প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু বাংলাদেশ সচিবালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে প্রবেশ পাশ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, পুলিশের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের প্রবেশের সুযোগ এবং অনুমোদন ছাড়া প্রবেশ পাশ ইস্যুর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব মো. আব্দুস সাত্তার ২০ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ইস্যু করা সব ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড সংগ্রহ করে যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে ইস্যু করা প্রবেশ পাশের ওটিপিও পরীক্ষা করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবহিত এবং যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে সে বিষয়ে কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের উপকমিশনার মোহাম্মদ মাহমুদুল কবীর বলেন, সমস্যাগুলো স্বরাষ্ট্র সচিবকে জানানো হয়েছে এবং তিনি কিছু পরামর্শ ও কাজের নির্দেশনা দিয়েছেন। সচিবালয়ে দায়িত্বরত গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, গত কয়েক মাসে পুলিশের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কেউ কেউ অবাধে সচিবালয়ে প্রবেশের সুযোগ দিয়েছেন। পর্যবেক্ষণে তারা দেখেছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নন ক্যাডার কর্মকর্তা সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার রাকিবুল হাসান ২৭ সেপ্টেম্বর দুটি প্রবেশপাশ ইস্যু করেছেন, যদিও তার এ ধরনের পাশ ইস্যুর এখতিয়ার নেই। স্থানীয় সরকার বিভাগের নন ক্যাডার কর্মকর্তা সিস্টেম অ্যানালিস্ট মো. শফিকুল ইসলামও ২৮ সেপ্টেম্বর প্রবেশপাশ ইস্যু করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব জাহাঙ্গীর আলম ২৭ সেপ্টেম্বর উপমন্ত্রীর পিএসের নামে প্রবেশপাশ ইস্যু করেছেন, যদিও মন্ত্রিসভায় কোনো উপমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়নি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কোনো কোনো সংসদ সদস্য একান্ত সচিবের নামে পাশ থাকলেও ৬ থেকে ৭ জন নেতাকর্মী নিয়ে সচিবালয়ে প্রবেশ করেন। নিরাপত্তাকর্মীরা যাচাই করতে চাইলে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগও রয়েছে। লিফট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নিয়ম না মানার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে সচিবালয়ের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশের কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রবেশপাশ বিক্রির তথ্য থাকার কথাও বলা হয়েছে। স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকরা তাদের কাছ থেকে পাশ কিনে সচিবালয়ে প্রবেশ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাংবাদিকদের জন্য জাতীয় প্রেস ক্লাবের বিপরীত দিকে তৈরি গেট দিয়ে বয়স্ক ও অসুস্থ সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি ২০২৪ সালের আন্দোলনের কিছু ছাত্রনেতাকে কোনো পাশ ছাড়াই সচিবালয়ে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলেও গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মধুমতি ডেস্ক : 









