমওপি ৭০ বস্তা।শেখ ট্রেডার্সের ইউরিয়া ৯৪০ বস্তা, টিএসপি এক হাজার ১০২ বস্তা, ডিএপি ১৫১ ও এমওপি ৩১৩বস্তা। ভাইভাই ট্রেডার্সের ইউরিয়া ৫৯৮বস্তা, টিএসপি ৭৮০, ডিএপি ৩১০ ও এমওপি ১৩২ বস্তা। হাজরা ট্রেডার্সের ইউরিয়া এক হাজার ৮৪বস্তা, টিএসপি ৯৫৩, ডিএপি ৩০৫ ও এমওপি ১১১বস্তা। এন এস ট্রেডার্সের ইউরিয়া এক হাজার ১৪০বস্তা, টিএসপি ৫১৮, ডিএপি ৩০৫ ও এমওপি ২৩২বস্তা। জয় এন্টার প্রাইজের ইউরিয়া ৯৫, টিএসপি ৪০০, ডিএপি ৩০০ এবং এমওপি ৯০ বস্তা। উক্ত সারগুলি বর্ধিত দরের আওতায় বিক্রি করতে সরকারী বিধি নিষেধথাকা সত্বেও প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে বর্ধিতমূল্য।ফলে সিন্ডিকেটের রোশানলে চাষীদের সার ক্রয়ে বাড়তি গুনতে হচ্ছে ৩২ লাখ ৭৮ হাজার ৭৫০ টাকা।

কুরমনি গ্রামের চাষি সচিন বিশ্বাস বলেন, আমি মাত্র কয়েক কেজি ডিএপি সারের জন্য সার ডিলার কালাম শেখ এর দোকান, জীবন হাজরার দোকান ও ডিলার মাও: সোহেল শেখের দোকানে গেলে সরকারী বরাদ্ধের সার নাই বলে জানিয়েছে ডিলার মালিকরা। কাননচক বাজারের সাব ডিলার আনিচ খান জানান, ইউনিয়ন ডিলার নেকবারের কাছে বারবার সারের জন্য যাওয়া হলেও তাকে ফেরত দেয়া হয়েছে। পরে বেশী দামে ২ বস্তা সার কিনে দোকান চালাচ্ছেন। বিষয়টি উপজেলা কৃষি অফিসারকে জানিয়ে কোন ফল হয়নি। ওয়ার্ডের চাষিদের ঠিকমত সার দিতে পারছেন না বলে জানান তিনি। দলুয়াগুণী বাজারের ওয়ার্ড ডিলার ফারুক জানান, জয়ওয়েল এর ডিলার পান্নু ফকির এর কাছ থেকে বেশী দামে সার কিনে এনেছি। তিনি পূর্বের দামের সার বিক্রি করছেন বাড়তি দামে । তবে ডিলাররা সার ক্রয়ের কোন রশিদ দিচ্ছেন না বলে জানা তিনি। এছাড়াও চর বড়বাড়িয়া এলাকার ওয়ার্ড ডিলার সুকুমার বনিক জানান তিনি জয় এজেন্সির ডিলার পান্নু ফকির এর কাছ থেকে মাত্র ১বস্তা ইউরিয়া সার এনেছেন। ১বস্তার দাম চেয়েছেন ১৩২০ টাকা দিয়েছেন ১৩০০টাকা। তবে কোন মেমো তাকে দেয়া হয়নি।

এব্যপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইয়েদা ফয়জুন্নেছা জানান, সরকারী বর্ধিত মূল্যের ডিলারদের গোডাউনে যে সকল সার মজুদ ছিলো তা বাড়তি মূল্যে বিক্রি করা হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিফাত আল মারুফ জানান, আইনের বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই, আপনারা সহযোগিতা করুন। উপজেলা সার ডিলার সমিতির সভাপতি মাও: মো: সোহেল শেখ জানান ভাই মিথ্যা কথা বলবোনা। কমরেটেও বিক্রি করছি আবার বাড়তি রেটেও দাম নিচ্ছি।##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik adhumati

সংশ্লিষ্ঠ কৃষি বিভাগের উদাসীনতায় বাগেরহাটের চিতলমারীতে সার সিন্ডিকেটের দৌরত্ম চরমে 

ভর্তুকির সার বিক্রিতে ডিলারদের দুর্নীতিতে বিপাকে চাষিরা

প্রকাশিত সময় : ০৫:৩৩:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ মে ২০২৩

###    কৃষি প্রধান বাংলাদেশ, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে” মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এমন ঘোষনায় কৃষিখাতকে গুরুত্ব দিয়ে সারের ভর্তুকি প্রদান করেছেন সরকার। কিন্তু সংশ্লিষ্ঠ কৃষি বিভাগের উদাসীনতা ও অব্যবস্থাপনায় বাগেরহাটের চিতলমারীতে সার সিন্ডিকেটের দৌরত্ম চরমে উঠেছে। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের সার ডিলারদের মধ্যে দুর্নীতি ও অনিয়ম যেন দেখার কেউ নাই। গোডাউনের মজুদ সার বর্ধিতমূল্যে বিক্রি করে চাষিদের কাছ থেকে প্রায় ৩৩ লাখ টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে হাতিয়ে নিতে বেচা-বিক্রি শুরু করে দিয়েছে ডিলাররা ।

একদিকে সরকারী নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সারের বাড়তি মূল্য নেওয়া হচ্ছে। অপরদিকে ইউনিয়ন ডিলাররা চাষি ও সাব ডিলারদের সরকারী নির্ধারিত মূল্যের সার বিক্রির রশিদ প্রদান করছেন না। ফলে গোজা মিলের হিসাব নিকাশে সরকারকর্তৃক কৃষকের ভর্তুকীর সার বর্ধিতমূল্যে বিকিকিনি চলছে। এমনকি সাব ডিলারদের কোটার সার কালোবাজারে বিক্রি করার কারণে উপজেলার বিভিন্ন মুদি দোকানে লাইসেন্স বিহিন বিভিন্ন সার ও কীটনাশক বিক্রি হচ্ছে। এর ফলে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে অপর দিকে সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন হচ্ছে । সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সরকার ঘোষিত সর্বশেষ সারের বর্ধিত মূল্যের আগে মজুদকৃত সার প্রকার ভেদে  প্রতি কেজি ২৭ থেকে ৩০ টাকায় খুচরা ও পাইকারী দরে বিক্রি করা হচ্ছে। গত ১০ এপ্রিল সরকার ঘোষিত প্রতি কেজি সার প্রকার ভেদে পাঁচ টাকা বাড়ানো হয়। তবে গোডাউনে ১০এপ্রিল নাগাত সার মজুদে আছে এমন ডিলারগণ বাড়তি মূল্যে সার বিক্রি করতে পারবেনা।

১০ এপ্রিল ২০২৩ তারিখ উপজেলা কৃষি অফিসের হিসাব মতে চিতলমারীতে জয় অয়েল এজেন্সির সার মজুদ ছিলো: ইউরিয়া ৯৭০ বস্তা, টিএসপি ৪১২, ডিএপি ৫১৪ ও এমওপি ১৩১ বস্তা। সানজিদা এন্টার প্রাইজের ইউরিয়া ২৪৭ বস্তা, টিএসপি ৭২০, ডিএপি ২০০ ও এমওপি ৭০ বস্তা।শেখ ট্রেডার্সের ইউরিয়া ৯৪০ বস্তা, টিএসপি এক হাজার ১০২ বস্তা, ডিএপি ১৫১ ও এমওপি ৩১৩বস্তা। ভাইভাই ট্রেডার্সের ইউরিয়া ৫৯৮বস্তা, টিএসপি ৭৮০, ডিএপি ৩১০ ও এমওপি ১৩২ বস্তা। হাজরা ট্রেডার্সের ইউরিয়া এক হাজার ৮৪বস্তা, টিএসপি ৯৫৩, ডিএপি ৩০৫ ও এমওপি ১১১বস্তা। এন এস ট্রেডার্সের ইউরিয়া এক হাজার ১৪০বস্তা, টিএসপি ৫১৮, ডিএপি ৩০৫ ও এমওপি ২৩২বস্তা। জয় এন্টার প্রাইজের ইউরিয়া ৯৫, টিএসপি ৪০০, ডিএপি ৩০০ এবং এমওপি ৯০ বস্তা। উক্ত সারগুলি বর্ধিত দরের আওতায় বিক্রি করতে সরকারী বিধি নিষেধথাকা সত্বেও প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে বর্ধিতমূল্য।ফলে সিন্ডিকেটের রোশানলে চাষীদের সার ক্রয়ে বাড়তি গুনতে হচ্ছে ৩২ লাখ ৭৮ হাজার ৭৫০ টাকা।

কুরমনি গ্রামের চাষি সচিন বিশ্বাস বলেন, আমি মাত্র কয়েক কেজি ডিএপি সারের জন্য সার ডিলার কালাম শেখ এর দোকান, জীবন হাজরার দোকান ও ডিলার মাও: সোহেল শেখের দোকানে গেলে সরকারী বরাদ্ধের সার নাই বলে জানিয়েছে ডিলার মালিকরা। কাননচক বাজারের সাব ডিলার আনিচ খান জানান, ইউনিয়ন ডিলার নেকবারের কাছে বারবার সারের জন্য যাওয়া হলেও তাকে ফেরত দেয়া হয়েছে। পরে বেশী দামে ২ বস্তা সার কিনে দোকান চালাচ্ছেন। বিষয়টি উপজেলা কৃষি অফিসারকে জানিয়ে কোন ফল হয়নি। ওয়ার্ডের চাষিদের ঠিকমত সার দিতে পারছেন না বলে জানান তিনি। দলুয়াগুণী বাজারের ওয়ার্ড ডিলার ফারুক জানান, জয়ওয়েল এর ডিলার পান্নু ফকির এর কাছ থেকে বেশী দামে সার কিনে এনেছি। তিনি পূর্বের দামের সার বিক্রি করছেন বাড়তি দামে । তবে ডিলাররা সার ক্রয়ের কোন রশিদ দিচ্ছেন না বলে জানা তিনি। এছাড়াও চর বড়বাড়িয়া এলাকার ওয়ার্ড ডিলার সুকুমার বনিক জানান তিনি জয় এজেন্সির ডিলার পান্নু ফকির এর কাছ থেকে মাত্র ১বস্তা ইউরিয়া সার এনেছেন। ১বস্তার দাম চেয়েছেন ১৩২০ টাকা দিয়েছেন ১৩০০টাকা। তবে কোন মেমো তাকে দেয়া হয়নি।

এব্যপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইয়েদা ফয়জুন্নেছা জানান, সরকারী বর্ধিত মূল্যের ডিলারদের গোডাউনে যে সকল সার মজুদ ছিলো তা বাড়তি মূল্যে বিক্রি করা হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিফাত আল মারুফ জানান, আইনের বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই, আপনারা সহযোগিতা করুন। উপজেলা সার ডিলার সমিতির সভাপতি মাও: মো: সোহেল শেখ জানান ভাই মিথ্যা কথা বলবোনা। কমরেটেও বিক্রি করছি আবার বাড়তি রেটেও দাম নিচ্ছি।##