১১:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ২২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
খুলনা নৌ পরিবহন মালিক গ্রুপের সংবাদ সম্মেলন:

শ্রমিকদের ৬০শতাংশ মজুরী বৃদ্ধির প্রস্তাব পুন:বিবেচনা না হলে ১০মার্চ থেকে নৌ চলাচল বন্ধের হুশিয়ারী

###     খুলনাসহ সারাদেশের নৌযান শ্রমিকদের ৬০ শতাংশ মজুরী বৃদ্ধির ঘোষনা আগামী ০৭ দিনের মধ্যে পুনঃবিবেচনা না করা হলে ১০ মার্চ রাত ১২ টা থেকে মালিকরা নৌযান চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রাখবে হুশিয়ারি দিয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নগরীর লোয়ার যশোর রোডের নিজস্ব কার্যালয়ে একতরফাভাবে নৌযান শ্রমিকদের বেতন ৬০শতাংশ বৃদ্ধি করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তৃতায় খুলনা বিভাগীয় অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন মালিক গ্রুপ, বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল(যাপ) সংস্থা, কোষ্টাল শীপ ওনার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, পেট্রোলিয়াম ট্যাংকার্স ওনার্স এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ অয়েল ট্যাংকার ওনার্স এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ এসব কথা জানান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন খুলনা বিভাগীয় অভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব ওয়াহিদুজ্জামান খান পল্টু। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, নৌযান শ্রমিকদের মজুরী স্কেল পুনঃনির্ধারনকল্পে প্রস্তাবনা প্রনয়ন কমিটির ৪র্থ সভা ৩১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়। ইতিপূর্বে অনুষ্ঠিত প্রথম সভা হতে ৪র্থ সভায় নৌ সেক্টরে নৌযান শ্রমিকদের মজুরী নির্ধারন, চট্টগ্রাম বন্দর ও মোংলা বন্দরে সিরিয়াল অনুযায়ী পণ্য বোঝাই এবং গন্তব্যস্থলে সিরিয়াল অনুযায়ী পণ্য খালাস করার নিশ্চয়তা,  হাইকোর্টে রুল এবং শ্রম আইন অনুযায়ী রেজিষ্টিকৃত প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক সংগঠনগুলোর ধর্মঘট করার অধিকার না থাকা সত্ত্বেও ধর্মঘট পালিত হচ্ছে, ডিজি শিপিং কর্তৃক নিষিদ্ধ বাল্কহেড চট্টগ্রাম বন্দর ও মোংলা বন্দরে প্রবেশ বন্ধ, সরকার ঘোষিত জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি বিবেচনাসহ বিরাজমান সমস্যা সমূহ নিয়ে আলোকপাত করা হয়। পরবর্তীতে ৩টি সভায় নৌযান মালিক কর্তৃক উত্থাপিত সমস্যা এবং নৌযান মালিকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ৪র্থ সভায় “বাংলাদেশ বেসরকারী খাতের অভ্যন্তরীণ নৌযানে নিয়োজিত বিভিন্ন শ্রেণীর শ্রমিকদের মজুরী কাঠামো পুনঃনির্ধারনের বিষয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রীর আয়োজনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীগণ এবং অংশীগনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বয়ে একটি আন্তঃ মন্ত্রণালয় সভা আয়োজনের বিষয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রীর সহিত আলোচনাক্রমে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহন করা হবে” মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তিনি আরো জানান, সভার সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে ২০ফেব্রুয়ারি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মনোয়ারা বেগম স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে ২২ফেব্রুয়ারি শ্রম ভবনে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ এহসানে এলাহীর সভাপতিত্বে এক সভা আহ্বান করা হয়। সভায় সরকার পক্ষ নৌ পরিবহন সেক্টরের বিভিন্ন শ্রেনীর নৌযানের মালিকের স্বক্ষমতা, বর্তমান বিশ্বব্যাপী মন্দা অবস্থা এবং পরিবহনযোগ্য পণ্যের অভাবের বিষয়টি বিবেচনা না করে একতরফাভাবে ২০১৬ সালে প্রকাশিত গেজেটে উল্লেখিত মূল বেতনের উপর ৬০% বৃদ্ধি করে নৌযান শ্রমিকদের বেতন স্কেল ঘোষনা করেন। এ ব্যাপারে খুলনা বিভাগীয় অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন মালিক গ্রুপ, বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল সংস্থা, কোষ্টাল শীপ ওনার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, পেট্রোলিয়াম ট্যাংকার্স ওনার্স এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ অয়েল ট্যাংকার ওনার্স এসোসিয়েশন এধরণের অযৌক্তিক প্রস্তাবে সম্মত হয়ে নৌযান পরিচালনা করা সম্ভব নয় বলে সভাকে অবহিত করেন। নৌযানের প্রকারভেদে বড় ছোট হিসেবে মালিকদের আয় ও সক্ষমতা এক রকম নয়। কাজেই ঢালাওভাবে শতকরা হিসেবে বেতন-ভাতা নির্ধারনের কোন সুযোগ নেই। তিনি আরো জানান, একজন সরকারী কর্মকর্তা শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ এহসানে এলাহী নৌযান শ্রমিকদের মূল বেতনের উপর ৬০% বৃদ্ধির প্রস্তাব কোনভাবেই গ্রহনযোগ্য হতে পারে না। এ ব্যাপারে খুলনা বিভাগীয় অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন মালিক গ্রুপের সভা কক্ষে সাধারন সভার মাধ্যমে নৌযান মালিকগণ শ্রমিকদের ৬০% মঞ্জুরী বৃদ্ধি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়। যদি শ্রমিকদের ৬০% মজুরী বৃদ্ধির ঘোষনা আগামী ০৭ দিনের মধ্যে পুনঃবিবেচনা না করা হয় তাহলে আগামী ১০মার্চ রাত ১২টা থেকে নৌযান মালিকগন তাহাদের নৌযান চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রাখার হুশিয়ারী দেয় এ নৌ পরিবহন মালিক নেতা। এ সময়ে খুলনা বিভাগীয় অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন মালিক গ্রুপের যুগ্ম মহানসচিব মো. ওমর ফারুক, পরিচালক শাহ আলম তুহিন, নজরুল ইসলাম, বাদশা হাওলদার, আকবর আলী, ইলিয়াছ হোসেন লাবুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik adhumati

খুলনা নৌ পরিবহন মালিক গ্রুপের সংবাদ সম্মেলন:

শ্রমিকদের ৬০শতাংশ মজুরী বৃদ্ধির প্রস্তাব পুন:বিবেচনা না হলে ১০মার্চ থেকে নৌ চলাচল বন্ধের হুশিয়ারী

প্রকাশিত সময় : ০৮:৫৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ মার্চ ২০২৩

###     খুলনাসহ সারাদেশের নৌযান শ্রমিকদের ৬০ শতাংশ মজুরী বৃদ্ধির ঘোষনা আগামী ০৭ দিনের মধ্যে পুনঃবিবেচনা না করা হলে ১০ মার্চ রাত ১২ টা থেকে মালিকরা নৌযান চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রাখবে হুশিয়ারি দিয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নগরীর লোয়ার যশোর রোডের নিজস্ব কার্যালয়ে একতরফাভাবে নৌযান শ্রমিকদের বেতন ৬০শতাংশ বৃদ্ধি করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তৃতায় খুলনা বিভাগীয় অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন মালিক গ্রুপ, বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল(যাপ) সংস্থা, কোষ্টাল শীপ ওনার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, পেট্রোলিয়াম ট্যাংকার্স ওনার্স এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ অয়েল ট্যাংকার ওনার্স এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ এসব কথা জানান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন খুলনা বিভাগীয় অভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব ওয়াহিদুজ্জামান খান পল্টু। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, নৌযান শ্রমিকদের মজুরী স্কেল পুনঃনির্ধারনকল্পে প্রস্তাবনা প্রনয়ন কমিটির ৪র্থ সভা ৩১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়। ইতিপূর্বে অনুষ্ঠিত প্রথম সভা হতে ৪র্থ সভায় নৌ সেক্টরে নৌযান শ্রমিকদের মজুরী নির্ধারন, চট্টগ্রাম বন্দর ও মোংলা বন্দরে সিরিয়াল অনুযায়ী পণ্য বোঝাই এবং গন্তব্যস্থলে সিরিয়াল অনুযায়ী পণ্য খালাস করার নিশ্চয়তা,  হাইকোর্টে রুল এবং শ্রম আইন অনুযায়ী রেজিষ্টিকৃত প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক সংগঠনগুলোর ধর্মঘট করার অধিকার না থাকা সত্ত্বেও ধর্মঘট পালিত হচ্ছে, ডিজি শিপিং কর্তৃক নিষিদ্ধ বাল্কহেড চট্টগ্রাম বন্দর ও মোংলা বন্দরে প্রবেশ বন্ধ, সরকার ঘোষিত জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি বিবেচনাসহ বিরাজমান সমস্যা সমূহ নিয়ে আলোকপাত করা হয়। পরবর্তীতে ৩টি সভায় নৌযান মালিক কর্তৃক উত্থাপিত সমস্যা এবং নৌযান মালিকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ৪র্থ সভায় “বাংলাদেশ বেসরকারী খাতের অভ্যন্তরীণ নৌযানে নিয়োজিত বিভিন্ন শ্রেণীর শ্রমিকদের মজুরী কাঠামো পুনঃনির্ধারনের বিষয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রীর আয়োজনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীগণ এবং অংশীগনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বয়ে একটি আন্তঃ মন্ত্রণালয় সভা আয়োজনের বিষয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রীর সহিত আলোচনাক্রমে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহন করা হবে” মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তিনি আরো জানান, সভার সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে ২০ফেব্রুয়ারি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মনোয়ারা বেগম স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে ২২ফেব্রুয়ারি শ্রম ভবনে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ এহসানে এলাহীর সভাপতিত্বে এক সভা আহ্বান করা হয়। সভায় সরকার পক্ষ নৌ পরিবহন সেক্টরের বিভিন্ন শ্রেনীর নৌযানের মালিকের স্বক্ষমতা, বর্তমান বিশ্বব্যাপী মন্দা অবস্থা এবং পরিবহনযোগ্য পণ্যের অভাবের বিষয়টি বিবেচনা না করে একতরফাভাবে ২০১৬ সালে প্রকাশিত গেজেটে উল্লেখিত মূল বেতনের উপর ৬০% বৃদ্ধি করে নৌযান শ্রমিকদের বেতন স্কেল ঘোষনা করেন। এ ব্যাপারে খুলনা বিভাগীয় অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন মালিক গ্রুপ, বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল সংস্থা, কোষ্টাল শীপ ওনার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, পেট্রোলিয়াম ট্যাংকার্স ওনার্স এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ অয়েল ট্যাংকার ওনার্স এসোসিয়েশন এধরণের অযৌক্তিক প্রস্তাবে সম্মত হয়ে নৌযান পরিচালনা করা সম্ভব নয় বলে সভাকে অবহিত করেন। নৌযানের প্রকারভেদে বড় ছোট হিসেবে মালিকদের আয় ও সক্ষমতা এক রকম নয়। কাজেই ঢালাওভাবে শতকরা হিসেবে বেতন-ভাতা নির্ধারনের কোন সুযোগ নেই। তিনি আরো জানান, একজন সরকারী কর্মকর্তা শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ এহসানে এলাহী নৌযান শ্রমিকদের মূল বেতনের উপর ৬০% বৃদ্ধির প্রস্তাব কোনভাবেই গ্রহনযোগ্য হতে পারে না। এ ব্যাপারে খুলনা বিভাগীয় অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন মালিক গ্রুপের সভা কক্ষে সাধারন সভার মাধ্যমে নৌযান মালিকগণ শ্রমিকদের ৬০% মঞ্জুরী বৃদ্ধি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়। যদি শ্রমিকদের ৬০% মজুরী বৃদ্ধির ঘোষনা আগামী ০৭ দিনের মধ্যে পুনঃবিবেচনা না করা হয় তাহলে আগামী ১০মার্চ রাত ১২টা থেকে নৌযান মালিকগন তাহাদের নৌযান চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রাখার হুশিয়ারী দেয় এ নৌ পরিবহন মালিক নেতা। এ সময়ে খুলনা বিভাগীয় অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন মালিক গ্রুপের যুগ্ম মহানসচিব মো. ওমর ফারুক, পরিচালক শাহ আলম তুহিন, নজরুল ইসলাম, বাদশা হাওলদার, আকবর আলী, ইলিয়াছ হোসেন লাবুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ##