ঢাকা ০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
জাতিসংঘে তাৎপর্যপূর্ণ ভাষণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক পদক্ষেপ জোরদারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চায়: প্রধানমন্ত্রী দিঘলিয়ায় দুইদিন ব্যাপী মতুয়া মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত কপিলমুনির সহচরী বিদ্যামন্দিরের ম্যানেজিং কমিটি গঠন : সভাপতি জেলা প্রশাসক ইসলামী আন্দোলন ১৮ নং ওয়ার্ড সভাপতি মুকুল ও সেক্রেটারী আঃ রহিম ডিসেম্বরে দেশে ফেরার যে বার্তা হাসিনা দিচ্ছেন, তা কেবলই দুঃস্বপ্ন হয়ে থাকবে : মহানগর সাধারণ সম্পাদক তুহিন জুলাই সনদ নিয়ে চলছে মায়াকান্না: আজিজুল বারী হেলাল চার সাংবাদিকের পরিবারের হাতে ২০ লাখ টাকার সহায়তা তুলে দিল এবিজি খুলনায় সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়ন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার আহ্বান পিআইবি মহাপরিচালকের

ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে সিএনএনসহ তিন সংবাদ মাধ্যমের মামলা, ট্রাম্পের ভিডিও করবে না ৫ টেলিভিশন

হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার ফিরে পেতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাউ। এই তিন সংবাদমাধ্যমের অভিযোগ, হোয়াইট হাউসে তাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার মধ্য দিয়ে ট্রাম্প মার্কিন সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। মামলাটি সোমবার সকালে ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট আদালতে করা হয়। ট্রাম্পের জাতিসংঘ অধিবেশনে যাওয়ার ভিডিও করার দায়িত্ব ছিল সিএনএনের ওপর। কিন্তু সোমবার হোয়াইট হাউস সিএনএনকে ওই দল থেকে বের করে দেয়। জবাবে ফক্স নিউজসহ পাঁচটি বড় চ্যানেল একজোট হয়ে এক চিঠিতে জানিয়ে দেয়, সিএনএনকে অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়ায় কোনো চ্যানেলই ট্রাম্পের কোনো অনুষ্ঠানের ভিডিও করবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শুক্রবার এই তিন সংবাদমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, এসব সংবাদমাধ্যমের নেতিবাচক প্রতিবেদনে তিনি বিরক্ত। পরদিন শনিবার তিনটি প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলোর হোয়াইট হাউস প্রতিনিধিদের পুলের প্রতিনিধিত্ব থেকেও সিএনএনকে বাদ দেওয়া হয়।

এমন পরিস্থিতিতে তিন সংবাদমাধ্যম এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, ‘কোনো নোটিশ না দিয়ে বা প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই হোয়াইট হাউস আমাদের সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র বাতিল করেছে। কারণ, তারা আমাদের প্রতিবেদন পছন্দ করেনি। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ না করলে তা সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা ও সরকারের হস্তক্ষেপমুক্ত স্বাধীন সাংবাদিকতা করার ক্ষেত্রে জনগণের অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলবে।’

বিবৃতিতে সংবাদ মাধ্যমগুলো আরও বলেছে, মঙ্গলবার মামলা করার বিষয়টি তারা সরকারকে জানিয়েছে। মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে স্বাধীন সংবাদ মাধ্যমের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। সংবাদ মাধ্যম কী প্রতিবেদন করবে, তা সরকার নির্ধারণ করে দিতে পারে না। প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী সংবাদ মাধ্যমের অধিকার রক্ষা এবং এ নীতি প্রতিষ্ঠার জন্যই মামলাটি করা হয়েছে। মামলা ও ট্রাম্পের ওই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার এক আবেদনে বাদীপক্ষ যুক্তি দিয়েছে, হোয়াইট হাউস সংবাদ সংগ্রহের জন্য সাংবাদিকদের সেখানে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে। তাই শুধু ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ বা দৃষ্টিভঙ্গির অজুহাতে সেই বিশেষ অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না।

