ঢাকা ০৪:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের শিরোপা উঠল ড্যাফোডিলের হাতে বাইন্যান্সের ইতিহাসে বড় সাইবার হামলা, জড়িত উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা? মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সরকারের কঠিন পরীক্ষা ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি নিশ্চিত করতে হবে হকারদের জীবিকা পুঠিয়ায় তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাস আইসিসিবিতে তিন দিনের কার এক্সপো, থাকছে আধুনিক হাইব্রিড গাড়িও যশোর শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসিতে খুলনার ৬টিসহ ১৬ প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল নীলফামারীতে দাদীর এইচএসসি পাস, নাতনির চোখে অনুপ্রেরণা ক্রেতাশূন্য ঢাকার শপিংমল, লোকসানে দিশেহারা ব্যবসায়ীরা পূর্বাচলে অবৈধ আবাসন প্রকল্প চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

শতবর্ষী বৃদ্ধার স্বপ্নপূরণ: নতুন ঘর পেলেন রামপালের সখিনা বেগম

​
শতবর্ষ পার করা সখিনা বেগম দীর্ঘদিন ধরেই জরাজীর্ণ একটি ঘরে চরম ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। শেষ বয়সে এসেও মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ আশ্রয়ের স্বপ্ন দেখতে ছিলেন ওই বৃদ্ধা। অবশেষে মহান আল্লাহর হুকুমে ১০১ বছর বয়সে এসে তাঁর সেই দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ হলো। ‘ইরামন ফাউন্ডেশন’ এর সহায়তায় মাথা গোঁজার একটি নতুন টিনসেড ঘর পেলেন সখিনা বেগম।
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামপাল উপজেলার মানিকনগর পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা সখিনা বেগমের জরাজীর্ণ ঘরের চিত্র সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে উঠে আসে। বিষয়টি নজরে আসে সমাজসেবক আকবর হায়দার মুন্নার। তিনি আশিক নামের এক স্বেচ্ছাসেবীকে নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের অনুরোধ জানান। পরবর্তীতে সখিনা বেগমের নাতি এবং স্থানীয় সাংবাদিক ও প্রেসক্লাব রামপাল এর সদস্য সচিব মেহেদী হাসানের সহযোগিতায় বৃদ্ধার জরাজীর্ণ ঘরের করুণ বাস্তব চিত্র দেখতে পান। ঘরের নাজুক অবস্থা দেখে অবিলম্বে বৃদ্ধার পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় মানবসেবামূলক সংস্থা ইরামন ফাউন্ডেশন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে আকবর হায়দার মুন্না ঘর নির্মাণের সম্পূর্ণ খরচ বহনের আশ্বাস দেন।
​পরবর্তীতে স্থানীয় সাংবাদিক মেহেদী হাসানের তত্ত্বাবধানে গত ৯ আগস্ট শুরু হয় ঘর নির্মাণের কাজ। এক মাসের প্রচেষ্টায় গত ৯ সেপ্টেম্বর সুন্দর ও নিরাপদ একটি নতুন ঘর হস্তান্তর করা হয় সখিনা বেগমকে। শুধু নতুন ঘরই নয়, সখিনা বেগমের আবদার মেনে ঘরে একটি বৈদ্যুতিক ফ্যানের ব্যবস্থাও করে দেওয়া হয়।
নতুন ঘর পেয়ে আবেগে আপ্লুত বৃদ্ধা সখিনা বেগম বলেন, শেষ বয়সে এসে ভাঙ্গা ঘরে ভিজে-শুকনায় দিন কাটাতে হতো। এখন নতুন ঘর পেয়ে শান্তিতে ঘুমাতে পারব। তিনি ঘর নির্মাণে সহায়তাকারী সকলের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও দোয়া করেন।
উদ্যোক্তারা জানান, মানুষের জন্য করা ছোট্ট উদ্যোগও যে কারো জীবনে কত বড় স্বস্তি এনে দিতে পারে, সখিনা বেগমের এই নতুন ঘর তারই একটি সুন্দর উদাহরণ। সমাজে বিত্তবানরা এভাবে এগিয়ে এলে বহু অসহায় মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘব করা সম্ভব।#
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

danik madhumati

এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের শিরোপা উঠল ড্যাফোডিলের হাতে

শতবর্ষী বৃদ্ধার স্বপ্নপূরণ: নতুন ঘর পেলেন রামপালের সখিনা বেগম

আপডেটের সময় : ১১:৪৬:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
​
শতবর্ষ পার করা সখিনা বেগম দীর্ঘদিন ধরেই জরাজীর্ণ একটি ঘরে চরম ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। শেষ বয়সে এসেও মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ আশ্রয়ের স্বপ্ন দেখতে ছিলেন ওই বৃদ্ধা। অবশেষে মহান আল্লাহর হুকুমে ১০১ বছর বয়সে এসে তাঁর সেই দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ হলো। ‘ইরামন ফাউন্ডেশন’ এর সহায়তায় মাথা গোঁজার একটি নতুন টিনসেড ঘর পেলেন সখিনা বেগম।
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামপাল উপজেলার মানিকনগর পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা সখিনা বেগমের জরাজীর্ণ ঘরের চিত্র সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে উঠে আসে। বিষয়টি নজরে আসে সমাজসেবক আকবর হায়দার মুন্নার। তিনি আশিক নামের এক স্বেচ্ছাসেবীকে নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের অনুরোধ জানান। পরবর্তীতে সখিনা বেগমের নাতি এবং স্থানীয় সাংবাদিক ও প্রেসক্লাব রামপাল এর সদস্য সচিব মেহেদী হাসানের সহযোগিতায় বৃদ্ধার জরাজীর্ণ ঘরের করুণ বাস্তব চিত্র দেখতে পান। ঘরের নাজুক অবস্থা দেখে অবিলম্বে বৃদ্ধার পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় মানবসেবামূলক সংস্থা ইরামন ফাউন্ডেশন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে আকবর হায়দার মুন্না ঘর নির্মাণের সম্পূর্ণ খরচ বহনের আশ্বাস দেন।
​পরবর্তীতে স্থানীয় সাংবাদিক মেহেদী হাসানের তত্ত্বাবধানে গত ৯ আগস্ট শুরু হয় ঘর নির্মাণের কাজ। এক মাসের প্রচেষ্টায় গত ৯ সেপ্টেম্বর সুন্দর ও নিরাপদ একটি নতুন ঘর হস্তান্তর করা হয় সখিনা বেগমকে। শুধু নতুন ঘরই নয়, সখিনা বেগমের আবদার মেনে ঘরে একটি বৈদ্যুতিক ফ্যানের ব্যবস্থাও করে দেওয়া হয়।
নতুন ঘর পেয়ে আবেগে আপ্লুত বৃদ্ধা সখিনা বেগম বলেন, শেষ বয়সে এসে ভাঙ্গা ঘরে ভিজে-শুকনায় দিন কাটাতে হতো। এখন নতুন ঘর পেয়ে শান্তিতে ঘুমাতে পারব। তিনি ঘর নির্মাণে সহায়তাকারী সকলের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও দোয়া করেন।
উদ্যোক্তারা জানান, মানুষের জন্য করা ছোট্ট উদ্যোগও যে কারো জীবনে কত বড় স্বস্তি এনে দিতে পারে, সখিনা বেগমের এই নতুন ঘর তারই একটি সুন্দর উদাহরণ। সমাজে বিত্তবানরা এভাবে এগিয়ে এলে বহু অসহায় মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘব করা সম্ভব।#