০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

১৭টি রুটে গণপরিবহন ধর্মঘট, দূর্ভোগে সাধারণ যাত্রী ও পরিক্ষার্থীরা

মহাসড়কে নসিমন—করিমন, মহেন্দ্র ও ইজিবাইক চলাচল বন্ধের দাবীতে বাগেরহাটে বাস মালিক সমিতির ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে ভোগান্তির মধ্যে পরেছে সাধারন মানুষ।সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন বাগেরহাটে ইউনিয়ন সমাজকর্মীসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা কয়েক হাজার পরীক্ষার্থীরা।তবে বিএনপি নেতাদের অভিযোগ,খুলনায় বিএনপির গণসমাবেশকে ব্যাহত ও বানচাল করতেই বাগেরহাটে বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন। বিএনপি নেতাদের দাবী প্রয়োজনে পায়ে হেটে হলেও সমাবেশে যোগ দেবেন তারা।
সরেজমিনে বাগেরহাট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে দেখা যায়,ভোর থেকে বাগেরহাট জেলা সদরসহ সকল উপজেলার যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে জনসাধারণ।জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে কেউ বের হচ্ছে না।মহাসড়কের মোড়ে মোড়ে অবস্থান নিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।এর মধ্যে ইউনিয়ন সমাজকর্মী নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা পরীক্ষার্থীরা পরেছেন চড়ম ভোগান্তির মধ্যে।গণপরিবহন বন্ধ থাকায় কেউ পায়ে হেটে,কেউ ভাড়ায় চালিত মটরসাইকেল, ভ্যান বা ইজিবাইকে চড়ে চেষ্টা করছেন গন্তব্যে পৌঁছানোর।
নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে গোপালগঞ্জে যাবেন ইয়ামিন নামের এক পরীক্ষার্থী।বড় ভাইয়ের সাথে বের হয়ে কোনো যানবাহন না পাওয়ায় হাটতে দেখা যায় তাকে।আক্ষেপ করে বলছিলেন সমাবেশ খুলনায় হলেও ঢাকার পরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে।সময়মত কেন্দ্রেই হয়তো যেতে পারব কি না বলতে পাচ্ছি না।
বাগেরহাট বাস টার্মিনালে দাড়িয়ে থাকা কামাল নামের এক ব্যক্তি বলেন,আমি তো ভাই বিএনপি করি না,আমি ব্যবসা করি।খুলনায় আমাকে ব্যবসায়ীক কাজে জরুরী যেতে হবে, কিন্তু যেতে পাচ্ছি না।অনেক কষ্টে একটি ভ্যান পেয়েছি,তাও আবার পাঁচ’শ টাকা চাচ্ছে।কিছু করার নেই যেতেই হবে।
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ থেকে স্ত্রীকে নিয়ে খুলনায় চিকিৎসক জন্য যাচ্ছিলেন মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন,মোড়েলগঞ্জ ছোলমবাড়িয়া বাস স্টান্ডে এসে বসে ছিলাম প্রায় দুই ঘন্টা কিছুই পায়নি। তাই বাধ্য হয়ে স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ীতে ফিরে আসচ্ছি।
বাগেরহাট আন্তঃজেলা বাস—মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক আলহাজ্জ তালুকদার আব্দুল বাকী বলেন,বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে বাস বন্ধ রেয়ে্ছ বিষয়টি সত্য নয়।হাইকোর্টের সিদ্ধান্তকে অমান্য করে দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কে নসিমন—করিমন,মহেন্দ্র, ও ইজিবাইক চলাচল করছে।যাতে করে সড়কে প্রায়ই দৃঘটনা ঘটছে। প্রশাসনের কাছে বার বার অভিযোগ দিলে ও এগুলো বন্ধ না করায় সাধারন মালিকদের অনুরোধে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
বাগেরহাট জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোজাফফর রহমান আলম বলেন, দুইদিন গণপরিবহন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তই বলে দেয় বিএনপির পক্ষে সাধারণ মানুষের যে গনজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে তাতে আওয়ামী লীগ ভীতসন্ত্রস্থ হয়ে পড়েছে।কিন্তু কোনো বাধাতেই আমাদের কর্মীদের দমিয়ে রাখা যাবে না।বাগেরহাট থেকে ইতিমধ্যেই আমাদের অধিকাংশ নেতাকর্মী খুলনাতে পৌছে গেছে।যারা এখনও পৌছাতে পারেনি তাদেরকে আমি অনুরোধ করবো প্রয়োজনে পায়ে হেটে হলেও সমাবেশে যোগ দেবেন।##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

dainik madhumati

জনপ্রিয়

দেবহাটায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন এ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত 

১৭টি রুটে গণপরিবহন ধর্মঘট, দূর্ভোগে সাধারণ যাত্রী ও পরিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত সময় : ০৯:৫৬:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অক্টোবর ২০২২

মহাসড়কে নসিমন—করিমন, মহেন্দ্র ও ইজিবাইক চলাচল বন্ধের দাবীতে বাগেরহাটে বাস মালিক সমিতির ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে ভোগান্তির মধ্যে পরেছে সাধারন মানুষ।সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন বাগেরহাটে ইউনিয়ন সমাজকর্মীসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা কয়েক হাজার পরীক্ষার্থীরা।তবে বিএনপি নেতাদের অভিযোগ,খুলনায় বিএনপির গণসমাবেশকে ব্যাহত ও বানচাল করতেই বাগেরহাটে বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন। বিএনপি নেতাদের দাবী প্রয়োজনে পায়ে হেটে হলেও সমাবেশে যোগ দেবেন তারা।
সরেজমিনে বাগেরহাট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে দেখা যায়,ভোর থেকে বাগেরহাট জেলা সদরসহ সকল উপজেলার যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে জনসাধারণ।জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে কেউ বের হচ্ছে না।মহাসড়কের মোড়ে মোড়ে অবস্থান নিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।এর মধ্যে ইউনিয়ন সমাজকর্মী নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা পরীক্ষার্থীরা পরেছেন চড়ম ভোগান্তির মধ্যে।গণপরিবহন বন্ধ থাকায় কেউ পায়ে হেটে,কেউ ভাড়ায় চালিত মটরসাইকেল, ভ্যান বা ইজিবাইকে চড়ে চেষ্টা করছেন গন্তব্যে পৌঁছানোর।
নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে গোপালগঞ্জে যাবেন ইয়ামিন নামের এক পরীক্ষার্থী।বড় ভাইয়ের সাথে বের হয়ে কোনো যানবাহন না পাওয়ায় হাটতে দেখা যায় তাকে।আক্ষেপ করে বলছিলেন সমাবেশ খুলনায় হলেও ঢাকার পরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে।সময়মত কেন্দ্রেই হয়তো যেতে পারব কি না বলতে পাচ্ছি না।
বাগেরহাট বাস টার্মিনালে দাড়িয়ে থাকা কামাল নামের এক ব্যক্তি বলেন,আমি তো ভাই বিএনপি করি না,আমি ব্যবসা করি।খুলনায় আমাকে ব্যবসায়ীক কাজে জরুরী যেতে হবে, কিন্তু যেতে পাচ্ছি না।অনেক কষ্টে একটি ভ্যান পেয়েছি,তাও আবার পাঁচ’শ টাকা চাচ্ছে।কিছু করার নেই যেতেই হবে।
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ থেকে স্ত্রীকে নিয়ে খুলনায় চিকিৎসক জন্য যাচ্ছিলেন মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন,মোড়েলগঞ্জ ছোলমবাড়িয়া বাস স্টান্ডে এসে বসে ছিলাম প্রায় দুই ঘন্টা কিছুই পায়নি। তাই বাধ্য হয়ে স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ীতে ফিরে আসচ্ছি।
বাগেরহাট আন্তঃজেলা বাস—মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক আলহাজ্জ তালুকদার আব্দুল বাকী বলেন,বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে বাস বন্ধ রেয়ে্ছ বিষয়টি সত্য নয়।হাইকোর্টের সিদ্ধান্তকে অমান্য করে দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কে নসিমন—করিমন,মহেন্দ্র, ও ইজিবাইক চলাচল করছে।যাতে করে সড়কে প্রায়ই দৃঘটনা ঘটছে। প্রশাসনের কাছে বার বার অভিযোগ দিলে ও এগুলো বন্ধ না করায় সাধারন মালিকদের অনুরোধে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
বাগেরহাট জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোজাফফর রহমান আলম বলেন, দুইদিন গণপরিবহন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তই বলে দেয় বিএনপির পক্ষে সাধারণ মানুষের যে গনজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে তাতে আওয়ামী লীগ ভীতসন্ত্রস্থ হয়ে পড়েছে।কিন্তু কোনো বাধাতেই আমাদের কর্মীদের দমিয়ে রাখা যাবে না।বাগেরহাট থেকে ইতিমধ্যেই আমাদের অধিকাংশ নেতাকর্মী খুলনাতে পৌছে গেছে।যারা এখনও পৌছাতে পারেনি তাদেরকে আমি অনুরোধ করবো প্রয়োজনে পায়ে হেটে হলেও সমাবেশে যোগ দেবেন।##