১১:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
এসো হে বৈশাখ, এসো এসো

শুভ বাংলা নববর্ষ: রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

###   আবহমানকালের যাত্রাপথে শুরু হলো নতুন আরেকটি বাংলা বর্ষ। পঞ্জিকার পালাবদলে শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখ। শুভ বাংলা নববর্ষ ১৪৩০। দিনটি সকল বাঙালী জাতির ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণের দিন।

১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দের ১০ই মার্চ(৯৯২ হিজরি)বাংলা সন গণনা শুরু হয়।তবে ১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দের ৫ ই নভেম্বর থেকে এ গণনা পদ্ধতি কার্যকর করা হয়।প্রথমে মুঘল সম্রাট আকবরের আমলে এ দিনক্ষন ছিল ফসলি সন বা খাজনা আদায়ের সন, পরে “বঙ্গাব্দ” বা বাংলা বর্ষ নামে পরিচিত,  এখন তা  বাঙালীর  উৎসবে পরিণিত। এ দিনটি এখন বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যবসায়ীরা নতুনভাবে ব্যবসা শুরু করার উপলক্ষ হিসেবে বরণ করে নেয়।এদিন বাংলাদেশে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করো হয়। ২০১৬ সালে ইউনেস্কো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত এই উৎসব সোভাযাত্রাকে “মানবতার অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য” হিসেবে ঘোষনা করে। মূরত ১৪০২ বঙ্গাব্দের ১লা বৈশাখ থেবে এ উৎসব উদযাপিত হয়ে আসছে। এ নতুন বর্ষকে স্বাগত জানাতে, সমগ্র বাঙালি জাতি আজ এক কাতারে। ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র  নির্বিশেষে বাঙালির একমাত্র অসাম্প্রদায়িক উৎসবের দিন এটি। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের সহকর্মীদের জন্য চালু করেছে বিশেষ বৈশাখী ভাতা। সব মিলিয়ে বাঙালীর এক প্রাণের উৎসব।

আমাদের এখানে ধর্ম নিরপেক্ষ আর কোনো জাতীয় উৎসব নেই। অসাম্প্রদায়িকতার দিক থেকে এবং প্রকৃতিগতভাবে বিবেচনা করলে পহেলা বৈশাখ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে ফসলি মাস, অন্যদিকে কালবৈশাখী। সব মিলিয়ে বৈশাখ উদ্দীপনামূলক এক মাস, যা আমাদের জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করে। আবহমানকাল বাংলার গ্রামীণ জনপদে উদযাপিত হওয়া নববর্ষের আয়োজন এখন ছুঁয়েছে নগর জীবনে এবং নতুন মাত্রায়। সর্বত্র উদযাপিত হচ্ছে বাংলার উৎসব, উচ্চারিত হচ্ছে বাঙালিয়ানার জয়গান। কণ্ঠে কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে, ‘সবার ওপরে মানুষ সত্য। ‘ প্রকৃতপক্ষে পহেলা বৈশাখ শুধু আমাদের একার উৎসব নয়। গোটা অঞ্চলেই বৈশাখ উদযাপিত হয়। সেই সঙ্গে পুরো অঞ্চলেই প্রকৃতির বদল হয়। আমরা নিজস্ব সংস্কৃতির কথা বলি, সেটার সঙ্গে প্রকৃতির সংলগ্নতা রয়েছে। এটাই আমাদের সংস্কৃতির অন্যতম উপাদান। বর্তমানে পহেলা বৈশাখের আয়োজনে মুখ্য হয়ে উঠেছে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, যা প্রবর্তনের কৃতিত্ব প্রায় পুরোটুকুই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের। তিনি শান্তিনিকেতনে প্রথম ঋতুভিত্তিক উৎসবের আয়োজন করেন। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলার প্রান্ত থেকে শহরে ছড়িয়ে পড়ে বর্ষবরণের আয়োজন। ১৯৬১ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে রবীন্দ্রচর্চা নিষিদ্ধ করার চেষ্টা হয়েছিল, সেই চেষ্টা প্রতিরোধেরও অংশ হয়ে গিয়েছিল বর্ষবরণের আয়োজন। ১৯৬৭ সালে রমনা উদ্যানের অশ্বত্থমূলে ছায়ানটে বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে গ্রামীণ জীবন থেকে শহুরে জীবনে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ব্যাপকতা লাভ করে । এ পথচলা এত সহজ ছিল না। পাকিস্তান আমলে তো বটেই, স্বাধীন বাংলাদেশেও আক্রমণের শিকার হয়েছে এ উৎসব। ২০০১ সালে ধর্মীয় উগ্রবাদীদের বোমায় রক্তাক্ত হয়েছে। রমনায় বোমা হামলা করেও সংস্কৃতির অগ্রযাত্রা থামাতে পারেনি ধর্মীয় উগ্রবাদীরা। পরের বছর থেকে বিপুল উৎসাহে মানুষ বর্ষবরণের আয়োজনে যোগ দিয়ে আসছেন। এর সঙ্গে রয়েছে মঙ্গল শোভাযাত্রাও। সেই বার্তা নিয়েই আজ দেশব্যাপী উদযাপিত হচ্ছে বাংলা নববর্ষ। কায়মনে বাঙালি প্রার্থনা করবে- ‘মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা/ অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা…। ‘ ঘরে ঘরে উচ্চারিত হবে, ‘ এসো হে বৈশাখ, এসো এসো…’

