ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের বলাকান্দর গ্রামে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় গড়ে উঠছে একটি ইটভাটা। ইটভাটাটির অবস্থান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ইটভাটার নিকটবর্তী স্থানে রয়েছে মসজিদ, বসতবাড়ি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ঐতিহ্যবাহী এশিয়ার বৃহত্তম বটগাছ। ফলে ইটভাটার ধোঁয়া, ধুলাবালি ও ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন এলাকাবাসী। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার মল্লিকপুর বাজারের কাছাকাছি পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা কাজী ব্রিকস ইটভাটায় নতুন করে কাজ শুরু হয়েছে। সম্প্রতি বড় গড়িয়ালা এলাকায় অবস্থিত মেসার্স একতা ব্রিকস নামে একটি ইটভাটা সেখানে স্থানান্তরের মাধ্যমে ইট তৈরির জন্য পুরোদমে প্রস্তুতি শুরু করেছে। ইটভাটার মাত্র ২০০ মিটারের মধ্যে রয়েছে মসজিদ ও বসতবাড়ি। এ ছাড়া ৫০০ মিটারের মধ্যে রয়েছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ঐতিহ্যবাহী এশিয়ার বৃহত্তম বটগাছ। বাংলাদেশের ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১৩ অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় (লোকালয়, আবাসিক, সংরক্ষিত বা বাণিজ্যিক এলাকা, শহরাঞ্চল, বন ও বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, কৃষিজমি, পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা, বায়ুদূষণপ্রবণ এলাকা) ইটভাটা স্থাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ছাড়া নিষিদ্ধ এলাকার সীমানা থেকে ন্যূনতম ১ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যেও ইটভাটা স্থাপন করা নিষিদ্ধ। পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় মোট ১২২টি ইটভাটা রয়েছে। এরমধ্যে বৈধ কাগজপত্র রয়েছে ১০টির এবং অবৈধ ইটভাটা ১১২টি। কাগজপত্রবিহীন ইটভাটার মধ্যে বন্ধ রয়েছে ২৫টি এবং চলমান রয়েছে ৮৭টি। জেলায় হাইব্রিড হফম্যান ইটভাটা রয়েছে ২টি। মশিয়ার রহমান নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, বর্তমান সময়ে চাষাবাদে লাভ কম হওয়ায় জমির মালিকরা ইটভাটার জন্য জমি দিয়েছে। বছরে বিঘাপ্রতি ২০ থেকে ২৩ হাজার টাকা পাওয়া যায়। তবে ইটভাটায় ব্যবহৃত জ্বালানি কাঠ ও কয়লা পোড়ানো ধোঁয়া ও ধূলাবালি স্থানীয়দের কষ্টের কারণ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, ইটভাটার জমির মালিকরা স্বল্প মেয়াদে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। এসব কৃষিজমি দীর্ঘদিন ইটভাটার কাজে ব্যবহৃত হলে মাটির গুণাগুণ ও কৃষি উৎপাদনে কী ধরনের প্রভাব পড়বে তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। সেইসাথে আশপাশের আবাদি জমিতে চাষাবাদে বিরূপ প্রভাব পড়বে কি না-তা নিয়ে আশংকা রয়েছে। ইটভাটাটি পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিবেশগত ছাড়পত্র, লাইসেন্স এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সব অনুমোদন রয়েছে কি না- তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। মসজিদ, বসতবাড়ি, দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং গুরুত্বপূর্ণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ঐতিহ্যবাহী বটগাছের এত কাছাকাছি ইটভাটার অবস্থান প্রচলিত পরিবেশগত শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন অনেকেই।
ইটভাটার মালিক মো. আলম হোসেন জানান, সদর উপজেলার বড় গড়িয়ালা এলাকায় মেসার্স একতা ব্রিকস নামে আমার একটি ইটভাটা ছিল যার সব বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। সম্প্রতি জমির মালিকানা-সংক্রান্ত বিষয়ে জটিলতার কারণে আমি ইটভাটাটি বলাকান্দরে স্থানান্তর করছি। যেখানে আগে থেকেই একটি ইটভাটা পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কমল কুমার বর্মন জানান, লোকালয়ে ইটভাটা নির্মাণ সম্পূর্ণ আইন বিরুদ্ধ। অবৈধ ইটভাটা বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করছে।
কালীগঞ্জ প্রতিনিধি : 



















