০১:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

১৩ বছর বন্ধ দাদা ম্যাচের পরিত্যক্ত কেমিক্যাল গোডাউনে আগুন

###      খুলনা দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরির প্রায় ১৩ বছর ধরে বন্ধ থাকা পরিত্যক্ত কেমিক্যাল গোডাউনে আগুন লেগে বেশকিছু কেমিক্যাল পুড়ে গেছে। সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে এ আগুনের ঘটনা ঘটে। তবে এতে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।আগুনের কারণে সৃষ্ট ধোঁয়ায় নগরীর লবণচরা, রূপসা, টুটপাড়া, দোলখোলা, সাউথ সেন্ট্রাল রোড, হাজী মহসিন রোড, ডাকবাংলা মোড়সহ অনেক এলাকা ধোঁয়াচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এ সময় রূপসা স্ট্রান্ড রোডসহ আশেপাশের এলাকায় ধোঁয়ার কারণে স্বাভাবিক পথ চলাচলেও ব্যাঘাত ঘটে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট চেষ্টা চালিয়ে রাত ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। খুলনা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক তানহারুল ইসলাম বলেন, ম্যাচ ফ্যাক্টরির অভ্যন্তরে একটি কক্ষে কেমিক্যাল সংরক্ষিত ছিল। দীর্ঘদিন ধরে কক্ষটি পরিত্যক্ত ও বন্ধ রয়েছে। হঠাৎ করে সালফার রাখা কক্ষটিতে আগুন ধরে যায়। পুরানো বারুদের কারণে ব্যাপক অগ্নিকান্ডের পরিবর্তে প্রচন্ড ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরির ওই কক্ষে ম্যাচের বারুদ তৈরির জন্য রেড ফসফরাস, সালফার, ব্লাক কার্বন স্তূপ করা ছিল। এসব দিয়ে ম্যাচের বারুদ তৈরি করা হতো। সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে টুটপাড়া ও বয়রা ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

জানা গেছে, ঐতিহ্যবাহী খুলনার দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরি ২০১০ সালের ১৮ আগস্ট লোকসানের অজুহাতে বন্ধ হয়ে যায়। সেই থেকে সালফারসহ কেমিক্যাল রাখা কক্ষটিও পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। কেমিক্যাল রাখা ঘরটি বেশ বড়। সেখানে ড্রামের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল রক্ষিত ছিল। আগুন লাগার পর সেখানে প্রচন্ড উত্তাপ তৈরি হয়। এসময় শহর জুড়ে ধোঁয়াচ্ছন্ন অবস্থা তৈরি হওয়ায় ক্ষতিকর গ্যাস চারপাশে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দেয়।

জানা যায়, ১৯৫৬ সালে সুন্দরবনের গেওয়া কাঠের ওপর নির্ভর করে খুলনার রূপসা নদীর তীরে ১৮ একর জমির ওপর দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরির যাত্রা শুরু হয়। মিলটির মালিকানা ছিল পাকিস্তানি মালিকানাধীন দাদা গ্রুপের। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩ সালে মিলটি জাতীয়করণ করে চালু করে সরকার। ১৯৯৩ সালে ভাইয়া গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ এ মিলের ৭০ শতাংশ শেয়ার কিনে নেয়। কিন্তু লোকসানের কারণে দেখিয়ে ২০১০ সালে উৎপাদন বন্ধ করে দেয় তারা। ২০১১ সালে সরকারি তত্ত্বাবধানে কারখানার মালামাল বুঝে নেয়ার পর থেকে মালামাল সংরক্ষণের দায়িত্ব দেয়া হয় খুলনার জেলা প্রশাসনকে। তবে এতদিন পরে কেন ও কি কারনে এ আগুনের সূত্রপাত সেবিষয়ে জেলা প্রশাসন কিছুই জানাতে পারেনি। ##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik adhumati

জনপ্রিয়

১৩ বছর বন্ধ দাদা ম্যাচের পরিত্যক্ত কেমিক্যাল গোডাউনে আগুন

প্রকাশিত সময় : ০৮:২৩:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ মার্চ ২০২৩

###      খুলনা দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরির প্রায় ১৩ বছর ধরে বন্ধ থাকা পরিত্যক্ত কেমিক্যাল গোডাউনে আগুন লেগে বেশকিছু কেমিক্যাল পুড়ে গেছে। সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে এ আগুনের ঘটনা ঘটে। তবে এতে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।আগুনের কারণে সৃষ্ট ধোঁয়ায় নগরীর লবণচরা, রূপসা, টুটপাড়া, দোলখোলা, সাউথ সেন্ট্রাল রোড, হাজী মহসিন রোড, ডাকবাংলা মোড়সহ অনেক এলাকা ধোঁয়াচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এ সময় রূপসা স্ট্রান্ড রোডসহ আশেপাশের এলাকায় ধোঁয়ার কারণে স্বাভাবিক পথ চলাচলেও ব্যাঘাত ঘটে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট চেষ্টা চালিয়ে রাত ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। খুলনা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক তানহারুল ইসলাম বলেন, ম্যাচ ফ্যাক্টরির অভ্যন্তরে একটি কক্ষে কেমিক্যাল সংরক্ষিত ছিল। দীর্ঘদিন ধরে কক্ষটি পরিত্যক্ত ও বন্ধ রয়েছে। হঠাৎ করে সালফার রাখা কক্ষটিতে আগুন ধরে যায়। পুরানো বারুদের কারণে ব্যাপক অগ্নিকান্ডের পরিবর্তে প্রচন্ড ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরির ওই কক্ষে ম্যাচের বারুদ তৈরির জন্য রেড ফসফরাস, সালফার, ব্লাক কার্বন স্তূপ করা ছিল। এসব দিয়ে ম্যাচের বারুদ তৈরি করা হতো। সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে টুটপাড়া ও বয়রা ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

জানা গেছে, ঐতিহ্যবাহী খুলনার দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরি ২০১০ সালের ১৮ আগস্ট লোকসানের অজুহাতে বন্ধ হয়ে যায়। সেই থেকে সালফারসহ কেমিক্যাল রাখা কক্ষটিও পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। কেমিক্যাল রাখা ঘরটি বেশ বড়। সেখানে ড্রামের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল রক্ষিত ছিল। আগুন লাগার পর সেখানে প্রচন্ড উত্তাপ তৈরি হয়। এসময় শহর জুড়ে ধোঁয়াচ্ছন্ন অবস্থা তৈরি হওয়ায় ক্ষতিকর গ্যাস চারপাশে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দেয়।

জানা যায়, ১৯৫৬ সালে সুন্দরবনের গেওয়া কাঠের ওপর নির্ভর করে খুলনার রূপসা নদীর তীরে ১৮ একর জমির ওপর দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরির যাত্রা শুরু হয়। মিলটির মালিকানা ছিল পাকিস্তানি মালিকানাধীন দাদা গ্রুপের। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩ সালে মিলটি জাতীয়করণ করে চালু করে সরকার। ১৯৯৩ সালে ভাইয়া গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ এ মিলের ৭০ শতাংশ শেয়ার কিনে নেয়। কিন্তু লোকসানের কারণে দেখিয়ে ২০১০ সালে উৎপাদন বন্ধ করে দেয় তারা। ২০১১ সালে সরকারি তত্ত্বাবধানে কারখানার মালামাল বুঝে নেয়ার পর থেকে মালামাল সংরক্ষণের দায়িত্ব দেয়া হয় খুলনার জেলা প্রশাসনকে। তবে এতদিন পরে কেন ও কি কারনে এ আগুনের সূত্রপাত সেবিষয়ে জেলা প্রশাসন কিছুই জানাতে পারেনি। ##