০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
নির্বাচনী ওয়াদার ৯০ভাগ পুরণ করেছেন সিটি মেয়র :

স্মার্ট ও ক্লীন-গ্রীন মহানগরী গড়তে আবারও সমর্থন চাইলেন তালুকদার খালেক

###    খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার খালেক বলেছেন, গত ২০১৮সালের মেয়র নির্বাচনে নগরবাসীকে দেয়া প্রতিশ্রুতির ৯০ভাগই পুরন করতে পেরেছেন। তারমধ্যে নগরীর প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে ৮শো কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন। এছাড়া সুস্থ্য নগরজীবন গড়তে স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়ণ, পরিচ্ছন্ন নগরীর জন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ণ, শিক্ষা-সাংস্কৃতিক চর্চ্চা বৃদ্ধি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ণ, জানজট নিরসন, হতদরিদ্র ও বস্তিবাসীর জীবনমান উন্নয়ণ, পানীয় জল ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা, নগরীর সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি ও পরিবেশ সুরক্ষাসহ বেশকিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আরও বেশকিছু কাজ চলমান রয়েছে। যেগুলো সম্পন্ন হলে খুলনা পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও তিলোত্তমা নগরীতে পরিনত হবে। বুধবার দুপুরে বিগত ৫বছরে সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ণ কর্মকান্ড বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিতকরন সভায় তিনি এ সব তথ্য তুলে ধরেন। নগর ভবনের শহীদ আলতাফ আলী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সভায় সিটি মেয়র বলেন, খুলনা মহানগরীল প্রধান সমস্যা ছিল জলাবদ্ধতা। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বেই প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা খুলনা মহানগরীর উন্নয়নে প্রায় ১৫’শ কোটি টাকার ২টি প্রকল্পের অনুমোদন দেন। এরমধ্যে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তা উন্নয়ন ও পুনর্বাসন প্রকল্পে বরাদ্দ দেয়া হয় ৬’শ ৭ কোটি ৫৬ লক্ষ ৭ হাজার টাকা। এ প্রকল্পে মহানগরীর ৫’শ ৭১টি সড়ক উন্নয়নের মধ্যে ৪’শ ১৮টি সড়কের উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছেএবং চলমান আছে ১’শ ১৪টির কাজ। এছাড়া টেন্ডারের জন্য অপেক্ষমান আছে ৩৯টি সড়ক। আর খুলনা শহরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পে ৮’শ ২০ কোটি ৯৭ লক্ষ ৬ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেয়। এ প্রকল্পে মহানগরীর ২’শ ৬টি ড্রেন উন্নয়নের মধ্যে ৫২টির কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং চলমান আছে ৮৫টি ড্রেনের কাজ। সবশেষ টেন্ডারের জন্য অপেক্ষমান আছে ৭২টি। এছাড়া ২০১৮-১৯ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় থোক বরাদ্দ হিসেবে পাওয়া যায় ৪৯ কোটি ৮২ লক্ষ টাকায় ইতোমধ্যে ৬’শ ৪৭টি প্রকল্পের উন্নয়ন করা হয়েছে এবং ১শ ২৪টি প্রকল্প অপেক্ষায় রয়েছে। এ কাজ সম্পন্ন হলে নগরীল জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হবে। তবে তিনি বলেন, নগরী পানি নিষ্কাশনের জন্য ২২টি খাল পুন:খনন এবং রূপসা ও ভৈরব নদী খনন করা না হলে জলাবদ্ধতা নিরসনের এ উন্নয়ন কাজ কোন কাজেই আসবে না বলেও শংকা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের পূর্বে গত ৫বছরে স্বাস্থ্যসেবার  গুরুত্ব উপলব্ধি করে কেসিসি’র