এর আগে এ ধরনের মামলায় আদালতের রায় বাদীদের পক্ষেই গিয়েছিল। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে সিএনএনের জিম অ্যাকোস্টা ও প্লেবয় ম্যাগাজিনের ব্রায়ান কারেম নামের দুই সাংবাদিককে হোয়াইট হাউস থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। ট্রাম্পের যুক্তি ছিল, তাঁরা তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে ‘ভুয়া খবর’ লিখছেন। ওই দুই সাংবাদিক তখন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। আদালত রায় দেন, প্রেসিডেন্ট চাইলেই তাঁর অপছন্দের খবর লেখার অপরাধে সাংবাদিকদের কার্ড কেড়ে নিতে পারেন না। আদালত হোয়াইট হাউসকে তাঁদের কার্ড ফিরিয়ে দিতে বাধ্য করেন। হোয়াইট হাউসে সব চ্যানেলের ক্যামেরা একসঙ্গে ঢুকতে পারে না। তাই নিয়ম হলো, প্রধান পাঁচটি চ্যানেল, ফক্স নিউজ, এবিসি, সিবিএস, এনবিসি ও সিএনএন, মিলে একটি দল বা পুল তৈরি করে। একেক দিন একেক চ্যানেলের ক্যামেরাম্যান ট্রাম্পের ভিডিও ধারণ করেন এবং সেই ফুটেজ বাকি সব চ্যানেলকে দেন। ট্রাম্পের জাতিসংঘের অধিবেশনে যাওয়ার ভিডিও করার দায়িত্ব ছিল সিএনএনের ওপর। কিন্তু সোমবার হোয়াইট হাউস সিএনএনকে ওই দল থেকে বের করে দেয়। জবাবে ফক্স নিউজসহ বাকি চারটি বড় চ্যানেল একজোট হয়ে জানিয়ে দেয়, সিএনএনকে অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়ায় কোনো চ্যানেলই ট্রাম্পের কোনো অনুষ্ঠানের ভিডিও করবে না।

এদিকে মামলার খবর শুনে ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, ‘হোয়াইট হাউস স্বাধীন সংবাদ মাধ্যমের ওপর কোনো আক্রমণ চালাচ্ছে না, যা আমি লালন করি। এটি ভুয়া খবরের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। আমাদের প্রিয় যুক্তরাষ্ট্রে ভুয়া খবর ক্যানসারের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। এটি দুর্নীতিগ্রস্ত, উদ্দেশ্য প্রণোদিত, সর্বব্যাপী, পুরোপুরি সমন্বিত ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এটি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তাই এটি এখনই বন্ধ করতে হবে!’ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নাইট ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট ইনস্টিটিউট সোমবার জানিয়েছে, তারা সংবাদ মাধ্যমগুলোর করা মামলায় সমর্থন করবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

danik madhumati

জনপ্রিয় পোস্ট

জাতিসংঘে তাৎপর্যপূর্ণ ভাষণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন

ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে সিএনএনসহ তিন সংবাদ মাধ্যমের মামলা, ট্রাম্পের ভিডিও করবে না ৫ টেলিভিশন

আপডেটের সময় : ০৭:২৬:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার ফিরে পেতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাউ। এই তিন সংবাদমাধ্যমের অভিযোগ, হোয়াইট হাউসে তাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার মধ্য দিয়ে ট্রাম্প মার্কিন সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। মামলাটি সোমবার সকালে ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট আদালতে করা হয়। ট্রাম্পের জাতিসংঘ অধিবেশনে যাওয়ার ভিডিও করার দায়িত্ব ছিল সিএনএনের ওপর। কিন্তু সোমবার হোয়াইট হাউস সিএনএনকে ওই দল থেকে বের করে দেয়। জবাবে ফক্স নিউজসহ পাঁচটি বড় চ্যানেল একজোট হয়ে এক চিঠিতে জানিয়ে দেয়, সিএনএনকে অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়ায় কোনো চ্যানেলই ট্রাম্পের কোনো অনুষ্ঠানের ভিডিও করবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শুক্রবার এই তিন সংবাদমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, এসব সংবাদমাধ্যমের নেতিবাচক প্রতিবেদনে তিনি বিরক্ত। পরদিন শনিবার তিনটি প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলোর হোয়াইট হাউস প্রতিনিধিদের পুলের প্রতিনিধিত্ব থেকেও সিএনএনকে বাদ দেওয়া হয়।

