ঢাকা ০৫:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা ডাকসুতে ইতিহাসের বিতর্ক, বাংলাদেশের জন্মপথ কি মুছে ফেলা যায়? জেডএফসি-২: বাংলাদেশের কমব্যাট স্পোর্টসে নতুন দিগন্ত মোংলায়  জীবাশ্ম জ্বালানির নতুন প্রকল্প না করার দাবিতে মানববন্ধন রাজশাহীতে নারীসহ আলোচিত সাবেক ওসি মাহবুব আলম আটক  বাউফলে তিন লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে দোকানে তালা দেওয়ার অভিযোগ যুবদল কর্মীর বিরুদ্ধে ভোলায় ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ মাদারীপুরে বেশি লাভের আশায় পচে গেল ৩ কোটি টাকার আলু পাথরঘাটায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির দাবিতে মানববন্ধন ভোলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ড্রেজার-বাল্কহেডসহ আটক ৭

মাদারীপুরে বেশি লাভের আশায় পচে গেল ৩ কোটি টাকার আলু

মাদারীপুরে বেশি দামে বিক্রির আশায় টানা দেড় বছর ধরে কোল্ড স্টোরেজে ফেলে রাখা হয় বিপুল পরিমাণ আলু। পরবর্তীতে বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না ওঠায় সময়মতো আর বিক্রি করা হয়নি। দীর্ঘদিনের মজুতের কারণে শেষ পর্যন্ত পচে নষ্ট হয়ে গেছে প্রায় ৩০ হাজার মণ আলু। বর্তমান বাজারদর হিসাবে যার মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা। মাদারীপুর কোল্ড স্টোরেজ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চে ৬০ কেজি ওজনের প্রায় ২০ হাজার বস্তা আলু সেখানে সংরক্ষণ করা হয়। কোল্ড স্টোরেজটির মালিক মীর হাবিবুর রহমান এসব আলু সংরক্ষণ করেন। বেশি দাম পাওয়ার আশায় তিনি আলুগুলো দীর্ঘ সময় ধরে কোল্ড স্টোরেজে রাখেন। কিন্তু ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় আলুগুলো স্টোরেজেই পড়ে থাকে। দীর্ঘদিন সংরক্ষণে থাকার কারণে আলুর গুণগত মান নষ্ট হয়ে পচন ধরে। ইতোমধ্যে পচে যাওয়া আলু থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানো শুরু হয়েছে। জনদুর্ভোগ এড়াতে গত দুই দিন ধরে বাছাই করে কিছু আলু স্থানীয় কৃষক ও খামারিদের বিনা মূল্যে দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সাধারণত আলুর গুণগত মান ঠিক রাখতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা বাজারজাত করা প্রয়োজন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে মজুত থাকায় একদিকে আলুর বড় একটি অংশ নষ্ট হয়েছে, অন্যদিকে স্থানীয় বাজারের চাহিদা মেটাতে বাইরে থেকে আলু কিনে আনতে হয়েছে ব্যবসায়ীদের।

মাদারীপুরের তরকারির আড়তদার খবিরউদ্দিন বলেন, ভালো থাকা অবস্থায় আলুগুলো বাজারে বিক্রি করলে মজুতকারীর লোকসান কম হতো। একই সঙ্গে স্থানীয় বাজারের চাহিদা মেটাতে দূরের জেলা থেকে ট্রাকে করে আলু আনার প্রয়োজনও কমত। বেশি দামের আশায় আলু আটকে রাখার ফলেই এখন এত বড় ক্ষতি হয়েছে। মাদারীপুর কোল্ড স্টোরেজে পচে যাওয়া আলু নিতে আসা রাজৈর ইউনিয়নের বাসিন্দা আলী আহমাদ বলেন, এসব আলু মানুষের খাওয়ার উপযোগী নয়। তবে বাছাই করে যেগুলো কিছুটা ভালো পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো গরুর খাবার হিসেবে নেওয়া হচ্ছে।

মাদারীপুর কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক আবদুল করিম বলেন, ২০২৫ সালের মার্চে আলুগুলো সংরক্ষণ করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন স্টোরেজে থাকার কারণে আলুর তাপমাত্রা ও গুণগত মান নষ্ট হয়ে গেছে। খোলা জায়গায় ফেলে দিলে দুর্গন্ধ ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে কৃষক ও খামারিদের বিনা মূল্যে আলু দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, নষ্ট হওয়া আলুর পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজার মণ। ২০ হাজার বস্তায় থাকা এসব আলুর বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা।

আলুর মালিক মীর হাবিবুর রহমান বলেন, কী কারণে এত আলু নষ্ট হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। প্রাথমিকভাবে কোল্ড স্টোরেজের ভেতরে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি হয়ে থাকতে পারে বলে আমার ধারণা। বিষয়টি নিশ্চিত হতে ঢাকা থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের এনে পরীক্ষা করানো হবে। তবে কোল্ড স্টোরেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি দিন আলু সংরক্ষণ করায় এর গুণগত মান নষ্ট হয়েছে।

