ঢাকা ০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের শিরোপা উঠল ড্যাফোডিলের হাতে বাইন্যান্সের ইতিহাসে বড় সাইবার হামলা, জড়িত উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা? মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সরকারের কঠিন পরীক্ষা ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি নিশ্চিত করতে হবে হকারদের জীবিকা পুঠিয়ায় তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাস আইসিসিবিতে তিন দিনের কার এক্সপো, থাকছে আধুনিক হাইব্রিড গাড়িও যশোর শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসিতে খুলনার ৬টিসহ ১৬ প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল নীলফামারীতে দাদীর এইচএসসি পাস, নাতনির চোখে অনুপ্রেরণা ক্রেতাশূন্য ঢাকার শপিংমল, লোকসানে দিশেহারা ব্যবসায়ীরা পূর্বাচলে অবৈধ আবাসন প্রকল্প চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

খুলনায় শারদীয় দুর্গোৎসবে জেলা ও মহানগরে মণ্ডপে একহাজার ৯টি মন্ডপে প্রস্তুতি চলছে

শরতের আকাশে ভাসমান মেঘের ভেলা আর কাশফুলের নরম দোলায় শারদীয় দুর্গাপূজার আগমন ধ্বনি বেজে উঠেছে। আর কিছুদিন পরেই ঢাকের কাঠি আর শঙ্খধ্বনিতে মুখরিত হবে মণ্ডপগুলো। চলতি (অক্টোবর) মাসের ১০ তারিখে মহালয়ার মাধ্যমে উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঘিরে খুলনা জেলা ও মহানগরের মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। গ্রামীণ জনপদ থেকে মহানগরের অলিগলিÑসবখানেই এখন উৎসবের আমেজ। চলতি বছর খুলনা জেলা ও মহানগরে রেকর্ড সংখ্যক ১ হাজারের বেশি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পূজা পরিষদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছর খুলনা জেলার ৯টি উপজেলা ও ২টো পৌরসভা মিলে মোট ৮৮৫টি এবং মহানগরের (কেএমপি ভুক্ত) ৮টি থানায় ১২৪টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি চলছে।  খুলনা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলার ৯ উপজেলার মধ্যে ডুমুরিয়ায় ২২৩টি, পাইকগাছায় পৌরসভাসহ ১৪৯টি, বটিয়াঘাটায় ১১১টি, দাকোপে পৌরসভাসহ ৭৮টি,  রূপসায় ৭৫টি,  দীঘলিয়ায় ৬১টি,  তেরখাদায় ৯৮টি,  কয়রায় ৫৭টি,  ফুলতলায় ৩৩টি দূর্গাপূঁজার মন্ডপে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।  গত বছরের তুলনায় এ বছর ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটা, পাইকগাছা, কয়রা ও দাকোপ উপজেলায় পূজার সংখ্যা বেড়েছে।

অন্যদিকে, খুলনা মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, খুলনা মহানগরের ৮টি থানায় মোট ১২৪টি মণ্ডপের মধ্যে সদর থানায় ২৬টি, সোনাডাঙ্গা থানায় ১১টি, খালিশপুরে ১১টি, দৌলতপুরে ২০টি, খানজাহানআলী থানায় ৯টি, লবণচরায় ৯টি, হরিণটানায় ৫টি, আড়ংঘাটায় ৩৩টি পূঁজা মন্ডপ রয়েছে। ঢাকী, আলোকসজ্জা এবং প্যান্ডেল তৈরির বুকিং ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। শারদীয় দুর্গাপূজাকে সার্বজনীন ও জাঁকজমকপূর্ণ করতে মণ্ডপগুলোতে নানা বৈচিত্র্যময় থিম, চোখধাঁধানো আলোকসজ্জা ও দৃষ্টিনন্দন প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। সরজমিনে খুলনার বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমা তৈরিতে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। মাটি দিয়ে প্রতিমার কাঠামো তৈরির কাজ প্রায় শেষ, এখন চলছে রং ও সাজসজ্জার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

খুলনার আদি কালীবাড়ি পূজা মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল ব্যানার্জী বলেন, “খুলনায় ঐতিহ্যগতভাবেই প্রতি বছর বড় বড় প্যান্ডেলে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এরমধ্যে আদি কালীবাড়ি, বড় বাজার, সোনাপট্টি, সাহেবের কবরখানা, পশ্চিম হাসপাতাল পাড়া, উমানন্দ শিব মন্দির, কেশবচন্দ্র সার্বজনীন পূজা মন্দিরে দৃষ্টিনন্দন শিল্প কারুকার্য ও বৈচিত্র্যময় থিম ভাবনায় মণ্ডপ সাজানো হয়। এছাড়া আর্য ধর্মসভা মন্দির, শীতলাবাড়ি মন্দির, শিববাড়ি মন্দির ও কয়লাঘাট মন্দিরে ব্যাপক আলোকসজ্জার ব্যবস্থা থাকে।”

খুলনা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিমান সাহা বলেন, “বাঙালির শারদ উৎসব এখন বিশ্ব উৎসব। ইউনেস্কো শারদ উৎসবকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় উৎসবের স্বীকৃতি দিয়েছে। মূলত পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসবের আয়োজন করা হলেও এখন মহালয়া থেকেই উৎসবের কাউন্টডাউন চলতে থাকে। এই আয়োজনকে নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ করতে খুলনা জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।”

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি মণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া বড় মণ্ডপগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে খুলনার এই শারদীয় দুর্গাপূজা সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট সকলেই।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

danik madhumati

এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের শিরোপা উঠল ড্যাফোডিলের হাতে

খুলনায় শারদীয় দুর্গোৎসবে জেলা ও মহানগরে মণ্ডপে একহাজার ৯টি মন্ডপে প্রস্তুতি চলছে

আপডেটের সময় : ১১:২২:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

শরতের আকাশে ভাসমান মেঘের ভেলা আর কাশফুলের নরম দোলায় শারদীয় দুর্গাপূজার আগমন ধ্বনি বেজে উঠেছে। আর কিছুদিন পরেই ঢাকের কাঠি আর শঙ্খধ্বনিতে মুখরিত হবে মণ্ডপগুলো। চলতি (অক্টোবর) মাসের ১০ তারিখে মহালয়ার মাধ্যমে উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঘিরে খুলনা জেলা ও মহানগরের মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। গ্রামীণ জনপদ থেকে মহানগরের অলিগলিÑসবখানেই এখন উৎসবের আমেজ। চলতি বছর খুলনা জেলা ও মহানগরে রেকর্ড সংখ্যক ১ হাজারের বেশি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পূজা পরিষদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছর খুলনা জেলার ৯টি উপজেলা ও ২টো পৌরসভা মিলে মোট ৮৮৫টি এবং মহানগরের (কেএমপি ভুক্ত) ৮টি থানায় ১২৪টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি চলছে।  খুলনা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলার ৯ উপজেলার মধ্যে ডুমুরিয়ায় ২২৩টি, পাইকগাছায় পৌরসভাসহ ১৪৯টি, বটিয়াঘাটায় ১১১টি, দাকোপে পৌরসভাসহ ৭৮টি,  রূপসায় ৭৫টি,  দীঘলিয়ায় ৬১টি,  তেরখাদায় ৯৮টি,  কয়রায় ৫৭টি,  ফুলতলায় ৩৩টি দূর্গাপূঁজার মন্ডপে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।  গত বছরের তুলনায় এ বছর ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটা, পাইকগাছা, কয়রা ও দাকোপ উপজেলায় পূজার সংখ্যা বেড়েছে।

অন্যদিকে, খুলনা মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, খুলনা মহানগরের ৮টি থানায় মোট ১২৪টি মণ্ডপের মধ্যে সদর থানায় ২৬টি, সোনাডাঙ্গা থানায় ১১টি, খালিশপুরে ১১টি, দৌলতপুরে ২০টি, খানজাহানআলী থানায় ৯টি, লবণচরায় ৯টি, হরিণটানায় ৫টি, আড়ংঘাটায় ৩৩টি পূঁজা মন্ডপ রয়েছে। ঢাকী, আলোকসজ্জা এবং প্যান্ডেল তৈরির বুকিং ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। শারদীয় দুর্গাপূজাকে সার্বজনীন ও জাঁকজমকপূর্ণ করতে মণ্ডপগুলোতে নানা বৈচিত্র্যময় থিম, চোখধাঁধানো আলোকসজ্জা ও দৃষ্টিনন্দন প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। সরজমিনে খুলনার বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমা তৈরিতে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। মাটি দিয়ে প্রতিমার কাঠামো তৈরির কাজ প্রায় শেষ, এখন চলছে রং ও সাজসজ্জার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

খুলনার আদি কালীবাড়ি পূজা মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল ব্যানার্জী বলেন, “খুলনায় ঐতিহ্যগতভাবেই প্রতি বছর বড় বড় প্যান্ডেলে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এরমধ্যে আদি কালীবাড়ি, বড় বাজার, সোনাপট্টি, সাহেবের কবরখানা, পশ্চিম হাসপাতাল পাড়া, উমানন্দ শিব মন্দির, কেশবচন্দ্র সার্বজনীন পূজা মন্দিরে দৃষ্টিনন্দন শিল্প কারুকার্য ও বৈচিত্র্যময় থিম ভাবনায় মণ্ডপ সাজানো হয়। এছাড়া আর্য ধর্মসভা মন্দির, শীতলাবাড়ি মন্দির, শিববাড়ি মন্দির ও কয়লাঘাট মন্দিরে ব্যাপক আলোকসজ্জার ব্যবস্থা থাকে।”

খুলনা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিমান সাহা বলেন, “বাঙালির শারদ উৎসব এখন বিশ্ব উৎসব। ইউনেস্কো শারদ উৎসবকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় উৎসবের স্বীকৃতি দিয়েছে। মূলত পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসবের আয়োজন করা হলেও এখন মহালয়া থেকেই উৎসবের কাউন্টডাউন চলতে থাকে। এই আয়োজনকে নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ করতে খুলনা জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।”

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি মণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া বড় মণ্ডপগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে খুলনার এই শারদীয় দুর্গাপূজা সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট সকলেই।