০৫:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

রামপালে ১০ গ্রামের মানুষ  সন্ত্রাসীদের জিম্মিদশা থেকে মুক্তি চায়

###    বাগেরহাটের রামপালে ১০ গ্রামের বাসিন্দা সন্ত্রাসীদের কবল থেকে মুক্তি পেতে চান। তারা বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপার ও রামপাল থানা পুলিশের জোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। গ্রাম গুলো হলো মিত্রাবাদ, বড়দিয়া, তালবুনিয়া, ইসলামাবাদ, চন্ডিতলা, কিসমত চন্ডিতলা, দেয়ালডাঙ্গা, মুজিব নগর, সুন্দরপুর ও গিলাতলা। গ্রামবাসী বহু আবেদন নিবেদন করার পরেও সন্ত্রাসীরা একের পর এক হামলা, মারপিট করে আহত করছে গ্রামের মানুষদের। সন্ত্রাসীরা আধিপত্য বিস্তার, ঘের দখল ও জমি দখলকে কেন্দ্র করে এ সব অপকর্ম নির্দিধায় চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, উপজেলার ইসলামাবাদ গ্রামের শেখ আবু জাফরের পুত্র ২ টি হত্যা মামলা, বোমা হামলা, নরী অপহরণসহ অর্ধডজন মামলার আসামি মাছুম বিল্লাহ বাড়িতে এসেই একটি অপরাধ জগৎ গড়ে তুলেছেন। তার সহযোগীরা হলো, ইসলামাবাদ গ্রামের আবু তালেব,  মারুফ শেখ, মাসুম শেখ, মোস্তাফিজ শেখ, বাকি বিল্লাহ, শরাফত কাজী, খোকন শেখ,  পলাশ শেখ, নাহিদ শেখ, আসাদ শেখ সহ প্রায় দুই ডজন ব্যক্তির সমন্বয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এরা ইতিমধ্যে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মাদরাসা শিক্ষক কুদরতি এনামুল বাশার বাচ্চু, সাবেক ইউপি সদস্য ও যুবলীগের সভাপতি মল্লিক মিজানুর রহমান, ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম সোহাগ, ইউপি সদস্য শেখ রাসেল, সাবেক ইউপি সদস্য রেজাউল কুদরতি, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শেখ আব্দুল্লাহ আজমি, রামপাল উপজেলা বিএনপি নেতা ফকির শাহাদাত হোসেন, ফকির আবু জাফরসহ শতাধিক মানুষ কে মারপিট করে গুরুতর আহত করেছেন। এ ছাড়াও সরকারী কাজে বাঁধা প্রদান করে এসি ল্যান্ডের গাড়ি চালক কোহিনূরকে মারপিট করে আহত করছেন।  অনেকে এ সব নিয়ে মামলা ও করতে পারেননি। সন্ত্রাসী মাছুম বিল্লাহ বিএনপি নেতা ও জনপ্রিয় চেয়ারম্যান সরদার হাবিবুর রহমানকে এবং সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জামায়াত নেতা গাজী আবু বকারকে নৃশংসভাবে বোমা মেরে হত্যার ঘটনার মামলার আসামি। এদের বিরুদ্ধে রামপাল থানার মামলা নং- ০৩, তারিখ ০১-০৪-২০২৩, রামপাল থানার মামলা নং ২০, তারিখ -২৫-০৫-২০২২, রামপাল থানার মামলা নং -১৭, তারিখ -২০-১১-২০২২, রামপাল থানার মামলা নং -০৫, তারিখ -০৫-০৩-২০০৪, রামপাল থানার মামলা নং -০৬, তারিখ – ০৩-০৬-২০০৩, রামপাল থানার মামলা নং ০৬, তারিখ – ০৬-০২-২০০৪, রামপাল থানার মামলা নং -০৫, তারিখ -০৯-০৯-১৯৯৭, জিআর মামলা নং – ১৮০/০৩, সিআর মামলা নং -৯২/২০০৪, তারিখ – ০৫-০৩-২০০৪, রামপাল থানার সাধারণ ডাইরি নং ৩১৪, তারিখ – ০৭-০৭-০৬, খালিশপুর থানার ডাইরি নং -৩৩৫, তারিখ – ০৮-০৬-২০০৭, খালিশপুর থানার মামলা নং ২৪, তারিখ -১১-০১-২০০৮, রামপাল থানার সাধারণ ডাইরি নং – ৯৫৯, তারিখ – ২৪-০৯-২০২১, রামপাল থানার জিডি নং- ১৩২৪, তারিখ – ২৬-০৮-২০২২, রামপাল থানার জিডি নং -৩১৯, তারিখ -০৮-০১-২০২২, রামপাল থানার জিডি নং – ৪৪৪, তারিখ – ১১-০৪-২০২২, রামপাল থানার জিডি নং ৬৯০, তারিখ – ১৪-০৮-২০২২।  এসব মামলা বা অভিযোগের বাইরে তাদের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা দাবী করেন। এত সব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মাছুম বিল্লাহ, মারুফ, মাসুমের কাছে জানতে চাইলে তারা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গ্রাম্য দলাদলির কারণে অসত্য,  বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছে। মামলা ও জিডির বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, আমাদের মারপিট করে উল্টো আমাদের নামে মামলা করেছে ও জিডি করেছে। অনেক মামলা থেকে আমরা খালাস পেয়েছি। ভুক্তভোগীরা রামপাল থানা ও বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপারের আশু সমাধান কামনা করে বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে চাই। সন্ত্রাসীদের থামানো না গেলে বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন।#

