ঢাকা ০৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের শিরোপা উঠল ড্যাফোডিলের হাতে বাইন্যান্সের ইতিহাসে বড় সাইবার হামলা, জড়িত উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা? মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সরকারের কঠিন পরীক্ষা ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি নিশ্চিত করতে হবে হকারদের জীবিকা পুঠিয়ায় তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাস আইসিসিবিতে তিন দিনের কার এক্সপো, থাকছে আধুনিক হাইব্রিড গাড়িও যশোর শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসিতে খুলনার ৬টিসহ ১৬ প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল নীলফামারীতে দাদীর এইচএসসি পাস, নাতনির চোখে অনুপ্রেরণা ক্রেতাশূন্য ঢাকার শপিংমল, লোকসানে দিশেহারা ব্যবসায়ীরা পূর্বাচলে অবৈধ আবাসন প্রকল্প চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

যুবদলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ বাকি আরও আট মাস, তবুও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বদলের গুঞ্জন

  • বিশেষ প্রতিনিধি :
  • আপডেটের সময় : ০৭:১৬:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ক্ষমতাসীন বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ বাকি আরও আট মাস। কিন্তু এখনই নেতৃত্বে পরিবর্তন বা পুনর্বিন্যাস নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংগঠনটি আরও সক্রিয়, তৃণমূলমুখী ও সামনের নির্বাচনি রাজনীতির জন্য উপযোগী করে তুলতে নেতৃত্বের পরবর্তী ধাপ নিয়ে এ আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে। ২০২৪ সালের ৯ জুলাই আবদুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর প্রায় দুই বছর পর গত ৪ জুন ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি অনুমোদন পায়। বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ অনুমোদনের কথা জানানো হয়। এখন কয়েক মাসের ব্যবধানে আবার কমিটিতে বদল আনার গুঞ্জন উঠেছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ কেউ মনে করছেন, বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের বৃহত্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে যুবদলের ভবিষ্যৎ শীর্ষপদ নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। যদিও নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

গত জুনে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর যুবদলের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের কথা বলা হয়েছিল। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব গড়ে তুলতে সাংগঠনিক টিম করার কথাও জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না। তবে এরপরও নেতৃত্বের কার্যকারিতা, মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা ও তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে সংগঠনের ভেতরেই প্রশ্ন উঠছে বলে কয়েকজন নেতা মনে করছেন।

একটি সূত্রের দাবি, তবে বর্তমান নেতৃত্ব নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগের সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন। তাদের বক্তব্য, বিএনপির বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যুবদলের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণের পাশাপাশি সাংগঠনিক ও সামাজিক কার্যক্রমও চলছে। বন্যাদুর্গত এলাকায় মেডিকেল ক্যাম্প, খাদ্য ও জরুরি ত্রাণ বিতরণের মতো কার্যক্রম পরিচালনার কথা সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এছাড়া জুলাইয়ে সংগঠন থেকে প্রায় ৩০০ নেতাকর্মীকে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষায়ও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কমিটির মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি: নেতৃত্ব বদলের আলোচনার মধ্যে বর্তমান কমিটির পক্ষ থেকে মূলত দুটি বিষয় সামনে আনা হচ্ছে—তাদের মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম বহাল আছে। যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘আমাদের তিন বছর মেয়াদি কমিটির এখনো আট মাস বাকি। এখনই কেন নতুন কমিটি নিয়ে আলোচনা? আগে এই কমিটির মেয়াদ শেষ হবে।’ অন্যদিকে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়নও নতুন কমিটি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানাননি। সংগঠনের শীর্ষ দুই নেতার সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে দেখা করার পর নতুন কমিটি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না কিংবা প্রধানমন্ত্রী কোনো নির্দেশনা দিয়েছেন কি না-জানতে চাইলে নয়ন বলেন, ‘কমিটির বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে ওনার মনে মনে তা আছে কি না জানি না।’

আলোচনায় যেসব নাম: যুবদলের ভবিষ্যৎ শীর্ষপদ নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। সংগঠনের বাইরে থেকে আলোচনায় আছেন বিএনপির সহ-পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ এবং ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান মিন্টু। অন্যদিকে সংগঠনের ভেতর থেকে আলোচনা হচ্ছে যুবদলের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়ন এবং বর্তমান সহ-সভাপতি রেজাউল করিম পলসহ কয়েকজনকে নিয়ে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুবদলের বর্তমান কাঠামোর মধ্য থেকে নেতৃত্ব বাছাই করা হলে সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার সুযোগ থাকে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কাঠামো এবং জেলা, মহানগর ও তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে পরিচিতি থাকায় নতুন করে সাংগঠনিক সম্পর্ক তৈরি করতে তুলনামূলক কম সময় লাগতে পারে। একই সঙ্গে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সমস্যা, সাংগঠনিক দুর্বলতা ও শক্তির জায়গাগুলো সম্পর্কে অভিজ্ঞতা থাকায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ হবে এবং চলমান সাংগঠনিক কার্যক্রমেও বড় ধরনের ছেদ পড়ার আশঙ্কা কম থাকবে।

সংগঠন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন নেতৃত্ব এলে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ ভেঙে নতুন সাংগঠনিক গতি তৈরি হতে পারে। পুরোনো গ্রুপিংয়ের বাইরে থেকে নেতৃত্ব এলে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে নতুন করে ভারসাম্য তৈরির সুযোগ থাকে। এ ধরনের নেতৃত্ব তৃণমূল ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কার্যক্রমকে তুলনামূলকভাবে নতুন দৃষ্টিতে মূল্যায়নের সুযোগও পেতে পারে। কর্মী ব্যবস্থাপনা, সাংগঠনিক যোগাযোগ ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নতুন কর্মপদ্ধতি নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘শিগগির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নতুন কমিটি আসবে। পুনর্গঠনের কার্যক্রম চলছে।’

কমিটি গঠন নিয়ে নেতারা যা বলছেন: যুবদলের দীর্ঘদিনের দপ্তর সম্পাদক ও সাবেক সহ-সভাপতি মো. কামরুজ্জামান দুলাল বলেন, ‘আমরা শুনেছি, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর যুবদলের নতুন কমিটি গঠন করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘যোগ্যতা, ত্যাগ ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে যুবদলের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে। যারা দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনকে পরিচর্যা, সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে কাজ করেছেন, তাদেরই নেতৃত্বে আনতে হবে। অন্যথায় যুবদলের সাংগঠনিক শক্তি ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।’ এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘শিগগিরই অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নতুন কমিটি আসবে। পুনর্গঠনের কার্যক্রম চলছে।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

danik madhumati

এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের শিরোপা উঠল ড্যাফোডিলের হাতে

যুবদলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ বাকি আরও আট মাস, তবুও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বদলের গুঞ্জন

আপডেটের সময় : ০৭:১৬:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ক্ষমতাসীন বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ বাকি আরও আট মাস। কিন্তু এখনই নেতৃত্বে পরিবর্তন বা পুনর্বিন্যাস নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংগঠনটি আরও সক্রিয়, তৃণমূলমুখী ও সামনের নির্বাচনি রাজনীতির জন্য উপযোগী করে তুলতে নেতৃত্বের পরবর্তী ধাপ নিয়ে এ আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে। ২০২৪ সালের ৯ জুলাই আবদুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর প্রায় দুই বছর পর গত ৪ জুন ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি অনুমোদন পায়। বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ অনুমোদনের কথা জানানো হয়। এখন কয়েক মাসের ব্যবধানে আবার কমিটিতে বদল আনার গুঞ্জন উঠেছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ কেউ মনে করছেন, বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের বৃহত্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে যুবদলের ভবিষ্যৎ শীর্ষপদ নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। যদিও নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

গত জুনে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর যুবদলের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের কথা বলা হয়েছিল। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব গড়ে তুলতে সাংগঠনিক টিম করার কথাও জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না। তবে এরপরও নেতৃত্বের কার্যকারিতা, মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা ও তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে সংগঠনের ভেতরেই প্রশ্ন উঠছে বলে কয়েকজন নেতা মনে করছেন।

একটি সূত্রের দাবি, তবে বর্তমান নেতৃত্ব নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগের সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন। তাদের বক্তব্য, বিএনপির বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যুবদলের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণের পাশাপাশি সাংগঠনিক ও সামাজিক কার্যক্রমও চলছে। বন্যাদুর্গত এলাকায় মেডিকেল ক্যাম্প, খাদ্য ও জরুরি ত্রাণ বিতরণের মতো কার্যক্রম পরিচালনার কথা সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এছাড়া জুলাইয়ে সংগঠন থেকে প্রায় ৩০০ নেতাকর্মীকে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষায়ও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কমিটির মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি: নেতৃত্ব বদলের আলোচনার মধ্যে বর্তমান কমিটির পক্ষ থেকে মূলত দুটি বিষয় সামনে আনা হচ্ছে—তাদের মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম বহাল আছে। যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘আমাদের তিন বছর মেয়াদি কমিটির এখনো আট মাস বাকি। এখনই কেন নতুন কমিটি নিয়ে আলোচনা? আগে এই কমিটির মেয়াদ শেষ হবে।’ অন্যদিকে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়নও নতুন কমিটি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানাননি। সংগঠনের শীর্ষ দুই নেতার সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে দেখা করার পর নতুন কমিটি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না কিংবা প্রধানমন্ত্রী কোনো নির্দেশনা দিয়েছেন কি না-জানতে চাইলে নয়ন বলেন, ‘কমিটির বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে ওনার মনে মনে তা আছে কি না জানি না।’

আলোচনায় যেসব নাম: যুবদলের ভবিষ্যৎ শীর্ষপদ নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। সংগঠনের বাইরে থেকে আলোচনায় আছেন বিএনপির সহ-পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ এবং ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান মিন্টু। অন্যদিকে সংগঠনের ভেতর থেকে আলোচনা হচ্ছে যুবদলের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়ন এবং বর্তমান সহ-সভাপতি রেজাউল করিম পলসহ কয়েকজনকে নিয়ে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুবদলের বর্তমান কাঠামোর মধ্য থেকে নেতৃত্ব বাছাই করা হলে সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার সুযোগ থাকে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কাঠামো এবং জেলা, মহানগর ও তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে পরিচিতি থাকায় নতুন করে সাংগঠনিক সম্পর্ক তৈরি করতে তুলনামূলক কম সময় লাগতে পারে। একই সঙ্গে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সমস্যা, সাংগঠনিক দুর্বলতা ও শক্তির জায়গাগুলো সম্পর্কে অভিজ্ঞতা থাকায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ হবে এবং চলমান সাংগঠনিক কার্যক্রমেও বড় ধরনের ছেদ পড়ার আশঙ্কা কম থাকবে।

সংগঠন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন নেতৃত্ব এলে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ ভেঙে নতুন সাংগঠনিক গতি তৈরি হতে পারে। পুরোনো গ্রুপিংয়ের বাইরে থেকে নেতৃত্ব এলে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে নতুন করে ভারসাম্য তৈরির সুযোগ থাকে। এ ধরনের নেতৃত্ব তৃণমূল ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কার্যক্রমকে তুলনামূলকভাবে নতুন দৃষ্টিতে মূল্যায়নের সুযোগও পেতে পারে। কর্মী ব্যবস্থাপনা, সাংগঠনিক যোগাযোগ ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নতুন কর্মপদ্ধতি নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘শিগগির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নতুন কমিটি আসবে। পুনর্গঠনের কার্যক্রম চলছে।’

কমিটি গঠন নিয়ে নেতারা যা বলছেন: যুবদলের দীর্ঘদিনের দপ্তর সম্পাদক ও সাবেক সহ-সভাপতি মো. কামরুজ্জামান দুলাল বলেন, ‘আমরা শুনেছি, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর যুবদলের নতুন কমিটি গঠন করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘যোগ্যতা, ত্যাগ ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে যুবদলের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে। যারা দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনকে পরিচর্যা, সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে কাজ করেছেন, তাদেরই নেতৃত্বে আনতে হবে। অন্যথায় যুবদলের সাংগঠনিক শক্তি ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।’ এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘শিগগিরই অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নতুন কমিটি আসবে। পুনর্গঠনের কার্যক্রম চলছে।’