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী দেশে ও দেশের বাইরে বসবাসরত সকল বাংলাদেশীকে নবর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ।

রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ  বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে  বৃহস্পতিবার এক শুভেচ্ছা বাণীতে  বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ বাঙালি জাতির জীবনে একটি পরম আনন্দের দিন। আনন্দঘন এ দিনে আমি দেশে ও দেশের বাইরে বসবাসরত সকল বাংলাদেশীকে জানাই বাংলা নবর্ষের শুভেচ্ছা।’তিনি বলেন, ‘বাঙালি জাতির শাশ্বত ঐতিহ্যের প্রধান অঙ্গ পহেলা বৈশাখ। নতুনের বার্তা নিয়ে বেজে উঠে বৈশাখের আগমনি বার্তা। দুঃখ, জরা, ব্যর্থতা ও মলিনতাকে ভুলে সবাই জেগে ওঠে মহানন্দে। ফসলি সন হিসেবে মোঘল আমলে যে বর্ষগণনার সূচনা হয়েছিল, সময়ের পরিক্রমায় তা আজ সমগ্র বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক স্মারক উৎসবে পরিণত হয়েছে।’ রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘পহেলা বৈশাখের মাঝে বাঙালি খুঁজে পায় নিজস্ব ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও চেতনার স্বরূপ। বৈশাখ শুধু উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের আত্মবিকাশ ও বেড়ে ওঠার প্রেরণা। বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশ, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মুক্তিসাধনায় পহেলা বৈশাখ এক অবিনাশী শক্তি। বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও গণতান্ত্রিক বিকাশে সংস্কৃতির এই শক্তি রাজনৈতিক চেতনাকে দৃঢ় ও বেগবান করে।’আবদুল হামিদ বলেন,  জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাষ্ট্রদর্শন ও আদর্শের অন্যতম ভিত্তি ছিল দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশ ও জাতীয় চেতনার উন্মেষ। সেই চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে বঙ্গবন্ধু কারারুদ্ধ জীবনে সহবন্দীদের নিয়ে নববর্ষ উদযাপন করেছিলেন। তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ আমাদেরকে উদার হতে শিক্ষা দেয় এবং জাতীয়তাবাদে অনুপ্রাণিত হয়ে বিশ্বমানবের সঙ্গে মিশে যাওয়ার শক্তি জোগায়। এই উদারনৈতিক চেতনাকে ধারণ করে বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রদর্শন, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আদর্শ এবং রাষ্ট্রভাষা চেতনার বহ্নিশিখা অন্তরে ধারণ করে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত, সুখী-সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ হোক আজকের দিনে সকলের অঙ্গীকার।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা- “নতুন বছর সকল অশুভ ও অসুন্দরের উপর সত্য ও সুন্দরের জয় এবং ফেলে আসা বছরের সব শোক-দুঃখ-জরা দূর করে সুখ ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে” এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করে আগামী বছরগুলোয় একটি সুখী ও সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার কামনা করে দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বাংলা নববর্ষ-১৪৩০ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দেশবাসীর উদ্দেশে এক সংক্ষিপ্ত ভিডিও বার্তায় এই শুভেচ্ছা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই শুভ নববর্ষের প্রাক্কালে আমাদের প্রার্থনা এই যে আমরা যেন সব অন্ধকার ও বাধাবিপত্তি দূর করে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে পারি।’তিনি বলেন, ‘নানা ধরনের বাধা ও প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে দেশ আরও একটি বছর পার করেছে।’ এ সময় দেশ-বিদেশে বসবাসরত সব বাংলাদেশিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শুভ নববর্ষ।##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik adhumati

