০৯:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মির্জাগঞ্জে জমি বিরোধে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধাকে মারপিটের অভিযোগ

###    পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে জমির বিরোধের জেরে থানার গেটের সামনে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক সিকদারকে ইউপি চেয়ারম্যান এডঃ আবুল বাসার নাসির মারধর করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ০৩ এপ্রিল পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার হযরত ইয়ার উদ্দিন খলিফার মাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগের পর চেয়ারম্যানকে পুলিশ আটক করলেও ৪ ঘন্টা পর আবার ছেড়ে দেয়ার খবর পাওয়া গেছে।এ ঘটনায় পটুয়াখালীর মুক্তিযোদ্ধাদের চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, জেলার মির্জাগঞ্জ হযরত ইয়ার উদ্দিন খলিফা( রাঃ) এর মাজার সড়কের পাশে ক্রয়কৃত জমিজমা নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বাসার নাসির ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মুক্তি যোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক সিকদারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরে গত ০৩ এপ্রিল রাত ১০টার দিকে মির্জাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল বাসার নাসির তার ক্যাডার বাহিনী দিয়ে থানার গেটের সামনের অস্থায়ী কার্যালয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক সিকদারকে ধরে নিয়ে আসেন। জমি নিয়ে তার ঝামেলা না কারার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। এ নিয়ে বাক-বিতণ্ডার এক পর্যায়ে  সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক সিকদারকে চড় থাপ্পড় কিল-ঘুষি লাথি মেরে আহত করে চেয়ারম্যান ও তার ক্যাডার বাহিনী।  এক পর্যায়ে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে আহত অবস্থায় বীর মুক্তিযোদ্ধাকে উদ্ধার করে রাত পৌঁনে ১২ টার দিকে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।  তিনি বর্তমানে  হাসপাতালের ৩ নম্বর  কেবিনে  চিকিৎসা নিচ্ছেন।  এ ঘটনায় ০৪ এপ্রিল  আহত বীর মুক্তিযোদ্ধা রাজ্জাক সিকদার তাকে মারধোর অভিযোগে  ইউপি চেয়ারম্যান নাসির হাওলাদারসহ ০৬ জনের বিরুদ্ধে  মির্জাগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পুলিশ এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে  চেয়ারম্যানকে মঙ্গলবার রাত ৮ টার দিকে আটক করে। চেয়ারম্যানকে আটকের ঘটনাটি জানাজানি হলে প্রভাবশালী একটি মহল বীর মুক্তিযোদ্ধাকে মারধরের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে উঠেপড়ে লাগে। মিমাংসার জন্য  তাকে চাপ প্রয়োগ করে একটি প্রভাবশালী মহল। গভীর রাত পর্যন্ত এনিয়ে  থানায় চলে সমোঝোতা বৈঠক।  উপজলা আওয়ামীলীগের সভাপতি গাজী আতাহার উদ্দিন  ও সাধারণ সম্পাদক জুয়েল  ব্যাপারীর  নেতৃত্বে মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত চলা সমঝোতা  বৈঠকে কয়েকজন  বিতর্কিত ইউপি চেয়ারম্যানও অংশ নেন।  প্রভাবশালী মহলের  চাপ ও সমঝোতা বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের আশ্বাসে মৌখিক মুচলেকা রেখে আলোচিত ইউপি চেয়ারম্যান  নাসিরকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা রাজ্জাক ও তার পরিবারকে এ ঘটনা নিয়ে বাইরের কারো কাছে কিছু না বলার জন্য সতর্ক করেন সমঝোতা বৈঠকের নেতারা। বীর মুক্তিযোদ্ধা রাজ্জাক শিকদার এখন পুলিশ পাহারায় মির্জাগন্জ উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানাগেছে।  আহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক সিকদারের সাথে কথা বলার জন্য মির্জাগঞ্জ হাসপাতালে গেলে তিনি অনেক অসুস্থ কথা বলতে পারবেন না বলে সাংবাদিকদের  জানান।

মির্জাগঞ্জ থানার ওসি মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, চেয়ারম্যানকে আটকের বিষয়ে অস্বীকার করেন। তিনি জানান, চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক সিকদার একই এলাকার বাসিন্দা তারা মধ্যে ভুলবোঝাবুঝি হয়েছিল তারা মিলে গেছে এবং রাজ্জাক সাহেব তার লিখিত অভিযোগ তুলে নিয়েছেন। আওয়ামীলীগের নেতারা থানায় এসেছিল তারা চেয়ারম্যানকে নিয়ে গেছেন। সমঝোতা বৈঠকের আয়োজক উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল ব্যাপারী যুগান্তরকে বলেন, চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রাজ্জাক ভাইয়ের মধ্যে জমিজমা নিয়ে একটু ঝামেলা হয়েছিল।  রাজ্জাক ভাই  তাকে মারধোরের অভিযোগে চেয়ারম্যানসহ ৬ জনের নামে থানায় লিখিত অভিযোগ করলে পুলিশ চেয়ারম্যানকে থানায় নিয়ে যায়। খবর পেয়ে আমি ও ১ নং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লাভলু কাজীসহ নোতারা ব্যাপারটি ফয়সালার আশ্বাস দিয়ে  চেয়ারম্যান নাসিরকে থানা থেকে নিয়ে আসছি। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে  মারধর করা ঠিক হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের  জাবাবে তিনি বলেন, পোলাপান চেয়ারম্যান হইলে যা হয়। মুক্তিযোদ্দা রাজ্জাক মিয়াকে মারধরের ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান নাসির হাওলাদার বলেন, জুয়েল নামে একজনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে অফিসে ডেকে আনা হয়েছিল। মারধর ও ঝামেলা হওয়ার কথা বললেই এব্যা পারে এখন আর কথা বলতে চাইনা বলে তিনি ফোন কেটে দেন। সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল হালিম  সাংবাদিকদের বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাকে একজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করতে পারে? অভিযুক্ত চেয়ারম্যানকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবীও জানান মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠনের এই নেতা। ##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik adhumati

জনপ্রিয়

ডুমুরিয়ার সাহস ও ভান্ডারপাডা ইউনিয়নে শিশু খাদ্য ও ঢেউটিন বিতরন

মির্জাগঞ্জে জমি বিরোধে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধাকে মারপিটের অভিযোগ

প্রকাশিত সময় : ০৮:৫৪:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৩

###    পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে জমির বিরোধের জেরে থানার গেটের সামনে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক সিকদারকে ইউপি চেয়ারম্যান এডঃ আবুল বাসার নাসির মারধর করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ০৩ এপ্রিল পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার হযরত ইয়ার উদ্দিন খলিফার মাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগের পর চেয়ারম্যানকে পুলিশ আটক করলেও ৪ ঘন্টা পর আবার ছেড়ে দেয়ার খবর পাওয়া গেছে।এ ঘটনায় পটুয়াখালীর মুক্তিযোদ্ধাদের চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, জেলার মির্জাগঞ্জ হযরত ইয়ার উদ্দিন খলিফা( রাঃ) এর মাজার সড়কের পাশে ক্রয়কৃত জমিজমা নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বাসার নাসির ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মুক্তি যোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক সিকদারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরে গত ০৩ এপ্রিল রাত ১০টার দিকে মির্জাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল বাসার নাসির তার ক্যাডার বাহিনী দিয়ে থানার গেটের সামনের অস্থায়ী কার্যালয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক সিকদারকে ধরে নিয়ে আসেন। জমি নিয়ে তার ঝামেলা না কারার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। এ নিয়ে বাক-বিতণ্ডার এক পর্যায়ে  সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক সিকদারকে চড় থাপ্পড় কিল-ঘুষি লাথি মেরে আহত করে চেয়ারম্যান ও তার ক্যাডার বাহিনী।  এক পর্যায়ে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে আহত অবস্থায় বীর মুক্তিযোদ্ধাকে উদ্ধার করে রাত পৌঁনে ১২ টার দিকে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।  তিনি বর্তমানে  হাসপাতালের ৩ নম্বর  কেবিনে  চিকিৎসা নিচ্ছেন।  এ ঘটনায় ০৪ এপ্রিল  আহত বীর মুক্তিযোদ্ধা রাজ্জাক সিকদার তাকে মারধোর অভিযোগে  ইউপি চেয়ারম্যান নাসির হাওলাদারসহ ০৬ জনের বিরুদ্ধে  মির্জাগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পুলিশ এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে  চেয়ারম্যানকে মঙ্গলবার রাত ৮ টার দিকে আটক করে। চেয়ারম্যানকে আটকের ঘটনাটি জানাজানি হলে প্রভাবশালী একটি মহল বীর মুক্তিযোদ্ধাকে মারধরের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে উঠেপড়ে লাগে। মিমাংসার জন্য  তাকে চাপ প্রয়োগ করে একটি প্রভাবশালী মহল। গভীর রাত পর্যন্ত এনিয়ে  থানায় চলে সমোঝোতা বৈঠক।  উপজলা আওয়ামীলীগের সভাপতি গাজী আতাহার উদ্দিন  ও সাধারণ সম্পাদক জুয়েল  ব্যাপারীর  নেতৃত্বে মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত চলা সমঝোতা  বৈঠকে কয়েকজন  বিতর্কিত ইউপি চেয়ারম্যানও অংশ নেন।  প্রভাবশালী মহলের  চাপ ও সমঝোতা বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের আশ্বাসে মৌখিক মুচলেকা রেখে আলোচিত ইউপি চেয়ারম্যান  নাসিরকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা রাজ্জাক ও তার পরিবারকে এ ঘটনা নিয়ে বাইরের কারো কাছে কিছু না বলার জন্য সতর্ক করেন সমঝোতা বৈঠকের নেতারা। বীর মুক্তিযোদ্ধা রাজ্জাক শিকদার এখন পুলিশ পাহারায় মির্জাগন্জ উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানাগেছে।  আহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক সিকদারের সাথে কথা বলার জন্য মির্জাগঞ্জ হাসপাতালে গেলে তিনি অনেক অসুস্থ কথা বলতে পারবেন না বলে সাংবাদিকদের  জানান।

মির্জাগঞ্জ থানার ওসি মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, চেয়ারম্যানকে আটকের বিষয়ে অস্বীকার করেন। তিনি জানান, চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক সিকদার একই এলাকার বাসিন্দা তারা মধ্যে ভুলবোঝাবুঝি হয়েছিল তারা মিলে গেছে এবং রাজ্জাক সাহেব তার লিখিত অভিযোগ তুলে নিয়েছেন। আওয়ামীলীগের নেতারা থানায় এসেছিল তারা চেয়ারম্যানকে নিয়ে গেছেন। সমঝোতা বৈঠকের আয়োজক উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল ব্যাপারী যুগান্তরকে বলেন, চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রাজ্জাক ভাইয়ের মধ্যে জমিজমা নিয়ে একটু ঝামেলা হয়েছিল।  রাজ্জাক ভাই  তাকে মারধোরের অভিযোগে চেয়ারম্যানসহ ৬ জনের নামে থানায় লিখিত অভিযোগ করলে পুলিশ চেয়ারম্যানকে থানায় নিয়ে যায়। খবর পেয়ে আমি ও ১ নং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লাভলু কাজীসহ নোতারা ব্যাপারটি ফয়সালার আশ্বাস দিয়ে  চেয়ারম্যান নাসিরকে থানা থেকে নিয়ে আসছি। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে  মারধর করা ঠিক হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের  জাবাবে তিনি বলেন, পোলাপান চেয়ারম্যান হইলে যা হয়। মুক্তিযোদ্দা রাজ্জাক মিয়াকে মারধরের ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান নাসির হাওলাদার বলেন, জুয়েল নামে একজনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে অফিসে ডেকে আনা হয়েছিল। মারধর ও ঝামেলা হওয়ার কথা বললেই এব্যা পারে এখন আর কথা বলতে চাইনা বলে তিনি ফোন কেটে দেন। সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল হালিম  সাংবাদিকদের বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাকে একজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করতে পারে? অভিযুক্ত চেয়ারম্যানকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবীও জানান মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠনের এই নেতা। ##