০৫:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
‘অগ্নিঝরা মার্চ’র ১১তম দিন :

সমঝোতার চেষ্টায় বঙ্গবন্ধুকে ভুট্টোর তারবার্তা

###    আজ ১৯৭১ ‘অগ্নিঝরা মার্চ’র ১১তম দিন । অগ্নিঝরা মার্চ বাঙালির যৌক্তিক স্বপ্নপুুরণের মাস। বাংলাদেশের স্বাধীনতার মাস। বাংলাদেশের সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে শ্রেষ্ঠতম ঘটনা হচ্ছে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের এই ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির কয়েক হাজার বছরের সামাজিক-রাজনৈতিক স্বপ্ন পূরণ হয়। স্বাধীনতা সংগ্রামে ১৯৭১ সালের এই মার্চেই রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে, যদিও তার গোড়াপত্তন হয়েছিল ’৫২’র ভাষা আন্দোলন, ’৬৬’র শিক্ষা আন্দোলন এবং ’৬৯’র গণঅভ্যুত্থান দিয়ে ১৯৭১ এর ৭ই মার্চে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষনে উজ্জিবিত হয় বাঙ্গালী। এ অঞ্চলের রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করার মধ্য দিয়ে বাঙালির স্বপ্নপুরণের যৌক্তিক পরিণতিতে রুপ নেয়। প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ের ‘স্বাধীনতা’র দুর্বার আকাঙ্খার অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। বাংগালীর ইতিহাসের ৭১’র আজকের দিনে পূর্ব বাংলার পেক্ষাপট পুরোপুরি পাল্টে যায় বঙ্গবন্ধুর সশস্ত্র সংগ্রাম ও স্বাধীনতার ডাকে। ৭১’র অগ্নিঝরা মার্চের প্রথম দশ দিনের ঘটনাপ্রবাহে পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী ভুট্টো বুঝতে পারছিলেন- পাকিস্তানের অবস্থা বেগতিক। ১১ মার্চ বাঙালির নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে একটি তারবার্তা পাঠিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সমঝোতার আহ্বান জানান তিনি । ওই তারবার্তায় ভুট্টো বলেন, “উদ্ভূত সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে আমি গভীরভাবে মর্মাহত ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। আমরা আজ ভয়াবহ সঙ্কটের মুখমুখি। দেশের ভবিষ্যৎ আজ অনিশ্চিত। এ ব্যাপারে আমাদের উভয়ের অনেক দায়িত্ব রয়েছে। ধ্বংস এড়ানোর জন্য সম্ভাব্য সবকিছুই আমাদের করতে হবে। যে কোনো মূল্যের বিনিময়ে দেশকে রক্ষা করতেই হবে।”
তবে বাঙালির অধিকার আদায় না করে পাকিস্তানকে ‘এক রাখা’ যে সম্ভব নয়, সে কথা এদিন আবারও মনে করিয়ে দেন গণঐক্য আন্দোলনের নেতা এয়ার মার্শাল (অব.) আসগর খান। করাচিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানই কার্যত এখন বাংলার সরকার। সেখানে সব সরকারি কর্মচারী এবং সচিবরা তার নির্দেশ পালন করছেন। ঢাকায় কেবল সামরিক সদর দপ্তরে পাকিস্তানি পতাকা উড়ছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতার হাতে অবিলম্বে ক্ষমতা ছাড়া না হলে দেশের দুই অংশকে এক রাখা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।” ৭১’র এদিনে পশ্চিম পাকিস্তানের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ- ‘অবিলম্বে দেশের চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতির প্রতিকার না করা গেলে পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে’ জানিয়ে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খানের নিকট একটি স্মারক লিপি পাঠান। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে সর্বস্তরের মানুষ তখন পাকিস্তানি শাসকদের সব ধরনের অসহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে। হাই কোর্টের বিচারক এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ সারা বাংলার সরকারি ও আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানের সর্বস্তরের কর্মচারীর অফিস বর্জন করছেন। ১ মার্চ থেকে খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিল থেকে উৎপাদিত কাগজ পশ্চিম পাকিস্তানে পাঠানো বন্ধ করে দেয়া হয়। এরফলে নিউজপ্রিন্টের অভাবে পশ্চিম পাকিস্তানের সকল সংবাদপত্র প্রকাশে হ্রাস পায়। করাচি ‘ডন’ পত্রিকাসহ পশ্চিম পাকিস্তানের সব পত্রিকাগুলো ১৪ পৃষ্ঠার পরিবর্তে মাত্র ৪ পৃষ্ঠা ছাপা হয়। এসব পত্রিকা খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলের কাগজ ব্যবহার করে।
৭১’র ১১ মার্চ টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী হাইস্কুল মাঠে এক জনসভায় ন্যাপ প্রধান মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান। সাত কোটি বাঙালির নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশ পালন করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান এ ন্যাপ নেতা। তিনি বলেন, “বাঙালির স্বার্থের প্রশ্নে আপস করার দিন চলে গেছে। এ মুহূর্তে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনো বিরোধ থাকা উচিত নয়। জনগণ এখন নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।” ‘অগ্নিঝরা মার্চ’র এই দিনে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি কে উলফও বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তার কাছে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানি সামরিক জান্তার সমরসজ্জায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘গণ অসহযোগ আন্দোলন চুড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে, জনগণের সংগ্রাম সফল করার জন্যে অর্থনৈতিক কাজে নিয়োজিত সকলকে কঠোর নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে চলবে হবে।’ এদিন ন্যাপ (ওয়ালী) পূর্ববাংলা শাখার সভাপতি মোজাফফর আহমদ, পাঞ্জাব আওয়ামী লীগ সভাপতি এম খুরশীদ, মুসলিম লীগ প্রধান মমতাজ দৌলতানার বিশেষ দূত পীর সাইফুদ্দিন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তার ধানম-ির বাসভবনে পৃথক আলোচনায় মিলিত হন। ১১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভায়, স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি সমর্থন দেওয়ার জন্য বিশ্ববাসীর প্রতি আবেদন জানানো হয়। গণআন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যের জন্য ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাদের একদিনের বেতন আওয়ামী লীগের ত্রাণ তহবিলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আজকের দিনে গণহত্যার প্রতিবাদে চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীর পাকিস্তান সরকারের এক চিত্রপ্রদর্শনীতে যোগদানে অস্বীকৃতি জানান। একই সাথে এ দেশের চিত্রশিল্পীদেরও সেখানে যোগদানে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি । জনতার বাধার মুখে পড়ে সেনাবাহিনীর রসদ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর স্বাভাবিক সরবরাহ। সিলেটে রেশন নেওয়ার সময় সেনাবাহিনীর একটি কনভয়কে বাধা দেওয়া হয়। যশোরেও এ ধরনের ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে পূর্ব পাকিস্থানের আমদানিকৃত ৩২ হাজার টন গমের একটি জাহাজ ‘ভিনটেজ হরিজন’ ১৩ মার্চ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা থাকলেও প্রতিমধ্যে গতিপথ পরিবর্তন করে করাচি অভিমুখে যাত্রা করে। কর্মচারী না থাকায় দেশের সব আদালত ১১ মার্চ কার্যত অচল হয়ে পড়ে। কুমিল্লা কারাগার থেকে পালাতে গিয়ে এদিন পুলিশের গুলিতে পাঁচ কয়েদি নিহত হয়। বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার ভেঙে ২৪ কয়েদি পালিয়ে যায়, এসময় গুলিতে নিহত হন দুজন। সকল সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সকল ব্যাক্তি মালিকানা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি কর্মকর্তাসহ সকল বাসভবনে কালোপতাকা উত্তোলন অব্যহত থাকে।##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik adhumati

জনপ্রিয়

দশমিনায় পরীক্ষায় অসৎ উপায় অবলম্বন করায় দুই শিক্ষার্থী বহিস্কার

‘অগ্নিঝরা মার্চ’র ১১তম দিন :

সমঝোতার চেষ্টায় বঙ্গবন্ধুকে ভুট্টোর তারবার্তা

প্রকাশিত সময় : ০৯:১২:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ মার্চ ২০২৩

###    আজ ১৯৭১ ‘অগ্নিঝরা মার্চ’র ১১তম দিন । অগ্নিঝরা মার্চ বাঙালির যৌক্তিক স্বপ্নপুুরণের মাস। বাংলাদেশের স্বাধীনতার মাস। বাংলাদেশের সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে শ্রেষ্ঠতম ঘটনা হচ্ছে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের এই ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির কয়েক হাজার বছরের সামাজিক-রাজনৈতিক স্বপ্ন পূরণ হয়। স্বাধীনতা সংগ্রামে ১৯৭১ সালের এই মার্চেই রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে, যদিও তার গোড়াপত্তন হয়েছিল ’৫২’র ভাষা আন্দোলন, ’৬৬’র শিক্ষা আন্দোলন এবং ’৬৯’র গণঅভ্যুত্থান দিয়ে ১৯৭১ এর ৭ই মার্চে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষনে উজ্জিবিত হয় বাঙ্গালী। এ অঞ্চলের রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করার মধ্য দিয়ে বাঙালির স্বপ্নপুরণের যৌক্তিক পরিণতিতে রুপ নেয়। প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ের ‘স্বাধীনতা’র দুর্বার আকাঙ্খার অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। বাংগালীর ইতিহাসের ৭১’র আজকের দিনে পূর্ব বাংলার পেক্ষাপট পুরোপুরি পাল্টে যায় বঙ্গবন্ধুর সশস্ত্র সংগ্রাম ও স্বাধীনতার ডাকে। ৭১’র অগ্নিঝরা মার্চের প্রথম দশ দিনের ঘটনাপ্রবাহে পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী ভুট্টো বুঝতে পারছিলেন- পাকিস্তানের অবস্থা বেগতিক। ১১ মার্চ বাঙালির নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে একটি তারবার্তা পাঠিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সমঝোতার আহ্বান জানান তিনি । ওই তারবার্তায় ভুট্টো বলেন, “উদ্ভূত সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে আমি গভীরভাবে মর্মাহত ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। আমরা আজ ভয়াবহ সঙ্কটের মুখমুখি। দেশের ভবিষ্যৎ আজ অনিশ্চিত। এ ব্যাপারে আমাদের উভয়ের অনেক দায়িত্ব রয়েছে। ধ্বংস এড়ানোর জন্য সম্ভাব্য সবকিছুই আমাদের করতে হবে। যে কোনো মূল্যের বিনিময়ে দেশকে রক্ষা করতেই হবে।”
তবে বাঙালির অধিকার আদায় না করে পাকিস্তানকে ‘এক রাখা’ যে সম্ভব নয়, সে কথা এদিন আবারও মনে করিয়ে দেন গণঐক্য আন্দোলনের নেতা এয়ার মার্শাল (অব.) আসগর খান। করাচিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানই কার্যত এখন বাংলার সরকার। সেখানে সব সরকারি কর্মচারী এবং সচিবরা তার নির্দেশ পালন করছেন। ঢাকায় কেবল সামরিক সদর দপ্তরে পাকিস্তানি পতাকা উড়ছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতার হাতে অবিলম্বে ক্ষমতা ছাড়া না হলে দেশের দুই অংশকে এক রাখা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।” ৭১’র এদিনে পশ্চিম পাকিস্তানের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ- ‘অবিলম্বে দেশের চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতির প্রতিকার না করা গেলে পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে’ জানিয়ে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খানের নিকট একটি স্মারক লিপি পাঠান। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে সর্বস্তরের মানুষ তখন পাকিস্তানি শাসকদের সব ধরনের অসহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে। হাই কোর্টের বিচারক এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ সারা বাংলার সরকারি ও আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানের সর্বস্তরের কর্মচারীর অফিস বর্জন করছেন। ১ মার্চ থেকে খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিল থেকে উৎপাদিত কাগজ পশ্চিম পাকিস্তানে পাঠানো বন্ধ করে দেয়া হয়। এরফলে নিউজপ্রিন্টের অভাবে পশ্চিম পাকিস্তানের সকল সংবাদপত্র প্রকাশে হ্রাস পায়। করাচি ‘ডন’ পত্রিকাসহ পশ্চিম পাকিস্তানের সব পত্রিকাগুলো ১৪ পৃষ্ঠার পরিবর্তে মাত্র ৪ পৃষ্ঠা ছাপা হয়। এসব পত্রিকা খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলের কাগজ ব্যবহার করে।
৭১’র ১১ মার্চ টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী হাইস্কুল মাঠে এক জনসভায় ন্যাপ প্রধান মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান। সাত কোটি বাঙালির নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশ পালন করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান এ ন্যাপ নেতা। তিনি বলেন, “বাঙালির স্বার্থের প্রশ্নে আপস করার দিন চলে গেছে। এ মুহূর্তে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনো বিরোধ থাকা উচিত নয়। জনগণ এখন নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।” ‘অগ্নিঝরা মার্চ’র এই দিনে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি কে উলফও বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তার কাছে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানি সামরিক জান্তার সমরসজ্জায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘গণ অসহযোগ আন্দোলন চুড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে, জনগণের সংগ্রাম সফল করার জন্যে অর্থনৈতিক কাজে নিয়োজিত সকলকে কঠোর নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে চলবে হবে।’ এদিন ন্যাপ (ওয়ালী) পূর্ববাংলা শাখার সভাপতি মোজাফফর আহমদ, পাঞ্জাব আওয়ামী লীগ সভাপতি এম খুরশীদ, মুসলিম লীগ প্রধান মমতাজ দৌলতানার বিশেষ দূত পীর সাইফুদ্দিন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তার ধানম-ির বাসভবনে পৃথক আলোচনায় মিলিত হন। ১১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভায়, স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি সমর্থন দেওয়ার জন্য বিশ্ববাসীর প্রতি আবেদন জানানো হয়। গণআন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যের জন্য ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাদের একদিনের বেতন আওয়ামী লীগের ত্রাণ তহবিলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আজকের দিনে গণহত্যার প্রতিবাদে চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীর পাকিস্তান সরকারের এক চিত্রপ্রদর্শনীতে যোগদানে অস্বীকৃতি জানান। একই সাথে এ দেশের চিত্রশিল্পীদেরও সেখানে যোগদানে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি । জনতার বাধার মুখে পড়ে সেনাবাহিনীর রসদ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর স্বাভাবিক সরবরাহ। সিলেটে রেশন নেওয়ার সময় সেনাবাহিনীর একটি কনভয়কে বাধা দেওয়া হয়। যশোরেও এ ধরনের ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে পূর্ব পাকিস্থানের আমদানিকৃত ৩২ হাজার টন গমের একটি জাহাজ ‘ভিনটেজ হরিজন’ ১৩ মার্চ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা থাকলেও প্রতিমধ্যে গতিপথ পরিবর্তন করে করাচি অভিমুখে যাত্রা করে। কর্মচারী না থাকায় দেশের সব আদালত ১১ মার্চ কার্যত অচল হয়ে পড়ে। কুমিল্লা কারাগার থেকে পালাতে গিয়ে এদিন পুলিশের গুলিতে পাঁচ কয়েদি নিহত হয়। বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার ভেঙে ২৪ কয়েদি পালিয়ে যায়, এসময় গুলিতে নিহত হন দুজন। সকল সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সকল ব্যাক্তি মালিকানা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি কর্মকর্তাসহ সকল বাসভবনে কালোপতাকা উত্তোলন অব্যহত থাকে।##