ঢাকা ০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
জাতিসংঘে তাৎপর্যপূর্ণ ভাষণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক পদক্ষেপ জোরদারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চায়: প্রধানমন্ত্রী দিঘলিয়ায় দুইদিন ব্যাপী মতুয়া মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত কপিলমুনির সহচরী বিদ্যামন্দিরের ম্যানেজিং কমিটি গঠন : সভাপতি জেলা প্রশাসক ইসলামী আন্দোলন ১৮ নং ওয়ার্ড সভাপতি মুকুল ও সেক্রেটারী আঃ রহিম ডিসেম্বরে দেশে ফেরার যে বার্তা হাসিনা দিচ্ছেন, তা কেবলই দুঃস্বপ্ন হয়ে থাকবে : মহানগর সাধারণ সম্পাদক তুহিন জুলাই সনদ নিয়ে চলছে মায়াকান্না: আজিজুল বারী হেলাল চার সাংবাদিকের পরিবারের হাতে ২০ লাখ টাকার সহায়তা তুলে দিল এবিজি খুলনায় সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়ন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার আহ্বান পিআইবি মহাপরিচালকের

উপকুলের লবণাক্ত জমিতে সোনালি আমড়ার বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি, বাগেরহাটের সুস্বাদু আমড়া যাচ্ছে বিদেশেও    

  • ষ্টাফ রিপোর্টার :
  • আপডেটের সময় : ০৯:০৬:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১ সময়-দৃশ্য

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল মৎস্যভান্ডার নামে খ্যাতবিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের উপকূলের বাগেরহাটের নয়টি উপজেলা ও ৩টি পৌরসভার  লবণাক্ত জমিতে আমড়ার বাম্পার ফলন রপ্তানি হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ।সুস্বাদু আমড়ার খ্যাতি দেশজুড়ে পুষ্টিকর ফল আমড়ার চাহিদা দিন দিনই বাড়ছে। মৌসুমে বাজার ছাড়াও পথে পথে প্রচুর বিক্রি হয় এই আমড়া। এটি একটি অর্থকরী ফল হিসেবেও নিজের জায়গা করে নিয়েছে। ফলে বেড়ে গেছে আমড়ার চাষ ও উৎপাদন।পদ্মা সেতু পেরিয়ে দ্রুত দেশের বিভিন্ন এলকায় রপ্তানি করতে পারছেন বলে দামও পাচ্ছে ভালো। যেকারণে আমড়াচাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে।
বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জে লবণাক্ত জমিতে  আমড়ার সুনাম দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে ভালো লাভবান হচ্ছেন বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ব্যবসায়ীরা। জেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, জেলায় এবছর৪০০ হেক্টর জমিতে আমড়ার উৎপাদন হয়েছে ৯হাজার টন। কৃষি অফিসের দাবি সামনের বছর আমড়ার ফলন আরো বেড়ে যাবে, সেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, বাগেরহাট জেলায় নয়টি উপজেলা ও ৩টি পৌরসভার  বিভিন্ন গ্রামের নিজ জমিতে আমড়ার চাষ হচ্ছে।  সু-স্বাদু আমড়ার দেশজুড়ে খ্যাতি রয়েছে। বর্ষা মৌসুমের এই ফলটি স্থানীয় বহু মানুষের আয়ের অন্যতম উৎস।বাগেরহাটের এ জেলার উৎপাদিত আমড়া শুধু ঢাকা নয় দেশের প্রায় সব জেলায় সরবরাহ করা হয়। দিন দিন এর চাহিদা বেড়েই চলছে। আমড়া ব্যবসায়ীরা বলছেন, পদ্মাসেতু চালুর ফলে রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়েছে। সেই সঙ্গে টাটকা ফলমূল তিন থেকে চার ঘণ্টার ব্যবধানে পৌঁছে যাচ্ছে ঢাকাসহ বড় বড় শহরে। আর এতে ভালো লাভ হচ্ছেন আমড়াচাষি ও ব্যাপারিরা।

বাগেরহাটের আবহাওয়া ও জলবায়ু আমড়া চাষের উপযোগী। ফলে আমড়ার উৎপাদনও হয় বেশ ভালো। এখানকার আমড়া আকারে অনেকটা বড়, খেতেও বেশ সুস্বাদু। মানভেদে প্রতিটি গাছের ফল বিক্রি হয় তিন থেকে ছয় হাজার টাকায়। অন্যদিকে তেমন কোনো পরিচর্যা ও সার-কীটনাশক ছাড়াই এর ফলন পাওয়া যায়। মৌসুমে বাজার ছাড়াও পথে পথে প্রচুর বিক্রি হয় আমড়া। আমড়া অর্থকরী ফল হিসেবেও নিজের জায়গা করে নিয়েছে এই জেলায়। ফলে আমড়া চাষে কৃষকের আগ্রহ দিন দিন বেড়েই চলছে। জেলায় বেড়ে গেছে চাষ ও উৎপাদন। এদিকে পদ্মাসেতু চালুর পর থেকেই বাগেরহাট অঞ্চলের কৃষিপণ্য সরবরাহে সহজলভ্য হয়েছে। খুব অল্প সময়ে টাটকা কৃষিপণ্য পৌঁছে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। বাম্ফার ফলন হওয়ায় শতশত কৃষকের ভাগ্য বদলের পাশা-পাশি তারা অর্থনৈতিক ভাবে আগের চেয়ে অনেক স্বাবলম্বী হয়েছেন। শুধু তাই নয়, এই অঞ্চল অর্থনৈতিক ভাবে সম্মৃদ্ধ হতে সক্ষম হয়েছে।
ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ ফল আমড়ার ইংরেজী নাম গোল্ডেন অ্যাপেল। বিভিন্ন ল ঘাট, ফেরিঘাট, বাসে আর রাজধানীর ব্যস্তম সড়কের সর্বত্রই প্রতিনিয়ত হকারদের ডাক শোনা যায় ‘লাগবে  আমড়া’। এলাকায় এমন কোনো বাড়ি পাওয়া যাবে না যে বাড়িতে কম করে হলেও একটি আমড়া গাছ নেই। রাস্তার পাশে বাড়ির উঠোনে একটি আমড়া গাছ লাগানো যেন প্রতিটি মানুষের নেশায় পরিণত হয়েছে। বহু মানুষ পতিত জমি কেটে আইল তৈরি করে, আবার কেউ কেউ ফসলী জমিতে আমড়ার বড় বড় বাগান সৃষ্টি করেছেন। কোনো কোনো চাষীর বাগান থেকে বছরে লাখ টাকা আয় হয়।
শ্রাবণ ও ভাদ্র মাসে পরিপক্ক আমড়া পাওয়া যায়। গ্রামের বেশির ভাগ এলাকায় আমড়া কেনা বেচার বেপারী রয়েছে। তারা ফাল্গুন-চৈত্র মাসে কুড়ি দেখেই আগাম টাকা দিয়ে বাগান কিনে ফেলেন। আবার অনেক চাষী ভরা মৌসুমে নিজেরাই বাজারে আমড়া বিক্রি করেন। আষাঢ় থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত গাছ থেকে আমড়া পেড়ে বাজারে নিয়ে বিভিন্ন আড়তে বিক্রি করা হয়।ওইসব আড়তে বেপারীদের কাছ থেকে আমড়া কিনে ঢাকা, চাঁদপুর, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ এলাকায় চালান করা হয়। সেখানে আড়তদাররা বিভিন্ন মোকামের খুচরা বিক্রেতা ও পাইকারদের কাছে আমড়া বিক্রি করে।


মোরেলগঞ্জেগ্রামের রুবেল জানান, মধ্যস্বত্বভোগীদের অধিক মুনাফার কারণে আমড়া উৎপাদনকারী গৃহস্থরা ন্যায্যমূল্য থেকে বি ত হচ্ছেন। তাছাড়া মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণেও আমড়া বেচাকেনার মুনাফার পুরোটা যায় না চাষিদের পকেটে। সে কারণেই আমড়া চাষিরা বাম্পার ফলনে খুশি হয়েও খুশি নন। ব্যাপারীরা গৃহস্থদের কাছ থেকে এক বস্তা আমড়া ৭০০ টাকা থেকে ১১০০ টাকায় কিনে মোরেলগঞ্জে মোকামে বিক্রি করে থাকেন ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকায়। মোরেলগঞ্জে থেকে ঢাকায় বিক্রি হয় ১৮০০ থেকে দুই হাজার পাঁচশত টাকায়।
মোরেলগঞ্জের আড়তদাররা বলেন, প্রতি বছরের মতো এ বছরও ভাদ্র মাসের প্রথম থেকেই আমড়ার ভরা মৌসুম শুরু হয়েছে। ফলন বেশি হওয়ায়  প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ মণ আমড়া  বস্তা ভরে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন শহরে। আড়তদাররা আরও জানান, মোরেলগঞ্জে আমড়ার আড়ৎ খুলে সেখান থেকে প্রান্তিক চাষিদের থেকে আমড়া সংগ্রহ করে পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন। পাইকাররা ট্রাক, পিকআপ, লে  ঢাকা, চাঁদপুর নিয়ে যান। সেখান থেকে কাঁচা আমড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে।বাগেরহাট রিপোর্টার্স ইউনিটি সভাপতি এস.এম.  সাইফুল ইসলাম কবির জানান,আমড়া চাষিদের কে সার, বীজ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে বিভিন্ন সময় সহযোগিতা করে কৃষি বিভাগ। বিভিন্ন সীড কোম্পানি পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে সার ও বীজ দিয়ে গরীব কৃষকদের সহযোগিতা করতে হবে।
মোরেলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ  মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন,  এ উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নে কৃষি বিভাগ থেকে আমড়া চাষিদের সব রকমের পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। যার ফলে এ বছর ভালো ফলন পেয়েছে চাষিরা। যা বিগত বছরগুলোর তুলনায় বেশি। অর্থকারী ফসল হওয়ায় কৃৃষকরা আমড়া চাষে দিন দিন আগ্রহী হচ্ছেন।সম্ভাবনার সামনে বড় প্রশ্ন.
মোরেলগঞ্জের লবণাক্ত জমিতে আমড়ার এই সাফল্য উপকূলীয় কৃষির জন্য সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলেছে। কিন্তু সম্ভাবনাকে টেকসই অর্থনীতিতে রূপ দিতে হলে শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না; দরকার কৃষকের ন্যায্যমূল্য, সংরক্ষণব্যবস্থা, সরাসরি বাজারসংযোগ, আধুনিক বিপণন এবং রপ্তানির সঠিক কাঠামো। কারণ গাছে ঝুলছে আমড়া, বাজারে উঠছে আমড়া, ট্রাকে যাচ্ছে আমড়া—কিন্তু সেই সোনালি ফলের সবচেয়ে বড় অংশীদার কৃষক কতটা সোনালি ভবিষ্যৎ পাচ্ছেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
বাগেরহাটের নয়টি উপজেলা ও ৩টি পৌরসভার   আমড়া তাই শুধু একটি ফলের গল্প নয়; এটি উপকূলের লবণাক্ত মাটিতে কৃষকের টিকে থাকা, বাজারের দৌড় এবং ন্যায্যমূল্যের লড়াইয়ের গল্প।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

danik madhumati

জনপ্রিয় পোস্ট

জাতিসংঘে তাৎপর্যপূর্ণ ভাষণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন

উপকুলের লবণাক্ত জমিতে সোনালি আমড়ার বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি, বাগেরহাটের সুস্বাদু আমড়া যাচ্ছে বিদেশেও    

আপডেটের সময় : ০৯:০৬:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল মৎস্যভান্ডার নামে খ্যাতবিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের উপকূলের বাগেরহাটের নয়টি উপজেলা ও ৩টি পৌরসভার  লবণাক্ত জমিতে আমড়ার বাম্পার ফলন রপ্তানি হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ।সুস্বাদু আমড়ার খ্যাতি দেশজুড়ে পুষ্টিকর ফল আমড়ার চাহিদা দিন দিনই বাড়ছে। মৌসুমে বাজার ছাড়াও পথে পথে প্রচুর বিক্রি হয় এই আমড়া। এটি একটি অর্থকরী ফল হিসেবেও নিজের জায়গা করে নিয়েছে। ফলে বেড়ে গেছে আমড়ার চাষ ও উৎপাদন।পদ্মা সেতু পেরিয়ে দ্রুত দেশের বিভিন্ন এলকায় রপ্তানি করতে পারছেন বলে দামও পাচ্ছে ভালো। যেকারণে আমড়াচাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে।
বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জে লবণাক্ত জমিতে  আমড়ার সুনাম দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে ভালো লাভবান হচ্ছেন বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ব্যবসায়ীরা। জেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, জেলায় এবছর৪০০ হেক্টর জমিতে আমড়ার উৎপাদন হয়েছে ৯হাজার টন। কৃষি অফিসের দাবি সামনের বছর আমড়ার ফলন আরো বেড়ে যাবে, সেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, বাগেরহাট জেলায় নয়টি উপজেলা ও ৩টি পৌরসভার  বিভিন্ন গ্রামের নিজ জমিতে আমড়ার চাষ হচ্ছে।  সু-স্বাদু আমড়ার দেশজুড়ে খ্যাতি রয়েছে। বর্ষা মৌসুমের এই ফলটি স্থানীয় বহু মানুষের আয়ের অন্যতম উৎস।বাগেরহাটের এ জেলার উৎপাদিত আমড়া শুধু ঢাকা নয় দেশের প্রায় সব জেলায় সরবরাহ করা হয়। দিন দিন এর চাহিদা বেড়েই চলছে। আমড়া ব্যবসায়ীরা বলছেন, পদ্মাসেতু চালুর ফলে রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়েছে। সেই সঙ্গে টাটকা ফলমূল তিন থেকে চার ঘণ্টার ব্যবধানে পৌঁছে যাচ্ছে ঢাকাসহ বড় বড় শহরে। আর এতে ভালো লাভ হচ্ছেন আমড়াচাষি ও ব্যাপারিরা।

বাগেরহাটের আবহাওয়া ও জলবায়ু আমড়া চাষের উপযোগী। ফলে আমড়ার উৎপাদনও হয় বেশ ভালো। এখানকার আমড়া আকারে অনেকটা বড়, খেতেও বেশ সুস্বাদু। মানভেদে প্রতিটি গাছের ফল বিক্রি হয় তিন থেকে ছয় হাজার টাকায়। অন্যদিকে তেমন কোনো পরিচর্যা ও সার-কীটনাশক ছাড়াই এর ফলন পাওয়া যায়। মৌসুমে বাজার ছাড়াও পথে পথে প্রচুর বিক্রি হয় আমড়া। আমড়া অর্থকরী ফল হিসেবেও নিজের জায়গা করে নিয়েছে এই জেলায়। ফলে আমড়া চাষে কৃষকের আগ্রহ দিন দিন বেড়েই চলছে। জেলায় বেড়ে গেছে চাষ ও উৎপাদন। এদিকে পদ্মাসেতু চালুর পর থেকেই বাগেরহাট অঞ্চলের কৃষিপণ্য সরবরাহে সহজলভ্য হয়েছে। খুব অল্প সময়ে টাটকা কৃষিপণ্য পৌঁছে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। বাম্ফার ফলন হওয়ায় শতশত কৃষকের ভাগ্য বদলের পাশা-পাশি তারা অর্থনৈতিক ভাবে আগের চেয়ে অনেক স্বাবলম্বী হয়েছেন। শুধু তাই নয়, এই অঞ্চল অর্থনৈতিক ভাবে সম্মৃদ্ধ হতে সক্ষম হয়েছে।
ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ ফল আমড়ার ইংরেজী নাম গোল্ডেন অ্যাপেল। বিভিন্ন ল ঘাট, ফেরিঘাট, বাসে আর রাজধানীর ব্যস্তম সড়কের সর্বত্রই প্রতিনিয়ত হকারদের ডাক শোনা যায় ‘লাগবে  আমড়া’। এলাকায় এমন কোনো বাড়ি পাওয়া যাবে না যে বাড়িতে কম করে হলেও একটি আমড়া গাছ নেই। রাস্তার পাশে বাড়ির উঠোনে একটি আমড়া গাছ লাগানো যেন প্রতিটি মানুষের নেশায় পরিণত হয়েছে। বহু মানুষ পতিত জমি কেটে আইল তৈরি করে, আবার কেউ কেউ ফসলী জমিতে আমড়ার বড় বড় বাগান সৃষ্টি করেছেন। কোনো কোনো চাষীর বাগান থেকে বছরে লাখ টাকা আয় হয়।
শ্রাবণ ও ভাদ্র মাসে পরিপক্ক আমড়া পাওয়া যায়। গ্রামের বেশির ভাগ এলাকায় আমড়া কেনা বেচার বেপারী রয়েছে। তারা ফাল্গুন-চৈত্র মাসে কুড়ি দেখেই আগাম টাকা দিয়ে বাগান কিনে ফেলেন। আবার অনেক চাষী ভরা মৌসুমে নিজেরাই বাজারে আমড়া বিক্রি করেন। আষাঢ় থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত গাছ থেকে আমড়া পেড়ে বাজারে নিয়ে বিভিন্ন আড়তে বিক্রি করা হয়।ওইসব আড়তে বেপারীদের কাছ থেকে আমড়া কিনে ঢাকা, চাঁদপুর, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ এলাকায় চালান করা হয়। সেখানে আড়তদাররা বিভিন্ন মোকামের খুচরা বিক্রেতা ও পাইকারদের কাছে আমড়া বিক্রি করে।


মোরেলগঞ্জেগ্রামের রুবেল জানান, মধ্যস্বত্বভোগীদের অধিক মুনাফার কারণে আমড়া উৎপাদনকারী গৃহস্থরা ন্যায্যমূল্য থেকে বি ত হচ্ছেন। তাছাড়া মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণেও আমড়া বেচাকেনার মুনাফার পুরোটা যায় না চাষিদের পকেটে। সে কারণেই আমড়া চাষিরা বাম্পার ফলনে খুশি হয়েও খুশি নন। ব্যাপারীরা গৃহস্থদের কাছ থেকে এক বস্তা আমড়া ৭০০ টাকা থেকে ১১০০ টাকায় কিনে মোরেলগঞ্জে মোকামে বিক্রি করে থাকেন ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকায়। মোরেলগঞ্জে থেকে ঢাকায় বিক্রি হয় ১৮০০ থেকে দুই হাজার পাঁচশত টাকায়।
মোরেলগঞ্জের আড়তদাররা বলেন, প্রতি বছরের মতো এ বছরও ভাদ্র মাসের প্রথম থেকেই আমড়ার ভরা মৌসুম শুরু হয়েছে। ফলন বেশি হওয়ায়  প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ মণ আমড়া  বস্তা ভরে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন শহরে। আড়তদাররা আরও জানান, মোরেলগঞ্জে আমড়ার আড়ৎ খুলে সেখান থেকে প্রান্তিক চাষিদের থেকে আমড়া সংগ্রহ করে পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন। পাইকাররা ট্রাক, পিকআপ, লে  ঢাকা, চাঁদপুর নিয়ে যান। সেখান থেকে কাঁচা আমড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে।বাগেরহাট রিপোর্টার্স ইউনিটি সভাপতি এস.এম.  সাইফুল ইসলাম কবির জানান,আমড়া চাষিদের কে সার, বীজ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে বিভিন্ন সময় সহযোগিতা করে কৃষি বিভাগ। বিভিন্ন সীড কোম্পানি পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে সার ও বীজ দিয়ে গরীব কৃষকদের সহযোগিতা করতে হবে।
মোরেলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ  মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন,  এ উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নে কৃষি বিভাগ থেকে আমড়া চাষিদের সব রকমের পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। যার ফলে এ বছর ভালো ফলন পেয়েছে চাষিরা। যা বিগত বছরগুলোর তুলনায় বেশি। অর্থকারী ফসল হওয়ায় কৃৃষকরা আমড়া চাষে দিন দিন আগ্রহী হচ্ছেন।সম্ভাবনার সামনে বড় প্রশ্ন.
মোরেলগঞ্জের লবণাক্ত জমিতে আমড়ার এই সাফল্য উপকূলীয় কৃষির জন্য সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলেছে। কিন্তু সম্ভাবনাকে টেকসই অর্থনীতিতে রূপ দিতে হলে শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না; দরকার কৃষকের ন্যায্যমূল্য, সংরক্ষণব্যবস্থা, সরাসরি বাজারসংযোগ, আধুনিক বিপণন এবং রপ্তানির সঠিক কাঠামো। কারণ গাছে ঝুলছে আমড়া, বাজারে উঠছে আমড়া, ট্রাকে যাচ্ছে আমড়া—কিন্তু সেই সোনালি ফলের সবচেয়ে বড় অংশীদার কৃষক কতটা সোনালি ভবিষ্যৎ পাচ্ছেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
বাগেরহাটের নয়টি উপজেলা ও ৩টি পৌরসভার   আমড়া তাই শুধু একটি ফলের গল্প নয়; এটি উপকূলের লবণাক্ত মাটিতে কৃষকের টিকে থাকা, বাজারের দৌড় এবং ন্যায্যমূল্যের লড়াইয়ের গল্প।