১০:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
২২৫ কোটি টাকা বিক্রির আশাবাদ কৃষি বিভাগের

সাতক্ষীরায় আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৪৫ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন 

###    সাতক্ষীরার হিমসাগর ও ল্যাংড়া আমের খ্যাতি দেশব্যাপী। জেলায় বিশেষ পরিচর্যায় উৎপাদিত আম বিদেশেও রপ্তানি হয়ে থাকে। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরায় আমের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন।আশানুরূপ ফলন হলে ২২৫ কোটি টাকার আম বিক্রির হবে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি বিভাগ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, এ বছর জেলায় চার হাজার ১১৫ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় এক হাজার ২৩৫ হেক্টর, কলারোয়ায় ৬৫৫, তালায় ৭১৫, দেবহাটায় ৩৭০, কালিগঞ্জে ৮৩৫, আশাশুনিতে ১৪৫ এবং শ্যামনগরের ১৬০ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়েছে। সরকারি তালিকাভুক্ত পাঁচ হাজার ২৯৯টি আমবাগান রয়েছে। জেলায় আমচাষির সংখ্যা ১৩ হাজার ১০০ জন। বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে দেশের চাহিদা মিটিয়েও বিদেশে রপ্তানি করা যাবে। গত এক দশক ধরে জেলায় হিমসাগর, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, গোলাপখাস, আম্রপালি, মল্লিকা, বোম্বাইসহ ও অন্যান্য জাতের প্রচুর আমের ভালো ফলন হচ্ছে। যার ফলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হয়। এ বছর নবমবারের মতো ইংল্যান্ড ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে যাবে এই জেলার আম। সবমিলিয়ে আয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২২৫ কোটি টাকারও বেশি। গত বছর প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আমের ফলন কম হয়েছিল। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। গাছে যেভাবে আম ঝুলছে, তা দেখে খুশি চাষিরা। তবে দাবদাহের কারণে কিছু আম ঝরে পড়ছে। তবে এতে উৎপাদনে প্রভাব পড়বে না বলে দাবি কৃষি বিভাগের। বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা। তালা উপজেলার তেঁতুলিয়ার আমচাষি কাজী শামিমুল হক বলেন, গত বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ফলন কম হওয়ায় লোকসান হয়েছিল। এবার  ফলন অনক গুণ ভালো হয়েছে। বাগান পরিচর্যায় অনেক টাকা খরচ হয়। পোকামাকড়মুক্ত করতে ওষুধ প্রয়োগ, ফলনের পর বাজারজাত, শ্রমিকের পেছনে অনেক টাকা ব্যয় হয়। ভালো ফলন হলে ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে লাভ বেশি হয়। এবার আশা করছি লাভের মুখ দেখব। সাতক্ষীরা বড় বাজারের আড়তদার ও আম ব্যবসায়ী মতিয়ার রহমান বলেন, গত বছর পাকা আমের মণ ছিল দুই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত। আমের সাইজ বড় ও দেখতে সুন্দর হলে ৩২০০-৩৫০০ টাকা পর্যন্ত মণ বিক্রি হয়। এ বছর কাঁচা আম প্রতি মণ ১৪০০-১৫০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আমের মৌসুমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা আগেভাগে এসে বাগান মালিকদের দাদন দিয়ে বাগান কিনে ফেলে। বিগত বছরে জেলায় দেড়শ থেকে দুইশ কোটি টাকার আম বিক্রি হয়েছে। এ বছর ফলন অনেক ভালো ফলে আরও বেশি বিক্রির আশা করছে ব্যবসায়ীরা। কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রতিটি গাছে প্রচুর মুকুল এসেছিল। সেই পরিমাণ আমও ধরেছে। ফলন ভালো হয়েছে। উৎপাদনে রেকর্ডের আশা করছি। গড়ে ৫০ টাকা কেজি ধরলে ২২৫ কোটি টাকার আম বিক্রি হবে। তিনি আরও বলেন, বছরের শুরুতে বিষমুক্ত ও নিরাপদ আম উৎপাদন এবং রপ্তানির জন্য চাষিদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।  সবকিছু ঠিক থাকলে এবার ইতালি, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, জার্মানি ও ইংল্যান্ডে যাবে সাতক্ষীরার আম। যেহেতু এ জেলার আম অন্য যেকোনো জেলার আমের তুলনায় অধিক সুস্বাদু এবং আগে পাকে সেজন্য প্রতি বছর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিপক্ব ও নিরাপদ আম সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আম ক্যালেন্ডার প্রকাশ করা হয়। এ বছরও সে অনুযায়ী, আগামী ১২ মে থেকে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, বোম্বাই ও গোলাপখাসসহ অন্যান্য স্থানীয় আম পাড়তে নির্দেশ দেয়া হয়েছে চাষিদের। ২৫ মে থেকে হিমসাগর, ১ জুন ল্যাংড়া ও ১৫ জুন থেকে আম্রপালি পাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik adhumati

জনপ্রিয়

কুয়েটে পবিত্র ঈদ-উল-আযহার জামাত সকাল ৭ টায় 

২২৫ কোটি টাকা বিক্রির আশাবাদ কৃষি বিভাগের

সাতক্ষীরায় আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৪৫ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন 

প্রকাশিত সময় : ০১:২০:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৩

###    সাতক্ষীরার হিমসাগর ও ল্যাংড়া আমের খ্যাতি দেশব্যাপী। জেলায় বিশেষ পরিচর্যায় উৎপাদিত আম বিদেশেও রপ্তানি হয়ে থাকে। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরায় আমের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন।আশানুরূপ ফলন হলে ২২৫ কোটি টাকার আম বিক্রির হবে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি বিভাগ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, এ বছর জেলায় চার হাজার ১১৫ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় এক হাজার ২৩৫ হেক্টর, কলারোয়ায় ৬৫৫, তালায় ৭১৫, দেবহাটায় ৩৭০, কালিগঞ্জে ৮৩৫, আশাশুনিতে ১৪৫ এবং শ্যামনগরের ১৬০ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়েছে। সরকারি তালিকাভুক্ত পাঁচ হাজার ২৯৯টি আমবাগান রয়েছে। জেলায় আমচাষির সংখ্যা ১৩ হাজার ১০০ জন। বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে দেশের চাহিদা মিটিয়েও বিদেশে রপ্তানি করা যাবে। গত এক দশক ধরে জেলায় হিমসাগর, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, গোলাপখাস, আম্রপালি, মল্লিকা, বোম্বাইসহ ও অন্যান্য জাতের প্রচুর আমের ভালো ফলন হচ্ছে। যার ফলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হয়। এ বছর নবমবারের মতো ইংল্যান্ড ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে যাবে এই জেলার আম। সবমিলিয়ে আয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২২৫ কোটি টাকারও বেশি। গত বছর প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আমের ফলন কম হয়েছিল। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। গাছে যেভাবে আম ঝুলছে, তা দেখে খুশি চাষিরা। তবে দাবদাহের কারণে কিছু আম ঝরে পড়ছে। তবে এতে উৎপাদনে প্রভাব পড়বে না বলে দাবি কৃষি বিভাগের। বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা। তালা উপজেলার তেঁতুলিয়ার আমচাষি কাজী শামিমুল হক বলেন, গত বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ফলন কম হওয়ায় লোকসান হয়েছিল। এবার  ফলন অনক গুণ ভালো হয়েছে। বাগান পরিচর্যায় অনেক টাকা খরচ হয়। পোকামাকড়মুক্ত করতে ওষুধ প্রয়োগ, ফলনের পর বাজারজাত, শ্রমিকের পেছনে অনেক টাকা ব্যয় হয়। ভালো ফলন হলে ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে লাভ বেশি হয়। এবার আশা করছি লাভের মুখ দেখব। সাতক্ষীরা বড় বাজারের আড়তদার ও আম ব্যবসায়ী মতিয়ার রহমান বলেন, গত বছর পাকা আমের মণ ছিল দুই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত। আমের সাইজ বড় ও দেখতে সুন্দর হলে ৩২০০-৩৫০০ টাকা পর্যন্ত মণ বিক্রি হয়। এ বছর কাঁচা আম প্রতি মণ ১৪০০-১৫০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আমের মৌসুমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা আগেভাগে এসে বাগান মালিকদের দাদন দিয়ে বাগান কিনে ফেলে। বিগত বছরে জেলায় দেড়শ থেকে দুইশ কোটি টাকার আম বিক্রি হয়েছে। এ বছর ফলন অনেক ভালো ফলে আরও বেশি বিক্রির আশা করছে ব্যবসায়ীরা। কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রতিটি গাছে প্রচুর মুকুল এসেছিল। সেই পরিমাণ আমও ধরেছে। ফলন ভালো হয়েছে। উৎপাদনে রেকর্ডের আশা করছি। গড়ে ৫০ টাকা কেজি ধরলে ২২৫ কোটি টাকার আম বিক্রি হবে। তিনি আরও বলেন, বছরের শুরুতে বিষমুক্ত ও নিরাপদ আম উৎপাদন এবং রপ্তানির জন্য চাষিদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।  সবকিছু ঠিক থাকলে এবার ইতালি, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, জার্মানি ও ইংল্যান্ডে যাবে সাতক্ষীরার আম। যেহেতু এ জেলার আম অন্য যেকোনো জেলার আমের তুলনায় অধিক সুস্বাদু এবং আগে পাকে সেজন্য প্রতি বছর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিপক্ব ও নিরাপদ আম সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আম ক্যালেন্ডার প্রকাশ করা হয়। এ বছরও সে অনুযায়ী, আগামী ১২ মে থেকে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, বোম্বাই ও গোলাপখাসসহ অন্যান্য স্থানীয় আম পাড়তে নির্দেশ দেয়া হয়েছে চাষিদের। ২৫ মে থেকে হিমসাগর, ১ জুন ল্যাংড়া ও ১৫ জুন থেকে আম্রপালি পাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।##