ঢাকা ০২:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের শিরোপা উঠল ড্যাফোডিলের হাতে বাইন্যান্সের ইতিহাসে বড় সাইবার হামলা, জড়িত উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা? মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সরকারের কঠিন পরীক্ষা ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি নিশ্চিত করতে হবে হকারদের জীবিকা পুঠিয়ায় তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাস আইসিসিবিতে তিন দিনের কার এক্সপো, থাকছে আধুনিক হাইব্রিড গাড়িও যশোর শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসিতে খুলনার ৬টিসহ ১৬ প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল নীলফামারীতে দাদীর এইচএসসি পাস, নাতনির চোখে অনুপ্রেরণা ক্রেতাশূন্য ঢাকার শপিংমল, লোকসানে দিশেহারা ব্যবসায়ীরা পূর্বাচলে অবৈধ আবাসন প্রকল্প চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

রাজশাহীতে নারীসহ আলোচিত সাবেক ওসি মাহবুব আলম আটক

  • রাজশাহী ব্যুরো :
  • আপডেটের সময় : ০৭:২৪:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৫ সময়-দৃশ্য

রাজশাহীতে একটি ফ্ল্যাটের ভেতর অবস্থান করছিলেন আলোচিত সাবেক ওসি মাহবুব আলম ও এক নারী। খবর পেয়ে ওই কর্মকর্তার ‘ষষ্ঠ স্ত্রী’ ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারপর দীর্ঘসময় দরজায় কড়া নাড়লেও ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ আসেনি। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশ ডাকেন তিনি। পুলিশ আসলেও খোলা হয়নি দরজা। এরপর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে ফ্ল্যাট থেকে তাদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। শুক্রবার নগরীর চন্দ্রিমা থানার নাদের হাজীর মোড়সংলগ্ন একটি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে। থানায় নেওয়া পুলিশ কর্মকর্তা মাহবুব আলম ২০২৪ সালে রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। পরে তিনি নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। পরবর্তী সময়ে তাকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেখান থেকে কোনো ছুটি বা অনুমতি না নিয়েই তিনি রাজশাহীতে এসেছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাহবুব আলমের একজন পালিত মেয়ে রয়েছেন। ওই মেয়ে ও তার স্বামী রাজশাহী মহানগরীর নাদের হাজীর মোড়ের একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাত থেকে ওই ফ্ল্যাটে মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌ নামের এক নারী অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার সকালে সেখানে গিয়ে দরজায় ডাকাডাকি করেন আন্নি আক্তার নামে আরেক নারী। তিনি নিজেকে মাহবুব আলমের ষষ্ঠ স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। তার বাড়ি নওগাঁ এবং তিনি একজন নারী উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর।

আন্নি আক্তারের অভিযোগ, মাহবুব আলম যে জেলায় কর্মরত থাকেন সেখানেই বিয়ে করেন এবং একাধিক নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। আন্নির দাবি, এর আগে নগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটেও মাহবুব আলমের সঙ্গে সানজিদা মৌকে দুই দিন অবস্থান করতে দেখেছিলেন তিনি।

মাহবুব আলম সাংবাদিকদের বলেন, আন্নি আক্তারকে তিনি চার দিন আগে তালাক দিয়েছেন এবং সানজিদা তার বর্তমান স্ত্রী। আন্নিকে তালাক দেওয়ার কাগজ তিনি পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন বলেও দাবি করেন। চন্দ্রিমা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী বলেন, মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌয়ের ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা থানায় আসবেন, এরপর সিদ্ধান্ত হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

danik madhumati

এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের শিরোপা উঠল ড্যাফোডিলের হাতে

রাজশাহীতে নারীসহ আলোচিত সাবেক ওসি মাহবুব আলম আটক

আপডেটের সময় : ০৭:২৪:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজশাহীতে একটি ফ্ল্যাটের ভেতর অবস্থান করছিলেন আলোচিত সাবেক ওসি মাহবুব আলম ও এক নারী। খবর পেয়ে ওই কর্মকর্তার ‘ষষ্ঠ স্ত্রী’ ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারপর দীর্ঘসময় দরজায় কড়া নাড়লেও ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ আসেনি। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশ ডাকেন তিনি। পুলিশ আসলেও খোলা হয়নি দরজা। এরপর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে ফ্ল্যাট থেকে তাদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। শুক্রবার নগরীর চন্দ্রিমা থানার নাদের হাজীর মোড়সংলগ্ন একটি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে। থানায় নেওয়া পুলিশ কর্মকর্তা মাহবুব আলম ২০২৪ সালে রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। পরে তিনি নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। পরবর্তী সময়ে তাকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেখান থেকে কোনো ছুটি বা অনুমতি না নিয়েই তিনি রাজশাহীতে এসেছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাহবুব আলমের একজন পালিত মেয়ে রয়েছেন। ওই মেয়ে ও তার স্বামী রাজশাহী মহানগরীর নাদের হাজীর মোড়ের একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাত থেকে ওই ফ্ল্যাটে মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌ নামের এক নারী অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার সকালে সেখানে গিয়ে দরজায় ডাকাডাকি করেন আন্নি আক্তার নামে আরেক নারী। তিনি নিজেকে মাহবুব আলমের ষষ্ঠ স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। তার বাড়ি নওগাঁ এবং তিনি একজন নারী উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর।

আন্নি আক্তারের অভিযোগ, মাহবুব আলম যে জেলায় কর্মরত থাকেন সেখানেই বিয়ে করেন এবং একাধিক নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। আন্নির দাবি, এর আগে নগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটেও মাহবুব আলমের সঙ্গে সানজিদা মৌকে দুই দিন অবস্থান করতে দেখেছিলেন তিনি।

মাহবুব আলম সাংবাদিকদের বলেন, আন্নি আক্তারকে তিনি চার দিন আগে তালাক দিয়েছেন এবং সানজিদা তার বর্তমান স্ত্রী। আন্নিকে তালাক দেওয়ার কাগজ তিনি পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন বলেও দাবি করেন। চন্দ্রিমা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী বলেন, মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌয়ের ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা থানায় আসবেন, এরপর সিদ্ধান্ত হবে।