স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে আন্তরিকতার সাথে কাজ করা হচ্ছে। এ কার্যক্রমে কয়েকটি বেসরকারি সংস্থাও সহায়তা করছে। নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বিনামূল্যে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের পাশাপাশি ‘আরবান প্রাইমারী হেলথ কেয়ার’ প্রকল্প, কেসিসির লাল হাসপাতাল ও তালতলা হাসপাতালে স্বল্পমূল্যে প্রসূতিদের সিজারিয়ান অপারেশন ও নরমাল ডেলিভারীর ব্যবস্থাসহ সব ধরনের চিকিৎসা সফলতার সাথে চালিয়ে যাচ্ছি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলতে বিশ্বের ৫টি শহরকে মনোনীত করা হয়েছে যার মধ্যে খুলনা একটি। হেলদি সিটি’ প্রকল্পের মাধ্যমে খুলনাকে একটি আধুনিক, স্মার্ট, সবুজ ও স্বাস্থ্যকর শহরে পরিণত করা সম্ভব হবে বলে বিশ্বাস করি। সিটি মেয়র বলেন, গত ৫বছরে সবচেয়ে বেীশ কাজ করা হয়েছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে। সিটি কর্পোরেশন বর্জ্য ব্যাবস্থাপনাকে আধুনিকায়ন প্রযুক্তি নির্ভর করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ৩’শ ৯৩ কোটি ৪০ লক্ষ টাকার “কেসিসি’র বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন শীর্ষক একটি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছেন।এ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১’শ ৩৮ কোটি টাকা ছাড়কৃত অর্থ দ্বারা প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ ও সেকেন্ডারী চান্সফার সেটশনের (এসটিএস) নির্মাণ কাজ চলমান আছে। এছাড়া প্রাথমিকভাবে কিছু আধুনিক যন্ত্রপাতি যেমন, রোড সুইপিং মেশিন, গংনুষ স্কেভেটর, ১০ ঢাকার গার্বেজ ট্রাক, পে- গোড়ার ক্রয় করা হয়েছে। কম্পাক্টর ট্রাক ও ভাসমান এস্কেভেটর ক্রয়ের জন্য কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। যা দ্বারা শহরের ময়লা দ্রুত অপসারণ ও ময়ূর নদীর পানির প্রবাহ ঠিক রাখার জন্য ভাসমান এস্কেভেটর কাজে লাগানো হবে। আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করতে কেসিসি সিটি রিজিয়ন ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প-২ (সিআরডিপি-২)-এর আওতায় শলুয়া ল্যান্ডফিলে কম্পোষ্ট সার, ব্যায়োগ্যাস থেকে বিদ্যুৎ এবং ডিজেল উৎপাদন প্রকল্প, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহায়তায় মাথাভাঙ্গা ল্যান্ডফিলে বর্জ্য থেকে কম্পোষ্ট সার ও পলিথিন থেকে ডিজেল উৎপাদন প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে প্রায় ৯০ ভাগ কাজ সম্পন্ন এবং লবনচরা খালপাড় উন্নয়ন এবং সোলার পার্কের উন্নয়ন সম্পন্ন হয়েছে। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে সাংহাই এস.ইউ.এস. এনভায়রনমেন্ট কোম্পানী লিমিটেড ও গার্ডিয়ান নেটওয়ার্ক কর্তৃক দাখিলকৃত প্রকল্প অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন আছে। সিটি কর্পোরেশনের রাজবাধ স্ট্রেপিং গ্রাউন্ড-০২ এ আধুনিক মানব বর্জ্য ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন করা হয়। ঠিকাদারের মাধ্যমে ভ্যাকুট্যাগ দ্বারা মানব বর্জ্য অপসারণ ও ট্রিটমেন্ট প্লান্টের মাধ্যমে মানব বর্জ্য থেকে ব্রিকেটস তৈরী করা হচ্ছে যা বাজারজাতকরণের জন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে পরীক্ষামূলকভাবে কাজ করার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। যা পরিচ্ছন্ন নগরী তৈরীতে সহায়ক হবে। এছাড়া শিশুদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা প্রদানের জন্য নগরীতে ৪’শ ৩ মসজিদ ভিত্তিক মক্তব পরিচালনা, কলেজিয়েট গার্লস স্কুল ও কেসিসি উইমেন্স কলেজ, খালিশপুর কলেজিয়েট গার্লস স্কুল, ইসলামাবাদ কলেজিয়েট গার্লস স্কুল, নয়াবাড়ী হাজী শরিয়তউল্লাহ বিদ্যাপীঠ, কেশব চন্দ্র সাংস্কৃতিক কলেজসহ ৫৬ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় মহানগরীর শিক্ষা বিস্তারে বিস্তারে আণী ভূমিকা পালন করছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকার, ইউএনডিপি ও ডিএফআইডি’র অর্থায়ন ও কারিগরি সহযোগিতায় সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত ‘প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিগত ৬ বছরে ৩৭ কোটি ৭৪ লক্ষ ৭২ হাজার টাকা ব্যয়ে ৪০ হাজার ৫শ ৮৭টি পরিবারের জীবনমান উন্নয়নে স্বস্থ্য ও পুষ্টি, শিক্ষা ও ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনায় সহায়তা প্রদানসহ দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এছাড়া নিম্নআয়ের জনবসতি এলাকায় ৪৯.১৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ৮ ফুটের কম প্রশস্তের প্রায় ১ হাজার ৩শটি সড়কসহ ড্রেন ও ১২টি কমিউনিটি ল্যাট্রিন এবং ১ হাজার ৫’শ ৪টি পারিবারিক ল্যাট্রিন নির্মাণ করা হয়েছে। একই সময়ে ব্রাক-আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় জলবায়ু উদ্বাস্তুদের মধ্য থেকে ৬৮টি পরিবারের জন্য আবাসন ব্যবস্থাসহ শহিদ হাদিস পার্কে আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ও জার্মান সরকারের যৌথ অর্থায়নে “জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতি মোকাবেলায় ৯১ কোটি ২৮ লক্ষ ৬১ হাজার টাকার একটি প্রকল্পের নগরীর দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশায় শহর রক্ষা বাঁধ, রূপসার বিভার ফ্রন্ট পার্ক, দেয়ানা চৌধুরী পাড়া নবীনগর, বাস্তহারা ও সোনাডাঙ্গা এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ড্রেন উন্নয়ন, আলুতলা সুইচ গেট আধুনিকায়ন, নিরালা খাল খনন, পাড় বাধাই ও উভয় পার্শ্বে ওয়াকওয়ে নির্মাণসহ নগরীর জনগুরুত্বপূর্ণ ২০টি পুকুরের উন্নয়ন কাজ রয়েছে। এছাড়া নেদারল্যান্ডস সরকারের সহযোগিতার “ওয়াটার এক্স লেভারেজ, ন্যাচারাল ড্রেনেজ সদৃশন ফর খুলনা সিটি” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় জলাবদ্ধতা নিরসনে ময়ূর, খুলে ও শোলমারী নদীসহ সংযুক্ত স্থানসমূহ সংরক্ষণ, দুইচ গেট ও পাম্প হাউজ নির্মাণের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (৫০) অর্থায়নে নগর বনায়ন কর্মসূচি, ইউএসএইড এর অর্থায়নে “এশিয়া বিজিপিয়েন্ট সিটিস” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় টেকসই নগর উন্নয়নে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বর্ষা ব্যবস্থাপনা, যাতায়াত ইত্যাদি খাতে অর্থায়ন এবং জার্মান সরকারের অর্থায়নে বেসরকারি সংস্থা কারিতাসের মাধ্যমে নগরীতে “ট্রেনসেলিং ব্রিজিলাইন লাই এত লাইভলিহুড ফর ক্লাইমেট মাইজোন্টস ইন আরবান স্লামস অব কেসিসি” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় লিংক রোড নির্মাণ, পানির উৎস মেরামত, স্যানিটেশন ও ড্রেনে ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জলবায়ু উদ্বাস্তুদের আবাসন সংস্কারসহ বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও ব্যবহারের কার্যক্রম চলমান আছে। তিনি বলেন, কেসিসির পৌরকর পরিশোধের ক্ষেত্রে স্বাচ্ছতা ও নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘব, ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ ও নবায়নসহ জনসম্পৃক্ত অন্যান্য বিষয়গুলিও অনলাইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া, শহরের গুরুত্বপূর্ণ ২২ টি মোড়ের সৌন্দর্য বর্ধন,  সকল জলাধার ও পুকুরকে সংরক্ষণ, হাইটেক পার্কের নির্মাণ কাজ শুরু,  স্বাস্থ্যকর মাংস সরবরাহের লক্ষ্যে একটি আধুনিক কসাইখানা নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। তবে তিনি বৈশ্বিক মহামারী কোভিড-১৯ সংক্রমণের কারণে সমগ্র বিশ্বের ন্যায় দেশের সকল কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় প্রায় ০৩ বছর কোন কাজ করা সম্ভব হয়নি। ফলে নগরবাসীকে কিছুটা কিছু দুর্ভোগ পোহাতে হওয়ায় সিটি মেয়র নগরবাসীর নিকট দুঃখ প্রকাশ করেন। তালুকদার খালেক বলেন, নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী ১২ জুন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবং মেয়র পদে নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। চলমান উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তিনি জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ নগরীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও মাটির নিচের পানি সংরক্ষণে প্রাকৃতিক নদী, খাল ও জলাশয় সংরক্ষণ করা হবে। নগরবাসীর চিত্তবিনোদন ও পরিবেশ রক্ষায় পার্ক এবং উন্মুক্ত স্থানে খেলার মাঠ নির্মাণ। নগরীতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিটি ওয়ার্ডে ১টি করে সেকেন্ডারী ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নির্মাণ। আশার কথা হচ্ছে ইতিমধ্যে কেসিসি ও কুয়েট কর্তৃক গৃহীত এসসিআইপি প্লাস্টিক প্রকল্পের মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় একটি মাস্টারপ্লান প্রণয়নের কাজ চলমান আছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমসহ শিক্ষা, পুষ্টি ও ব্যবসা সহায়তা এবং স্যানিটেশন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম ভবিষ্যতেও চলমান রাখা। নগরীর প্রাণকেন্দ্রে সিটি সেন্টার, ওয়ার্ড অফিস কাম কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ, কলেজিয়েট স্কুল, বাজার নির্মাণসহ কেসিসি’র বিভিন্ন স্থাপনার ছাদে এ পুকুরে সোলার প্যানেল স্থাপন। দূষিত পানি রিসাইক্লিং-এর মাধ্যমে পুনব্যবহার ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বৃষ্টির পানির ব্যবহার বৃদ্ধিতে নগরভিত্তিক টেকসই পানিচক্র প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং নগরীর সকল স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ে একটি সিটি ডেভেলপমেন্ট প্লান প্রস্তুত করা ও স্মার্ট সিটি ব্যাসিক প্লান প্রস্তুত করে নগরীর সকল উন্নয়নমূলক কাজ সমন্বের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করে স্মার্ট ও ক্লীন-গ্রীন সিটি গড়তে এসব ভবিষ্যত পরিকল্পনা তুলে ধরে আসন্ন মেয়র নির্বাচনে নগরবাসীর সার্বিক সহযোগিতা ও সমর্থন চান। সভায় কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লষ্কর তাজুল ইসলাম, সচিব আজমুল হক, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা, প্রধান প্রকৌশলী মো: মশিউজ্জামান, প্রকৌশলী আব্দুল আজিজ, আবিরুল জব্বার, মো: জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik adhumati

জনপ্রিয়

গলাচিপায় অবৈধ দোকান উচ্ছেদের মাধ্যমে রাস্তা উন্মুক্ত করায় প্রসংশিত মেয়র

নির্বাচনী ওয়াদার ৯০ভাগ পুরণ করেছেন সিটি মেয়র :

স্মার্ট ও ক্লীন-গ্রীন মহানগরী গড়তে আবারও সমর্থন চাইলেন তালুকদার খালেক

প্রকাশিত সময় : ০৯:১৫:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ মে ২০২৩

###    খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার খালেক বলেছেন, গত ২০১৮সালের মেয়র নির্বাচনে নগরবাসীকে দেয়া প্রতিশ্রুতির ৯০ভাগই পুরন করতে পেরেছেন। তারমধ্যে নগরীর প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে ৮শো কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন। এছাড়া সুস্থ্য নগরজীবন গড়তে স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়ণ, পরিচ্ছন্ন নগরীর জন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ণ, শিক্ষা-সাংস্কৃতিক চর্চ্চা বৃদ্ধি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ণ, জানজট নিরসন, হতদরিদ্র ও বস্তিবাসীর জীবনমান উন্নয়ণ, পানীয় জল ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা, নগরীর সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি ও পরিবেশ সুরক্ষাসহ বেশকিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আরও বেশকিছু কাজ চলমান রয়েছে। যেগুলো সম্পন্ন হলে খুলনা পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও তিলোত্তমা নগরীতে পরিনত হবে। বুধবার দুপুরে বিগত ৫বছরে সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ণ কর্মকান্ড বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিতকরন সভায় তিনি এ সব তথ্য তুলে ধরেন। নগর ভবনের শহীদ আলতাফ আলী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সভায় সিটি মেয়র বলেন, খুলনা মহানগরীল প্রধান সমস্যা ছিল জলাবদ্ধতা। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বেই প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা খুলনা মহানগরীর উন্নয়নে প্রায় ১৫’শ কোটি টাকার ২টি প্রকল্পের অনুমোদন দেন। এরমধ্যে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তা উন্নয়ন ও পুনর্বাসন প্রকল্পে বরাদ্দ দেয়া হয় ৬’শ ৭ কোটি ৫৬ লক্ষ ৭ হাজার টাকা। এ প্রকল্পে মহানগরীর ৫’শ ৭১টি সড়ক উন্নয়নের মধ্যে ৪’শ ১৮টি সড়কের উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছেএবং চলমান আছে ১’শ ১৪টির কাজ। এছাড়া টেন্ডারের জন্য অপেক্ষমান আছে ৩৯টি সড়ক। আর খুলনা শহরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পে ৮’শ ২০ কোটি ৯৭ লক্ষ ৬ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেয়। এ প্রকল্পে মহানগরীর ২’শ ৬টি ড্রেন উন্নয়নের মধ্যে ৫২টির কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং চলমান আছে ৮৫টি ড্রেনের কাজ। সবশেষ টেন্ডারের জন্য অপেক্ষমান আছে ৭২টি। এছাড়া ২০১৮-১৯ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় থোক বরাদ্দ হিসেবে পাওয়া যায় ৪৯ কোটি ৮২ লক্ষ টাকায় ইতোমধ্যে ৬’শ ৪৭টি প্রকল্পের উন্নয়ন করা হয়েছে এবং ১শ ২৪টি প্রকল্প অপেক্ষায় রয়েছে। এ কাজ সম্পন্ন হলে নগরীল জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হবে। তবে তিনি বলেন, নগরী পানি নিষ্কাশনের জন্য ২২টি খাল পুন:খনন এবং রূপসা ও ভৈরব নদী খনন করা না হলে জলাবদ্ধতা নিরসনের এ উন্নয়ন কাজ কোন কাজেই আসবে না বলেও শংকা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের পূর্বে গত ৫বছরে স্বাস্থ্যসেবার  গুরুত্ব উপলব্ধি করে কেসিসি’র স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে আন্তরিকতার সাথে কাজ করা হচ্ছে। এ কার্যক্রমে কয়েকটি বেসরকারি সংস্থাও সহায়তা করছে। নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বিনামূল্যে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের পাশাপাশি ‘আরবান প্রাইমারী হেলথ কেয়ার’ প্রকল্প, কেসিসির লাল হাসপাতাল ও তালতলা হাসপাতালে স্বল্পমূল্যে প্রসূতিদের সিজারিয়ান অপারেশন ও নরমাল ডেলিভারীর ব্যবস্থাসহ সব ধরনের চিকিৎসা সফলতার সাথে চালিয়ে যাচ্ছি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলতে বিশ্বের ৫টি শহরকে মনোনীত করা হয়েছে যার মধ্যে খুলনা একটি। হেলদি সিটি’ প্রকল্পের মাধ্যমে খুলনাকে একটি আধুনিক, স্মার্ট, সবুজ ও স্বাস্থ্যকর শহরে পরিণত করা সম্ভব হবে বলে বিশ্বাস করি। সিটি মেয়র বলেন, গত ৫বছরে সবচেয়ে বেীশ কাজ করা হয়েছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে। সিটি কর্পোরেশন বর্জ্য ব্যাবস্থাপনাকে আধুনিকায়ন প্রযুক্তি নির্ভর করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ৩’শ ৯৩ কোটি ৪০ লক্ষ টাকার “কেসিসি’র বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন শীর্ষক একটি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছেন।এ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১’শ ৩৮ কোটি টাকা ছাড়কৃত অর্থ দ্বারা প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ ও সেকেন্ডারী চান্সফার সেটশনের (এসটিএস) নির্মাণ কাজ চলমান আছে। এছাড়া প্রাথমিকভাবে কিছু আধুনিক যন্ত্রপাতি যেমন, রোড সুইপিং মেশিন, গংনুষ স্কেভেটর, ১০ ঢাকার গার্বেজ ট্রাক, পে- গোড়ার ক্রয় করা হয়েছে। কম্পাক্টর ট্রাক ও ভাসমান এস্কেভেটর ক্রয়ের জন্য কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। যা দ্বারা শহরের ময়লা দ্রুত অপসারণ ও ময়ূর নদীর পানির প্রবাহ ঠিক রাখার জন্য ভাসমান এস্কেভেটর কাজে লাগানো হবে। আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করতে কেসিসি সিটি রিজিয়ন ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প-২ (সিআরডিপি-২)-এর আওতায় শলুয়া ল্যান্ডফিলে কম্পোষ্ট সার, ব্যায়োগ্যাস থেকে বিদ্যুৎ এবং ডিজেল উৎপাদন প্রকল্প, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহায়তায় মাথাভাঙ্গা ল্যান্ডফিলে বর্জ্য থেকে কম্পোষ্ট সার ও পলিথিন থেকে ডিজেল উৎপাদন প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে প্রায় ৯০ ভাগ কাজ সম্পন্ন এবং লবনচরা খালপাড় উন্নয়ন এবং সোলার পার্কের উন্নয়ন সম্পন্ন হয়েছে। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে সাংহাই এস.ইউ.এস. এনভায়রনমেন্ট কোম্পানী লিমিটেড ও গার্ডিয়ান নেটওয়ার্ক কর্তৃক দাখিলকৃত প্রকল্প অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন আছে। সিটি কর্পোরেশনের রাজবাধ স্ট্রেপিং গ্রাউন্ড-০২ এ আধুনিক মানব বর্জ্য ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন করা হয়। ঠিকাদারের মাধ্যমে ভ্যাকুট্যাগ দ্বারা মানব বর্জ্য অপসারণ ও ট্রিটমেন্ট প্লান্টের মাধ্যমে মানব বর্জ্য থেকে ব্রিকেটস তৈরী করা হচ্ছে যা বাজারজাতকরণের জন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে পরীক্ষামূলকভাবে কাজ করার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। যা পরিচ্ছন্ন নগরী তৈরীতে সহায়ক হবে। এছাড়া শিশুদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা প্রদানের জন্য নগরীতে ৪’শ ৩ মসজিদ ভিত্তিক মক্তব পরিচালনা, কলেজিয়েট গার্লস স্কুল ও কেসিসি উইমেন্স কলেজ, খালিশপুর কলেজিয়েট গার্লস স্কুল, ইসলামাবাদ কলেজিয়েট গার্লস স্কুল, নয়াবাড়ী হাজী শরিয়তউল্লাহ বিদ্যাপীঠ, কেশব চন্দ্র সাংস্কৃতিক কলেজসহ ৫৬ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় মহানগরীর শিক্ষা বিস্তারে বিস্তারে আণী ভূমিকা পালন করছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকার, ইউএনডিপি ও ডিএফআইডি’র অর্থায়ন ও কারিগরি সহযোগিতায় সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত ‘প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিগত ৬ বছরে ৩৭ কোটি ৭৪ লক্ষ ৭২ হাজার টাকা ব্যয়ে ৪০ হাজার ৫শ ৮৭টি পরিবারের জীবনমান উন্নয়নে স্বস্থ্য ও পুষ্টি, শিক্ষা ও ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনায় সহায়তা প্রদানসহ দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এছাড়া নিম্নআয়ের জনবসতি এলাকায় ৪৯.১৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ৮ ফুটের কম প্রশস্তের প্রায় ১ হাজার ৩শটি সড়কসহ ড্রেন ও ১২টি কমিউনিটি ল্যাট্রিন এবং ১ হাজার ৫’শ ৪টি পারিবারিক ল্যাট্রিন নির্মাণ করা হয়েছে। একই সময়ে ব্রাক-আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় জলবায়ু উদ্বাস্তুদের মধ্য থেকে ৬৮টি পরিবারের জন্য আবাসন ব্যবস্থাসহ শহিদ হাদিস পার্কে আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ও জার্মান সরকারের যৌথ অর্থায়নে “জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতি মোকাবেলায় ৯১ কোটি ২৮ লক্ষ ৬১ হাজার টাকার একটি প্রকল্পের নগরীর দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশায় শহর রক্ষা বাঁধ, রূপসার বিভার ফ্রন্ট পার্ক, দেয়ানা চৌধুরী পাড়া নবীনগর, বাস্তহারা ও সোনাডাঙ্গা এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ড্রেন উন্নয়ন, আলুতলা সুইচ গেট আধুনিকায়ন, নিরালা খাল খনন, পাড় বাধাই ও উভয় পার্শ্বে ওয়াকওয়ে নির্মাণসহ নগরীর জনগুরুত্বপূর্ণ ২০টি পুকুরের উন্নয়ন কাজ রয়েছে। এছাড়া নেদারল্যান্ডস সরকারের সহযোগিতার “ওয়াটার এক্স লেভারেজ, ন্যাচারাল ড্রেনেজ সদৃশন ফর খুলনা সিটি” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় জলাবদ্ধতা নিরসনে ময়ূর, খুলে ও শোলমারী নদীসহ সংযুক্ত স্থানসমূহ সংরক্ষণ, দুইচ গেট ও পাম্প হাউজ নির্মাণের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (৫০) অর্থায়নে নগর বনায়ন কর্মসূচি, ইউএসএইড এর অর্থায়নে “এশিয়া বিজিপিয়েন্ট সিটিস” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় টেকসই নগর উন্নয়নে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বর্ষা ব্যবস্থাপনা, যাতায়াত ইত্যাদি খাতে অর্থায়ন এবং জার্মান সরকারের অর্থায়নে বেসরকারি সংস্থা কারিতাসের মাধ্যমে নগরীতে “ট্রেনসেলিং ব্রিজিলাইন লাই এত লাইভলিহুড ফর ক্লাইমেট মাইজোন্টস ইন আরবান স্লামস অব কেসিসি” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় লিংক রোড নির্মাণ, পানির উৎস মেরামত, স্যানিটেশন ও ড্রেনে ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জলবায়ু উদ্বাস্তুদের আবাসন সংস্কারসহ বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও ব্যবহারের কার্যক্রম চলমান আছে। তিনি বলেন, কেসিসির পৌরকর পরিশোধের ক্ষেত্রে স্বাচ্ছতা ও নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘব, ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ ও নবায়নসহ জনসম্পৃক্ত অন্যান্য বিষয়গুলিও অনলাইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া, শহরের গুরুত্বপূর্ণ ২২ টি মোড়ের সৌন্দর্য বর্ধন,  সকল জলাধার ও পুকুরকে সংরক্ষণ, হাইটেক পার্কের নির্মাণ কাজ শুরু,  স্বাস্থ্যকর মাংস সরবরাহের লক্ষ্যে একটি আধুনিক কসাইখানা নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। তবে তিনি বৈশ্বিক মহামারী কোভিড-১৯ সংক্রমণের কারণে সমগ্র বিশ্বের ন্যায় দেশের সকল কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় প্রায় ০৩ বছর কোন কাজ করা সম্ভব হয়নি। ফলে নগরবাসীকে কিছুটা কিছু দুর্ভোগ পোহাতে হওয়ায় সিটি মেয়র নগরবাসীর নিকট দুঃখ প্রকাশ করেন। তালুকদার খালেক বলেন, নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী ১২ জুন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবং মেয়র পদে নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। চলমান উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তিনি জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ নগরীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও মাটির নিচের পানি সংরক্ষণে প্রাকৃতিক নদী, খাল ও জলাশয় সংরক্ষণ করা হবে। নগরবাসীর চিত্তবিনোদন ও পরিবেশ রক্ষায় পার্ক এবং উন্মুক্ত স্থানে খেলার মাঠ নির্মাণ। নগরীতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিটি ওয়ার্ডে ১টি করে সেকেন্ডারী ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নির্মাণ। আশার কথা হচ্ছে ইতিমধ্যে কেসিসি ও কুয়েট কর্তৃক গৃহীত এসসিআইপি প্লাস্টিক প্রকল্পের মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় একটি মাস্টারপ্লান প্রণয়নের কাজ চলমান আছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমসহ শিক্ষা, পুষ্টি ও ব্যবসা সহায়তা এবং স্যানিটেশন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম ভবিষ্যতেও চলমান রাখা। নগরীর প্রাণকেন্দ্রে সিটি সেন্টার, ওয়ার্ড অফিস কাম কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ, কলেজিয়েট স্কুল, বাজার নির্মাণসহ কেসিসি’র বিভিন্ন স্থাপনার ছাদে এ পুকুরে সোলার প্যানেল স্থাপন। দূষিত পানি রিসাইক্লিং-এর মাধ্যমে পুনব্যবহার ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বৃষ্টির পানির ব্যবহার বৃদ্ধিতে নগরভিত্তিক টেকসই পানিচক্র প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং নগরীর সকল স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ে একটি সিটি ডেভেলপমেন্ট প্লান প্রস্তুত করা ও স্মার্ট সিটি ব্যাসিক প্লান প্রস্তুত করে নগরীর সকল উন্নয়নমূলক কাজ সমন্বের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করে স্মার্ট ও ক্লীন-গ্রীন সিটি গড়তে এসব ভবিষ্যত পরিকল্পনা তুলে ধরে আসন্ন মেয়র নির্বাচনে নগরবাসীর সার্বিক সহযোগিতা ও সমর্থন চান। সভায় কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লষ্কর তাজুল ইসলাম, সচিব আজমুল হক, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা, প্রধান প্রকৌশলী মো: মশিউজ্জামান, প্রকৌশলী আব্দুল আজিজ, আবিরুল জব্বার, মো: জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ##