০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

যশোরে জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লংঘনের অভিযোগ

###   যশোর জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লংঘনের অভিযোগ উঠেছে। মনিরামপুর উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যানদের ডেকে জেলা পরিষদের নির্বাচনে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী গৌতম চক্রবর্তীর পক্ষে প্রচারণা চালানোর বিষয়ে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে শনিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন গৌতমের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শহিদুল ইসলাম মিলন। অভিযোগে বলা হয়েছে, জেলা পরিষদ নির্বাচনে ৭ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য পদে আমার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী গৌতম চক্রবর্তী। তার আপন মামা স্বপন ভট্টাচার্য যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও পল্লী উন্নয়ন-সমবায় প্রতিমন্ত্রী। জেলা পরিষদ নির্বাচনের আচরণবিধির ২২ নম্বর ধারা অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। কিন্তু এই বিধি লঙ্ঘন করে প্রতিমন্ত্রী গৌতমের পক্ষে শনিবার বেলা ১১টার দিকে যশোর সার্কিট হাউজে উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যানদের ডেকে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। তার ভাগনেকে বিজয়ী করতে নিজ নিজ ইউপি সদস্যদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। সার্কিট হাউজের সিসিটিভির ফুটেজ তদন্ত করলে সত্যতা পাওয়া যাবে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, জেলা পরিষদ নির্বাচনের আচরণবিধির ২০ নম্বর ধারা অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। একই সঙ্গে ধর্মীয় কোনো প্রতিষ্ঠানে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না। কিন্তু ৪ অক্টোবর মশিয়াহাটিসহ বিভিন্ন দুর্গাপূজার মণ্ডপ, মন্দির পরিদর্শনকালে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের কাছে তিনি তার ভাগনে গৌতম চক্রবর্তীর হয়ে প্রচারণা চালিয়েছিলেন। একই সঙ্গে বিজয়ী করার লক্ষ্যে কাজ করতে নির্দেশনা দেন। প্রতিমন্ত্রীর একের পর এক নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন যা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের পথকে রুদ্ধ করেছে।

এদিকে, সভাকক্ষের বাইরে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাছিমা আক্তার জলির নেতৃত্বে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও ইউনিয়ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরা অবস্থান নেন। তারাও সংবাদকর্মীদের ভেতরে প্রবেশ করতে নিষেধ করেন। এছাড়া যশোর সার্কিট হাউজে মনিরামপুর উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যানদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে এমন খবরে সংবাদকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হয়। তখন প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যের পিএস কবির খান তাদের সার্কিট হাউজের সভাকক্ষে যেতে বাধা দিয়ে বলেন, এটা কোনো সরকারি প্রোগ্রাম না। এটা প্রতিমন্ত্রীর নিজস্ব প্রোগ্রাম। এ মতবিনিময় সভার ছবিতে দেখা যায় সভাকক্ষের মঞ্চে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে মণিরামপুর উপজেলার ঝাঁপা ইউপির চেয়ারম্যান শামছুল হক মন্টু, ভোজগাতি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক ও খেদাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম জিন্নাহকে বসে থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া সভাকক্ষে মতবিনিময় সভায় উপজেলার আরও আট ইউপি চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন। সে অনুষ্ঠানে যোগ দেন আওয়ামী লীগের মনোনীত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী সাইফুজ্জামান পিকুল। পরে সেখানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়।

অভিযোগ প্রসঙ্গে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টচার্য সাংবাদিকদের বলেন, ‘এডিবি উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউপি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে কিছুটা দ্বন্দ্ব রয়েছে। সেটা নিয়ে কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বসেছিলাম। ওখানে নির্বাচন নিয়ে কোনো কথা হয়নি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় আরেক প্রার্থী অভিযোগ করেছে।’

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আনিছুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, সরকারি ডাকবাংলো বা সার্কিট হাউজে নির্বাচনী সভা ও সংসদ সদস্যের অংশগ্রহণ নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থি। লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik Madhumati

