০৬:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মাটি পরীক্ষায় উচ্চ ফলন

  • সংবাদদাতা
  • প্রকাশিত সময় : ০২:২৭:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ জুলাই ২০২২
  • ৫৬ পড়েছেন

প্রলয়ংকরি বন্যার পানি নামছে। ভেসে উঠছে বিধ্বস্ত জনপদ-ফসলহীন মাঠ। বন্যা ক্ষতি করেছে অনেক। ক্ষতি হয়েছে ফসলেরও। এই ক্ষতি পোষাতেই নতুন করে বুনতে হবে ফসল। নতুন উদ্যমে। কারণ ধ্বংসস্তুপের মধ্যেই মানুষকে দেখতে হয় জীবনের স্বপ্ন। এই অবস্থায় ফসল উৎপাদন কীভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়, সেদিকেই নজর দিতে হবে। আর এমনি প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হচ্ছে, মাটি পরীক্ষার মাধ্যমে ফসল ফলালে উৎপাদন বাড়বে ১৫ থেকে ২৫ গুন। মৃত্তিকা বিজ্ঞাণীরা এই তথ্য দিয়েছেন। তাদের মতে, মাটি পরীক্ষার মাধ্যমে সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ করলে ফলন বাড়বে এবং মাটির স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে।

দেশে প্রতিনিয়ত জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি কমছে আবাদি জমির পরিমাণ। বাড়ছে খাদ্যের চাহিদাও। এই প্রেক্ষাপটে খাদ্যের চাহিদা পূরণে অল্প জমিতে বেশি ফসল ফলানোর বিকল্প নেই। তাই কৃষক ঝুঁকছেন উচ্চফলনশীল ফসলে। এমনি অবস্থায় ফসল চাষে মাটি পরীক্ষার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। পরিসংখ্যানের তথ্য হচ্ছে, বছরের পর বছর ধরে ক্রমাগত উৎপাদন বেড়েছে। ৭০-এর দশকে স্বাধীন বাংলাদেশকে খাদ্য ঘাটতি, দুর্ভিক্ষ আর প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত জনপদ হিসেবে চিনেছে বিশ্ববাসী। ১৯৭০-৭১ সালে যেখানে বাংলাদেশের চাল উৎপাদন ছিল ১০ দশমিক আট মিলিয়ন টন, এখন সেখানে উৎপাদন প্রায় চার গুণ বেড়ে ৩৮ দশমিক সাত মিলিয়ন টনে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মতে, এক দশমিক দুই মিলিয়ন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে হিসাবে ধরে বাংলাদেশের প্রধান খাদ্য চালের বর্তমান চাহিদা প্রায় ৩৫ দশমিক তিন মিলিয়ন টন। অতীতে যে জমিতে বছরে এক ফসল হতো, বর্তমানে দুই থেকে চার ফসল পর্যন্ত ফলাচ্ছেন কৃষক। শুধু তা-ই নয়, আগে যেখানে এক বিঘা জমিতে পাঁচ-ছয় মণ ধান হতো, এখন তা ৩০ মণে ঠেকেছে। অন্যান্য ফসলেও একই অবস্থা। উচ্চ ফলনশীল জাতের উদ্ভাবন ও রাসায়নিক সারের ব্যবহারে ফলন বেড়েই চলছে। কিন্তু মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা মেটাচ্ছে যে জমি সেই জমির স্বাস্থ্য ভালো নেই বলে মনে করছেন মৃত্তিকা বিজ্ঞানীরা। মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মতে, [মাটি থেকে পুষ্টি শুষে নিচ্ছে ফসল। এক সময় এই পুষ্টি শেষ হয়ে যাবে। জৈব পদার্থের অভাব দেখা দিয়েছে। মাটির পুষ্টি উপাদানও অধিকাংশ এলাকায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। কারণ আমরা মাটি থেকে খাদ্য, পুষ্টি নিচ্ছি কিন্তু দিচ্ছিনা কিছুই। এসব কারণে মাটির স্বাস্থ্য নষ্ট হচ্ছে। আর এই অবস্থায় মাটি পরীক্ষার মাধ্যমে সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ করা হলে ফসল উৎপাদন যেমন ১৫-২৫ শতাংশ বেশি হওয়া সম্ভব, তেমনি মাটির স্বাস্থ্যও ভাল থাকবে।] আর সেই কাজটি করছে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট। মূলত উপজেলা ভিত্তিক মাটি পরীক্ষা ইনস্টিটিউটের রুটিন ওয়ার্ক। জরিপে সাধারণত সংশ্লিষ্ট উপজেলার প্রতি ২০০ হেক্টর পরপর জমি থেকে মাটির নমুনা নেয়া হয়। এরপর ওই মাটি ল্যাবে পরীক্ষা করে একটা নমুনা তৈরি করা হয়। সংশ্লিষ্ট উপজেলায় ফসলের বিন্যাস করা হয়। মাটির গুণাগুণ নির্ণয় করে একটা সার সুপারিশ করা হয়। মাটির অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে সবকিছু মানচিত্র আকারে প্রকাশ করা হয়।
উল্লেখ করা যেতে পারে,জমিতে রাসায়নিক সার কীটনাশক অতিমাত্রায় প্রয়োগ করলে জমির উর্বরতা বিনষ্ট হয়। দেখা গেছে মাটির ছয়টি পুষ্টি উপাদান যেমন- নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, গন্ধক, দস্তা, বোরন এগুলো কমবেশি অধিকাংশ এলাকায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞগণ বলছেন-হয় জমিতে রাসায়নিক সার প্রয়োগ বন্ধ করতে হবে, না হয় মাটি পরীক্ষার মাধ্যমে সুষম সার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

dainik madhumati

জনপ্রিয়

দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত 

মাটি পরীক্ষায় উচ্চ ফলন

প্রকাশিত সময় : ০২:২৭:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ জুলাই ২০২২

প্রলয়ংকরি বন্যার পানি নামছে। ভেসে উঠছে বিধ্বস্ত জনপদ-ফসলহীন মাঠ। বন্যা ক্ষতি করেছে অনেক। ক্ষতি হয়েছে ফসলেরও। এই ক্ষতি পোষাতেই নতুন করে বুনতে হবে ফসল। নতুন উদ্যমে। কারণ ধ্বংসস্তুপের মধ্যেই মানুষকে দেখতে হয় জীবনের স্বপ্ন। এই অবস্থায় ফসল উৎপাদন কীভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়, সেদিকেই নজর দিতে হবে। আর এমনি প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হচ্ছে, মাটি পরীক্ষার মাধ্যমে ফসল ফলালে উৎপাদন বাড়বে ১৫ থেকে ২৫ গুন। মৃত্তিকা বিজ্ঞাণীরা এই তথ্য দিয়েছেন। তাদের মতে, মাটি পরীক্ষার মাধ্যমে সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ করলে ফলন বাড়বে এবং মাটির স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে।

দেশে প্রতিনিয়ত জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি কমছে আবাদি জমির পরিমাণ। বাড়ছে খাদ্যের চাহিদাও। এই প্রেক্ষাপটে খাদ্যের চাহিদা পূরণে অল্প জমিতে বেশি ফসল ফলানোর বিকল্প নেই। তাই কৃষক ঝুঁকছেন উচ্চফলনশীল ফসলে। এমনি অবস্থায় ফসল চাষে মাটি পরীক্ষার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। পরিসংখ্যানের তথ্য হচ্ছে, বছরের পর বছর ধরে ক্রমাগত উৎপাদন বেড়েছে। ৭০-এর দশকে স্বাধীন বাংলাদেশকে খাদ্য ঘাটতি, দুর্ভিক্ষ আর প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত জনপদ হিসেবে চিনেছে বিশ্ববাসী। ১৯৭০-৭১ সালে যেখানে বাংলাদেশের চাল উৎপাদন ছিল ১০ দশমিক আট মিলিয়ন টন, এখন সেখানে উৎপাদন প্রায় চার গুণ বেড়ে ৩৮ দশমিক সাত মিলিয়ন টনে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মতে, এক দশমিক দুই মিলিয়ন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে হিসাবে ধরে বাংলাদেশের প্রধান খাদ্য চালের বর্তমান চাহিদা প্রায় ৩৫ দশমিক তিন মিলিয়ন টন। অতীতে যে জমিতে বছরে এক ফসল হতো, বর্তমানে দুই থেকে চার ফসল পর্যন্ত ফলাচ্ছেন কৃষক। শুধু তা-ই নয়, আগে যেখানে এক বিঘা জমিতে পাঁচ-ছয় মণ ধান হতো, এখন তা ৩০ মণে ঠেকেছে। অন্যান্য ফসলেও একই অবস্থা। উচ্চ ফলনশীল জাতের উদ্ভাবন ও রাসায়নিক সারের ব্যবহারে ফলন বেড়েই চলছে। কিন্তু মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা মেটাচ্ছে যে জমি সেই জমির স্বাস্থ্য ভালো নেই বলে মনে করছেন মৃত্তিকা বিজ্ঞানীরা। মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মতে, [মাটি থেকে পুষ্টি শুষে নিচ্ছে ফসল। এক সময় এই পুষ্টি শেষ হয়ে যাবে। জৈব পদার্থের অভাব দেখা দিয়েছে। মাটির পুষ্টি উপাদানও অধিকাংশ এলাকায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। কারণ আমরা মাটি থেকে খাদ্য, পুষ্টি নিচ্ছি কিন্তু দিচ্ছিনা কিছুই। এসব কারণে মাটির স্বাস্থ্য নষ্ট হচ্ছে। আর এই অবস্থায় মাটি পরীক্ষার মাধ্যমে সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ করা হলে ফসল উৎপাদন যেমন ১৫-২৫ শতাংশ বেশি হওয়া সম্ভব, তেমনি মাটির স্বাস্থ্যও ভাল থাকবে।] আর সেই কাজটি করছে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট। মূলত উপজেলা ভিত্তিক মাটি পরীক্ষা ইনস্টিটিউটের রুটিন ওয়ার্ক। জরিপে সাধারণত সংশ্লিষ্ট উপজেলার প্রতি ২০০ হেক্টর পরপর জমি থেকে মাটির নমুনা নেয়া হয়। এরপর ওই মাটি ল্যাবে পরীক্ষা করে একটা নমুনা তৈরি করা হয়। সংশ্লিষ্ট উপজেলায় ফসলের বিন্যাস করা হয়। মাটির গুণাগুণ নির্ণয় করে একটা সার সুপারিশ করা হয়। মাটির অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে সবকিছু মানচিত্র আকারে প্রকাশ করা হয়।
উল্লেখ করা যেতে পারে,জমিতে রাসায়নিক সার কীটনাশক অতিমাত্রায় প্রয়োগ করলে জমির উর্বরতা বিনষ্ট হয়। দেখা গেছে মাটির ছয়টি পুষ্টি উপাদান যেমন- নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, গন্ধক, দস্তা, বোরন এগুলো কমবেশি অধিকাংশ এলাকায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞগণ বলছেন-হয় জমিতে রাসায়নিক সার প্রয়োগ বন্ধ করতে হবে, না হয় মাটি পরীক্ষার মাধ্যমে সুষম সার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।