জনপ্রিয়

কুয়েটে পবিত্র ঈদ-উল-আযহার জামাত সকাল ৭ টায় 

এসো হে বৈশাখ, এসো এসো

শুভ বাংলা নববর্ষ: রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

প্রকাশিত সময় : ১১:৩৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৩

###   আবহমানকালের যাত্রাপথে শুরু হলো নতুন আরেকটি বাংলা বর্ষ। পঞ্জিকার পালাবদলে শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখ। শুভ বাংলা নববর্ষ ১৪৩০। দিনটি সকল বাঙালী জাতির ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণের দিন।

১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দের ১০ই মার্চ(৯৯২ হিজরি)বাংলা সন গণনা শুরু হয়।তবে ১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দের ৫ ই নভেম্বর থেকে এ গণনা পদ্ধতি কার্যকর করা হয়।প্রথমে মুঘল সম্রাট আকবরের আমলে এ দিনক্ষন ছিল ফসলি সন বা খাজনা আদায়ের সন, পরে “বঙ্গাব্দ” বা বাংলা বর্ষ নামে পরিচিত,  এখন তা  বাঙালীর  উৎসবে পরিণিত। এ দিনটি এখন বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যবসায়ীরা নতুনভাবে ব্যবসা শুরু করার উপলক্ষ হিসেবে বরণ করে নেয়।এদিন বাংলাদেশে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করো হয়। ২০১৬ সালে ইউনেস্কো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত এই উৎসব সোভাযাত্রাকে “মানবতার অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য” হিসেবে ঘোষনা করে। মূরত ১৪০২ বঙ্গাব্দের ১লা বৈশাখ থেবে এ উৎসব উদযাপিত হয়ে আসছে। এ নতুন বর্ষকে স্বাগত জানাতে, সমগ্র বাঙালি জাতি আজ এক কাতারে। ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র  নির্বিশেষে বাঙালির একমাত্র অসাম্প্রদায়িক উৎসবের দিন এটি। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের সহকর্মীদের জন্য চালু করেছে বিশেষ বৈশাখী ভাতা। সব মিলিয়ে বাঙালীর এক প্রাণের উৎসব।

আমাদের এখানে ধর্ম নিরপেক্ষ আর কোনো জাতীয় উৎসব নেই। অসাম্প্রদায়িকতার দিক থেকে এবং প্রকৃতিগতভাবে বিবেচনা করলে পহেলা বৈশাখ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে ফসলি মাস, অন্যদিকে কালবৈশাখী। সব মিলিয়ে বৈশাখ উদ্দীপনামূলক এক মাস, যা আমাদের জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করে। আবহমানকাল বাংলার গ্রামীণ জনপদে উদযাপিত হওয়া নববর্ষের আয়োজন এখন ছুঁয়েছে নগর জীবনে এবং নতুন মাত্রায়। সর্বত্র উদযাপিত হচ্ছে বাংলার উৎসব, উচ্চারিত হচ্ছে বাঙালিয়ানার জয়গান। কণ্ঠে কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে, ‘সবার ওপরে মানুষ সত্য। ‘ প্রকৃতপক্ষে পহেলা বৈশাখ শুধু আমাদের একার উৎসব নয়। গোটা অঞ্চলেই বৈশাখ উদযাপিত হয়। সেই সঙ্গে পুরো অঞ্চলেই প্রকৃতির বদল হয়। আমরা নিজস্ব সংস্কৃতির কথা বলি, সেটার সঙ্গে প্রকৃতির সংলগ্নতা রয়েছে। এটাই আমাদের সংস্কৃতির অন্যতম উপাদান। বর্তমানে পহেলা বৈশাখের আয়োজনে মুখ্য হয়ে উঠেছে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, যা প্রবর্তনের কৃতিত্ব প্রায় পুরোটুকুই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের। তিনি শান্তিনিকেতনে প্রথম ঋতুভিত্তিক উৎসবের আয়োজন করেন। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলার প্রান্ত থেকে শহরে ছড়িয়ে পড়ে বর্ষবরণের আয়োজন। ১৯৬১ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে রবীন্দ্রচর্চা নিষিদ্ধ করার চেষ্টা হয়েছিল, সেই চেষ্টা প্রতিরোধেরও অংশ হয়ে গিয়েছিল বর্ষবরণের আয়োজন। ১৯৬৭ সালে রমনা উদ্যানের অশ্বত্থমূলে ছায়ানটে বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে গ্রামীণ জীবন থেকে শহুরে জীবনে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ব্যাপকতা লাভ করে । এ পথচলা এত সহজ ছিল না। পাকিস্তান আমলে তো বটেই, স্বাধীন বাংলাদেশেও আক্রমণের শিকার হয়েছে এ উৎসব। ২০০১ সালে ধর্মীয় উগ্রবাদীদের বোমায় রক্তাক্ত হয়েছে। রমনায় বোমা হামলা করেও সংস্কৃতির অগ্রযাত্রা থামাতে পারেনি ধর্মীয় উগ্রবাদীরা। পরের বছর থেকে বিপুল উৎসাহে মানুষ বর্ষবরণের আয়োজনে যোগ দিয়ে আসছেন। এর সঙ্গে রয়েছে মঙ্গল শোভাযাত্রাও। সেই বার্তা নিয়েই আজ দেশব্যাপী উদযাপিত হচ্ছে বাংলা নববর্ষ। কায়মনে বাঙালি প্রার্থনা করবে- ‘মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা/ অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা…। ‘ ঘরে ঘরে উচ্চারিত হবে, ‘ এসো হে বৈশাখ, এসো এসো…’

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী দেশে ও দেশের বাইরে বসবাসরত সকল বাংলাদেশীকে নবর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ।

রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ  বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে  বৃহস্পতিবার এক শুভেচ্ছা বাণীতে  বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ বাঙালি জাতির জীবনে একটি পরম আনন্দের দিন। আনন্দঘন এ দিনে আমি দেশে ও দেশের বাইরে বসবাসরত সকল বাংলাদেশীকে জানাই বাংলা নবর্ষের শুভেচ্ছা।’তিনি বলেন, ‘বাঙালি জাতির শাশ্বত ঐতিহ্যের প্রধান অঙ্গ পহেলা বৈশাখ। নতুনের বার্তা নিয়ে বেজে উঠে বৈশাখের আগমনি বার্তা। দুঃখ, জরা, ব্যর্থতা ও মলিনতাকে ভুলে সবাই জেগে ওঠে মহানন্দে। ফসলি সন হিসেবে মোঘল আমলে যে বর্ষগণনার সূচনা হয়েছিল, সময়ের পরিক্রমায় তা আজ সমগ্র বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক স্মারক উৎসবে পরিণত হয়েছে।’ রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘পহেলা বৈশাখের মাঝে বাঙালি খুঁজে পায় নিজস্ব ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও চেতনার স্বরূপ। বৈশাখ শুধু উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের আত্মবিকাশ ও বেড়ে ওঠার প্রেরণা। বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশ, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মুক্তিসাধনায় পহেলা বৈশাখ এক অবিনাশী শক্তি। বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও গণতান্ত্রিক বিকাশে সংস্কৃতির এই শক্তি রাজনৈতিক চেতনাকে দৃঢ় ও বেগবান করে।’আবদুল হামিদ বলেন,  জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাষ্ট্রদর্শন ও আদর্শের অন্যতম ভিত্তি ছিল দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশ ও জাতীয় চেতনার উন্মেষ। সেই চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে বঙ্গবন্ধু কারারুদ্ধ জীবনে সহবন্দীদের নিয়ে নববর্ষ উদযাপন করেছিলেন। তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ আমাদেরকে উদার হতে শিক্ষা দেয় এবং জাতীয়তাবাদে অনুপ্রাণিত হয়ে বিশ্বমানবের সঙ্গে মিশে যাওয়ার শক্তি জোগায়। এই উদারনৈতিক চেতনাকে ধারণ করে বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রদর্শন, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আদর্শ এবং রাষ্ট্রভাষা চেতনার বহ্নিশিখা অন্তরে ধারণ করে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত, সুখী-সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ হোক আজকের দিনে সকলের অঙ্গীকার।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা- “নতুন বছর সকল অশুভ ও অসুন্দরের উপর সত্য ও সুন্দরের জয় এবং ফেলে আসা বছরের সব শোক-দুঃখ-জরা দূর করে সুখ ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে” এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করে আগামী বছরগুলোয় একটি সুখী ও সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার কামনা করে দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বাংলা নববর্ষ-১৪৩০ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দেশবাসীর উদ্দেশে এক সংক্ষিপ্ত ভিডিও বার্তায় এই শুভেচ্ছা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই শুভ নববর্ষের প্রাক্কালে আমাদের প্রার্থনা এই যে আমরা যেন সব অন্ধকার ও বাধাবিপত্তি দূর করে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে পারি।’তিনি বলেন, ‘নানা ধরনের বাধা ও প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে দেশ আরও একটি বছর পার করেছে।’ এ সময় দেশ-বিদেশে বসবাসরত সব বাংলাদেশিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শুভ নববর্ষ।##