জনপ্রিয়

দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত 

যশোরে জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লংঘনের অভিযোগ

প্রকাশিত সময় : ০৭:১২:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অক্টোবর ২০২২

###   যশোর জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লংঘনের অভিযোগ উঠেছে। মনিরামপুর উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যানদের ডেকে জেলা পরিষদের নির্বাচনে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী গৌতম চক্রবর্তীর পক্ষে প্রচারণা চালানোর বিষয়ে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে শনিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন গৌতমের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শহিদুল ইসলাম মিলন। অভিযোগে বলা হয়েছে, জেলা পরিষদ নির্বাচনে ৭ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য পদে আমার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী গৌতম চক্রবর্তী। তার আপন মামা স্বপন ভট্টাচার্য যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও পল্লী উন্নয়ন-সমবায় প্রতিমন্ত্রী। জেলা পরিষদ নির্বাচনের আচরণবিধির ২২ নম্বর ধারা অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। কিন্তু এই বিধি লঙ্ঘন করে প্রতিমন্ত্রী গৌতমের পক্ষে শনিবার বেলা ১১টার দিকে যশোর সার্কিট হাউজে উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যানদের ডেকে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। তার ভাগনেকে বিজয়ী করতে নিজ নিজ ইউপি সদস্যদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। সার্কিট হাউজের সিসিটিভির ফুটেজ তদন্ত করলে সত্যতা পাওয়া যাবে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, জেলা পরিষদ নির্বাচনের আচরণবিধির ২০ নম্বর ধারা অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। একই সঙ্গে ধর্মীয় কোনো প্রতিষ্ঠানে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না। কিন্তু ৪ অক্টোবর মশিয়াহাটিসহ বিভিন্ন দুর্গাপূজার মণ্ডপ, মন্দির পরিদর্শনকালে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের কাছে তিনি তার ভাগনে গৌতম চক্রবর্তীর হয়ে প্রচারণা চালিয়েছিলেন। একই সঙ্গে বিজয়ী করার লক্ষ্যে কাজ করতে নির্দেশনা দেন। প্রতিমন্ত্রীর একের পর এক নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন যা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের পথকে রুদ্ধ করেছে।

এদিকে, সভাকক্ষের বাইরে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাছিমা আক্তার জলির নেতৃত্বে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও ইউনিয়ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরা অবস্থান নেন। তারাও সংবাদকর্মীদের ভেতরে প্রবেশ করতে নিষেধ করেন। এছাড়া যশোর সার্কিট হাউজে মনিরামপুর উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যানদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে এমন খবরে সংবাদকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হয়। তখন প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যের পিএস কবির খান তাদের সার্কিট হাউজের সভাকক্ষে যেতে বাধা দিয়ে বলেন, এটা কোনো সরকারি প্রোগ্রাম না। এটা প্রতিমন্ত্রীর নিজস্ব প্রোগ্রাম। এ মতবিনিময় সভার ছবিতে দেখা যায় সভাকক্ষের মঞ্চে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে মণিরামপুর উপজেলার ঝাঁপা ইউপির চেয়ারম্যান শামছুল হক মন্টু, ভোজগাতি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক ও খেদাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম জিন্নাহকে বসে থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া সভাকক্ষে মতবিনিময় সভায় উপজেলার আরও আট ইউপি চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন। সে অনুষ্ঠানে যোগ দেন আওয়ামী লীগের মনোনীত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী সাইফুজ্জামান পিকুল। পরে সেখানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়।

অভিযোগ প্রসঙ্গে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টচার্য সাংবাদিকদের বলেন, ‘এডিবি উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউপি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে কিছুটা দ্বন্দ্ব রয়েছে। সেটা নিয়ে কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বসেছিলাম। ওখানে নির্বাচন নিয়ে কোনো কথা হয়নি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় আরেক প্রার্থী অভিযোগ করেছে।’

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আনিছুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, সরকারি ডাকবাংলো বা সার্কিট হাউজে নির্বাচনী সভা ও সংসদ সদস্যের অংশগ্রহণ নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থি। লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ##