০৫:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

২৫ মার্চ মানব সভ্যতার ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত হত্যাযজ্ঞ : এ্যাড সুজিত অধিকারি

###    খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. সুজিত অধিকারি বলেন, ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস। মানব সভ্যতার ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত হত্যাযজ্ঞের দিন। সেদিন দিবাগত রাতে পাক-হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চ লাইট’-এর নামে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর নির্বিচারে  বিশ্ব ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যা চালায়। ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ ছিল বাঙালির একটি প্রজন্মকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার এক নারকীয় পরিকল্পনা। সেই নৃশংস ঘটনার স্মরণে ২০১৭ সালের ১১ মার্চ মহান জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনে ২৫ মার্চকে ‘গণহত্যা দিবস’ ঘোষণা করা হয়। তিনি আরোও বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ’৭০-এর নির্বাচনে জাতীয় পরিষদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও পাক-সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তরে নানা টালবাহানা শুরু করে। লোক দেখানো বৈঠকের মাধ্যমে সময়ক্ষেপণ করে নিরস্ত্র বাঙালি নিধনের গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর তৎকালীন পোড়া মাটি নীতি বাস্তবায়নে জেনারেল টিক্কা খান বলেছিলেন, ‘আমি পূর্ব পাকিস্তানের মাটি চাই, মানুষ চাই না’। ফলশ্রুতিতে বাঙালি জাতির জীবনে নেমে আসে বিভীষিকাময় ভয়াল কালরাত্রি। এক ভয়ঙ্কর নিষ্ঠুরতার স্মৃতি হিসেবে চিহ্নিত এই রাত। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পরিকল্পিত পন্থায় বাঙালি হত্যার মহোৎসবে মেতে উঠেছিল। রক্তের স্রোতে ভাসিয়ে দিতে চেয়েছিল বাঙালির অধিকার আদায়ের সংগ্রাম। সে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ২৫ মার্চ পাক-হানাদার বাহিনী স্বাধীনতাকামী বাঙালির উপর হিংস্র দানবের মতো ঝাঁপিয়ে পড়লে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাংলার সর্বস্তরের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ২৫ মার্চ কালরাতে শুরু হওয়া পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যা চলতে থাকে মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময় ধরে। ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে অর্জিত হয় বহুল প্রতীক্ষিত মহান স্বাধীনতা। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠা লাভ করে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।
গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় দলীয় কার্যালয়ে ভয়াল ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এ্যাড. রবীন্দ্রনাথ মন্ডল।
আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন এবং উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ- সভাপতি অধ্যক্ষ দেলোয়ারা বেগম, বি এম এ ছালাম, এ্যাড. অধ্যাঃ  নিমাই চন্দ্র রায়, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মো সরফুদ্দিন বিশ্বাস বাচ্চু, মোঃ কামরুজ্জামান জামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক সরদার আবু সালেহ,  খালেদীন রশীদী সুকর্ণ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জোবায়ের আহম্মেদ খান জবা, দপ্তর সম্পাদক এমএ রিয়াজ কচি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক রকিকুল ইসলাম লাবু, শ্রম সম্পাদক মোজাফফার মোল্যা, সাংস্কৃতিক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোখলেসুর রহমান বাবলু, উপ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক খায়রুল আলম, উপ দপ্তর সম্পাদক সায়েদুজ্জামান সম্রাট, সদস্য অসিত বরণ বিশ্বাস, ফারহানা হালিম, পাপিয়া  সরোয়ার শিউলি, অমিয় অধিকারী, মোঃ আজগর বিশ্বাস তারা, মোঃ জামিল খান, মোঃ মানিকুজ্জামান অশোক, শেখ মোঃ আবু হানিফ, ইঞ্জিঃ মাহফুজুর রহমান সোহাগ, এম এম আজিজুর রহমান রাসেল, সরদার জাকির হোসেন, দেব দুলাল বাড়ই বাপ্পি, মোঃ পারভেজ হাওলাদার, মোঃ ইমরান হোসেন, মোঃ কবির হোসেন, তাপস জোয়াদ্দার, অনুপম মল্লিক, রাসেল হোসেন বাপ্পি, সজীব হক, অলোক রায়, এফ এম হাবিবুর রহমান, মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, মাহামুদুন্নবী মিল্টন, মোঃ অহিদুজ্জামান, তানভির রহমান আকাশ, মৃনাল কান্তি বাছাড়, শেখ মোঃ রাসেল, ওলিউজ্জামান সানি, পলাশ রায়, শিকদার হিরন, মঈনুল ইসলাম মইন, আবিদ হাসান ফাহিম, রাহাত শেখ প্রমুখ।
এর আগে ২৪ মার্চ দিবাগত রাত ১২টা ০১ মিনিটে জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে গল্লামারী বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হয়। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. সুজিত  অধিকারী সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik adhumati

জনপ্রিয়

গলাচিপায় অবৈধ দোকান উচ্ছেদের মাধ্যমে রাস্তা উন্মুক্ত করায় প্রসংশিত মেয়র

২৫ মার্চ মানব সভ্যতার ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত হত্যাযজ্ঞ : এ্যাড সুজিত অধিকারি

প্রকাশিত সময় : ০৯:১১:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মার্চ ২০২৩

###    খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. সুজিত অধিকারি বলেন, ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস। মানব সভ্যতার ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত হত্যাযজ্ঞের দিন। সেদিন দিবাগত রাতে পাক-হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চ লাইট’-এর নামে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর নির্বিচারে  বিশ্ব ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যা চালায়। ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ ছিল বাঙালির একটি প্রজন্মকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার এক নারকীয় পরিকল্পনা। সেই নৃশংস ঘটনার স্মরণে ২০১৭ সালের ১১ মার্চ মহান জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনে ২৫ মার্চকে ‘গণহত্যা দিবস’ ঘোষণা করা হয়। তিনি আরোও বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ’৭০-এর নির্বাচনে জাতীয় পরিষদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও পাক-সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তরে নানা টালবাহানা শুরু করে। লোক দেখানো বৈঠকের মাধ্যমে সময়ক্ষেপণ করে নিরস্ত্র বাঙালি নিধনের গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর তৎকালীন পোড়া মাটি নীতি বাস্তবায়নে জেনারেল টিক্কা খান বলেছিলেন, ‘আমি পূর্ব পাকিস্তানের মাটি চাই, মানুষ চাই না’। ফলশ্রুতিতে বাঙালি জাতির জীবনে নেমে আসে বিভীষিকাময় ভয়াল কালরাত্রি। এক ভয়ঙ্কর নিষ্ঠুরতার স্মৃতি হিসেবে চিহ্নিত এই রাত। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পরিকল্পিত পন্থায় বাঙালি হত্যার মহোৎসবে মেতে উঠেছিল। রক্তের স্রোতে ভাসিয়ে দিতে চেয়েছিল বাঙালির অধিকার আদায়ের সংগ্রাম। সে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ২৫ মার্চ পাক-হানাদার বাহিনী স্বাধীনতাকামী বাঙালির উপর হিংস্র দানবের মতো ঝাঁপিয়ে পড়লে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাংলার সর্বস্তরের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ২৫ মার্চ কালরাতে শুরু হওয়া পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যা চলতে থাকে মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময় ধরে। ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে অর্জিত হয় বহুল প্রতীক্ষিত মহান স্বাধীনতা। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠা লাভ করে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।
গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় দলীয় কার্যালয়ে ভয়াল ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এ্যাড. রবীন্দ্রনাথ মন্ডল।
আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন এবং উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ- সভাপতি অধ্যক্ষ দেলোয়ারা বেগম, বি এম এ ছালাম, এ্যাড. অধ্যাঃ  নিমাই চন্দ্র রায়, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মো সরফুদ্দিন বিশ্বাস বাচ্চু, মোঃ কামরুজ্জামান জামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক সরদার আবু সালেহ,  খালেদীন রশীদী সুকর্ণ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জোবায়ের আহম্মেদ খান জবা, দপ্তর সম্পাদক এমএ রিয়াজ কচি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক রকিকুল ইসলাম লাবু, শ্রম সম্পাদক মোজাফফার মোল্যা, সাংস্কৃতিক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোখলেসুর রহমান বাবলু, উপ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক খায়রুল আলম, উপ দপ্তর সম্পাদক সায়েদুজ্জামান সম্রাট, সদস্য অসিত বরণ বিশ্বাস, ফারহানা হালিম, পাপিয়া  সরোয়ার শিউলি, অমিয় অধিকারী, মোঃ আজগর বিশ্বাস তারা, মোঃ জামিল খান, মোঃ মানিকুজ্জামান অশোক, শেখ মোঃ আবু হানিফ, ইঞ্জিঃ মাহফুজুর রহমান সোহাগ, এম এম আজিজুর রহমান রাসেল, সরদার জাকির হোসেন, দেব দুলাল বাড়ই বাপ্পি, মোঃ পারভেজ হাওলাদার, মোঃ ইমরান হোসেন, মোঃ কবির হোসেন, তাপস জোয়াদ্দার, অনুপম মল্লিক, রাসেল হোসেন বাপ্পি, সজীব হক, অলোক রায়, এফ এম হাবিবুর রহমান, মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, মাহামুদুন্নবী মিল্টন, মোঃ অহিদুজ্জামান, তানভির রহমান আকাশ, মৃনাল কান্তি বাছাড়, শেখ মোঃ রাসেল, ওলিউজ্জামান সানি, পলাশ রায়, শিকদার হিরন, মঈনুল ইসলাম মইন, আবিদ হাসান ফাহিম, রাহাত শেখ প্রমুখ।
এর আগে ২৪ মার্চ দিবাগত রাত ১২টা ০১ মিনিটে জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে গল্লামারী বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হয়। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. সুজিত  অধিকারী সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।##