০৯:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
খুলনায় তারুন্যের সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মীর্জা ফকরুল :

####

 

বি্এনপির মহাসচিব মীর্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অবৈধ আওয়ামীলীগ সরকারের কারো দেশের মানুষের জন্য কোন প্রকার দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা নেই। কারন তারা জনগনের ভোটে নির্বাচিতই না। ২০১৪সালে নির্বাচন হয়নি ১৫৪জনকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ঘোষনা করেছে। আর ২০১৮সালে তো আগের রাতেই ভোট দিয়ে ব্যালটবাক্স ভরে জয়ী হয়েছে। কাজেই সোজাকথা শেখ হাসিনা ও সরকারের অধীনে কোন নির্বাচন হবে না এবং হতে দেয়া হবে না। এজন্য অধিকার আদায়ের প্রয়োজনে আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়তে হবে। ইতিমধ্যেই আমরা বিএনপির পক্ষ থেকে একদফা দিয়েছি শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতে হবে। আর বিএনপিসহ ৩৬টি দল মিলে বলেছি হাসিনা সরকারের অধিনে কোন নির্বাচনে যাবো না। পরিষ্কার কতা আমরা বলেছি নির্বাচনকালীন সময়ে যদি নিরপেক্ষ সরকার না থাকে তাহলে এদেশে কোন নির্বাচন হবে না। ন্যাড়া বার বার বেল তলায় যায় না-বিএনপিও বারবার নির্বাচন খেলায় যাবো না। দেশের মানুষকে তারা জ্বারিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছে। পরিষ্কার কথা শেখ হাসিনার অধীনে কোন নির্বাচন হবে না, এই মূহূর্তে পদত্যাগ করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা আরও বলেছি নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা দিতে হবে। আর বর্থমান নির্বাচন কমিশন বাতিল করে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। কারন যারা নিজেদের অধিকার রক্ষা করতে পারে না তারা কিবানে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু  দেবে। তাদের ক্ষমতা সরকার ক্ষুন্ন করেছে। আগে আইন ছিলো কোথাও সমস্যা হলে নির্বাচন কমিশন ভোট বন্ধ করতে পারতো-এখন তাদের সে ক্ষমতা নেই।কাজেই এ নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠূ নির্বাচন করতে পারেনি-পারবে না। যারা যোগ্য তাদেরকে দিয়ে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। নতুন একটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন সংসদ তৈরী করতে হবে। সে সংসদে আমাদের নেতা তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১দফা রাষ্ট্র বদলানোর যে কর্মসূচী-রাষ্ট্র মেরামতের যে কর্মসূচী সেই কর্শসূচী সব দলগুলো মিলে আলাপ করে একটি জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন করে সেটাকে বাস্তবায়িত করা হবে। কাজেই খুবই পরিষ্কার কথা এক দফা-এক দাবী শেখ হাসিনা কবে যাবি। এবং দফা এক দাবী এক-শেখ হাসিনার পদত্যাগ। কিন্তু যদি এ অবৈধ সরকার আমাদের দাবী না মানে তবে রাজপথেই তার ফয়সাল হবে বলেও তিনি ‍উল্লেখ করেন। রাজপথেই ফয়সালা করে আমরা সত্যিকার অর্থেই ১৯৭১সালে দেশ স্বাধীনের জন্য যে ‍মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম সেই চেতনায় তারেক রহমানের ৩১দফার আলোকে নতুন বাংলাদেশ থৈরী করবো। যেখানে তরুন প্রজন্মের জন্য চাকরী, ব্যবসা-বানিজ্যসহ সকল সুযোগ অবারিত থাকবে। মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, নিথ্যপন্যের দাম কমবে, মানুষের সকল অধিকার ফিরে পাবে। সেভাবেই আমরা তারেক রহমানের, খালেদা জিয়ার ও শহীদ জিয়ার স্বপ্নের বাংলাদেশ গঠন করবো। সবাই মিলে সেই দিকেই এগিয়ে যেতেই এ আন্দোলন-সংগ্রাম।সোমবার বিকেলে খুলনায় বিভাগীয় তারুন্যের সমাবেশে প্রধান অতিথির ব্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আওয়ামীলীগ রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে। দেশের সবকিছু রাটপাট করে, মানুষের উপর অথ্যাচার-নির্যাতন ও ভাওতাবাজি করে দিনের ভোট রাতের বেলায় নিয়ে মানুষের আস্তা হারিয়েছে। তাদের কথা কেউ বিশ্বাস করে না। সেজন্য ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনে সামান্য হিরো আলমের মত একজন প্রার্থীর কাছে হেরে যাওয়ার ভয়ে তার উপর হামলা করেছে। এখন আওয়ামীলীগ ও শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে দেশের অধিকাংশ মানুষ। কিন্তু তারা দেউলিয়া হয়ে প্রশাসন ও বিদেশীদের উপর ভর করে টিকে আছে। অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাবা ১৯৭৪সালে সকল দল বাতিল করে দিয়ে সংসদের মাধ্যমে বাকশাল কায়েম করে একদলীয় শাসন করেছিল। তেমনি তারই কন্যা এখন ভোট ও গনতন্ত্রকে ধ্বংস করে নির্বাচন-নির্বাচন খেলার মাধ্যমে ভোট ‍চুরি করে সংসদ দেখিয়ে একদলীয় শাসন কায়েম করেছে। তারা সবকিছুই লুটপাট করে বিদেশে পাচার করছে। ইতিমধ্যেই বিএনপির ৬০০বেশী নেতাকর্মী গুম করেছে, ৭০০বেশী নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। লাখো নেতাকর্মীর বিুরদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। হামলা করে হাতপা কেটে নেয়া হচ্ছে।যারা গনতান্ত্রিক আন্দোলনে শহদি হয়েছেন, লড়াই করেছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।

তিনি বলেন, দেশের সকল স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসে ভরে গেছে। সন্ত্রাস করে তারা সবকিছুই দখল করছে। লুটপাট করছে। আওয়ামীলীগের কারনে মেধাবী ও উচ্চশিক্ষত ছেলেমেয়েরা চাকুরী পাচ্ছে না। বিএনপি ও বিরোধীদলের নামগন্ধ থাকলেই তাকে বাদ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু আওয়ামীলীগের নাম করে সন্ত্রাসীদেরকে চাকুরী দেয়া হচ্ছে। ঘরে ঘরে চাকুরীর কথা বলে ক্ষমতায় এলেও সরকারী চাকুরীতে দলীয়করন চরম পর্যায়ে পৌছেছে। কৃষককে বিনামূল্যে সার দেয়ার কথা বললেও কৃষক সার পাচ্ছে না। সারের দাম বিএনপি আমলের তুলনায় তিন-চারগুন বেড়ে গেছে। শ্রমিকদেরকে পথে বসিয়ে দেয়া হয়েছে মিল-কারখানা বন্ধ করে দিয়ে। ১০টাকা কেজিতে চাল দেয়ার কথা বললেও ৯০টাকায় চাল পাওয়া যাচ্ছে না। চাল,ডাল,তেল, মরিচ, পেয়াজসহ সকল জিনিসের দাম ১০গুন বেড়ে গেছে। সেদিকে সরকারের খেয়াল নেই। তারা কেবলই লুটপাট করে বিদেশে পাচারে ব্যস্ত রয়েছে। আজকের এই তারুন্যের সমাবেশ আমাদেরকে উজ্জিবিত করেছে। এখন সময় নেই, এখন শুধুই কাজ আর কাজ। দেশের সবাইকে দেশ বাচাতে, গনতন্ত্র বাচাতে একতাবদ্ধ করতে আহবান জানান।

ফকরুল উপস্থিত নেতার্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তরুন সমাজ আপনাদেরকে ভবিষ্যত ডাকছে। শুধুই বাংলাদেশ নয়-সারা বিশ্বের তরুনরা যে অধিকার নিয়ে আন্দোলন করেছে তারা অগ্রভাবে থেকে বিজয়ী হয়েছে। সেজন্য সমগ্র বাংলাদেশের তরুন সমাজ ও মানুষকে এ আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে অবৈধভাবে, জোর করে সংবিধান লংঘন করে ক্ষমতায় বসে আছে। তাদেরকে ক্ষমতা থেকে সরাতে না পারলে আমাদের ভোটের অধিকারই শুধুই নয়-বাংলাদেশই থাকবে না। আসুন আমরা সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের কাঙ্খিত বাংলাদেশ, তারেক রহমানের বাংলাদেশ, খালেদা জিয়া ও শহীদ জিয়ার বাংলাদেশ নতুন করে গড়ে তুলতে আহবান জানান।