মাদারীপুর কৃষি বিপণন কর্মকর্তা রুবেল মিয়া বলেন, তিনি মাদারীপুর কোল্ড স্টোরেজ পরিদর্শন করবেন। কেন দীর্ঘ সময় ধরে আলু মজুত রাখা হয়েছিল এবং কী কারণে আলুগুলো নষ্ট হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

danik madhumati

জনপ্রিয় পোস্ট

পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা

মাদারীপুরে বেশি লাভের আশায় পচে গেল ৩ কোটি টাকার আলু

আপডেটের সময় : ০৭:১৪:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাদারীপুরে বেশি দামে বিক্রির আশায় টানা দেড় বছর ধরে কোল্ড স্টোরেজে ফেলে রাখা হয় বিপুল পরিমাণ আলু। পরবর্তীতে বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না ওঠায় সময়মতো আর বিক্রি করা হয়নি। দীর্ঘদিনের মজুতের কারণে শেষ পর্যন্ত পচে নষ্ট হয়ে গেছে প্রায় ৩০ হাজার মণ আলু। বর্তমান বাজারদর হিসাবে যার মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা। মাদারীপুর কোল্ড স্টোরেজ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চে ৬০ কেজি ওজনের প্রায় ২০ হাজার বস্তা আলু সেখানে সংরক্ষণ করা হয়। কোল্ড স্টোরেজটির মালিক মীর হাবিবুর রহমান এসব আলু সংরক্ষণ করেন। বেশি দাম পাওয়ার আশায় তিনি আলুগুলো দীর্ঘ সময় ধরে কোল্ড স্টোরেজে রাখেন। কিন্তু ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় আলুগুলো স্টোরেজেই পড়ে থাকে। দীর্ঘদিন সংরক্ষণে থাকার কারণে আলুর গুণগত মান নষ্ট হয়ে পচন ধরে। ইতোমধ্যে পচে যাওয়া আলু থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানো শুরু হয়েছে। জনদুর্ভোগ এড়াতে গত দুই দিন ধরে বাছাই করে কিছু আলু স্থানীয় কৃষক ও খামারিদের বিনা মূল্যে দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সাধারণত আলুর গুণগত মান ঠিক রাখতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা বাজারজাত করা প্রয়োজন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে মজুত থাকায় একদিকে আলুর বড় একটি অংশ নষ্ট হয়েছে, অন্যদিকে স্থানীয় বাজারের চাহিদা মেটাতে বাইরে থেকে আলু কিনে আনতে হয়েছে ব্যবসায়ীদের।

মাদারীপুরের তরকারির আড়তদার খবিরউদ্দিন বলেন, ভালো থাকা অবস্থায় আলুগুলো বাজারে বিক্রি করলে মজুতকারীর লোকসান কম হতো। একই সঙ্গে স্থানীয় বাজারের চাহিদা মেটাতে দূরের জেলা থেকে ট্রাকে করে আলু আনার প্রয়োজনও কমত। বেশি দামের আশায় আলু আটকে রাখার ফলেই এখন এত বড় ক্ষতি হয়েছে। মাদারীপুর কোল্ড স্টোরেজে পচে যাওয়া আলু নিতে আসা রাজৈর ইউনিয়নের বাসিন্দা আলী আহমাদ বলেন, এসব আলু মানুষের খাওয়ার উপযোগী নয়। তবে বাছাই করে যেগুলো কিছুটা ভালো পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো গরুর খাবার হিসেবে নেওয়া হচ্ছে।

মাদারীপুর কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক আবদুল করিম বলেন, ২০২৫ সালের মার্চে আলুগুলো সংরক্ষণ করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন স্টোরেজে থাকার কারণে আলুর তাপমাত্রা ও গুণগত মান নষ্ট হয়ে গেছে। খোলা জায়গায় ফেলে দিলে দুর্গন্ধ ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে কৃষক ও খামারিদের বিনা মূল্যে আলু দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, নষ্ট হওয়া আলুর পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজার মণ। ২০ হাজার বস্তায় থাকা এসব আলুর বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা।

আলুর মালিক মীর হাবিবুর রহমান বলেন, কী কারণে এত আলু নষ্ট হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। প্রাথমিকভাবে কোল্ড স্টোরেজের ভেতরে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি হয়ে থাকতে পারে বলে আমার ধারণা। বিষয়টি নিশ্চিত হতে ঢাকা থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের এনে পরীক্ষা করানো হবে। তবে কোল্ড স্টোরেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি দিন আলু সংরক্ষণ করায় এর গুণগত মান নষ্ট হয়েছে।

মাদারীপুর কৃষি বিপণন কর্মকর্তা রুবেল মিয়া বলেন, তিনি মাদারীপুর কোল্ড স্টোরেজ পরিদর্শন করবেন। কেন দীর্ঘ সময় ধরে আলু মজুত রাখা হয়েছিল এবং কী কারণে আলুগুলো নষ্ট হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে।