বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ কিংবা ধারালো অস্ত্রের ঘটনা—এমন খবর এখন আর খুব একটা অচেনা নয়। কিন্তু এবার স্কুল প্রাঙ্গণেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ! মাদারীপুরের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বিরোধকে কেন্দ্র করে ঘটে এমন ঘটনা। এ ঘটনায় দেশীয় অস্ত্রসহ এক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। মাদারীপুরের আচমত আলী খান স্কুল অ্যান্ড কলেজে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) স্কুল ছুটির পর শিক্ষার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এ সময় দেশীয় অস্ত্রসহ তাহসিন সিকদার নামে এক কিশোরকে আটক করে পুলিশ। সে মাদারীপুর পৌর শহরের কলেজ রোড এলাকার আজিজুল সিকদারের ছেলে।
স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচি শেষে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিনহাজের সঙ্গে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী নুর আলমের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতিতে জড়ালে শিক্ষকরা হস্তক্ষেপ করে বিষয়টি মীমাংসা করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, সেই বিরোধের জের ধরে রোববার স্কুল ছুটির পর নুর আলম কয়েকজন বহিরাগতকে সঙ্গে নিয়ে মিনহাজের ওপর হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীদের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল বলেও অভিযোগ করা হয়।
মিনহাজের চিৎকার শুনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা সরে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে ঘটনাস্থল থেকে তাহসিন সিকদারকে একটি দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, স্কুল-কলেজের ভেতরে কিশোর গ্যাং-সদস্যদের হামলার ঘটনায় একজনকে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাং-সংক্রান্ত মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—যে বয়সে শিক্ষার্থীদের হাতে থাকার কথা বই-খাতা, সেই বয়সে যদি স্কুলের ভেতরেই ঢুকে পড়ে দেশীয় অস্ত্র, তাহলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত?
একসময় বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা কলেজ ক্যাম্পাসে সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে আলোচনা হলেও এখন মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও এমন ঘটনার অভিযোগ উঠছে। ফলে শুধু জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নয়, স্কুল প্রাঙ্গণে বহিরাগতদের প্রবেশ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর নজরদারির দাবিও উঠছে।
মাদারীপুর প্রতিনিধি : 

















