১০:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সুন্দরবনে ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডব:

সুন্দরবন থেকে ৩০মৃত ও ১৯ জীবিত হরিণ উদ্ধার, নষ্ট হয়েছে টহলফাঁড়ি এবং বনকর্মী ও প্রানীদের খাবার পানির সব উৎস্য

####

সুন্দরবনে ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণে কাজ শুরু করেছে বন বিভাগ। ইতিমধ্যেই সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় মিলেছে হরিণসহ বন্যপ্রাণীর মরদেহ। মঙ্গলবার (২৮মে) বিকেল পযর্ন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী বনের বিভিন্ন স্থান থেকে ৩০টি হরিণের মৃতদেহ পাওয়া গেছে এবং জীবিত অবস্থায় ১৯টি হরিণ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বন বিভাগের ২৫টি টহল ফাঁড়ি। সুন্দরবনে কর্মরত বনবিভাগের কর্মীদের জন্য ও বন্যপ্রানীদের জন্য সংরক্ষিত সকল মিঠা পানির পুকুরে লবণপানি ঢুকে নষ্ট হয়ে গেছে। তবে এখনো বঙ্গোপসাগর ও সাগর উপকূলীয় বনের নদীগুলো  প্রচন্ড ঢেউ ও উত্তাল থাকায় বনের সব এলাকায় খোঁজ নিতে পারছেন না বনকর্মীরা। তাই কী পরিমাণ বন্য প্রাণীর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো সঠিক ধারণা দিতে পারেনি বন বিভাগ।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, সাধারণত জলোচ্ছ্বাস হলে বন্য প্রাণীরা উঁচু স্থান ও গাছে আশ্রয় নেয়। ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে বনের ভেতর অধিক উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হয়েছে। ফলে বনের উঁচু স্থান তলিয়ে যাওয়ায় প্রাণীদের আশ্রয় নিতে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। অধিক সময় ধরে  জ্বলোচ্ছ্বাসের ফলে নিরাপদ আশ্রয়ে না যেতে পেরে হরিণগুলোর মৃত্যু হতে পারে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ নূরুল করিম বলেন, ‘ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের পর এখনো আমরা বনের সব জায়গায় যেতে পারছি না। সাগর ও নদী উত্তাল রয়েছে। রেমালের তান্ডবে ২৫ থেকে ৩০ ঘণ্টা জলোচ্ছ্বাস ছিল। যার ফলে অনেক বন্য প্রাণী মারা যাওয়ার আশঙ্কা করছি। আরও বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে আমরা জানাতে পারব।’ তিনি বলেন, কটকার সংরক্ষিত পানির পুকুরটি সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। বিভিন্ন বন অফিসের জানালার গ্লাস, সোলার প্যানেল ও পানির ট্যাংক ঝড়ে উড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেটি, পুকুরসহ অন্যান্য বহু স্থাপনাও। এসব নিরুপণ করতে কয়েক দিন লাগতে পারে বলেও তিনি জানান।

সুন্দরবন বিভাগের খুলনাঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো জানান, মঙ্গলবার বিকেল পযর্ন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী সুন্দরবনের কটকা, কচিখালী ও দুবলা এলাকাসহ বনের বিভিন্ন স্থান থেকে মোট ২৬টি মৃত হরিণ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আহত অবস্থায় আরও ১৯টি হরিণ উদ্ধার করেছে বনরক্ষীরা। তবে হরিণের পাশাপাশি আরও বন্যপ্রাণী মারা যেতে পারে বলে আমংকা করা হচ্ছে। সে সব মৃত প্রাণীর খোঁজে বনরক্ষীরা তৎপর রয়েছে। তিনি আরো বলেন, বন বিভাগের টহল অফিসগুলোর টিনের চালা, জানালা-দরজা, সোলার প্যানেল, ওয়ারলেস সিস্টেম ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

তিনি বলেন, পূর্ব বন বিভাগের কটকা অভয়ারণ্যের অফিস ঘাটের জেটি ও মিঠা পানির পুকুর সাগর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দুবলা, কটকা, কচিখালি, বগি, আন্ধারমানিক, মৃগামারীসহ বিভিন্ন বন অফিসসহ ২৫টি টহল ফাঁড়ির অবকাঠামোর টিনের চালা ঝড়ে উড়ে গেছে। সুন্দরবনের ৮০টি মিঠাপানির উৎস সংরক্ষিত পুকুরে ৮-১০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে লোনা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বনকর্মীদের পাশাপাশি বনের প্রাণীরাও সুপেয় পানির সংকটে পড়বে বলে তিনি আশংকা করেছেন।

তবে মোংলার উপকুল ও পরিবেশ এবং সুন্দরবন সুরক্ষা আন্দোলনের নেতা নূর আলম শেখ মঙ্গলবার বিকেলে জানান, রেমালের তান্ডবে জলোচ্ছ্বাসে ‍সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৩০টি হরিনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এছাড়াও অন্যান্য বন্যপ্রানীর মৃত্যু হয়েছে। একই সাথে বনবিভাগের বিপুল পরিমান স্থাপনার মারাত্নক ক্ষতি হয়েছে। এসব দ্রুত নিরুপণ করে সুন্দরবন ও বন্যপ্রানী সুরক্ষায় জরুরী ব্যবস্থা গ্রহনের তাগিদ দিয়েছেন এ্ই পরিবেশ আন্দোলনের নেতা।  ##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik Madhumati

জনপ্রিয়

ডুমুরিয়ায় মোটরসাইকেল-ইঞ্জিন ভ্যান সংঘর্ষে নিহত-২,আহত-৪

সুন্দরবনে ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডব:

সুন্দরবন থেকে ৩০মৃত ও ১৯ জীবিত হরিণ উদ্ধার, নষ্ট হয়েছে টহলফাঁড়ি এবং বনকর্মী ও প্রানীদের খাবার পানির সব উৎস্য

প্রকাশিত সময় : ০৯:০৫:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪

####

সুন্দরবনে ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণে কাজ শুরু করেছে বন বিভাগ। ইতিমধ্যেই সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় মিলেছে হরিণসহ বন্যপ্রাণীর মরদেহ। মঙ্গলবার (২৮মে) বিকেল পযর্ন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী বনের বিভিন্ন স্থান থেকে ৩০টি হরিণের মৃতদেহ পাওয়া গেছে এবং জীবিত অবস্থায় ১৯টি হরিণ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বন বিভাগের ২৫টি টহল ফাঁড়ি। সুন্দরবনে কর্মরত বনবিভাগের কর্মীদের জন্য ও বন্যপ্রানীদের জন্য সংরক্ষিত সকল মিঠা পানির পুকুরে লবণপানি ঢুকে নষ্ট হয়ে গেছে। তবে এখনো বঙ্গোপসাগর ও সাগর উপকূলীয় বনের নদীগুলো  প্রচন্ড ঢেউ ও উত্তাল থাকায় বনের সব এলাকায় খোঁজ নিতে পারছেন না বনকর্মীরা। তাই কী পরিমাণ বন্য প্রাণীর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো সঠিক ধারণা দিতে পারেনি বন বিভাগ।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, সাধারণত জলোচ্ছ্বাস হলে বন্য প্রাণীরা উঁচু স্থান ও গাছে আশ্রয় নেয়। ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে বনের ভেতর অধিক উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হয়েছে। ফলে বনের উঁচু স্থান তলিয়ে যাওয়ায় প্রাণীদের আশ্রয় নিতে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। অধিক সময় ধরে  জ্বলোচ্ছ্বাসের ফলে নিরাপদ আশ্রয়ে না যেতে পেরে হরিণগুলোর মৃত্যু হতে পারে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ নূরুল করিম বলেন, ‘ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের পর এখনো আমরা বনের সব জায়গায় যেতে পারছি না। সাগর ও নদী উত্তাল রয়েছে। রেমালের তান্ডবে ২৫ থেকে ৩০ ঘণ্টা জলোচ্ছ্বাস ছিল। যার ফলে অনেক বন্য প্রাণী মারা যাওয়ার আশঙ্কা করছি। আরও বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে আমরা জানাতে পারব।’ তিনি বলেন, কটকার সংরক্ষিত পানির পুকুরটি সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। বিভিন্ন বন অফিসের জানালার গ্লাস, সোলার প্যানেল ও পানির ট্যাংক ঝড়ে উড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেটি, পুকুরসহ অন্যান্য বহু স্থাপনাও। এসব নিরুপণ করতে কয়েক দিন লাগতে পারে বলেও তিনি জানান।

সুন্দরবন বিভাগের খুলনাঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো জানান, মঙ্গলবার বিকেল পযর্ন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী সুন্দরবনের কটকা, কচিখালী ও দুবলা এলাকাসহ বনের বিভিন্ন স্থান থেকে মোট ২৬টি মৃত হরিণ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আহত অবস্থায় আরও ১৯টি হরিণ উদ্ধার করেছে বনরক্ষীরা। তবে হরিণের পাশাপাশি আরও বন্যপ্রাণী মারা যেতে পারে বলে আমংকা করা হচ্ছে। সে সব মৃত প্রাণীর খোঁজে বনরক্ষীরা তৎপর রয়েছে। তিনি আরো বলেন, বন বিভাগের টহল অফিসগুলোর টিনের চালা, জানালা-দরজা, সোলার প্যানেল, ওয়ারলেস সিস্টেম ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

তিনি বলেন, পূর্ব বন বিভাগের কটকা অভয়ারণ্যের অফিস ঘাটের জেটি ও মিঠা পানির পুকুর সাগর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দুবলা, কটকা, কচিখালি, বগি, আন্ধারমানিক, মৃগামারীসহ বিভিন্ন বন অফিসসহ ২৫টি টহল ফাঁড়ির অবকাঠামোর টিনের চালা ঝড়ে উড়ে গেছে। সুন্দরবনের ৮০টি মিঠাপানির উৎস সংরক্ষিত পুকুরে ৮-১০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে লোনা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বনকর্মীদের পাশাপাশি বনের প্রাণীরাও সুপেয় পানির সংকটে পড়বে বলে তিনি আশংকা করেছেন।

তবে মোংলার উপকুল ও পরিবেশ এবং সুন্দরবন সুরক্ষা আন্দোলনের নেতা নূর আলম শেখ মঙ্গলবার বিকেলে জানান, রেমালের তান্ডবে জলোচ্ছ্বাসে ‍সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৩০টি হরিনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এছাড়াও অন্যান্য বন্যপ্রানীর মৃত্যু হয়েছে। একই সাথে বনবিভাগের বিপুল পরিমান স্থাপনার মারাত্নক ক্ষতি হয়েছে। এসব দ্রুত নিরুপণ করে সুন্দরবন ও বন্যপ্রানী সুরক্ষায় জরুরী ব্যবস্থা গ্রহনের তাগিদ দিয়েছেন এ্ই পরিবেশ আন্দোলনের নেতা।  ##