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik adhumati

জনপ্রিয়

দশমিনায় পরীক্ষায় অসৎ উপায় অবলম্বন করায় দুই শিক্ষার্থী বহিস্কার

রামপালে ১০ গ্রামের মানুষ  সন্ত্রাসীদের জিম্মিদশা থেকে মুক্তি চায়

প্রকাশিত সময় : ০২:১৪:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৩

###    বাগেরহাটের রামপালে ১০ গ্রামের বাসিন্দা সন্ত্রাসীদের কবল থেকে মুক্তি পেতে চান। তারা বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপার ও রামপাল থানা পুলিশের জোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। গ্রাম গুলো হলো মিত্রাবাদ, বড়দিয়া, তালবুনিয়া, ইসলামাবাদ, চন্ডিতলা, কিসমত চন্ডিতলা, দেয়ালডাঙ্গা, মুজিব নগর, সুন্দরপুর ও গিলাতলা। গ্রামবাসী বহু আবেদন নিবেদন করার পরেও সন্ত্রাসীরা একের পর এক হামলা, মারপিট করে আহত করছে গ্রামের মানুষদের। সন্ত্রাসীরা আধিপত্য বিস্তার, ঘের দখল ও জমি দখলকে কেন্দ্র করে এ সব অপকর্ম নির্দিধায় চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, উপজেলার ইসলামাবাদ গ্রামের শেখ আবু জাফরের পুত্র ২ টি হত্যা মামলা, বোমা হামলা, নরী অপহরণসহ অর্ধডজন মামলার আসামি মাছুম বিল্লাহ বাড়িতে এসেই একটি অপরাধ জগৎ গড়ে তুলেছেন। তার সহযোগীরা হলো, ইসলামাবাদ গ্রামের আবু তালেব,  মারুফ শেখ, মাসুম শেখ, মোস্তাফিজ শেখ, বাকি বিল্লাহ, শরাফত কাজী, খোকন শেখ,  পলাশ শেখ, নাহিদ শেখ, আসাদ শেখ সহ প্রায় দুই ডজন ব্যক্তির সমন্বয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এরা ইতিমধ্যে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মাদরাসা শিক্ষক কুদরতি এনামুল বাশার বাচ্চু, সাবেক ইউপি সদস্য ও যুবলীগের সভাপতি মল্লিক মিজানুর রহমান, ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম সোহাগ, ইউপি সদস্য শেখ রাসেল, সাবেক ইউপি সদস্য রেজাউল কুদরতি, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শেখ আব্দুল্লাহ আজমি, রামপাল উপজেলা বিএনপি নেতা ফকির শাহাদাত হোসেন, ফকির আবু জাফরসহ শতাধিক মানুষ কে মারপিট করে গুরুতর আহত করেছেন। এ ছাড়াও সরকারী কাজে বাঁধা প্রদান করে এসি ল্যান্ডের গাড়ি চালক কোহিনূরকে মারপিট করে আহত করছেন।  অনেকে এ সব নিয়ে মামলা ও করতে পারেননি। সন্ত্রাসী মাছুম বিল্লাহ বিএনপি নেতা ও জনপ্রিয় চেয়ারম্যান সরদার হাবিবুর রহমানকে এবং সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জামায়াত নেতা গাজী আবু বকারকে নৃশংসভাবে বোমা মেরে হত্যার ঘটনার মামলার আসামি। এদের বিরুদ্ধে রামপাল থানার মামলা নং- ০৩, তারিখ ০১-০৪-২০২৩, রামপাল থানার মামলা নং ২০, তারিখ -২৫-০৫-২০২২, রামপাল থানার মামলা নং -১৭, তারিখ -২০-১১-২০২২, রামপাল থানার মামলা নং -০৫, তারিখ -০৫-০৩-২০০৪, রামপাল থানার মামলা নং -০৬, তারিখ – ০৩-০৬-২০০৩, রামপাল থানার মামলা নং ০৬, তারিখ – ০৬-০২-২০০৪, রামপাল থানার মামলা নং -০৫, তারিখ -০৯-০৯-১৯৯৭, জিআর মামলা নং – ১৮০/০৩, সিআর মামলা নং -৯২/২০০৪, তারিখ – ০৫-০৩-২০০৪, রামপাল থানার সাধারণ ডাইরি নং ৩১৪, তারিখ – ০৭-০৭-০৬, খালিশপুর থানার ডাইরি নং -৩৩৫, তারিখ – ০৮-০৬-২০০৭, খালিশপুর থানার মামলা নং ২৪, তারিখ -১১-০১-২০০৮, রামপাল থানার সাধারণ ডাইরি নং – ৯৫৯, তারিখ – ২৪-০৯-২০২১, রামপাল থানার জিডি নং- ১৩২৪, তারিখ – ২৬-০৮-২০২২, রামপাল থানার জিডি নং -৩১৯, তারিখ -০৮-০১-২০২২, রামপাল থানার জিডি নং – ৪৪৪, তারিখ – ১১-০৪-২০২২, রামপাল থানার জিডি নং ৬৯০, তারিখ – ১৪-০৮-২০২২।  এসব মামলা বা অভিযোগের বাইরে তাদের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা দাবী করেন। এত সব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মাছুম বিল্লাহ, মারুফ, মাসুমের কাছে জানতে চাইলে তারা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গ্রাম্য দলাদলির কারণে অসত্য,  বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছে। মামলা ও জিডির বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, আমাদের মারপিট করে উল্টো আমাদের নামে মামলা করেছে ও জিডি করেছে। অনেক মামলা থেকে আমরা খালাস পেয়েছি। ভুক্তভোগীরা রামপাল থানা ও বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপারের আশু সমাধান কামনা করে বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে চাই। সন্ত্রাসীদের থামানো না গেলে বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন।#