ঢাকা ০৮:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা ডাকসুতে ইতিহাসের বিতর্ক, বাংলাদেশের জন্মপথ কি মুছে ফেলা যায়? জেডএফসি-২: বাংলাদেশের কমব্যাট স্পোর্টসে নতুন দিগন্ত মোংলায়  জীবাশ্ম জ্বালানির নতুন প্রকল্প না করার দাবিতে মানববন্ধন রাজশাহীতে নারীসহ আলোচিত সাবেক ওসি মাহবুব আলম আটক  বাউফলে তিন লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে দোকানে তালা দেওয়ার অভিযোগ যুবদল কর্মীর বিরুদ্ধে ভোলায় ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ মাদারীপুরে বেশি লাভের আশায় পচে গেল ৩ কোটি টাকার আলু পাথরঘাটায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির দাবিতে মানববন্ধন ভোলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ড্রেজার-বাল্কহেডসহ আটক ৭

ফসলি জমির টপসয়েল লুটের অভিযোগে ২ এস্কেভেটর অকেজো করেছে উপজেলা প্রশাসন, আটক ২জনকে কারাদন্ড ও জরিমানা

দিনের আলোয় কৃষিজমি, আর রাত নামলেই যেন মাটি লুটের ময়দান! রাজশাহীর পুঠিয়ায় রাতের আঁধারে ফসলি জমির বুক চিরে অবাধে কেটে নেওয়া হচ্ছিল জমির সবচেয়ে উর্বর উপরিভাগের মাটি। খবর পেয়ে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে দুটি এস্কেভেটর ঘটনাস্থলেই অকেজো করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। জব্দ করা হয়েছে চারটি ব্যাটারি, ধ্বংস করা হয়েছে আরও দুটি। আটক দুই ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রবিবার (৩০ আগস্ট) রাত ১০টা থেকে সোমবার (৩১ আগস্ট) রাত ১টা ১০ মিনিট পর্যন্ত পুঠিয়া উপজেলার কৈহাড়িয়া, শিলমাড়িয়া ও বারোপাখিয়া এলাকায় চলে প্রশাসনের এ অভিযান। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—শফিকুল ইসলাম (পিতা: নহির উদ্দিন) ও আলী আজগর (পিতা: সেকান্দর আলী)। তাদের প্রত্যেককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলায় প্রশাসনের নজর এড়িয়ে রাতের আঁধারকে বেছে নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমির টপসয়েল কেটে নেওয়া হচ্ছে। জমির ওপরের এই উর্বর মাটি সরিয়ে নেওয়ায় একদিকে যেমন কৃষিজমির উৎপাদনক্ষমতা কমছে, অন্যদিকে বদলে যাচ্ছে জমির স্বাভাবিক গঠন। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে মাটি বিক্রির ব্যবসা জমলেও দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরা।

অভিযোগের ভিত্তিতে গভীর রাতে অভিযানে নামে উপজেলা প্রশাসন। পