ঢাকা ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের শিরোপা উঠল ড্যাফোডিলের হাতে বাইন্যান্সের ইতিহাসে বড় সাইবার হামলা, জড়িত উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা? মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সরকারের কঠিন পরীক্ষা ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি নিশ্চিত করতে হবে হকারদের জীবিকা পুঠিয়ায় তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাস আইসিসিবিতে তিন দিনের কার এক্সপো, থাকছে আধুনিক হাইব্রিড গাড়িও যশোর শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসিতে খুলনার ৬টিসহ ১৬ প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল নীলফামারীতে দাদীর এইচএসসি পাস, নাতনির চোখে অনুপ্রেরণা ক্রেতাশূন্য ঢাকার শপিংমল, লোকসানে দিশেহারা ব্যবসায়ীরা পূর্বাচলে অবৈধ আবাসন প্রকল্প চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন : মঞ্জু

  • খবর বিজ্ঞপ্তি :
  • আপডেটের সময় : ০৬:৪০:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৬ সময়-দৃশ্য

৬ষ্ঠ বার্ষিক উপকূলীয় শিশু জলবায়ু সম্মেলন ২০২৬ আজ মঙ্গলবার উদ্বোধন করা হয়েছে। ‘জলবায়ু সহনশীলতার জন্য শিশু নেতৃত্ব’ প্রতিপাদ্য নিয়ে খুলনার সিএসএস আভা সেন্টারে দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলন শুরু হয়। ‘‘স্ট্রেন্দিং চিলড্রেনস ভয়েস এন্ড লিডারশিপ ইন এড্রেসিং কাইমেট চেঞ্জ এন্ড ডিজাস্টার রিস্ক ইন বাংলাদেশ’’ প্রকল্পের আওতায় জাগ্রত যুব সংঘ (জেজেএস) ও উপকূলীয় জলবায়ু শিশু ফোরাম যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে। সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রশাসক বলেন, গত ৩০ থেকে ৪০ বছর ধরে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসসহ নানা দুর্যোগে উপকূলীয় মানুষের য়তি হচ্ছে। প্রতিবার দুর্যোগের পর ত্রাণ ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে ভবিষ্যতে পুনর্বাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূল থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে খুলনা শহরে আসা মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সেখানে শিশুদের শিা, স্যানিটেশন, নিরাপদ বাসস্থান ও কর্মসংস্থানের সংকট রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প কর্মসংস্থান, লবণসহিষ্ণু ফসল উৎপাদন, প্রাণবৈচিত্র সংরণ এবং টেকসই পুনর্বাসন পরিকল্পনা নিতে হবে।
দুই দিনের সম্মেলনে ডিজিটাল স্টোরিটেলিং, পোস্টার উপস্থাপনা, শিশুদের নেতৃত্বে জলবায়ু কার্যক্রম, দণি-পশ্চিম উপকূলের শিশুদের জীবনে জলবায়ু সংকটের প্রভাব, জলবায়ু অর্থায়নে শিশু ও তিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর প্রবেশাধিকার এবং জলবায়ুজনিত য়তি ও লোকসান মোকাবিলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে।
সম্মেলনে শিশু প্রতিনিধিরা বলেন, ‘আমরা শুধু সমস্যার কথা বলতে চাই না, সমাধানের অংশ হতে চাই।’ তাঁদের মতে, জলবায়ু ও দুর্যোগ মোকাবিলার পরিকল্পনায় শিশুদের অভিজ্ঞতা ও মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। তাঁদের বক্তব্য ‘শিশুদের নিয়ে সিদ্ধান্ত নয়, শিশুদের সঙ্গে নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
অনুষ্ঠানে কেসিসি প্রশাসক আরো বলেন, এখন প্রয়োজন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। উপকূলীয় এলাকার সাইকোন সেন্টারগুলোর অব্যবস্থাপনার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, কোথাও পর্যাপ্ত স্যানিটেশন নেই, কোথাও যোগাযোগব্যবস্থা দুর্বল। ফলে দুর্যোগের সময় মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে চায় না। এসব অবকাঠামো সংস্কারের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে আস্থাও তৈরি করতে হবে। শিশুদের অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, শিশুরা এখন শুধু সমস্যার কথা বলতে চায় না, তারা সমাধানের অংশীদার হতে চায়। তাদের পরিকল্পনা ও অভিজ্ঞতাকে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় শিশুদের জন্য আলাদা করে পরিকল্পনা না করে তাদের সঙ্গে নিয়েই জলবায়ু পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানান খুলনায় অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ বার্ষিক উপকূলীয় শিশু জলবায়ু সম্মেলনের বক্তারা। তাঁরা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের শিশুদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও মতামতকে পরিকল্পনায় যুক্ত করার পাশাপাশি জলবায়ু অভিযোজন, পুনর্বাসন ও য়তি মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করতে হবে। সম্মেলনে জেজেএসের দীর্ঘদিন ধরে প্রায় পাঁচ হাজার শিশুর সঙ্গে পরিচালিত কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা এখানে তুলে ধরা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেজেএসের নির্বাহী পরিচালক এটিএম জাকির হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম, পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনার পরিচালক খন্দকার মো. ফজলুল হক, ইউনিসেফ বাংলাদেশের খুলনা বিভাগীয় ফিল্ড অফিস প্রধান মো. কায়সার হোসেন, ডিজাস্টার ফোরামের সদস্য সচিব গওহর নঈম ওয়াহরা ও খুলনা প্রেস কাবের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম।
সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে শিশু প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ ও শিশুদের জলবায়ু কার্যক্রমের স্থায়িত্ব নিশ্চিতকরণে উপকূলীয় শিশুদের দাবি’ তুলে ধরবেন। দুই দিনের সম্মেলন বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর শেষ হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

danik madhumati

এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের শিরোপা উঠল ড্যাফোডিলের হাতে

জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন : মঞ্জু

আপডেটের সময় : ০৬:৪০:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৬ষ্ঠ বার্ষিক উপকূলীয় শিশু জলবায়ু সম্মেলন ২০২৬ আজ মঙ্গলবার উদ্বোধন করা হয়েছে। ‘জলবায়ু সহনশীলতার জন্য শিশু নেতৃত্ব’ প্রতিপাদ্য নিয়ে খুলনার সিএসএস আভা সেন্টারে দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলন শুরু হয়। ‘‘স্ট্রেন্দিং চিলড্রেনস ভয়েস এন্ড লিডারশিপ ইন এড্রেসিং কাইমেট চেঞ্জ এন্ড ডিজাস্টার রিস্ক ইন বাংলাদেশ’’ প্রকল্পের আওতায় জাগ্রত যুব সংঘ (জেজেএস) ও উপকূলীয় জলবায়ু শিশু ফোরাম যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে। সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রশাসক বলেন, গত ৩০ থেকে ৪০ বছর ধরে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসসহ নানা দুর্যোগে উপকূলীয় মানুষের য়তি হচ্ছে। প্রতিবার দুর্যোগের পর ত্রাণ ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে ভবিষ্যতে পুনর্বাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূল থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে খুলনা শহরে আসা মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সেখানে শিশুদের শিা, স্যানিটেশন, নিরাপদ বাসস্থান ও কর্মসংস্থানের সংকট রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প কর্মসংস্থান, লবণসহিষ্ণু ফসল উৎপাদন, প্রাণবৈচিত্র সংরণ এবং টেকসই পুনর্বাসন পরিকল্পনা নিতে হবে।
দুই দিনের সম্মেলনে ডিজিটাল স্টোরিটেলিং, পোস্টার উপস্থাপনা, শিশুদের নেতৃত্বে জলবায়ু কার্যক্রম, দণি-পশ্চিম উপকূলের শিশুদের জীবনে জলবায়ু সংকটের প্রভাব, জলবায়ু অর্থায়নে শিশু ও তিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর প্রবেশাধিকার এবং জলবায়ুজনিত য়তি ও লোকসান মোকাবিলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে।
সম্মেলনে শিশু প্রতিনিধিরা বলেন, ‘আমরা শুধু সমস্যার কথা বলতে চাই না, সমাধানের অংশ হতে চাই।’ তাঁদের মতে, জলবায়ু ও দুর্যোগ মোকাবিলার পরিকল্পনায় শিশুদের অভিজ্ঞতা ও মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। তাঁদের বক্তব্য ‘শিশুদের নিয়ে সিদ্ধান্ত নয়, শিশুদের সঙ্গে নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
অনুষ্ঠানে কেসিসি প্রশাসক আরো বলেন, এখন প্রয়োজন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। উপকূলীয় এলাকার সাইকোন সেন্টারগুলোর অব্যবস্থাপনার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, কোথাও পর্যাপ্ত স্যানিটেশন নেই, কোথাও যোগাযোগব্যবস্থা দুর্বল। ফলে দুর্যোগের সময় মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে চায় না। এসব অবকাঠামো সংস্কারের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে আস্থাও তৈরি করতে হবে। শিশুদের অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, শিশুরা এখন শুধু সমস্যার কথা বলতে চায় না, তারা সমাধানের অংশীদার হতে চায়। তাদের পরিকল্পনা ও অভিজ্ঞতাকে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় শিশুদের জন্য আলাদা করে পরিকল্পনা না করে তাদের সঙ্গে নিয়েই জলবায়ু পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানান খুলনায় অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ বার্ষিক উপকূলীয় শিশু জলবায়ু সম্মেলনের বক্তারা। তাঁরা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের শিশুদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও মতামতকে পরিকল্পনায় যুক্ত করার পাশাপাশি জলবায়ু অভিযোজন, পুনর্বাসন ও য়তি মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করতে হবে। সম্মেলনে জেজেএসের দীর্ঘদিন ধরে প্রায় পাঁচ হাজার শিশুর সঙ্গে পরিচালিত কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা এখানে তুলে ধরা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেজেএসের নির্বাহী পরিচালক এটিএম জাকির হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম, পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনার পরিচালক খন্দকার মো. ফজলুল হক, ইউনিসেফ বাংলাদেশের খুলনা বিভাগীয় ফিল্ড অফিস প্রধান মো. কায়সার হোসেন, ডিজাস্টার ফোরামের সদস্য সচিব গওহর নঈম ওয়াহরা ও খুলনা প্রেস কাবের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম।
সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে শিশু প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ ও শিশুদের জলবায়ু কার্যক্রমের স্থায়িত্ব নিশ্চিতকরণে উপকূলীয় শিশুদের দাবি’ তুলে ধরবেন। দুই দিনের সম্মেলন বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর শেষ হবে।