ঢাকা ০৩:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের শিরোপা উঠল ড্যাফোডিলের হাতে বাইন্যান্সের ইতিহাসে বড় সাইবার হামলা, জড়িত উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা? মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সরকারের কঠিন পরীক্ষা ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি নিশ্চিত করতে হবে হকারদের জীবিকা পুঠিয়ায় তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাস আইসিসিবিতে তিন দিনের কার এক্সপো, থাকছে আধুনিক হাইব্রিড গাড়িও যশোর শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসিতে খুলনার ৬টিসহ ১৬ প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল নীলফামারীতে দাদীর এইচএসসি পাস, নাতনির চোখে অনুপ্রেরণা ক্রেতাশূন্য ঢাকার শপিংমল, লোকসানে দিশেহারা ব্যবসায়ীরা পূর্বাচলে অবৈধ আবাসন প্রকল্প চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

সরকারি জায়গা ‘গিলে’ বানেশ্বর হাটে অবৈধ পাকা স্থাপনা র্নিমান, নাকাল ক্রেতা-বিক্রেতা

সরকারি জায়গা দখল করে ইট বিছিয়ে পাকা করা হচ্ছে। কোথাও দোকানের সামনে বাড়ানো হয়েছে ব্যবসার পরিসর, কোথাও আবার দখল করা হয়েছে চলাচলের পথের পাশের জায়গা। রাজশাহীর পুঠিয়ার ঐতিহ্যবাহী বানেশ্বর হাটে এমনই অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী কয়েকজনের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের পর দিন এভাবে জায়গা দখল চললেও কার্যকরভাবে বন্ধ করা যাচ্ছে না।
রবিবার (৩০ আগস্ট) বানেশ্বর হাট ঘুরে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাটের বিভিন্ন খোলা জায়গা ও চলাচলের পথের পাশে থাকা সরকারি জায়গা দীর্ঘদিন ধরে দখল করা হচ্ছে। কেউ দোকানের সামনের অংশে ইট বিছিয়ে পাকা করে নিয়েছেন, আবার কেউ সরকারি জায়গার একাংশ নিজেদের ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করছেন। এতে ক্রমশ সংকুচিত হয়ে পড়ছে হাটের উন্মুক্ত জায়গা।
হাটবারে এর প্রভাব পড়ে সবচেয়ে বেশি। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে যখন হাট জমে ওঠে, তখন দখল হয়ে যাওয়া জায়গার কারণে চলাচলের পথ আরও সংকীর্ণ হয়ে পড়ে। সৃষ্টি হয় যানজট ও মানুষের ভোগান্তি। সাধারণ ব্যবসায়ী ও পথচারীদের চলাচলেও দেখা দেয় নানা প্রতিবন্ধকতা।
ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, সরকারি জায়গা দখল করে পাকা স্থাপনা তৈরির প্রবণতা বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে হাটের আরও জায়গা বেদখল হয়ে যেতে পারে। এতে একদিকে যেমন হাটের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে বৈধভাবে ব্যবসা করা ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
বানেশ্বর হাটের ইজারাদার রাসেল সরকার বলেন, “হাটের জায়গা দখল ও পাকা করার বিষয়টি আমরা আগেও অনেক বার উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু দখল পুরোপুরি প্রতিরোধ করা যায়নি। হাটের বেশির ভাগ জায়গাই দখল হয়ে গেছে। এ বিষয়ে আমরা অনেকটাই নিরুপায়।”
স্থানীয়দের দাবি, হাটের সরকারি জায়গার সীমানা দ্রুত নির্ধারণ করে কোথায় কতটুকু দখল হয়েছে তা সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হোক। একই সঙ্গে সরকারি জায়গায় নির্মিত অবৈধ পাকা স্থাপনা উচ্ছেদ করে হাটের জায়গা দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান বলেন, “হাটের অবৈধ জায়গা দখলের বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি এমনটা হয়ে থাকে, তাহলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের বক্তব্য, বানেশ্বর হাটের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী হাটে সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগ হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। দ্রুত তদন্ত করে দখলের প্রকৃত চিত্র বের করার পাশাপাশি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা না হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। #

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

dainik madhumati

এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের শিরোপা উঠল ড্যাফোডিলের হাতে

সরকারি জায়গা ‘গিলে’ বানেশ্বর হাটে অবৈধ পাকা স্থাপনা র্নিমান, নাকাল ক্রেতা-বিক্রেতা

আপডেটের সময় : ০৫:২৪:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

সরকারি জায়গা দখল করে ইট বিছিয়ে পাকা করা হচ্ছে। কোথাও দোকানের সামনে বাড়ানো হয়েছে ব্যবসার পরিসর, কোথাও আবার দখল করা হয়েছে চলাচলের পথের পাশের জায়গা। রাজশাহীর পুঠিয়ার ঐতিহ্যবাহী বানেশ্বর হাটে এমনই অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী কয়েকজনের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের পর দিন এভাবে জায়গা দখল চললেও কার্যকরভাবে বন্ধ করা যাচ্ছে না।
রবিবার (৩০ আগস্ট) বানেশ্বর হাট ঘুরে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাটের বিভিন্ন খোলা জায়গা ও চলাচলের পথের পাশে থাকা সরকারি জায়গা দীর্ঘদিন ধরে দখল করা হচ্ছে। কেউ দোকানের সামনের অংশে ইট বিছিয়ে পাকা করে নিয়েছেন, আবার কেউ সরকারি জায়গার একাংশ নিজেদের ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করছেন। এতে ক্রমশ সংকুচিত হয়ে পড়ছে হাটের উন্মুক্ত জায়গা।
হাটবারে এর প্রভাব পড়ে সবচেয়ে বেশি। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে যখন হাট জমে ওঠে, তখন দখল হয়ে যাওয়া জায়গার কারণে চলাচলের পথ আরও সংকীর্ণ হয়ে পড়ে। সৃষ্টি হয় যানজট ও মানুষের ভোগান্তি। সাধারণ ব্যবসায়ী ও পথচারীদের চলাচলেও দেখা দেয় নানা প্রতিবন্ধকতা।
ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, সরকারি জায়গা দখল করে পাকা স্থাপনা তৈরির প্রবণতা বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে হাটের আরও জায়গা বেদখল হয়ে যেতে পারে। এতে একদিকে যেমন হাটের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে বৈধভাবে ব্যবসা করা ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
বানেশ্বর হাটের ইজারাদার রাসেল সরকার বলেন, “হাটের জায়গা দখল ও পাকা করার বিষয়টি আমরা আগেও অনেক বার উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু দখল পুরোপুরি প্রতিরোধ করা যায়নি। হাটের বেশির ভাগ জায়গাই দখল হয়ে গেছে। এ বিষয়ে আমরা অনেকটাই নিরুপায়।”
স্থানীয়দের দাবি, হাটের সরকারি জায়গার সীমানা দ্রুত নির্ধারণ করে কোথায় কতটুকু দখল হয়েছে তা সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হোক। একই সঙ্গে সরকারি জায়গায় নির্মিত অবৈধ পাকা স্থাপনা উচ্ছেদ করে হাটের জায়গা দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান বলেন, “হাটের অবৈধ জায়গা দখলের বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি এমনটা হয়ে থাকে, তাহলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের বক্তব্য, বানেশ্বর হাটের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী হাটে সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগ হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। দ্রুত তদন্ত করে দখলের প্রকৃত চিত্র বের করার পাশাপাশি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা না হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। #