বরিশালে আইনজীবীর সহকারী (মহুরি) নুরুজ্জামান হাওলাদারকে (৫৫) হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী নাছিমা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, স্বামীর একাধিক নারীর সঙ্গে পরকীয়ার বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে দাম্পত্যকলহ চলছিল। ঘটনার রাতে ঝগড়ার পর নুরুজ্জামান ঘুমিয়ে পড়লে রান্নাঘর থেকে শিল এনে তার মাথায় আঘাত করেন নাছিমা। পরে বালিশ দিয়ে মুখ চেপে ধরে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে এয়ারপোর্ট থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান উপপুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার। এর আগে সোমবার ঢাকার ভাটারা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে নাছিমাকে গ্রেপ্তার করে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) এয়ারপোর্ট থানা-পুলিশ।
মামলার এজাহার ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে নুরুজ্জামান বরিশাল জেলা জজ আদালতে তার কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরেন। ওই রাতে পরকীয়ার বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তার আবারও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে নুরুজ্জামান নাছিমাকে মারধর করে ঘুমিয়ে পড়েন।
পুলিশ জানায়, নুরুজ্জামান ঘুমিয়ে পড়ার পর নাছিমা রান্নাঘর থেকে শিল এনে তার মাথার ডান পাশের ওপরের অংশে সজোরে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে বালিশ দিয়ে মুখ চেপে ধরে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন নাছিমা।
এ ঘটনায় গত ১৫ সেপ্টেম্বর এয়ারপোর্ট থানায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নম্বর-১২) দায়ের করেন নিহতের পরিবারের একজন সদস্য। পুলিশ আরও জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নাছিমার অবস্থান শনাক্ত করার পর ঢাকার ভাটারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নাছিমার সম্পৃক্ততার বিষয়টি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্পষ্ট হয়েছে। তবে ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
বরিশাল ব্যুরো : 









