ঢাকা ০৭:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
জাতিসংঘে তাৎপর্যপূর্ণ ভাষণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক পদক্ষেপ জোরদারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চায়: প্রধানমন্ত্রী দিঘলিয়ায় দুইদিন ব্যাপী মতুয়া মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত কপিলমুনির সহচরী বিদ্যামন্দিরের ম্যানেজিং কমিটি গঠন : সভাপতি জেলা প্রশাসক ইসলামী আন্দোলন ১৮ নং ওয়ার্ড সভাপতি মুকুল ও সেক্রেটারী আঃ রহিম ডিসেম্বরে দেশে ফেরার যে বার্তা হাসিনা দিচ্ছেন, তা কেবলই দুঃস্বপ্ন হয়ে থাকবে : মহানগর সাধারণ সম্পাদক তুহিন জুলাই সনদ নিয়ে চলছে মায়াকান্না: আজিজুল বারী হেলাল চার সাংবাদিকের পরিবারের হাতে ২০ লাখ টাকার সহায়তা তুলে দিল এবিজি খুলনায় সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়ন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার আহ্বান পিআইবি মহাপরিচালকের

সরকারি ভবনের ছাদ কাজে লাগিয়ে ৩০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন

বৈশ্বিক অস্থিরতা ও বৈরী পরিস্থিতির প্রভাবে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত বর্তমানে বাড়তি চাপের মুখে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং বিকল্প জ্বালানি উৎসের ব্যবহার সম্প্রসারণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে বড় ধরনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।

কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন সারা দেশের ৬ হাজার ৫৪৪টি প্রতিষ্ঠানের ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন করে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারি অবকাঠামোর অব্যবহৃত ছাদকে কাজে লাগিয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের এ উদ্যোগকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি বড় কর্মপরিকল্পনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বুধবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচিটির বিস্তারিত তুলে ধরেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত ছাদকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিকভাবে ৩৭০ কোটি টাকা সরকারি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যুৎ চাহিদার একটি অংশ নিজস্ব সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে পূরণ করার পাশাপাশি জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায়ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কর্মসূচির আওতায় শুধু রাজধানী বা বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও মাঠপর্যায়ের সরকারি স্থাপনাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের ভবন; স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (LGED) মাঠপর্যায়ের কার্যালয়; বিভিন্ন অঞ্চলের ওয়াসা (WASA) কার্যালয়; জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন ভবন; দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক কেন্দ্র, হাট-বাজার ও গ্রোথ সেন্টার।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করাই এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অব্যবহৃত ছাদে আধুনিক সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হবে। উৎপাদিত বিদ্যুতের একটি অংশ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের কাজে ব্যবহার করতে পারবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জাতীয় গ্রিডেও যুক্ত করা যাবে।

তিনি আরও জানান, কর্মসূচি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইতোমধ্যে প্রশাসনিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা সংবলিত চিঠিও পাঠানো হয়েছে।

সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী বছরের ২৭ জানুয়ারির মধ্যে পুরো কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশের ৬ হাজার ৫৪৪টি প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি ভবনের ছাদকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হলে একদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়লে দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের ওপর বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিরূপ প্রভাবও কমানো সম্ভব হতে পারে।

স্থানীয় পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক সরকারি ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত ছাদকে একটি সমন্বিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার আওতায় আনার এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিশেষ করে সরকারি স্থাপনায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়লে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার একটি কাঠামো গড়ে উঠতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

danik madhumati

জনপ্রিয় পোস্ট

জাতিসংঘে তাৎপর্যপূর্ণ ভাষণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন

সরকারি ভবনের ছাদ কাজে লাগিয়ে ৩০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন

আপডেটের সময় : ০৪:৩০:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বৈশ্বিক অস্থিরতা ও বৈরী পরিস্থিতির প্রভাবে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত বর্তমানে বাড়তি চাপের মুখে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং বিকল্প জ্বালানি উৎসের ব্যবহার সম্প্রসারণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে বড় ধরনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।

কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন সারা দেশের ৬ হাজার ৫৪৪টি প্রতিষ্ঠানের ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন করে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারি অবকাঠামোর অব্যবহৃত ছাদকে কাজে লাগিয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের এ উদ্যোগকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি বড় কর্মপরিকল্পনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বুধবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচিটির বিস্তারিত তুলে ধরেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত ছাদকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিকভাবে ৩৭০ কোটি টাকা সরকারি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যুৎ চাহিদার একটি অংশ নিজস্ব সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে পূরণ করার পাশাপাশি জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায়ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কর্মসূচির আওতায় শুধু রাজধানী বা বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও মাঠপর্যায়ের সরকারি স্থাপনাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের ভবন; স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (LGED) মাঠপর্যায়ের কার্যালয়; বিভিন্ন অঞ্চলের ওয়াসা (WASA) কার্যালয়; জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন ভবন; দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক কেন্দ্র, হাট-বাজার ও গ্রোথ সেন্টার।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করাই এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অব্যবহৃত ছাদে আধুনিক সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হবে। উৎপাদিত বিদ্যুতের একটি অংশ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের কাজে ব্যবহার করতে পারবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জাতীয় গ্রিডেও যুক্ত করা যাবে।

তিনি আরও জানান, কর্মসূচি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইতোমধ্যে প্রশাসনিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা সংবলিত চিঠিও পাঠানো হয়েছে।

সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী বছরের ২৭ জানুয়ারির মধ্যে পুরো কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশের ৬ হাজার ৫৪৪টি প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি ভবনের ছাদকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হলে একদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়লে দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের ওপর বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিরূপ প্রভাবও কমানো সম্ভব হতে পারে।

স্থানীয় পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক সরকারি ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত ছাদকে একটি সমন্বিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার আওতায় আনার এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিশেষ করে সরকারি স্থাপনায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়লে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার একটি কাঠামো গড়ে উঠতে পারে।