ঢাকা ১০:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
পাইকগাছায় ইউএনও’র তত্বাবধানে জাপানি প্রযুক্তির পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার চালু রাজনৈতিক কর্মসূচির আড়ালে অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগ, ঐক্যের আহ্বান আগারগাঁওয়ে ১৮৬, ঢাকার অভিজাত এলাকাগুলোতেও অস্বাস্থ্যকর বাতাস খাগড়াছড়িতে নানা আয়োজনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত চিতলমারীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২ শেরপুরে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে যুবলীগের বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১৫ নভেম্বর শুরু দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপ পুঠিয়ায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত আল্লাহর ৯৯টি নামের পরিচয় ও সেগুলোর বিশেষ মর্যাদা নারীদের কর্মসংস্থানে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগ, পেলেন ১০০ জন

পাইকগাছায় ইউএনও’র তত্বাবধানে জাপানি প্রযুক্তির পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার চালু

আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্যোগ নিয়েছে খুলনার পাইকগাছা পৌরসভা। জাপানি প্রযুক্তিনির্ভর প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক পয়ঃবর্জ্য শোধনাগারটি ২০২৬ সালের ২০ এপ্রিল চালু হয়। এর মাধ্যমে মাত্র লিটারপ্রতি ১ টাকা খরচে বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে মানববর্জ্য সংগ্রহ ও শোধন করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়াটারএইড বাংলাদেশের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নবলোক পরিষদের বাস্তবায়নে নির্মিত এ শোধনাগারটি পরিচালনা করছে পাইকগাছা পৌরসভা। দৈনিক ১৫ হাজার লিটার বর্জ্য শোধনক্ষমতাসম্পন্ন এ কেন্দ্রে ইতোমধ্যে প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার লিটার পয়ঃবর্জ্য শোধন করা হয়েছে। বর্জ্য সংগ্রহের জন্য রয়েছে ৫০০ ও ১ হাজার লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ভ্যাকুয়াম ট্যাংকবাহী গাড়ি।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, আগে মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিক ব্যবস্থা না থাকায় খাল-বিল ও নদীতে বর্জ্য ফেলার কারণে পরিবেশদূষণ ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হতো। নতুন শোধনাগার চালুর ফলে এ সমস্যা কমার পাশাপাশি নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

ওয়াটারএইড বাংলাদেশের প্রতিনিধি সুমন সাহা জানান, সম্পূর্ণ জাপানি প্রযুক্তিতে নির্মিত এ শোধনাগারে চারটি ধাপে বর্জ্য পরিশোধন করা হয়। পরিশোধিত পানি পরীক্ষার পর নিষ্কাশন করা হয়।

পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী জানান, এ উদ্যোগের ফলে স্বল্প খরচে পরিবেশবান্ধব উপায়ে মানববর্জ্য শোধন সম্ভব হচ্ছে। পরিশোধিত পানি কৃষি ও উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে।

পৌরসভা সূত্রে আরও জানা গেছে, চালুর প্রথম ছয় মাসে এ সেবা থেকে আয় হয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার ২৫০ টাকা। বিপরীতে জ্বালানি, ব্যাটারি, কর্মীদের মজুরি ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৪৮০ টাকা। এতে ব্যয় বাদে উদ্বৃত্ত রয়েছে ১০ হাজার ৭৭০ টাকা।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জনসচেতনতা ও সেবার পরিধি বাড়ানো গেলে পাইকগাছা পৌরসভার এ উদ্যোগ পরিবেশ সুরক্ষা ও আধুনিক নাগরিকসেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

danik madhumati

জনপ্রিয় পোস্ট

পাইকগাছায় ইউএনও’র তত্বাবধানে জাপানি প্রযুক্তির পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার চালু

পাইকগাছায় ইউএনও’র তত্বাবধানে জাপানি প্রযুক্তির পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার চালু

আপডেটের সময় : ১১:৩৭:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্যোগ নিয়েছে খুলনার পাইকগাছা পৌরসভা। জাপানি প্রযুক্তিনির্ভর প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক পয়ঃবর্জ্য শোধনাগারটি ২০২৬ সালের ২০ এপ্রিল চালু হয়। এর মাধ্যমে মাত্র লিটারপ্রতি ১ টাকা খরচে বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে মানববর্জ্য সংগ্রহ ও শোধন করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়াটারএইড বাংলাদেশের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নবলোক পরিষদের বাস্তবায়নে নির্মিত এ শোধনাগারটি পরিচালনা করছে পাইকগাছা পৌরসভা। দৈনিক ১৫ হাজার লিটার বর্জ্য শোধনক্ষমতাসম্পন্ন এ কেন্দ্রে ইতোমধ্যে প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার লিটার পয়ঃবর্জ্য শোধন করা হয়েছে। বর্জ্য সংগ্রহের জন্য রয়েছে ৫০০ ও ১ হাজার লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ভ্যাকুয়াম ট্যাংকবাহী গাড়ি।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, আগে মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিক ব্যবস্থা না থাকায় খাল-বিল ও নদীতে বর্জ্য ফেলার কারণে পরিবেশদূষণ ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হতো। নতুন শোধনাগার চালুর ফলে এ সমস্যা কমার পাশাপাশি নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

ওয়াটারএইড বাংলাদেশের প্রতিনিধি সুমন সাহা জানান, সম্পূর্ণ জাপানি প্রযুক্তিতে নির্মিত এ শোধনাগারে চারটি ধাপে বর্জ্য পরিশোধন করা হয়। পরিশোধিত পানি পরীক্ষার পর নিষ্কাশন করা হয়।

পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী জানান, এ উদ্যোগের ফলে স্বল্প খরচে পরিবেশবান্ধব উপায়ে মানববর্জ্য শোধন সম্ভব হচ্ছে। পরিশোধিত পানি কৃষি ও উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে।

পৌরসভা সূত্রে আরও জানা গেছে, চালুর প্রথম ছয় মাসে এ সেবা থেকে আয় হয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার ২৫০ টাকা। বিপরীতে জ্বালানি, ব্যাটারি, কর্মীদের মজুরি ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৪৮০ টাকা। এতে ব্যয় বাদে উদ্বৃত্ত রয়েছে ১০ হাজার ৭৭০ টাকা।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জনসচেতনতা ও সেবার পরিধি বাড়ানো গেলে পাইকগাছা পৌরসভার এ উদ্যোগ পরিবেশ সুরক্ষা ও আধুনিক নাগরিকসেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।