রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি বা তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের সরবরাহ সংকটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কয়েক দিন ধরে গ্যাস না পেয়ে ক্রেতারা ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা দিয়েও সিলিন্ডার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। কারওয়ান বাজারের জনতা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. আবুল হক বলেন, কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন কোম্পানি এলপি গ্যাসের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে এবং দুই দিন ধরে একেবারেই নেই। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, দেশে এলপি গ্যাসের সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু বাজারে বর্তমানে ভোক্তাদের এ দামের চেয়ে ৪০০ থেকে ৯০০ টাকা বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মোহাম্মদপুরের খুচরা বিক্রেতা মো. নুরুল মোল্লা বলেন, এক সপ্তাহ ধরে তিনি গ্যাস পাচ্ছেন না এবং ডিলাররা বলছেন কোনো কোম্পানি গ্যাস দিচ্ছে না। পেট্রোম্যাক্সের ডিলার মো. রমজান আলী জানান, কয়েক দিন ধরে সংকট শুরু হয়েছে এবং মোংলা বন্দরে পেট্রোম্যাক্সের কারখানায় গাড়ি সিরিয়ালে আছে। ঢাকা উদ্যানের সোহেল এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার মো. উজ্জ্বলও আগের মতো গ্যাস না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। কারওয়ান বাজারের আবুল হক বলেন, গত শনিবার থেকে গ্যাস নেই এবং আগে দিনে ২৫০টি সিলিন্ডার বিক্রি করলেও এখন মাঝে মাঝে ৪০ থেকে ৫০টি পাওয়া যাচ্ছে, যা দ্রুত শেষ হয়ে যায়। তিনি জানান, গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে কোম্পানির কমিশন বন্ধ হয়েছে এবং গাড়ি ভাড়া দিয়ে গ্যাস আনতে হচ্ছে।
এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি ও ডেল্টা এলপিজি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, সংকটের কারণ সরকারই ভালো বলতে পারবে এবং মজুতদারি হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সংগঠনটির সহসভাপতি ও এনার্জি-প্যাক কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হুমায়ুন রশিদ বলেন, দেশে মাসে এলপিজির চাহিদা প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টন। ২৭ থেকে ২৮টি কোম্পানির সক্ষমতা থাকলেও ব্যাংক সহযোগিতা না করায় এলসি খোলা যাচ্ছে না এবং চার থেকে পাঁচটি কোম্পানি ছাড়া অন্যরা এলপিজি আমদানি করতে পারছে না। সেপ্টেম্বরে ১২ কেজি এলপিজির দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়, যা আগস্টে ছিল ১ হাজার ৫৯৮ টাকা। দেশে বছরে এলপিজির চাহিদা কমবেশি ১৫ থেকে ১৬ লাখ টন। এর আগে জানুয়ারিতে সরবরাহ কমে গেলে ১ হাজার ৩০০ টাকার গ্যাসের দাম আড়াই হাজার টাকা ছাড়িয়ে যায়। গত বুধবার সচিবালয়ে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অনলাইন বৈঠকে জ্বালানিমন্ত্রী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেন। তিনি জানান, আগস্টে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ মেট্রিকটন এবং চলতি মাসের ২২ তারিখ পর্যন্ত ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৪২ টন এলপিজি আমদানি হয়েছে এবং দেশে এলপিজির জোগান ও মজুত পরিস্থিতি ভালো।
মধুমতি ডেস্ক : 









