ঢাকা ০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের শিরোপা উঠল ড্যাফোডিলের হাতে বাইন্যান্সের ইতিহাসে বড় সাইবার হামলা, জড়িত উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা? মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সরকারের কঠিন পরীক্ষা ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি নিশ্চিত করতে হবে হকারদের জীবিকা পুঠিয়ায় তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাস আইসিসিবিতে তিন দিনের কার এক্সপো, থাকছে আধুনিক হাইব্রিড গাড়িও যশোর শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসিতে খুলনার ৬টিসহ ১৬ প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল নীলফামারীতে দাদীর এইচএসসি পাস, নাতনির চোখে অনুপ্রেরণা ক্রেতাশূন্য ঢাকার শপিংমল, লোকসানে দিশেহারা ব্যবসায়ীরা পূর্বাচলে অবৈধ আবাসন প্রকল্প চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

জয়পুরহাটে উচ্চ শব্দে গান বাজিয়ে গৃহবধূকে দাঁত ভেঙে ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগ

ঘরের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ। ভেতর থেকে ভেসে আসছিল গোঙানির শব্দ। প্রতিবেশীর সন্দেহ হওয়ায় খবর দেওয়া হয় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বজনদের। পরে দরজা ভেঙে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয় মাছুদা বেগমকে (২৭)। হাসপাতালে নেওয়ার পর টানা কয়েক দিন চিকিৎসা চললেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি, মৃত্যু হয়েছে তার। অভিযোগ উঠেছে, জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় যৌতুক দাবিতে মাছুদার স্বামী মেহেদী হাসান শাপলা ঘরের দরজা বন্ধ করে উচ্চ শব্দে গান বাজিয়ে হাত-পা বেঁধে লোহার প্লাস দিয়ে মাসুদার মুখ ও মাথায় আঘাত করে। এতে তার সামনের ওপরের দুটি দাঁত ভেঙে যায় এবং মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। এরপর গরম লোহার রড দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয় তাকে। এ ছাড়া আরও নানাভাবে নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় মেহেদী হাসান শাপলাকে (৩৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে গ্রেপ্তার মেহেদী হাসান শাপলাকে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। এর আগে, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তার স্ত্রী মাছুদা বেগম। গ্রেপ্তার মেহেদী হাসান কালাই উপজেলার হারুঞ্জা গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে। মাছুদা বেগম ক্ষেতলাল উপজেলার তুলসীগঙ্গা ইউনিয়নের দার্রশা খাঁপাড়া গ্রামের মৃত দিলবর মণ্ডলের মেয়ে।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, মাছুদা ও শাপলার বিয়ে প্রায় ২০ বছর আগে। তাদের ১৩ বছর বয়সি একটি মেয়ে রয়েছে। নিহতের ভাই ও মামলার বাদী বছির মণ্ডলের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য বিভিন্ন সময়ে মাছুদাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন শাপলা। সম্প্রতি তিনি পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, গত ১৪ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে মাছুদার মেয়ে চাচার বাড়িতে থাকার সুযোগে শাপলা তার স্ত্রীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। মাছুদা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ঘরের ভেতরে আটকে রাখা হয়। এ সময় ঘরে উচ্চ শব্দে গান বাজানো হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এরপর রশি দিয়ে মাছুদার হাত-পা বেঁধে লোহার প্লাস দিয়ে তার মুখ ও মাথায় আঘাত করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তার সামনের ওপরের দুটি দাঁত ভেঙে যায় এবং মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। পরে বাঁশের লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর এবং গরম লোহার রড দিয়ে হাত ও পিঠে ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। আহত স্থানে মরিচের গুঁড়া ও লবণ লাগানোর অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে মাছুদা জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে মৃত ভেবে ঘরে তালাবদ্ধ করে শাপলা চলে যান বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরদিন বিকেলে প্রতিবেশী রেজাউল করিম ঘরের ভেতর থেকে গোঙানির শব্দ শুনতে পান। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় ইউপি সদস্য, মাছুদার ভাইসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের তালা ভেঙে তাকে উদ্ধার করেন।

পুলিশ জানায়, ১৫ আগস্ট জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে কালাই থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে মাছুদাকে প্রথমে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তার মৃত্যু হয়। মাছুদার ভাই বছির মণ্ডল ১৭ আগস্ট জয়পুরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। আদালত বাদীর বক্তব্য গ্রহণ করে মামলাটি এজাহার হিসেবে রেকর্ড করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়।

কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ১৫ আগস্ট ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাছুদাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বগুড়ায় পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। আদালতের নির্দেশে মামলা রেকর্ডের পর অভিযান চালিয়ে মেহেদী হাসান শাপলাকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

dainik madhumati

এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের শিরোপা উঠল ড্যাফোডিলের হাতে

জয়পুরহাটে উচ্চ শব্দে গান বাজিয়ে গৃহবধূকে দাঁত ভেঙে ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগ

আপডেটের সময় : ০৮:৩০:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

ঘরের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ। ভেতর থেকে ভেসে আসছিল গোঙানির শব্দ। প্রতিবেশীর সন্দেহ হওয়ায় খবর দেওয়া হয় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বজনদের। পরে দরজা ভেঙে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয় মাছুদা বেগমকে (২৭)। হাসপাতালে নেওয়ার পর টানা কয়েক দিন চিকিৎসা চললেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি, মৃত্যু হয়েছে তার। অভিযোগ উঠেছে, জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় যৌতুক দাবিতে মাছুদার স্বামী মেহেদী হাসান শাপলা ঘরের দরজা বন্ধ করে উচ্চ শব্দে গান বাজিয়ে হাত-পা বেঁধে লোহার প্লাস দিয়ে মাসুদার মুখ ও মাথায় আঘাত করে। এতে তার সামনের ওপরের দুটি দাঁত ভেঙে যায় এবং মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। এরপর গরম লোহার রড দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয় তাকে। এ ছাড়া আরও নানাভাবে নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় মেহেদী হাসান শাপলাকে (৩৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে গ্রেপ্তার মেহেদী হাসান শাপলাকে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। এর আগে, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তার স্ত্রী মাছুদা বেগম। গ্রেপ্তার মেহেদী হাসান কালাই উপজেলার হারুঞ্জা গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে। মাছুদা বেগম ক্ষেতলাল উপজেলার তুলসীগঙ্গা ইউনিয়নের দার্রশা খাঁপাড়া গ্রামের মৃত দিলবর মণ্ডলের মেয়ে।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, মাছুদা ও শাপলার বিয়ে প্রায় ২০ বছর আগে। তাদের ১৩ বছর বয়সি একটি মেয়ে রয়েছে। নিহতের ভাই ও মামলার বাদী বছির মণ্ডলের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য বিভিন্ন সময়ে মাছুদাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন শাপলা। সম্প্রতি তিনি পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, গত ১৪ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে মাছুদার মেয়ে চাচার বাড়িতে থাকার সুযোগে শাপলা তার স্ত্রীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। মাছুদা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ঘরের ভেতরে আটকে রাখা হয়। এ সময় ঘরে উচ্চ শব্দে গান বাজানো হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এরপর রশি দিয়ে মাছুদার হাত-পা বেঁধে লোহার প্লাস দিয়ে তার মুখ ও মাথায় আঘাত করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তার সামনের ওপরের দুটি দাঁত ভেঙে যায় এবং মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। পরে বাঁশের লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর এবং গরম লোহার রড দিয়ে হাত ও পিঠে ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। আহত স্থানে মরিচের গুঁড়া ও লবণ লাগানোর অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে মাছুদা জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে মৃত ভেবে ঘরে তালাবদ্ধ করে শাপলা চলে যান বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরদিন বিকেলে প্রতিবেশী রেজাউল করিম ঘরের ভেতর থেকে গোঙানির শব্দ শুনতে পান। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় ইউপি সদস্য, মাছুদার ভাইসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের তালা ভেঙে তাকে উদ্ধার করেন।

পুলিশ জানায়, ১৫ আগস্ট জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে কালাই থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে মাছুদাকে প্রথমে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তার মৃত্যু হয়। মাছুদার ভাই বছির মণ্ডল ১৭ আগস্ট জয়পুরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। আদালত বাদীর বক্তব্য গ্রহণ করে মামলাটি এজাহার হিসেবে রেকর্ড করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়।

কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ১৫ আগস্ট ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাছুদাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বগুড়ায় পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। আদালতের নির্দেশে মামলা রেকর্ডের পর অভিযান চালিয়ে মেহেদী হাসান শাপলাকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।