ঢাকা ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের শিরোপা উঠল ড্যাফোডিলের হাতে বাইন্যান্সের ইতিহাসে বড় সাইবার হামলা, জড়িত উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা? মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সরকারের কঠিন পরীক্ষা ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি নিশ্চিত করতে হবে হকারদের জীবিকা পুঠিয়ায় তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাস আইসিসিবিতে তিন দিনের কার এক্সপো, থাকছে আধুনিক হাইব্রিড গাড়িও যশোর শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসিতে খুলনার ৬টিসহ ১৬ প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল নীলফামারীতে দাদীর এইচএসসি পাস, নাতনির চোখে অনুপ্রেরণা ক্রেতাশূন্য ঢাকার শপিংমল, লোকসানে দিশেহারা ব্যবসায়ীরা পূর্বাচলে অবৈধ আবাসন প্রকল্প চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

আকাশসীমা এখন আরও সুরক্ষিত, রাজস্ব আদায়েও বাড়ল সক্ষমতা

বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হয়েছে আধুনিক রাডার ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) প্রযুক্তি। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নবনির্মিত অত্যাধুনিক এটিসি টাওয়ার ও পূর্ণাঙ্গ রাডার ব্যবস্থা চালুর পর দেশের আকাশপথে নজরদারি ও ব্যবস্থাপনায় এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। এর ফলে বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহারকারী বিদেশি উড়োজাহাজের চলাচল আরও কার্যকরভাবে শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে।

আধুনিক এই প্রযুক্তি চালুর পর আকাশসীমা ব্যবহারের বিপরীতে আদায় করা ওভারফ্লাই বা ফ্লাইওভার চার্জ থেকেও রাজস্ব আয় বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শুধু ওভারফ্লাই ফি থেকেই সরকারের আয় হয়েছে ৮০৫ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে জানুয়ারি থেকে জুন—এই ছয় মাসে রাজস্ব এসেছে প্রায় ৪১৬ কোটি টাকা।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি) ও বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে, অর্থাৎ জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ওভারফ্লাই ফি বাবদ আয় হয়েছিল ৩৩৮ কোটি টাকার বেশি। পরবর্তী ছয় মাসে আয় আরও বেড়ে প্রায় ৪১৬ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। অর্থাৎ নতুন ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার পর মাসে গড়ে ৭০ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে দেশের আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় সীমিত সক্ষমতার রাডার ও অ্যানালগ প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের আকাশসীমার বিস্তীর্ণ অংশ, বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন এলাকায় উড়োজাহাজ চলাচলের ওপর কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় নজরদারি করা কঠিন ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এ অবস্থায় দেশের আকাশসীমায় চলাচলকারী বিদেশি উড়োজাহাজের গতিপথ ও অবস্থান নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা এবং সে অনুযায়ী ফি আদায়ের ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা ছিল। প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ঘাটতির কারণে আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় পরোক্ষ নির্ভরশীলতাও তৈরি হয়েছিল।

এই সীমাবদ্ধতা কাটাতে আধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট (এটিএম) এবং কমিউনিকেশন, নেভিগেশন অ্যান্ড সার্ভেইল্যান্স (সিএনএস) ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন এটিসি টাওয়ার ও রাডার ব্যবস্থা উদ্বোধন করা হয়। প্রায় ৯৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত প্রকল্পটি ফ্রান্সের এভিয়েশন ও ডিফেন্স প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘থেলস’-এর সঙ্গে জি-টু-জি ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সিএএবির নিজস্ব অর্থায়নে গড়ে তোলা এই অবকাঠামোর মাধ্যমে দেশের আকাশসীমায় উড়োজাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক রাডার ও সার্ভেইল্যান্স প্রযুক্তির কারণে বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহারকারী উড়োজাহাজগুলোর অবস্থান, গতিপথ ও চলাচল সম্পর্কে এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি নির্ভুল তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ফলে আকাশসীমা ব্যবহারের বিপরীতে নির্ধারিত ফি আদায়ের প্রক্রিয়াও আরও কার্যকর হয়েছে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের সীমিত রাডার সক্ষমতার কারণে দেশের আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় যে ঘাটতি ছিল, নতুন প্রযুক্তি তা অনেকাংশে দূর করেছে। একই সঙ্গে আকাশপথে নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাতেও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়েছে সক্ষমতা।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ রুটের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের আকাশসীমা। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটের সংযোগস্থলে অবস্থানের কারণে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক বিদেশি উড়োজাহাজ বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করে।

বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক রাডার ও এয়ার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এসব উড়োজাহাজের চলাচল সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা গেলে আকাশসীমা ব্যবহারের ফি থেকে নিয়মিত রাজস্ব আদায়ের সুযোগ আরও বাড়বে। একই সঙ্গে দেশের এভিয়েশন খাতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আকাশসীমা ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর ও স্বনির্ভর হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল আকাশপথ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি ওভারফ্লাই ফি থেকে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

danik madhumati

এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের শিরোপা উঠল ড্যাফোডিলের হাতে

আকাশসীমা এখন আরও সুরক্ষিত, রাজস্ব আদায়েও বাড়ল সক্ষমতা

আপডেটের সময় : ০৩:১৭:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হয়েছে আধুনিক রাডার ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) প্রযুক্তি। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নবনির্মিত অত্যাধুনিক এটিসি টাওয়ার ও পূর্ণাঙ্গ রাডার ব্যবস্থা চালুর পর দেশের আকাশপথে নজরদারি ও ব্যবস্থাপনায় এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। এর ফলে বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহারকারী বিদেশি উড়োজাহাজের চলাচল আরও কার্যকরভাবে শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে।

আধুনিক এই প্রযুক্তি চালুর পর আকাশসীমা ব্যবহারের বিপরীতে আদায় করা ওভারফ্লাই বা ফ্লাইওভার চার্জ থেকেও রাজস্ব আয় বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শুধু ওভারফ্লাই ফি থেকেই সরকারের আয় হয়েছে ৮০৫ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে জানুয়ারি থেকে জুন—এই ছয় মাসে রাজস্ব এসেছে প্রায় ৪১৬ কোটি টাকা।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি) ও বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে, অর্থাৎ জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ওভারফ্লাই ফি বাবদ আয় হয়েছিল ৩৩৮ কোটি টাকার বেশি। পরবর্তী ছয় মাসে আয় আরও বেড়ে প্রায় ৪১৬ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। অর্থাৎ নতুন ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার পর মাসে গড়ে ৭০ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে দেশের আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় সীমিত সক্ষমতার রাডার ও অ্যানালগ প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের আকাশসীমার বিস্তীর্ণ অংশ, বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন এলাকায় উড়োজাহাজ চলাচলের ওপর কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় নজরদারি করা কঠিন ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এ অবস্থায় দেশের আকাশসীমায় চলাচলকারী বিদেশি উড়োজাহাজের গতিপথ ও অবস্থান নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা এবং সে অনুযায়ী ফি আদায়ের ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা ছিল। প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ঘাটতির কারণে আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় পরোক্ষ নির্ভরশীলতাও তৈরি হয়েছিল।

এই সীমাবদ্ধতা কাটাতে আধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট (এটিএম) এবং কমিউনিকেশন, নেভিগেশন অ্যান্ড সার্ভেইল্যান্স (সিএনএস) ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন এটিসি টাওয়ার ও রাডার ব্যবস্থা উদ্বোধন করা হয়। প্রায় ৯৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত প্রকল্পটি ফ্রান্সের এভিয়েশন ও ডিফেন্স প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘থেলস’-এর সঙ্গে জি-টু-জি ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সিএএবির নিজস্ব অর্থায়নে গড়ে তোলা এই অবকাঠামোর মাধ্যমে দেশের আকাশসীমায় উড়োজাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক রাডার ও সার্ভেইল্যান্স প্রযুক্তির কারণে বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহারকারী উড়োজাহাজগুলোর অবস্থান, গতিপথ ও চলাচল সম্পর্কে এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি নির্ভুল তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ফলে আকাশসীমা ব্যবহারের বিপরীতে নির্ধারিত ফি আদায়ের প্রক্রিয়াও আরও কার্যকর হয়েছে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের সীমিত রাডার সক্ষমতার কারণে দেশের আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় যে ঘাটতি ছিল, নতুন প্রযুক্তি তা অনেকাংশে দূর করেছে। একই সঙ্গে আকাশপথে নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাতেও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়েছে সক্ষমতা।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ রুটের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের আকাশসীমা। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটের সংযোগস্থলে অবস্থানের কারণে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক বিদেশি উড়োজাহাজ বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করে।

বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক রাডার ও এয়ার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এসব উড়োজাহাজের চলাচল সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা গেলে আকাশসীমা ব্যবহারের ফি থেকে নিয়মিত রাজস্ব আদায়ের সুযোগ আরও বাড়বে। একই সঙ্গে দেশের এভিয়েশন খাতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আকাশসীমা ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর ও স্বনির্ভর হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল আকাশপথ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি ওভারফ্লাই ফি থেকে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করেছে।