এমন পরিস্থিতিতে তিন সংবাদমাধ্যম এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, ‘কোনো নোটিশ না দিয়ে বা প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই হোয়াইট হাউস আমাদের সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র বাতিল করেছে। কারণ, তারা আমাদের প্রতিবেদন পছন্দ করেনি। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ না করলে তা সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা ও সরকারের হস্তক্ষেপমুক্ত স্বাধীন সাংবাদিকতা করার ক্ষেত্রে জনগণের অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলবে।’

বিবৃতিতে সংবাদ মাধ্যমগুলো আরও বলেছে, মঙ্গলবার মামলা করার বিষয়টি তারা সরকারকে জানিয়েছে। মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে স্বাধীন সংবাদ মাধ্যমের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। সংবাদ মাধ্যম কী প্রতিবেদন করবে, তা সরকার নির্ধারণ করে দিতে পারে না। প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী সংবাদ মাধ্যমের অধিকার রক্ষা এবং এ নীতি প্রতিষ্ঠার জন্যই মামলাটি করা হয়েছে। মামলা ও ট্রাম্পের ওই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার এক আবেদনে বাদীপক্ষ যুক্তি দিয়েছে, হোয়াইট হাউস সংবাদ সংগ্রহের জন্য সাংবাদিকদের সেখানে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে। তাই শুধু ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ বা দৃষ্টিভঙ্গির অজুহাতে সেই বিশেষ অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না।

এর আগে এ ধরনের মামলায় আদালতের রায় বাদীদের পক্ষেই গিয়েছিল। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে সিএনএনের জিম অ্যাকোস্টা ও প্লেবয় ম্যাগাজিনের ব্রায়ান কারেম নামের দুই সাংবাদিককে হোয়াইট হাউস থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। ট্রাম্পের যুক্তি ছিল, তাঁরা তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে ‘ভুয়া খবর’ লিখছেন। ওই দুই সাংবাদিক তখন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। আদালত রায় দেন, প্রেসিডেন্ট চাইলেই তাঁর অপছন্দের খবর লেখার অপরাধে সাংবাদিকদের কার্ড কেড়ে নিতে পারেন না। আদালত হোয়াইট হাউসকে তাঁদের কার্ড ফিরিয়ে দিতে বাধ্য করেন। হোয়াইট হাউসে সব চ্যানেলের ক্যামেরা একসঙ্গে ঢুকতে পারে না। তাই নিয়ম হলো, প্রধান পাঁচটি চ্যানেল, ফক্স নিউজ, এবিসি, সিবিএস, এনবিসি ও সিএনএন, মিলে একটি দল বা পুল তৈরি করে। একেক দিন একেক চ্যানেলের ক্যামেরাম্যান ট্রাম্পের ভিডিও ধারণ করেন এবং সেই ফুটেজ বাকি সব চ্যানেলকে দেন। ট্রাম্পের জাতিসংঘের অধিবেশনে যাওয়ার ভিডিও করার দায়িত্ব ছিল সিএনএনের ওপর। কিন্তু সোমবার হোয়াইট হাউস সিএনএনকে ওই দল থেকে বের করে দেয়। জবাবে ফক্স নিউজসহ বাকি চারটি বড় চ্যানেল একজোট হয়ে জানিয়ে দেয়, সিএনএনকে অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়ায় কোনো চ্যানেলই ট্রাম্পের কোনো অনুষ্ঠানের ভিডিও করবে না।

এদিকে মামলার খবর শুনে ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, ‘হোয়াইট হাউস স্বাধীন সংবাদ মাধ্যমের ওপর কোনো আক্রমণ চালাচ্ছে না, যা আমি লালন করি। এটি ভুয়া খবরের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। আমাদের প্রিয় যুক্তরাষ্ট্রে ভুয়া খবর ক্যানসারের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। এটি দুর্নীতিগ্রস্ত, উদ্দেশ্য প্রণোদিত, সর্বব্যাপী, পুরোপুরি সমন্বিত ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এটি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তাই এটি এখনই বন্ধ করতে হবে!’ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নাইট ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট ইনস্টিটিউট সোমবার জানিয়েছে, তারা সংবাদ মাধ্যমগুলোর করা মামলায় সমর্থন করবে।