০৩:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০২৪, ২৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
অপরিকল্পিত ভাবে একই সময়ে ড্রেন নির্মাণ ও বাঁধ দিয়ে খাল খনন এ সমস্যার কারন

মশায় অতিষ্ট খুলনার নগরজীবন; নির্মূলে উদ্যোগ নিতে হবে

###    ‘মশার যন্ত্রণায় ঘরে থাকা দুষ্কর, বাচ্চা নিয়ে অনেক বড় বিপদে আছি। মশারিও এখন মশা থেকে নিরাপত্তা দিচ্ছে না, মশার এমন রাজত্ব খুলনা শহরে আগে কখনো দেখিনি। মশার অত্যাচারে অতিষ্ট খুলনার বয়রা এলাকার বাসিন্দা মোঃ নুরুল্লাহ বৃহস্পতিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এসব কথা বলেন। নগরীর মুজগুনী আবাসিকের বাসিন্দা মোঃ শাজাহান শিকদার বলেন, মশার উপদ্রব থেকে বাঁচার পথ খুঁজে পাচ্ছি না। জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। বিশেষ করে শহরের প্রতিটা বাড়ির পাশ রয়েছে ছোট বড় অনেক ড্রেন। যেগুলো সিটি কর্পোরেশন নিয়মিত পরিষ্কার করে না। বাসাবাড়ি ও হোটেলের ময়লা আবর্জনাসহ নানা রকম বর্জ্য দ্বারা ড্রেনগুলো প্রতিনিয়ত ভর্তি হচ্ছে। ফলে মশাসহ নানারকম কীট-পতঙ্গ জন্ম নিচ্ছে সেগুলোতে। মশার কয়েল ব্যবহারে বাড়িতে থাকা শিশু ও বৃদ্ধদের জীবনের ঝুকি বাড়ছে। ভিশেষ করে শ্বাসকষ্টের রোগীদের। মেয়রের নিকট বিনীত অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, অন্তত সপ্তাহে একবার করে হলেও ড্রেনগুলো যেন পরিষ্কার করা এবং মশা নিধনের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করেন। খালিশপুরের বাসিন্দা বৈকালী বাজারের চাল ব্যবসায়ী ইউসুফ আল খান বলেন, বেশ কয়েক মাস ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে ড্রেন পরিষ্কার করেতে সিটি কপোরেশনের কর্মীদের দেখাই যায় না।আদদীন হাসপাতালের বজ্য পানি বৈকালী বাজার সংলগ্ন এলাকার ড্রেনে প্রবাহিত হওয়ায প্রায় মৃত ড্রেণে মশার বংশ বৃদ্দি পাচ্ছে। এই ওয়ার্ডে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ বসবাস করেন। এত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ড্রেনের অবস্থা এত খারাপ যে, গন্ধে থাকা যায় না। চায়ের দোকানে বসে এককাপ চা খাওয়া যায় না গন্ধে। খোলা ড্রেন হওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেশি। ময়লা আবর্জনা হয়ে যাওয়ার কারণে মশার উপদ্রব বেড়েছে। যারা পরিষ্কার করতে আসবে তারাই ঢুকতে পারবে না ড্রেনে। তাই আসেও না, পরিষ্কার করেও না। স্থানীয় কাউন্সিলরকে অনেক অনুনয় বিনয় করেও কাজ হচ্ছে না। খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, ৪৫.৬৫ বর্গ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দেশের তৃতীয় বৃহত্তম শহর খুলনায় সম্প্রতি মশার উপদ্রব চরম অসহনীয় পর্যায়ে পৌছেছে। মশার উপদ্রবে টেকা দায় হয়ে উঠেছে নগরবাসীর। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মশা নিধনে সিটি কর্পোরেশন কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের। আগে শুধু রাতেই মশার উৎপাত ছিল। এখন দিনের বেলায়ও মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ জনজীবন। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। সোনাডাঙ্গার ১৬ নং ওয়ার্ডের তাকওয়া নগরের বাসিন্দা শাহাদাৎ হোসেন বলেন,  শহরের সকল ড্রেনের পানি এ অঞ্চরের খুঁদে মযুর নদীতে প্রবাহিত হয়্‌। কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে বাঁদ দিয়ে মযুর নদী খনন কাজ চলছে। এতে ড্রেনের পানি নদীতে না যেতে পারায় ড্রেনে পানি আটকে থাকায় মশার বংশ বৃদ্দি পাচ্ছে। মশার এমন উপদ্রপ এর আগে দেখিনি। মশার স্প্রে বা কয়েলেও কাজ করছে না। নাগরিক নেতারা বলছেন, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বর্তমানে মশার উপদ্রব অনেক বেশি। প্রতি বছরই এসময় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ কারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা সময় মতো ব্যবস্থা নিলে নগরবাসীকে এমন ধকল সইতে হতো না। বাসাবাড়ি-কর্মস্থান কোথাও নিস্তার মিলছে না। কার্যকরভাবে পূর্বপ্রস্তুতি না নেওয়ায় এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ; নিয়মিত পরিষ্কার না করায় সিটি কর্পোরেশনের অধিকাংশ খাল ও ড্রেন এখন মশার প্রজননস্থলে পরিণত হয়েছে। খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. বাবুল হাওলাদার বলেন, মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে হলে প্রথমত মশানাশক ওষুধের গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে, সংশ্লিষ্টদের কাজে থাকতে হবে স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গতি আরও বাড়াতে হবে। মশার প্রজনন স্থানগুলো চিহ্নিত করে নিয়মিত ওষুধ ছেঁটাতে হবে। ড্রেন পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং নগরীকে পলিথিন মুক্ত করা মশা নিধনের ক্ষেত্রে একটি জরুরী বিষয়। খুলনার সিভিল সার্জন সুজাত আহমেদ বলেন, মশার উৎপাতের কারলে বর্তমানের সরকারি বেসরকারি হাসপাতাল গুলোতে ডেঙ্গু জ্বরসহ মশাবাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়ে ডেঙ্গু জ্বরসহ মশাবাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়ে। রোগীর সংখ্যা ক্রমর্শ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক রোগীরা স্বাস কষ্ট জনিত রোগ ও জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বেশী। বাসায় সারাক্ষন মশার কয়েল ও স্প্রে ব্যবহার করায় এ সমস্য হতে পারে বলে এ চিকিৎসক কর্মকর্তা জানান। এ বিষয়ে কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আবদুল আজিজ বলেন, মশা নিধোনের ক্রাশ প্রোগ্রাম বর্তমানে খালিশপুরে চলছে। শুক্রবার থেকে খুলনা সদরসহ ১৫টি ওয়ার্ডে শুরু হবে। ক্রাশ প্রোগ্রাম ছাড়াও নগরীতে মশা নিধোন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ৩১টি ওয়ার্ডে মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন ৭৫ জন কর্মী। আরও জনবল প্রয়োজন। আধুনিক বর্জ্য পরিশোধনাগার নির্মাণ কাজ শেষ হলে নগরের বর্জ্য দ্রুত অপসারণ হয়ে যাবে। এতে মশার উপদ্রত কমে আসবে।##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik adhumati

দশমিনায় অসহায় ও দরিদ্রদের মাঝে চেক বিতরণ

অপরিকল্পিত ভাবে একই সময়ে ড্রেন নির্মাণ ও বাঁধ দিয়ে খাল খনন এ সমস্যার কারন

মশায় অতিষ্ট খুলনার নগরজীবন; নির্মূলে উদ্যোগ নিতে হবে

প্রকাশিত সময় : ০৩:০৪:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

###    ‘মশার যন্ত্রণায় ঘরে থাকা দুষ্কর, বাচ্চা নিয়ে অনেক বড় বিপদে আছি। মশারিও এখন মশা থেকে নিরাপত্তা দিচ্ছে না, মশার এমন রাজত্ব খুলনা শহরে আগে কখনো দেখিনি। মশার অত্যাচারে অতিষ্ট খুলনার বয়রা এলাকার বাসিন্দা মোঃ নুরুল্লাহ বৃহস্পতিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এসব কথা বলেন। নগরীর মুজগুনী আবাসিকের বাসিন্দা মোঃ শাজাহান শিকদার বলেন, মশার উপদ্রব থেকে বাঁচার পথ খুঁজে পাচ্ছি না। জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। বিশেষ করে শহরের প্রতিটা বাড়ির পাশ রয়েছে ছোট বড় অনেক ড্রেন। যেগুলো সিটি কর্পোরেশন নিয়মিত পরিষ্কার করে না। বাসাবাড়ি ও হোটেলের ময়লা আবর্জনাসহ নানা রকম বর্জ্য দ্বারা ড্রেনগুলো প্রতিনিয়ত ভর্তি হচ্ছে। ফলে মশাসহ নানারকম কীট-পতঙ্গ জন্ম নিচ্ছে সেগুলোতে। মশার কয়েল ব্যবহারে বাড়িতে থাকা শিশু ও বৃদ্ধদের জীবনের ঝুকি বাড়ছে। ভিশেষ করে শ্বাসকষ্টের রোগীদের। মেয়রের নিকট বিনীত অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, অন্তত সপ্তাহে একবার করে হলেও ড্রেনগুলো যেন পরিষ্কার করা এবং মশা নিধনের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করেন। খালিশপুরের বাসিন্দা বৈকালী বাজারের চাল ব্যবসায়ী ইউসুফ আল খান বলেন, বেশ কয়েক মাস ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে ড্রেন পরিষ্কার করেতে সিটি কপোরেশনের কর্মীদের দেখাই যায় না।আদদীন হাসপাতালের বজ্য পানি বৈকালী বাজার সংলগ্ন এলাকার ড্রেনে প্রবাহিত হওয়ায প্রায় মৃত ড্রেণে মশার বংশ বৃদ্দি পাচ্ছে। এই ওয়ার্ডে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ বসবাস করেন। এত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ড্রেনের অবস্থা এত খারাপ যে, গন্ধে থাকা যায় না। চায়ের দোকানে বসে এককাপ চা খাওয়া যায় না গন্ধে। খোলা ড্রেন হওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেশি। ময়লা আবর্জনা হয়ে যাওয়ার কারণে মশার উপদ্রব বেড়েছে। যারা পরিষ্কার করতে আসবে তারাই ঢুকতে পারবে না ড্রেনে। তাই আসেও না, পরিষ্কার করেও না। স্থানীয় কাউন্সিলরকে অনেক অনুনয় বিনয় করেও কাজ হচ্ছে না। খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, ৪৫.৬৫ বর্গ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দেশের তৃতীয় বৃহত্তম শহর খুলনায় সম্প্রতি মশার উপদ্রব চরম অসহনীয় পর্যায়ে পৌছেছে। মশার উপদ্রবে টেকা দায় হয়ে উঠেছে নগরবাসীর। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মশা নিধনে সিটি কর্পোরেশন কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের। আগে শুধু রাতেই মশার উৎপাত ছিল। এখন দিনের বেলায়ও মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ জনজীবন। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। সোনাডাঙ্গার ১৬ নং ওয়ার্ডের তাকওয়া নগরের বাসিন্দা শাহাদাৎ হোসেন বলেন,  শহরের সকল ড্রেনের পানি এ অঞ্চরের খুঁদে মযুর নদীতে প্রবাহিত হয়্‌। কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে বাঁদ দিয়ে মযুর নদী খনন কাজ চলছে। এতে ড্রেনের পানি নদীতে না যেতে পারায় ড্রেনে পানি আটকে থাকায় মশার বংশ বৃদ্দি পাচ্ছে। মশার এমন উপদ্রপ এর আগে দেখিনি। মশার স্প্রে বা কয়েলেও কাজ করছে না। নাগরিক নেতারা বলছেন, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বর্তমানে মশার উপদ্রব অনেক বেশি। প্রতি বছরই এসময় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ কারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা সময় মতো ব্যবস্থা নিলে নগরবাসীকে এমন ধকল সইতে হতো না। বাসাবাড়ি-কর্মস্থান কোথাও নিস্তার মিলছে না। কার্যকরভাবে পূর্বপ্রস্তুতি না নেওয়ায় এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ; নিয়মিত পরিষ্কার না করায় সিটি কর্পোরেশনের অধিকাংশ খাল ও ড্রেন এখন মশার প্রজননস্থলে পরিণত হয়েছে। খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. বাবুল হাওলাদার বলেন, মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে হলে প্রথমত মশানাশক ওষুধের গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে, সংশ্লিষ্টদের কাজে থাকতে হবে স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গতি আরও বাড়াতে হবে। মশার প্রজনন স্থানগুলো চিহ্নিত করে নিয়মিত ওষুধ ছেঁটাতে হবে। ড্রেন পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং নগরীকে পলিথিন মুক্ত করা মশা নিধনের ক্ষেত্রে একটি জরুরী বিষয়। খুলনার সিভিল সার্জন সুজাত আহমেদ বলেন, মশার উৎপাতের কারলে বর্তমানের সরকারি বেসরকারি হাসপাতাল গুলোতে ডেঙ্গু জ্বরসহ মশাবাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়ে ডেঙ্গু জ্বরসহ মশাবাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়ে। রোগীর সংখ্যা ক্রমর্শ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক রোগীরা স্বাস কষ্ট জনিত রোগ ও জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বেশী। বাসায় সারাক্ষন মশার কয়েল ও স্প্রে ব্যবহার করায় এ সমস্য হতে পারে বলে এ চিকিৎসক কর্মকর্তা জানান। এ বিষয়ে কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আবদুল আজিজ বলেন, মশা নিধোনের ক্রাশ প্রোগ্রাম বর্তমানে খালিশপুরে চলছে। শুক্রবার থেকে খুলনা সদরসহ ১৫টি ওয়ার্ডে শুরু হবে। ক্রাশ প্রোগ্রাম ছাড়াও নগরীতে মশা নিধোন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ৩১টি ওয়ার্ডে মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন ৭৫ জন কর্মী। আরও জনবল প্রয়োজন। আধুনিক বর্জ্য পরিশোধনাগার নির্মাণ কাজ শেষ হলে নগরের বর্জ্য দ্রুত অপসারণ হয়ে যাবে। এতে মশার উপদ্রত কমে আসবে।##