১০:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শসার ভালো দাম না পাওয়ায় তেরখাদায় হতাশায় কৃষক

  • সংবাদদাতা
  • প্রকাশিত সময় : ০৩:৩৬:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অক্টোবর ২০২২
  • ৬১ পড়েছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভালো দাম পাওয়ায় এবারও খুলনার তেরখাদা উপজেলায় শসা চাষে বেশি আগ্রহী কৃষকরা। এ বছরের ১৮০ হেক্টর জমিতে শসা চাষ করেন কৃষকরা। ফলনও হয়েছে বেশি। কিন্তু দাম নিয়ে হতাশ কৃষকরা। ১২ টাকা কেজিতে শসা বিক্রি করছেন তারা।
জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সবজিতে ও মৎস্য ঘেরের পাড়ে বিপুল পরিমাণ শসার চাষ হয়েছে। বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতিদিন আজগড়া, সাচিয়াদাহ, ছাগলাদাহ, মধুপুর, তেরখাদা সদর ইউনিয়ন সহ আশপাশের বাজার থেকে বিভিন্ন জায়গার বেপারীরা এসে শসা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। শসার সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের শাক—সবজিও কিনছেন তারা। তবে কৃষকরা জানিয়েছেন, এবার শসার ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। পাইকারিতে বার টাকা কেজিতে শসা বিক্রি করছেন। এতে তাদের লাভ হচ্ছে না। তেরখাদা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর তেরখাদায় ১৮০ হেক্টর জমিতে শসা চাষ হয়েছে এবং প্রায় ৩ হাজার ৪০০ মে. টন ফলন হবে বলে আশা করছেন।
উপজেলার বারাসাত ইউনিয়নের ভূজনীয়া এলাকার শিমুল বালা বলেন, তিন বিঘা জমিতে শসা চাষ করেছি। প্রতিদিন ছয়—সাত মণ শসা বিক্রি করছি। বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু দাম পাচ্ছি না। পাঁচশত টাকা মোন দরে শসা বিক্রি করতে হয়। এত কষ্ট করেও লাভ হচ্ছে না। অথচ বাজারে শসার কেজি ৪০ টাকা।
ভুজনীয়া এলাকার নবেন্দ্র মোহন্ত বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার শসার ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু আমরা দাম পাচ্ছি না। বার টাকা কেজিতে শসা বিক্রি করছি। এ জন্য লোকসানের মুখে পড়বো।
আজগড়া এলাকার কৃষক পিযুস বিশ্বাস বলেন, এ বছর ২০ বিঘা জমিতে শসা চাষ করেছি। অনেক টাকা ব্যয় হয়েছে। প্রতিদিন ৭০—৮০ মণের ওপরে শসা বিক্রি করছি। তে ও মাছের ঘেরে নিয়মিত ৭/৮ জন শ্রমিক কাজ করেন। এ বছর শসার দাম কম হওয়ায় লোকসান হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে আমার।
তেরখাদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় এ বছর শসার বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে অতিরিক্ত খরার জন্য শসা চাষে কৃষকদের বাড়তি খরচ হয়েছে। উপজেলার আজগড়া, ভুজনীয়া, শ্রীপুর, সাচিয়াদাহ সহ বিভিন্ন এলাকার প্রধান সড়কের উপর থেকে থেকে প্রতিদিন ট্রাকে ট্রাকে শসা দেশের বড় বড় শহরে যাচ্ছে। আশা করছি, চলতি বছর উপজেলায় ৩ হাজার মে.টনের বেশি শসা উৎপাদন হবে। সরাসরি ব্যবসায়ীদের কাছে শসা বিক্রি করতে পারছেন কৃষকরা। দাম কম হওয়ায় লাভ কম হচ্ছে কৃষকদের।

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

dainik madhumati

জনপ্রিয়

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে গলাচিপায় বেড়েছে বাতাস ও নদীর পানি

শসার ভালো দাম না পাওয়ায় তেরখাদায় হতাশায় কৃষক

প্রকাশিত সময় : ০৩:৩৬:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অক্টোবর ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভালো দাম পাওয়ায় এবারও খুলনার তেরখাদা উপজেলায় শসা চাষে বেশি আগ্রহী কৃষকরা। এ বছরের ১৮০ হেক্টর জমিতে শসা চাষ করেন কৃষকরা। ফলনও হয়েছে বেশি। কিন্তু দাম নিয়ে হতাশ কৃষকরা। ১২ টাকা কেজিতে শসা বিক্রি করছেন তারা।
জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সবজিতে ও মৎস্য ঘেরের পাড়ে বিপুল পরিমাণ শসার চাষ হয়েছে। বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতিদিন আজগড়া, সাচিয়াদাহ, ছাগলাদাহ, মধুপুর, তেরখাদা সদর ইউনিয়ন সহ আশপাশের বাজার থেকে বিভিন্ন জায়গার বেপারীরা এসে শসা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। শসার সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের শাক—সবজিও কিনছেন তারা। তবে কৃষকরা জানিয়েছেন, এবার শসার ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। পাইকারিতে বার টাকা কেজিতে শসা বিক্রি করছেন। এতে তাদের লাভ হচ্ছে না। তেরখাদা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর তেরখাদায় ১৮০ হেক্টর জমিতে শসা চাষ হয়েছে এবং প্রায় ৩ হাজার ৪০০ মে. টন ফলন হবে বলে আশা করছেন।
উপজেলার বারাসাত ইউনিয়নের ভূজনীয়া এলাকার শিমুল বালা বলেন, তিন বিঘা জমিতে শসা চাষ করেছি। প্রতিদিন ছয়—সাত মণ শসা বিক্রি করছি। বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু দাম পাচ্ছি না। পাঁচশত টাকা মোন দরে শসা বিক্রি করতে হয়। এত কষ্ট করেও লাভ হচ্ছে না। অথচ বাজারে শসার কেজি ৪০ টাকা।
ভুজনীয়া এলাকার নবেন্দ্র মোহন্ত বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার শসার ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু আমরা দাম পাচ্ছি না। বার টাকা কেজিতে শসা বিক্রি করছি। এ জন্য লোকসানের মুখে পড়বো।
আজগড়া এলাকার কৃষক পিযুস বিশ্বাস বলেন, এ বছর ২০ বিঘা জমিতে শসা চাষ করেছি। অনেক টাকা ব্যয় হয়েছে। প্রতিদিন ৭০—৮০ মণের ওপরে শসা বিক্রি করছি। তে ও মাছের ঘেরে নিয়মিত ৭/৮ জন শ্রমিক কাজ করেন। এ বছর শসার দাম কম হওয়ায় লোকসান হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে আমার।
তেরখাদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় এ বছর শসার বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে অতিরিক্ত খরার জন্য শসা চাষে কৃষকদের বাড়তি খরচ হয়েছে। উপজেলার আজগড়া, ভুজনীয়া, শ্রীপুর, সাচিয়াদাহ সহ বিভিন্ন এলাকার প্রধান সড়কের উপর থেকে থেকে প্রতিদিন ট্রাকে ট্রাকে শসা দেশের বড় বড় শহরে যাচ্ছে। আশা করছি, চলতি বছর উপজেলায় ৩ হাজার মে.টনের বেশি শসা উৎপাদন হবে। সরাসরি ব্যবসায়ীদের কাছে শসা বিক্রি করতে পারছেন কৃষকরা। দাম কম হওয়ায় লাভ কম হচ্ছে কৃষকদের।