সমা‌বে‌শের প্রধান বক্তা যুবদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ব‌লেন, এ সরকার অবৈধ হওয়ায় তা‌দের ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার নেই। জনগ‌ণের ওপর নির্যাতন নি‌পীড়‌ন ক‌রে এ সরকার টি‌কে থাক‌তে চায়। চার কো‌টি ৭০ লাখ তরুণ প্রজন্ম জে‌গে উঠেছে। এ সরকার পালা‌নোর জায়গা পা‌বে না।আওয়ামী লী‌গের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশে তি‌নি ব‌লেন, র‌্যাব, পু‌লিশ বাদ দি‌য়ে মা‌ঠে আসুন। য‌দি নি‌জের বাসা থে‌কে হেঁটে পা‌র্টি অফিসে যে‌তে পা‌রেন, তাহ‌লে আর দল কর‌ব না।

নগরীর সোনালী ব্যাংক চত্বরে তরুণ ভোটারদের অধিকার ও গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদল, ছাত্রদল এবং স্বেচ্ছাসেবক দল এ সমা‌বেশের আ‌য়োজন ক‌রে। সকাল থেকে খুলনা বিভাগের ১০জেরার নেতার্মীরা প্যানা, ব্যানার ও প্লাকার্ডসহ বিভাগীয় এ তারুন্যের সমাবেশে যোগ দেয়। তবে বিএনপির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন যশোর, নড়াইল, সাতক্ষীরা থেকে আসার পথে সরকার দলীয় সন্্রতাসীরা বিভিন্ন স্তানে পথে পথে বাধা দিয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীদের। এমনকি দুপুরের দিকে খুলনা-যশোর, খুলনা-বাগেরহাট ও খুলনা-সাতক্ষীরা রোডের বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। এসব এলাকার অনেক নেতাকর্মী ও সমর্থকরা সমাবেশে যোগ দিতে পারেনি বলেও তারা অভিযোগ করেছেন।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কাজী ওরনাকুল ইসলাম শ্রাবনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তৃতা করেন যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি এসএম জিলানী, বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, খুলনা মহানগর বিএনপির আহবায়ক এ্যাড. শফিকুল আলম মনা, খুলনা জেলা বিএনপির আহবায়ক আমীর এজাজ খান, যুবদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি তরিকুল ইসলাম বনি, স্চ্ছোসেবকদলের সহসভাপতি আরিফ হাওরাদার, যুবদলের সাধারন সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, ম্বেচ্ছাসেবকদলের সাধারন সম্পাদক রাজিব আহসান, ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল প্রমুখ। ##

Tag :
লেখক তথ্য সম্পর্কে

Dainik Madhumati

জনপ্রিয়

বাকেরগঞ্জে কৃষি ব্যাংকের গ্রাহকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা

খুলনায় তারুন্যের সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মীর্জা ফকরুল :

প্রকাশিত সময় : ১২:২৬:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই ২০২৩

####

 

বি্এনপির মহাসচিব মীর্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অবৈধ আওয়ামীলীগ সরকারের কারো দেশের মানুষের জন্য কোন প্রকার দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা নেই। কারন তারা জনগনের ভোটে নির্বাচিতই না। ২০১৪সালে নির্বাচন হয়নি ১৫৪জনকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ঘোষনা করেছে। আর ২০১৮সালে তো আগের রাতেই ভোট দিয়ে ব্যালটবাক্স ভরে জয়ী হয়েছে। কাজেই সোজাকথা শেখ হাসিনা ও সরকারের অধীনে কোন নির্বাচন হবে না এবং হতে দেয়া হবে না। এজন্য অধিকার আদায়ের প্রয়োজনে আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়তে হবে। ইতিমধ্যেই আমরা বিএনপির পক্ষ থেকে একদফা দিয়েছি শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতে হবে। আর বিএনপিসহ ৩৬টি দল মিলে বলেছি হাসিনা সরকারের অধিনে কোন নির্বাচনে যাবো না। পরিষ্কার কতা আমরা বলেছি নির্বাচনকালীন সময়ে যদি নিরপেক্ষ সরকার না থাকে তাহলে এদেশে কোন নির্বাচন হবে না। ন্যাড়া বার বার বেল তলায় যায় না-বিএনপিও বারবার নির্বাচন খেলায় যাবো না। দেশের মানুষকে তারা জ্বারিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছে। পরিষ্কার কথা শেখ হাসিনার অধীনে কোন নির্বাচন হবে না, এই মূহূর্তে পদত্যাগ করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা আরও বলেছি নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা দিতে হবে। আর বর্থমান নির্বাচন কমিশন বাতিল করে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। কারন যারা নিজেদের অধিকার রক্ষা করতে পারে না তারা কিবানে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু  দেবে। তাদের ক্ষমতা সরকার ক্ষুন্ন করেছে। আগে আইন ছিলো কোথাও সমস্যা হলে নির্বাচন কমিশন ভোট বন্ধ করতে পারতো-এখন তাদের সে ক্ষমতা নেই।কাজেই এ নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠূ নির্বাচন করতে পারেনি-পারবে না। যারা যোগ্য তাদেরকে দিয়ে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। নতুন একটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন সংসদ তৈরী করতে হবে। সে সংসদে আমাদের নেতা তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১দফা রাষ্ট্র বদলানোর যে কর্মসূচী-রাষ্ট্র মেরামতের যে কর্মসূচী সেই কর্শসূচী সব দলগুলো মিলে আলাপ করে একটি জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন করে সেটাকে বাস্তবায়িত করা হবে। কাজেই খুবই পরিষ্কার কথা এক দফা-এক দাবী শেখ হাসিনা কবে যাবি। এবং দফা এক দাবী এক-শেখ হাসিনার পদত্যাগ। কিন্তু যদি এ অবৈধ সরকার আমাদের দাবী না মানে তবে রাজপথেই তার ফয়সাল হবে বলেও তিনি ‍উল্লেখ করেন। রাজপথেই ফয়সালা করে আমরা সত্যিকার অর্থেই ১৯৭১সালে দেশ স্বাধীনের জন্য যে ‍মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম সেই চেতনায় তারেক রহমানের ৩১দফার আলোকে নতুন বাংলাদেশ থৈরী করবো। যেখানে তরুন প্রজন্মের জন্য চাকরী, ব্যবসা-বানিজ্যসহ সকল সুযোগ অবারিত থাকবে। মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, নিথ্যপন্যের দাম কমবে, মানুষের সকল অধিকার ফিরে পাবে। সেভাবেই আমরা তারেক রহমানের, খালেদা জিয়ার ও শহীদ জিয়ার স্বপ্নের বাংলাদেশ গঠন করবো। সবাই মিলে সেই দিকেই এগিয়ে যেতেই এ আন্দোলন-সংগ্রাম।সোমবার বিকেলে খুলনায় বিভাগীয় তারুন্যের সমাবেশে প্রধান অতিথির ব্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আওয়ামীলীগ রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে। দেশের সবকিছু রাটপাট করে, মানুষের উপর অথ্যাচার-নির্যাতন ও ভাওতাবাজি করে দিনের ভোট রাতের বেলায় নিয়ে মানুষের আস্তা হারিয়েছে। তাদের কথা কেউ বিশ্বাস করে না। সেজন্য ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনে সামান্য হিরো আলমের মত একজন প্রার্থীর কাছে হেরে যাওয়ার ভয়ে তার উপর হামলা করেছে। এখন আওয়ামীলীগ ও শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে দেশের অধিকাংশ মানুষ। কিন্তু তারা দেউলিয়া হয়ে প্রশাসন ও বিদেশীদের উপর ভর করে টিকে আছে। অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাবা ১৯৭৪সালে সকল দল বাতিল করে দিয়ে সংসদের মাধ্যমে বাকশাল কায়েম করে একদলীয় শাসন করেছিল। তেমনি তারই কন্যা এখন ভোট ও গনতন্ত্রকে ধ্বংস করে নির্বাচন-নির্বাচন খেলার মাধ্যমে ভোট ‍চুরি করে সংসদ দেখিয়ে একদলীয় শাসন কায়েম করেছে। তারা সবকিছুই লুটপাট করে বিদেশে পাচার করছে। ইতিমধ্যেই বিএনপির ৬০০বেশী নেতাকর্মী গুম করেছে, ৭০০বেশী নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। লাখো নেতাকর্মীর বিুরদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। হামলা করে হাতপা কেটে নেয়া হচ্ছে।যারা গনতান্ত্রিক আন্দোলনে শহদি হয়েছেন, লড়াই করেছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।

তিনি বলেন, দেশের সকল স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসে ভরে গেছে। সন্ত্রাস করে তারা সবকিছুই দখল করছে। লুটপাট করছে। আওয়ামীলীগের কারনে মেধাবী ও উচ্চশিক্ষত ছেলেমেয়েরা চাকুরী পাচ্ছে না। বিএনপি ও বিরোধীদলের নামগন্ধ থাকলেই তাকে বাদ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু আওয়ামীলীগের নাম করে সন্ত্রাসীদেরকে চাকুরী দেয়া হচ্ছে। ঘরে ঘরে চাকুরীর কথা বলে ক্ষমতায় এলেও সরকারী চাকুরীতে দলীয়করন চরম পর্যায়ে পৌছেছে। কৃষককে বিনামূল্যে সার দেয়ার কথা বললেও কৃষক সার পাচ্ছে না। সারের দাম বিএনপি আমলের তুলনায় তিন-চারগুন বেড়ে গেছে। শ্রমিকদেরকে পথে বসিয়ে দেয়া হয়েছে মিল-কারখানা বন্ধ করে দিয়ে। ১০টাকা কেজিতে চাল দেয়ার কথা বললেও ৯০টাকায় চাল পাওয়া যাচ্ছে না। চাল,ডাল,তেল, মরিচ, পেয়াজসহ সকল জিনিসের দাম ১০গুন বেড়ে গেছে। সেদিকে সরকারের খেয়াল নেই। তারা কেবলই লুটপাট করে বিদেশে পাচারে ব্যস্ত রয়েছে। আজকের এই তারুন্যের সমাবেশ আমাদেরকে উজ্জিবিত করেছে। এখন সময় নেই, এখন শুধুই কাজ আর কাজ। দেশের সবাইকে দেশ বাচাতে, গনতন্ত্র বাচাতে একতাবদ্ধ করতে আহবান জানান।

ফকরুল উপস্থিত নেতার্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তরুন সমাজ আপনাদেরকে ভবিষ্যত ডাকছে। শুধুই বাংলাদেশ নয়-সারা বিশ্বের তরুনরা যে অধিকার নিয়ে আন্দোলন করেছে তারা অগ্রভাবে থেকে বিজয়ী হয়েছে। সেজন্য সমগ্র বাংলাদেশের তরুন সমাজ ও মানুষকে এ আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে অবৈধভাবে, জোর করে সংবিধান লংঘন করে ক্ষমতায় বসে আছে। তাদেরকে ক্ষমতা থেকে সরাতে না পারলে আমাদের ভোটের অধিকারই শুধুই নয়-বাংলাদেশই থাকবে না। আসুন আমরা সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের কাঙ্খিত বাংলাদেশ, তারেক রহমানের বাংলাদেশ, খালেদা জিয়া ও শহীদ জিয়ার বাংলাদেশ নতুন করে গড়ে তুলতে আহবান জানান।

সমা‌বে‌শের প্রধান বক্তা যুবদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ব‌লেন, এ সরকার অবৈধ হওয়ায় তা‌দের ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার নেই। জনগ‌ণের ওপর নির্যাতন নি‌পীড়‌ন ক‌রে এ সরকার টি‌কে থাক‌তে চায়। চার কো‌টি ৭০ লাখ তরুণ প্রজন্ম জে‌গে উঠেছে। এ সরকার পালা‌নোর জায়গা পা‌বে না।আওয়ামী লী‌গের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশে তি‌নি ব‌লেন, র‌্যাব, পু‌লিশ বাদ দি‌য়ে মা‌ঠে আসুন। য‌দি নি‌জের বাসা থে‌কে হেঁটে পা‌র্টি অফিসে যে‌তে পা‌রেন, তাহ‌লে আর দল কর‌ব না।

নগরীর সোনালী ব্যাংক চত্বরে তরুণ ভোটারদের অধিকার ও গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদল, ছাত্রদল এবং স্বেচ্ছাসেবক দল এ সমা‌বেশের আ‌য়োজন ক‌রে। সকাল থেকে খুলনা বিভাগের ১০জেরার নেতার্মীরা প্যানা, ব্যানার ও প্লাকার্ডসহ বিভাগীয় এ তারুন্যের সমাবেশে যোগ দেয়। তবে বিএনপির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন যশোর, নড়াইল, সাতক্ষীরা থেকে আসার পথে সরকার দলীয় সন্্রতাসীরা বিভিন্ন স্তানে পথে পথে বাধা দিয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীদের। এমনকি দুপুরের দিকে খুলনা-যশোর, খুলনা-বাগেরহাট ও খুলনা-সাতক্ষীরা রোডের বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। এসব এলাকার অনেক নেতাকর্মী ও সমর্থকরা সমাবেশে যোগ দিতে পারেনি বলেও তারা অভিযোগ করেছেন।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কাজী ওরনাকুল ইসলাম শ্রাবনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তৃতা করেন যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি এসএম জিলানী, বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, খুলনা মহানগর বিএনপির আহবায়ক এ্যাড. শফিকুল আলম মনা, খুলনা জেলা বিএনপির আহবায়ক আমীর এজাজ খান, যুবদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি তরিকুল ইসলাম বনি, স্চ্ছোসেবকদলের সহসভাপতি আরিফ হাওরাদার, যুবদলের সাধারন সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, ম্বেচ্ছাসেবকদলের সাধারন সম্পাদক রাজিব আহসান, ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল প্রমুখ। ##