বিপুল বরাদ্দ, উপবৃত্তিসহ নানা সুযোগ সুবিধা দেওয়া সত্ত্বেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে। ২০১৮ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ছিল ১ কোটি ৭৩ লাখের বেশি। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা নেমে এসেছে ১ কোটি ৬ লাখ ১৭ হাজার ৯৬২ জনে। ছয় বছরের ব্যবধানে শিক্ষার্থী কমেছে প্রায় ৬৭ লাখ। একই সময়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংখ্যা ৩ লাখ ৪৯ হাজার ২১৭ থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৬২৪ জনে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষার মান, পাঠ্যক্রমে ঘন ঘন পরিবর্তন, অর্থনৈতিক চাপ, মূল্যস্ফীতি ও সামাজিক বৈষম্যসহ নানা কারণে অভিভাবকদের একটি অংশ সন্তানদের সরকারি বিদ্যালয়ের বদলে কিন্ডারগার্টেন ও মাদ্রাসায় পাঠাচ্ছেন। তবে সরকারি বিদ্যালয় থেকে কমে যাওয়া শিক্ষার্থীদের কতজন অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে এবং কতজন পড়াশোনার বাইরে চলে যাচ্ছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট জাতীয় তথ্য নেই। বার্ষিক প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিসংখ্যান ২০২৪ অনুযায়ী দেশে সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন ধরনের ১ লাখ ১৮ হাজার ৬০৭টি প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ২ কোটি ১ লাখ ৮৩ হাজারের বেশি। এর মধ্যে ৬৫ হাজার ৫৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ১ কোটি ৬ লাখ ১৭ হাজার ৯৬২ জন, যা মোট প্রাথমিক শিক্ষার্থীর প্রায় ৫২ দশমিক ৬০ শতাংশ। ২০১৯ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী প্রায় ১ কোটি ৬৩ লাখে নেমে গেলেও ২০২২ সালে তা আবার প্রায় ১ কোটি ৭১ লাখে ওঠে। ২০২৪ সালে আবার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মজিবুর রহমান বলেন, ঘন ঘন কারিকুলাম পরিবর্তন শিক্ষার্থী কমার বড় কারণ এবং দেশের শিক্ষাব্যবস্থার কোনো সুস্পষ্ট ব্লুপ্রিন্ট নেই। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পিইডিপি ৪ এর সমীক্ষায় প্রায় ৬০ শতাংশ শিক্ষক স্নাতক পাস এবং প্রায় ১০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। সরাসরি পরিদর্শন করা বিদ্যালয়গুলোতে ২০১৯ সালে গড়ে শিক্ষার্থী ছিল ২৯৪ দশমিক ৫১ জন, ২০২০ সালে ২৮৭ দশমিক ৭২ জন, ২০২২ সালে ২৮২ দশমিক ০৮ জন এবং ২০২৩ সালে ২৬৪ দশমিক ৬৮ জন। বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১২ সালে দেশে কিন্ডারগার্টেন ছিল ১২ হাজার ৪৮৬টি এবং ২০১৮ সালে তা বেড়ে ২৪ হাজার ৩৬৩টিতে দাঁড়ায়। ২০১৮ সালে কিন্ডারগার্টেনে শিক্ষার্থী ছিল ১২ লাখ ৮১ হাজারের বেশি, ২০২২ সালে তা ৪০ লাখ ছাড়ায় এবং ২০২৪ সালে কিন্ডারগার্টেনের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৬ হাজার ২৯৯টি। পিইডিপি ৪ প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৩৮ হাজার কোটি টাকার বেশি এবং প্রস্তাবিত পিইডিপি ৫ প্রকল্পে ব্যয়ের পরিমাণ ৫১ হাজার কোটি টাকার বেশি ধরা হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমেদ বলেন, কোভিড ১৯ এর পর থেকেই প্রাথমিকে শিক্ষার্থী কমার প্রবণতা দেখা গেছে এবং তাদের কোথায় ও কেন যাচ্ছে সে বিষয়ে কোনো পরিসংখ্যান নেই।
বিশেষ প্রতিনিধি : 









