ঢাকা ০৮:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
রামপালের ভাগা রেলস্টেশন চালুর দাবীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন সড়কজুড়ে দোকান, ফুটপাতেও দখল—মাদানী অ্যাভিনিউয়ে দুর্ভোগ খুলনায় নতুন নগদ অ্যাপ-লঞ্চিং উপলক্ষে রহমানিয়া কমিউনিকেশন ডিস্ট্রিবিউশন হাউজের র‌্যালি ও আলোচনা সভা কালিয়ায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমে দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহ বিষয়ে প্রেস কনফারেন্স কালিয়ার নবগঙ্গা নদীতে অভিযান, ৬ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ বড়দিয়া বাজার রক্ষায় কার্যক্রম শুরু পুঠিয়ায় দুর্যোগ মোকাবিলায় মহড়া ও র‍্যালি কুষ্টিয়ায় নতুন সংসার পাকিস্তানি যুবকের বেহেশতের কথা বলে যারা ভোট নিয়েছে তারা কোথায় : বিএনপি নেতা সোমনাথ দে সাতক্ষীরায় কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় নারীসহ আহত-৩

বড়দিয়া বাজার রক্ষায় কার্যক্রম শুরু

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী বড়দিয়া বাজার রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছেন নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম। ভয়াবহ নদীভাঙনে দোকানপাট, গুদামঘর ও খেয়াঘাটের অংশ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পর তাঁর উদ্যোগে ভাঙনকবলিত এলাকায় প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসতভিটা হারানোর আশঙ্কায় থাকা এলাকাবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে বড়দিয়া বাজারের ভয়াবহ নদীভাঙনের চিত্র প্রকাশের পর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মহলে গুরুত্ব পায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে উদ্যোগী হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ১৬ জন ব্যবসায়ীকে প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি ভাঙন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ফেলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে ভাঙনকবলিত এলাকায় প্রতিরোধকাজের প্রস্তুতি ও কার্যক্রম চলতে দেখা যায়। গত রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে বড়দিয়া খেয়াঘাটের পশ্চিম পাশে ব্লক দিয়ে বাঁধানো এলাকার প্রায় ৪০ হাত নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এ সময় চার থেকে পাঁচটি চায়ের দোকান ও দুটি গুদামঘর তলিয়ে যায়। পরদিন সোমবার (১২ অক্টোবর) খেয়াঘাট এলাকার আরও কিছু অংশ ভেঙে পড়ে এবং তিন থেকে চারটি গুদামঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে নদীভাঙনে বাজারের আরও স্থাপনা বিলীন হতে পারে। বাজারটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু পরিবারের জীবিকা ও আশপাশের গ্রামের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। বাজারের ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ জিন্নাতুল ইসলাম। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের দুর্দশার খোঁজখবর নেন। এ সময় ১৬ জন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীকে প্রণোদনা দেওয়া হয়।

ইউএনও জানান, দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। নদীভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সংসদ সদস্যের জরুরি পদক্ষেপ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অতীতে ভয়াবহ নদীভাঙনে বড়দিয়া বাজারের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছিল। পরে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে বাজারটি আবার ঘুরে দাঁড়ায়। নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায় সেই পুরোনো সংকট ফিরে এসেছে।

বড়দিয়া বাজারে রয়েছে বহুতল ভবন, মসজিদ, মাদ্রাসা, ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠান, এনজিও, কলেজসহ চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বাজারটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ব্যবসা-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্থানীয় জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে।

এলাকাবাসী মনে করছেন, সংসদ সদস্যের জরুরি পদক্ষেপ এবং ভাঙন প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম তাঁদের মধ্যে নতুন আশার আলো দেখিয়েছে। তবে শুধু সাময়িক প্রতিরোধ নয়, বাজারের অস্তিত্ব রক্ষায় ঝুঁকিপূর্ণ নদীতীরে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, প্রয়োজনীয় কারিগরি সমীক্ষা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

তাঁদের প্রত্যাশা, চলমান কার্যক্রম দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে। নদীভাঙনের ছোবল থেকে রক্ষা পাবে শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী বড়দিয়া বাজার, নিরাপদ হবে ব্যবসায়ীদের জীবিকা এবং টিকে থাকবে একটি জনপদের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

danik madhumati

জনপ্রিয় পোস্ট

রামপালের ভাগা রেলস্টেশন চালুর দাবীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন

বড়দিয়া বাজার রক্ষায় কার্যক্রম শুরু

আপডেটের সময় : ০৭:০৯:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী বড়দিয়া বাজার রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছেন নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম। ভয়াবহ নদীভাঙনে দোকানপাট, গুদামঘর ও খেয়াঘাটের অংশ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পর তাঁর উদ্যোগে ভাঙনকবলিত এলাকায় প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসতভিটা হারানোর আশঙ্কায় থাকা এলাকাবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে বড়দিয়া বাজারের ভয়াবহ নদীভাঙনের চিত্র প্রকাশের পর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মহলে গুরুত্ব পায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে উদ্যোগী হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ১৬ জন ব্যবসায়ীকে প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি ভাঙন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ফেলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে ভাঙনকবলিত এলাকায় প্রতিরোধকাজের প্রস্তুতি ও কার্যক্রম চলতে দেখা যায়। গত রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে বড়দিয়া খেয়াঘাটের পশ্চিম পাশে ব্লক দিয়ে বাঁধানো এলাকার প্রায় ৪০ হাত নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এ সময় চার থেকে পাঁচটি চায়ের দোকান ও দুটি গুদামঘর তলিয়ে যায়। পরদিন সোমবার (১২ অক্টোবর) খেয়াঘাট এলাকার আরও কিছু অংশ ভেঙে পড়ে এবং তিন থেকে চারটি গুদামঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে নদীভাঙনে বাজারের আরও স্থাপনা বিলীন হতে পারে। বাজারটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু পরিবারের জীবিকা ও আশপাশের গ্রামের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। বাজারের ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ জিন্নাতুল ইসলাম। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের দুর্দশার খোঁজখবর নেন। এ সময় ১৬ জন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীকে প্রণোদনা দেওয়া হয়।

ইউএনও জানান, দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। নদীভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সংসদ সদস্যের জরুরি পদক্ষেপ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অতীতে ভয়াবহ নদীভাঙনে বড়দিয়া বাজারের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছিল। পরে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে বাজারটি আবার ঘুরে দাঁড়ায়। নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায় সেই পুরোনো সংকট ফিরে এসেছে।

বড়দিয়া বাজারে রয়েছে বহুতল ভবন, মসজিদ, মাদ্রাসা, ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠান, এনজিও, কলেজসহ চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বাজারটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ব্যবসা-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্থানীয় জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে।

এলাকাবাসী মনে করছেন, সংসদ সদস্যের জরুরি পদক্ষেপ এবং ভাঙন প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম তাঁদের মধ্যে নতুন আশার আলো দেখিয়েছে। তবে শুধু সাময়িক প্রতিরোধ নয়, বাজারের অস্তিত্ব রক্ষায় ঝুঁকিপূর্ণ নদীতীরে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, প্রয়োজনীয় কারিগরি সমীক্ষা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

তাঁদের প্রত্যাশা, চলমান কার্যক্রম দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে। নদীভাঙনের ছোবল থেকে রক্ষা পাবে শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী বড়দিয়া বাজার, নিরাপদ হবে ব্যবসায়ীদের জীবিকা এবং টিকে থাকবে একটি জনপদের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা।