ঢাকা ০৩:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের শিরোপা উঠল ড্যাফোডিলের হাতে বাইন্যান্সের ইতিহাসে বড় সাইবার হামলা, জড়িত উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা? মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সরকারের কঠিন পরীক্ষা ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি নিশ্চিত করতে হবে হকারদের জীবিকা পুঠিয়ায় তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাস আইসিসিবিতে তিন দিনের কার এক্সপো, থাকছে আধুনিক হাইব্রিড গাড়িও যশোর শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসিতে খুলনার ৬টিসহ ১৬ প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল নীলফামারীতে দাদীর এইচএসসি পাস, নাতনির চোখে অনুপ্রেরণা ক্রেতাশূন্য ঢাকার শপিংমল, লোকসানে দিশেহারা ব্যবসায়ীরা পূর্বাচলে অবৈধ আবাসন প্রকল্প চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

রাজনৈতিক নিপীড়ন ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন: ঢাবিতে ১ম স্থান অর্জনকারীর ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ প্রত্যাখ্যান

  • মধুমতি ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : ০৭:৫২:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২২ সময়-দৃশ্য
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) নিজ বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান (১ম) অর্জন করেও মর্যাদাপূর্ণ ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ প্রত্যাখ্যান করেছেন এক প্রাক্তন শিক্ষার্থী। চার বছরের স্নাতক জীবনে কঠোর পরিশ্রম ও সর্বোচ্চ ফল অর্জনের পরও ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হওয়া রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং প্রশাসনের নীরব ভূমিকার প্রতিবাদে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
​বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত এই শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে নিজের সিদ্ধান্ত ও ক্ষোভের কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা পাওয়া তাঁর জন্য একটি স্বপ্নের মতো ছিল। তবে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি শিক্ষার্থীদের অধিকার ও নৈতিক দায়বদ্ধতার চেয়ে বড় হতে পারে না।
​বিবৃতিতে ওই শিক্ষার্থী জানান, ২০২৪ সালে কোনো ধরণের সহিংসতার সাথে জড়িত না থাকা সত্ত্বেও কেবল রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তিনি নিজ ক্যাম্পাসে মব আক্রমণের শিকার হন। তাঁকে ফাইনাল ভাইভা প্রদান ও থিসিস জমায় বাধা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিভাগের কয়েকজন শিক্ষকের সহায়তায় অনলাইনে ফাইনাল ভাইভা দিয়ে তাঁকে স্নাতক সম্পন্ন করতে হয়।
​তিনি আরও বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে হার্ভার্ডে এসে নিজের পড়াশোনা গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী একই ধরনের রাজনৈতিক ও মতাদর্শিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আজও শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ও অধিকার থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। তোফাজ্জল, মাসুদ ও শামীমসহ ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া সহিংশতার দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এড়াতে পারে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
​আক্রান্ত ও অধিকারবঞ্চিত সহপাঠীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে এই শিক্ষার্থী জানান, “যে প্রশাসন হাজার হাজার শিক্ষার্থীর জীবন ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস হতে দেখেও নীরব ভূমিকা পালন করেছে, সেই প্রশাসনের হাত থেকে কোনো পুরষ্কার গ্রহণ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।”
​এই সাহসী প্রতিবাদ ও সিদ্ধান্ত প্রকাশ পাওয়ার পর ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সর্বস্তরের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক আলোচনা ও আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

danik madhumati

এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের শিরোপা উঠল ড্যাফোডিলের হাতে

রাজনৈতিক নিপীড়ন ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন: ঢাবিতে ১ম স্থান অর্জনকারীর ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ প্রত্যাখ্যান

আপডেটের সময় : ০৭:৫২:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) নিজ বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান (১ম) অর্জন করেও মর্যাদাপূর্ণ ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ প্রত্যাখ্যান করেছেন এক প্রাক্তন শিক্ষার্থী। চার বছরের স্নাতক জীবনে কঠোর পরিশ্রম ও সর্বোচ্চ ফল অর্জনের পরও ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হওয়া রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং প্রশাসনের নীরব ভূমিকার প্রতিবাদে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
​বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত এই শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে নিজের সিদ্ধান্ত ও ক্ষোভের কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা পাওয়া তাঁর জন্য একটি স্বপ্নের মতো ছিল। তবে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি শিক্ষার্থীদের অধিকার ও নৈতিক দায়বদ্ধতার চেয়ে বড় হতে পারে না।
​বিবৃতিতে ওই শিক্ষার্থী জানান, ২০২৪ সালে কোনো ধরণের সহিংসতার সাথে জড়িত না থাকা সত্ত্বেও কেবল রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তিনি নিজ ক্যাম্পাসে মব আক্রমণের শিকার হন। তাঁকে ফাইনাল ভাইভা প্রদান ও থিসিস জমায় বাধা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিভাগের কয়েকজন শিক্ষকের সহায়তায় অনলাইনে ফাইনাল ভাইভা দিয়ে তাঁকে স্নাতক সম্পন্ন করতে হয়।
​তিনি আরও বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে হার্ভার্ডে এসে নিজের পড়াশোনা গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী একই ধরনের রাজনৈতিক ও মতাদর্শিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আজও শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ও অধিকার থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। তোফাজ্জল, মাসুদ ও শামীমসহ ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া সহিংশতার দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এড়াতে পারে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
​আক্রান্ত ও অধিকারবঞ্চিত সহপাঠীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে এই শিক্ষার্থী জানান, “যে প্রশাসন হাজার হাজার শিক্ষার্থীর জীবন ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস হতে দেখেও নীরব ভূমিকা পালন করেছে, সেই প্রশাসনের হাত থেকে কোনো পুরষ্কার গ্রহণ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।”
​এই সাহসী প্রতিবাদ ও সিদ্ধান্ত প্রকাশ পাওয়ার পর ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সর্বস্তরের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক আলোচনা ও আলোড়ন তৈরি হয়েছে।