০৯:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রূপসায় জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে শরিকের  সম্পত্তি জবর দখলের চেষ্টা, থানায় অভিযোগ

  • সংবাদদাতা
  • প্রকাশিত সময় : ০৫:৪৫:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৩
  • ৩৫ পড়েছেন

 

রূপসা প্রতিনিধি : রূপসা উপজেলার দেবীপুর গ্রামে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে শরিকের সম্পত্তি জবর দখলের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আদালতে বাটোয়ারা মামলা চলমান থাকলেও তার তোয়াক্কা করছেনা ওই চক্রটি। এব্যাপারে রূপসা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার দেবীপুর গ্রামের মৃত কহিল উদ্দীন নেহালপুর মৌজায় সিএস ৫৯৬ নং খতিয়ানে ১০২৭ নং দাগে ৪৭ শতক, সিএস ২৪৪ নং খতিয়ানে ১০২৩ নং দাগে ৬৭ শতক, একই খতিয়ানে ১০২৪ নং দাগে ৪৯ শতক ও সিএস ২১১ নং খতিয়ানে ১০২৬ নং দাগে ১৭ শতক জমি রেখে যান। ওয়ারেশ হিসেবে রেখে যান ২ ছেলে আনছার উদ্দীন শেখ ওরফে পাচু শেখ, আকাম উদ্দীন শেখ, কণ্যা বড়– বিবি ও মাজু বিবিকে। এদের মৃত্যুর পর তাদের সন্তানরা শান্তিপূর্ণভাবে বিষয় সম্পত্তি ভোগ দখল করতে থাকে।

ওই চার সন্তানের মধ্যে বড়– বিবির তিন ছেলে হাসেম আলী, কাশেম আলী ও হাতেম আলী রয়েছে। কহিল উদ্দীনের জীবদ্দশায় তার সম্পত্তির মধ্যে দেবীপুর গ্রামের বসত বাড়ি পুত্রদের এবং এর অংশ হিসেবে কণ্যাদের মধ্যে বড়– বিবিকে সামন্তসেনা বিলের বিলান জমি মৌখিকভাবে দিয়ে যান। সেইসাথে সকল বিষয় সম্পত্তি তার নাতি অর্থাৎ বড়– বিবির ছোট ছেলে হাতেম আলীকে দেখা শোনার দায়িত্ব দেন। নানার সম্পত্তি দেখাশোনার সুবাদে লোভে পড়ে শুরু করে জাল-জালিয়াতি। ওই সকল সম্পত্তি থেকে বড়– বিবি যে অংশ পাবে তার চেয়ে কয়েকগুন বেশি জমির কাগজ-পত্র জাল-জালিয়াতি করে নেয়। এদের মৃত্যুর পর তাদের সন্তানেরা ওই জাল-জালিয়াতির কাগজ-পত্রের উপর ভিত্তি করে জমি দখলের নেশায় মেতে ওঠে। আর বঞ্চিত করার চেষ্টা চালাতে থাকে আনছার উদ্দীন শেখ ওরফে পাচু শেখ, আকাম উদ্দীন শেখ ও মাজু বিবির ওয়ারেশদের। যদিও জন্মের পর থেকে এসব ওয়ারেশরা ওই জমি ভোগ দখলে রয়েছে। পরিবারে মৃত্যুবরণ করলে তার জন্য ওই বসত বাড়ির একপ্রান্তে পারিবারিক কবরস্থানও রয়েছে। এদিকে বড়– বিবির ওয়ারেশরা বিভিন্ন ব্যক্তিকে আমমোক্তার নামা দলিল এবং বায়নাপত্রের মাধমে ওই জমির মালিক বানিয়ে দেন।

এর আগে ২০১২ সালের মার্চ মাসে হাতেম আলী উপজেলার ইলাইপুর গ্রামের মৃত খালেক ফকিরের ছেলে আতাহার ফকিরকে দিয়ে প্রতারনার মাধ্যমে মৃত পাচু শেখ এর ছেলে আমজাদ আলী শেখ, মৃত আনছার উদ্দিন শেখ এর ছেলে আবজাল শেখ, আসশ^াস আলী শেখ, কণ্যা সাহিদা বেগম, ফরিদা বেগম, মৃত ওহাব শেখ এর স্ত্রী মোমেনা বেগম, কণ্যা হালিমা বেগম, হোসনেয়ারা বেগম, রেশমা বেগমকে দিয়ে সামন্ত সেনা মৌজার সমুদয় বিলান সম্পত্তি আমমোক্তার নামা দলিলের মাধ্যমে লিখে নেয়।

ওই জমাজমির মধ্যে ১নং তপশীলে রয়েছে, জে, এল ৩৭ নং সামন্তসেনার মধ্যে সি,এস ২৭নং খতিয়ান স্থলে এস,এ ২৫নং খতিয়ান ৫০৯ নং দাগে .১৭ একর, এস,এ ৫১১ নং দাগে .১৪ একর, এস,এ ৬৮৯ নং দাগে .২৯ একর, এস, এ ৬৯৬ নং দাগে .৪২ একর মোট ১.০২ একর জমির মধ্য হতে .১৭ একর জমি। ২নং তপশীলে রয়েছে, ঐ মৌজায় সি,এস ৮৮৯ নং খতিয়ান স্থলে এস,এ ৮২৩ নং খতিয়ানে ৫৭৩ নং দাগে .২২ একর, এস,এ ৬৬৯ নং দাগে .৬৫ একর, এস,এ ৭৫৮ নং দাগে .১৮ একর মোট ১.০৫ একর মধ্যে .২৯ একর জমি। ৩নং তপশীলে ঐ মৌজায় সি,এস ৫৯২ নং খতিয়ান হলে এস,এ ৫৩৯ নং খতিয়ানে ৭২৬ নং দাগে বিলান .৫১ একর মধ্যে .২০ একর জমি। সর্বমোট ৩টি খতিয়ানে .৬৬ একর জমি। উল্লিখিত সম্পত্তি প্রথমে আতাহার আলী ফকিরের নামে আমমোক্তার দলিল হলেও পরে সে তা পুনরায় হাতেম আলী এবং হাতেম আলীর পছন্দের ব্যক্তির নামে আমমোক্তার নামা দলিল করে দেয়।

এদিকে বসতভিটাসহ সকল বিষয় সম্পত্তি রক্ষায় আনছার উদ্দীন শেখ ওরফে পাচু শেখ, আকাম উদ্দীন শেখ ও মাজু বিবির ওয়ারেশগণ গত ২৫/১০/২০ তারিখ বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ৩য় আদালত, খুলনায় বাটোয়ারা মামলা দায়ের করেন। যা এখনো চলমান রয়েছে। অপরদিকে বাটোয়ারা মামলার বাদী পক্ষকে সায়েস্তা করতে অবৈধ দখল প্রচেষ্টাকারীদের পক্ষে দেবীপুর গ্রামের মৃত নিতাই দাসের ছেলে সমীর দাস বাদী হয়ে বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (রূপসা), খুলনায় একটি মামলা দায়ের করেন।

###

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

dainik madhumati

জনপ্রিয়

চিতলমারীতে উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলমগীর সিদ্দিকীর সংবাদ সম্মেলন

রূপসায় জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে শরিকের  সম্পত্তি জবর দখলের চেষ্টা, থানায় অভিযোগ

প্রকাশিত সময় : ০৫:৪৫:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৩

 

রূপসা প্রতিনিধি : রূপসা উপজেলার দেবীপুর গ্রামে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে শরিকের সম্পত্তি জবর দখলের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আদালতে বাটোয়ারা মামলা চলমান থাকলেও তার তোয়াক্কা করছেনা ওই চক্রটি। এব্যাপারে রূপসা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার দেবীপুর গ্রামের মৃত কহিল উদ্দীন নেহালপুর মৌজায় সিএস ৫৯৬ নং খতিয়ানে ১০২৭ নং দাগে ৪৭ শতক, সিএস ২৪৪ নং খতিয়ানে ১০২৩ নং দাগে ৬৭ শতক, একই খতিয়ানে ১০২৪ নং দাগে ৪৯ শতক ও সিএস ২১১ নং খতিয়ানে ১০২৬ নং দাগে ১৭ শতক জমি রেখে যান। ওয়ারেশ হিসেবে রেখে যান ২ ছেলে আনছার উদ্দীন শেখ ওরফে পাচু শেখ, আকাম উদ্দীন শেখ, কণ্যা বড়– বিবি ও মাজু বিবিকে। এদের মৃত্যুর পর তাদের সন্তানরা শান্তিপূর্ণভাবে বিষয় সম্পত্তি ভোগ দখল করতে থাকে।

ওই চার সন্তানের মধ্যে বড়– বিবির তিন ছেলে হাসেম আলী, কাশেম আলী ও হাতেম আলী রয়েছে। কহিল উদ্দীনের জীবদ্দশায় তার সম্পত্তির মধ্যে দেবীপুর গ্রামের বসত বাড়ি পুত্রদের এবং এর অংশ হিসেবে কণ্যাদের মধ্যে বড়– বিবিকে সামন্তসেনা বিলের বিলান জমি মৌখিকভাবে দিয়ে যান। সেইসাথে সকল বিষয় সম্পত্তি তার নাতি অর্থাৎ বড়– বিবির ছোট ছেলে হাতেম আলীকে দেখা শোনার দায়িত্ব দেন। নানার সম্পত্তি দেখাশোনার সুবাদে লোভে পড়ে শুরু করে জাল-জালিয়াতি। ওই সকল সম্পত্তি থেকে বড়– বিবি যে অংশ পাবে তার চেয়ে কয়েকগুন বেশি জমির কাগজ-পত্র জাল-জালিয়াতি করে নেয়। এদের মৃত্যুর পর তাদের সন্তানেরা ওই জাল-জালিয়াতির কাগজ-পত্রের উপর ভিত্তি করে জমি দখলের নেশায় মেতে ওঠে। আর বঞ্চিত করার চেষ্টা চালাতে থাকে আনছার উদ্দীন শেখ ওরফে পাচু শেখ, আকাম উদ্দীন শেখ ও মাজু বিবির ওয়ারেশদের। যদিও জন্মের পর থেকে এসব ওয়ারেশরা ওই জমি ভোগ দখলে রয়েছে। পরিবারে মৃত্যুবরণ করলে তার জন্য ওই বসত বাড়ির একপ্রান্তে পারিবারিক কবরস্থানও রয়েছে। এদিকে বড়– বিবির ওয়ারেশরা বিভিন্ন ব্যক্তিকে আমমোক্তার নামা দলিল এবং বায়নাপত্রের মাধমে ওই জমির মালিক বানিয়ে দেন।

এর আগে ২০১২ সালের মার্চ মাসে হাতেম আলী উপজেলার ইলাইপুর গ্রামের মৃত খালেক ফকিরের ছেলে আতাহার ফকিরকে দিয়ে প্রতারনার মাধ্যমে মৃত পাচু শেখ এর ছেলে আমজাদ আলী শেখ, মৃত আনছার উদ্দিন শেখ এর ছেলে আবজাল শেখ, আসশ^াস আলী শেখ, কণ্যা সাহিদা বেগম, ফরিদা বেগম, মৃত ওহাব শেখ এর স্ত্রী মোমেনা বেগম, কণ্যা হালিমা বেগম, হোসনেয়ারা বেগম, রেশমা বেগমকে দিয়ে সামন্ত সেনা মৌজার সমুদয় বিলান সম্পত্তি আমমোক্তার নামা দলিলের মাধ্যমে লিখে নেয়।

ওই জমাজমির মধ্যে ১নং তপশীলে রয়েছে, জে, এল ৩৭ নং সামন্তসেনার মধ্যে সি,এস ২৭নং খতিয়ান স্থলে এস,এ ২৫নং খতিয়ান ৫০৯ নং দাগে .১৭ একর, এস,এ ৫১১ নং দাগে .১৪ একর, এস,এ ৬৮৯ নং দাগে .২৯ একর, এস, এ ৬৯৬ নং দাগে .৪২ একর মোট ১.০২ একর জমির মধ্য হতে .১৭ একর জমি। ২নং তপশীলে রয়েছে, ঐ মৌজায় সি,এস ৮৮৯ নং খতিয়ান স্থলে এস,এ ৮২৩ নং খতিয়ানে ৫৭৩ নং দাগে .২২ একর, এস,এ ৬৬৯ নং দাগে .৬৫ একর, এস,এ ৭৫৮ নং দাগে .১৮ একর মোট ১.০৫ একর মধ্যে .২৯ একর জমি। ৩নং তপশীলে ঐ মৌজায় সি,এস ৫৯২ নং খতিয়ান হলে এস,এ ৫৩৯ নং খতিয়ানে ৭২৬ নং দাগে বিলান .৫১ একর মধ্যে .২০ একর জমি। সর্বমোট ৩টি খতিয়ানে .৬৬ একর জমি। উল্লিখিত সম্পত্তি প্রথমে আতাহার আলী ফকিরের নামে আমমোক্তার দলিল হলেও পরে সে তা পুনরায় হাতেম আলী এবং হাতেম আলীর পছন্দের ব্যক্তির নামে আমমোক্তার নামা দলিল করে দেয়।

এদিকে বসতভিটাসহ সকল বিষয় সম্পত্তি রক্ষায় আনছার উদ্দীন শেখ ওরফে পাচু শেখ, আকাম উদ্দীন শেখ ও মাজু বিবির ওয়ারেশগণ গত ২৫/১০/২০ তারিখ বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ৩য় আদালত, খুলনায় বাটোয়ারা মামলা দায়ের করেন। যা এখনো চলমান রয়েছে। অপরদিকে বাটোয়ারা মামলার বাদী পক্ষকে সায়েস্তা করতে অবৈধ দখল প্রচেষ্টাকারীদের পক্ষে দেবীপুর গ্রামের মৃত নিতাই দাসের ছেলে সমীর দাস বাদী হয়ে বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (রূপসা), খুলনায় একটি মামলা দায়ের করেন।

###