জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় খুলনার সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, একবারে তাদের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। তবে দাম বাড়লেও বিক্রি রয়েছে স্বাভাবিক। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খুলনা নগরীর বিভিন্ন পেট্রোল ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। নগরীর পাওয়ার হাউজ, গল্লামারি, নতুন রাস্তা ও খুলনা-সাতক্ষীরা হাইওয়ে রোডের একাধিক পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা যায়, সাধারণ পরিবহন, মোটরসাইকেল, মাহিন্দ্রাসহ ডিজেলচালিত যানবাহনগুলো পাম্প থেকে জ্বালানি নিচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের জ্বালানি তেল। খুচরা পর্যায়ে তেল বিক্রিতে কোনো ধরনের সংকট দেখা যায়নি। কিন্তু জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তেল নিতে আসা ক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ক্রেতারা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় খুলনার স্থানীয় পরিবহন, উৎপাদন, কৃষিপণ্য সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যয় বেড়েছে। যার প্রভাব সব স্তরে পড়তে শুরু করবে। কেননা পরিবহন ব্যবস্থার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। মোটরসাইকেলের জন্য তেল কিনতে আসা বেলাল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘সব ধরনের তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধি পাওয়া মানে একবারে বড় ধরনের একটা চাপ তৈরি হয়েছে। এই চাপের কারণে অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও ব্যয় বাড়বে। এমনকি জ্বালানি তেল দিয়ে পরিচালিত পরিবহনগুলো ভাড়া বাড়াবে। ফলে সাধারণ মানুষের খরচের মাত্রা কিছুটা হলেও বৃদ্ধি পাবে।’ আরেক ক্রেতা শাফিন ইসলাম বলেন, ‘লিটারে ২০ টাকা তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়া মানে দুই লিটার তেল কিনতে এখন ৪০ টাকা বেশি গুনতে হবে। সবমিলিয়ে ব্যয়ের চাপ তো বেড়েছে।’ হাইওয়ে পাম্পে আসা বাসচালক গোলক কুমার জাগো নিউজকে বলেন, ‘ডিজেলের দাম বেড়েছে। দাম বাড়ার কারণে তেল কম নেওয়ার তো সুযোগ নেই। তেল পরিমাপ মতোই নিতে হবে। কিন্তু অতিরিক্ত এই টাকা সমন্বয় করতে বাড়তি ভাড়া নির্ধারণ নতুন করে করতে হবে। আগের ভাড়ায় যাত্রী নিয়ে লস করলে তো বাস মালিক বাঁচবে না। আমরাও চলতে পারবো না।’ খুলনার পাইকারি কাঁচাবাজারের আড়তদার ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, ‘পরিবহনের ওপর আমাদের কৃষিপণ্য আমদানি-রপ্তানি নির্ভর করে। নতুন ভাড়া নির্ধারিত হলে পণ্য পরিবহনের নতুন দাম নির্ধারণ হবে। এমনকি স্থানীয় পর্যায়ের কৃষিপণ্য পরিবহনে, মাছ পরিবহনে ভাড়া বাড়বে। নিত্যপণ্যেও ব্যয় বাড়বে। এজন্য দাম নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত ছিল।’
খুলনার যশোর হাইওয়ে সড়কে অবস্থিত মারিয়া পেট্রোল পাম্পে কর্মরত সাজ্জাদ হোসেন জানান, তেলের দাম বেড়েছে কিন্তু বিক্রি কমেনি বা বাড়েওনি। আগের মতোই স্বাভাবিকভাবে বিক্রি হচ্ছে তেল। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন আমরা যে পরিমাণ তেল সরবরাহ নিতাম, গত দুদিনে সে পরিমাণ তেল ডিপো থেকে নিচ্ছি। কোনো ধরনের সংকট নেই।’ সাতক্ষীরা রোডের পেট্রোল পাম্পের কর্মকর্তা রাজ্জাক শেখ বলেন, ‘আমাদের এখানে বেশিরভাগ ক্রেতা বাস, ট্রাক, মিনিবাস ও দূরপাল্লার পরিবহন। এসব যানবাহনের তেল কম নেওয়ার সুযোগ নেই। এজন্য তেলের দাম বাড়ায় চাহিদা কমেছে কি-না এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।’
মধুমতি ডেস্ক : 









