ঢাকা ০৭:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
জাতিসংঘে তাৎপর্যপূর্ণ ভাষণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক পদক্ষেপ জোরদারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চায়: প্রধানমন্ত্রী দিঘলিয়ায় দুইদিন ব্যাপী মতুয়া মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত কপিলমুনির সহচরী বিদ্যামন্দিরের ম্যানেজিং কমিটি গঠন : সভাপতি জেলা প্রশাসক ইসলামী আন্দোলন ১৮ নং ওয়ার্ড সভাপতি মুকুল ও সেক্রেটারী আঃ রহিম ডিসেম্বরে দেশে ফেরার যে বার্তা হাসিনা দিচ্ছেন, তা কেবলই দুঃস্বপ্ন হয়ে থাকবে : মহানগর সাধারণ সম্পাদক তুহিন জুলাই সনদ নিয়ে চলছে মায়াকান্না: আজিজুল বারী হেলাল চার সাংবাদিকের পরিবারের হাতে ২০ লাখ টাকার সহায়তা তুলে দিল এবিজি খুলনায় সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়ন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার আহ্বান পিআইবি মহাপরিচালকের

হাইকোর্টে ২২ অতিরিক্ত বিচারপতির আগাম স্থায়ীকরণ, উঠছে নানা প্রশ্ন

  • বিশেষ প্রতিনিধি :
  • আপডেটের সময় : ০৭:৫৩:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১ সময়-দৃশ্য

সংবিধান ও দীর্ঘদিনের প্রচলিত বিচারিক প্রথা অনুসরণ না করে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ২২ জন অতিরিক্ত বিচারপতিকে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় উচ্চ আদালত ও আইনাঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের মেয়াদকালেই এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের একাংশের মতে, অতিরিক্ত বিচারপতিদের নির্ধারিত মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই স্থায়ী করা এবং তাঁদের কয়েকজনের কোনো পূর্ণাঙ্গ লিখিত রায় না থাকা—দুই বিষয়ই উচ্চ আদালতের প্রচলিত রীতি ও বিচারিক মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে অনধিক দুই বছরের জন্য অতিরিক্ত বিচারপতি নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে তাঁদের বিচারিক দক্ষতা, মামলার নিষ্পত্তির গতি, রায় লেখার সক্ষমতা এবং আচরণসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে তাঁদের কর্মদক্ষতা ও সামগ্রিক বিচারিক কার্যক্রম পর্যালোচনার ভিত্তিতে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদের আওতায় স্থায়ী বিচারপতি নিয়োগের এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

সুপ্রিম কোর্টের একাধিক বর্তমান ও সাবেক বিচারপতির সঙ্গে আলাপের ভিত্তিতে জানা গেছে, অতিরিক্ত বিচারপতিকে স্থায়ী করার সুপারিশের ক্ষেত্রে সাধারণত তাঁর লেখা পূর্ণাঙ্গ রায় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হিসেবে দেখা হয়। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, অন্তত পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ রায় পর্যালোচনার পর প্রধান বিচারপতি ও আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতিরা তাঁর বিচারিক দক্ষতা সম্পর্কে সন্তুষ্ট হলে স্থায়ীকরণের সুপারিশ করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তবে কোনো বিচারপতির কাজ সন্তোষজনক মনে না হলে তাঁর অতিরিক্ত বিচারপতির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। আবার প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ না হলে স্থায়ী নিয়োগ না দেওয়ার নজিরও রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট বিচারপতি ও আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত বিচারপতির দুই বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই স্থায়ী নিয়োগ দেওয়ার এমন দৃষ্টান্ত অতীতে দেখা যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে হাইকোর্ট বিভাগে ২৩ জন অতিরিক্ত বিচারপতি নিয়োগ পান।

এর প্রায় এক বছর এক মাস পর, ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর ওই ২৩ জনের মধ্যে ২২ জনকে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অর্থাৎ তাঁদের দুই বছরের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই স্থায়ী নিয়োগ কার্যকর হয়।

অন্যদিকে, ওই সময় স্থায়ী নিয়োগ না পাওয়া একজন অতিরিক্ত বিচারপতির মেয়াদ প্রাথমিকভাবে বাড়ানো হয়। পরে ২০২৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর তাঁকেও স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এক বছর এক মাসের মাথায় স্থায়ী নিয়োগ পাওয়া ২২ বিচারপতির মধ্যে এমন বিচারপতিও রয়েছেন, যাঁরা স্থায়ীকরণের আগে কোনো পূর্ণাঙ্গ লিখিত রায় দেননি।

এ বিষয়টি নিয়েই মূলত বিচারাঙ্গনে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের একাংশ জানতে চাইছেন, দুই বছরের প্রচলিত পর্যবেক্ষণকাল শেষ হওয়ার আগেই যদি স্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়, তাহলে তাঁদের বিচারিক দক্ষতা ও কর্মদক্ষতা মূল্যায়নে কী ধরনের মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে। বিশেষ করে কোনো পূর্ণাঙ্গ রায় না লেখার পরও স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আইনাঙ্গনের একটি অংশে অসন্তোষ ও সমালোচনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, প্রচলিত বিচারিক রীতি ও নির্ধারিত সময়সীমার আগে অতিরিক্ত বিচারপতিদের স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে আইনি প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। এ নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন বা অন্য কোনো ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তাঁরা।

তবে শেষ পর্যন্ত কোন প্রক্রিয়া ও মানদণ্ডের ভিত্তিতে ওই ২২ বিচারপতিকে নির্ধারিত সময়ের আগেই স্থায়ী করা হয়েছে, সেটিই বর্তমানে উচ্চ আদালত ও আইনাঙ্গনের আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

danik madhumati

জনপ্রিয় পোস্ট

জাতিসংঘে তাৎপর্যপূর্ণ ভাষণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন

হাইকোর্টে ২২ অতিরিক্ত বিচারপতির আগাম স্থায়ীকরণ, উঠছে নানা প্রশ্ন

আপডেটের সময় : ০৭:৫৩:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংবিধান ও দীর্ঘদিনের প্রচলিত বিচারিক প্রথা অনুসরণ না করে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ২২ জন অতিরিক্ত বিচারপতিকে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় উচ্চ আদালত ও আইনাঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের মেয়াদকালেই এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের একাংশের মতে, অতিরিক্ত বিচারপতিদের নির্ধারিত মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই স্থায়ী করা এবং তাঁদের কয়েকজনের কোনো পূর্ণাঙ্গ লিখিত রায় না থাকা—দুই বিষয়ই উচ্চ আদালতের প্রচলিত রীতি ও বিচারিক মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে অনধিক দুই বছরের জন্য অতিরিক্ত বিচারপতি নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে তাঁদের বিচারিক দক্ষতা, মামলার নিষ্পত্তির গতি, রায় লেখার সক্ষমতা এবং আচরণসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে তাঁদের কর্মদক্ষতা ও সামগ্রিক বিচারিক কার্যক্রম পর্যালোচনার ভিত্তিতে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদের আওতায় স্থায়ী বিচারপতি নিয়োগের এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

সুপ্রিম কোর্টের একাধিক বর্তমান ও সাবেক বিচারপতির সঙ্গে আলাপের ভিত্তিতে জানা গেছে, অতিরিক্ত বিচারপতিকে স্থায়ী করার সুপারিশের ক্ষেত্রে সাধারণত তাঁর লেখা পূর্ণাঙ্গ রায় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হিসেবে দেখা হয়। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, অন্তত পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ রায় পর্যালোচনার পর প্রধান বিচারপতি ও আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতিরা তাঁর বিচারিক দক্ষতা সম্পর্কে সন্তুষ্ট হলে স্থায়ীকরণের সুপারিশ করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তবে কোনো বিচারপতির কাজ সন্তোষজনক মনে না হলে তাঁর অতিরিক্ত বিচারপতির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। আবার প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ না হলে স্থায়ী নিয়োগ না দেওয়ার নজিরও রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট বিচারপতি ও আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত বিচারপতির দুই বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই স্থায়ী নিয়োগ দেওয়ার এমন দৃষ্টান্ত অতীতে দেখা যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে হাইকোর্ট বিভাগে ২৩ জন অতিরিক্ত বিচারপতি নিয়োগ পান।

এর প্রায় এক বছর এক মাস পর, ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর ওই ২৩ জনের মধ্যে ২২ জনকে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অর্থাৎ তাঁদের দুই বছরের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই স্থায়ী নিয়োগ কার্যকর হয়।

অন্যদিকে, ওই সময় স্থায়ী নিয়োগ না পাওয়া একজন অতিরিক্ত বিচারপতির মেয়াদ প্রাথমিকভাবে বাড়ানো হয়। পরে ২০২৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর তাঁকেও স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এক বছর এক মাসের মাথায় স্থায়ী নিয়োগ পাওয়া ২২ বিচারপতির মধ্যে এমন বিচারপতিও রয়েছেন, যাঁরা স্থায়ীকরণের আগে কোনো পূর্ণাঙ্গ লিখিত রায় দেননি।

এ বিষয়টি নিয়েই মূলত বিচারাঙ্গনে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের একাংশ জানতে চাইছেন, দুই বছরের প্রচলিত পর্যবেক্ষণকাল শেষ হওয়ার আগেই যদি স্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়, তাহলে তাঁদের বিচারিক দক্ষতা ও কর্মদক্ষতা মূল্যায়নে কী ধরনের মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে। বিশেষ করে কোনো পূর্ণাঙ্গ রায় না লেখার পরও স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আইনাঙ্গনের একটি অংশে অসন্তোষ ও সমালোচনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, প্রচলিত বিচারিক রীতি ও নির্ধারিত সময়সীমার আগে অতিরিক্ত বিচারপতিদের স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে আইনি প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। এ নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন বা অন্য কোনো ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তাঁরা।

তবে শেষ পর্যন্ত কোন প্রক্রিয়া ও মানদণ্ডের ভিত্তিতে ওই ২২ বিচারপতিকে নির্ধারিত সময়ের আগেই স্থায়ী করা হয়েছে, সেটিই বর্তমানে উচ্চ আদালত ও আইনাঙ্গনের আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে।