বঙ্গোপসাগরের অফশোর ব্লকে তেল গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ টানতে তৎপরতা শুরু করেছে সরকার। অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬ এর আওতায় এখন পর্যন্ত ১০টি কোম্পানি তথ্য প্যাকেজ এবং তিনটি কোম্পানি প্রমোশনাল প্যাকেজ বা বিড ডকুমেন্ট কিনেছে। টার্কিশ পেট্রোলিয়াম ওভারসিজ কোম্পানি, চায়না ন্যাশনাল অফশোর অয়েল করপোরেশন ইন্টারন্যাশনাল এবং সিনোপেক ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড বিড ডকুমেন্ট কিনেছে। আগামী ৩০ নভেম্বর দরপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা সামনে রেখে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়াতে সরকার সরাসরি যোগাযোগ ও প্রচারণায় জোর দিচ্ছে। ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্যের লন্ডনে এনার্জি সামিটে অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক তেল গ্যাস কোম্পানি ও সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের অফশোর অনুসন্ধানের সুযোগ তুলে ধরছে সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। প্রতিনিধিদলে পেট্রোবাংলার পরিচালক অপারেশন, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রয়েছেন। লন্ডনের পর যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনেও রোডশো করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৪ সালের দরপত্রে কোনো বিড না পাওয়ার পর সংশোধিত উৎপাদন অংশীদারত্ব চুক্তির আর্থিক ও বাণিজ্যিক সুবিধা তুলে ধরে এবার আন্তর্জাতিক কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়াতে চাইছে সরকার। অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬ এর আওতায় তথ্য প্যাকেজ কেনা ১০টি কোম্পানির মধ্যে রয়েছে বেয়ারিঙ্গিয়া পাওয়ার বাংলাদেশ লিমিটেড, ক্রিসএনার্জি, পিইএএল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড, অনোডা ইনকরপোরেটেড, রাইস্টাড এনার্জি, ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড, টার্কিশ পেট্রোলিয়াম ওভারসিজ কোম্পানি, চায়না ন্যাশনাল অফশোর অয়েল করপোরেশন ইন্টারন্যাশনাল, ইমপ্রেশন ভেঞ্চারস এজি এবং সিনোপেক ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। সংশোধিত পিএসসির আওতায় ২৬টি অফশোর ব্লকে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি অগভীর সমুদ্রের এবং ১৫টি গভীর সমুদ্রের ব্লক। গত ২৪ মে দরপত্র আহ্বান করা হয় এবং প্রস্তাব জমা দেওয়ার শেষ সময় ৩০ নভেম্বর। সংশোধিত কাঠামোয় গ্যাসের মূল্য নির্ধারণে আন্তর্জাতিক বাজারের ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দামের সঙ্গে সংযোগ রাখা হয়েছে। অনুসন্ধান ও উৎপাদন কার্যক্রমে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক ছাড়, ঠিকাদারের করের দায় পেট্রোবাংলার বহন এবং মুনাফা দেশে ফেরত নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। কোনো সিগনেচার বোনাস বা রয়্যালটির বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়নি। প্রাথমিক অনুসন্ধান পর্ব ছয় বছর এবং প্রয়োজনে আরও তিন বছর বাড়িয়ে মোট নয় বছর পর্যন্ত অনুসন্ধানের সুযোগ রয়েছে। শ্যালো ও ডিপ ওয়াটার উভয় ধরনের ব্লকের ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ১০০ শতাংশ কস্ট রিকভারির সুযোগ রাখা হয়েছে। শ্রমিকদের মুনাফা অংশগ্রহণ তহবিলে বাধ্যতামূলক অবদানের হার কমিয়ে ১ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। বাণিজ্যিক আবিষ্কার হলে গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদনকাল ২৫ বছর এবং তেলক্ষেত্রের উৎপাদনকাল ২০ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে আরও সর্বোচ্চ ১০ বছর মেয়াদ বাড়ানো যেতে পারে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে গ্যাস রপ্তানি ও তৃতীয়পক্ষের কাছে গ্যাস বিক্রির সুযোগও রাখা হয়েছে।
সংবাদের শিরোনাম :
তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বিনিয়োগ টানতে লন্ডনে রোডশো
-
মধুমতি আর্ন্তজাতিক ডেস্ক : - আপডেটের সময় : ১০:৪৪:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
- ১০ সময়-দৃশ্য
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট










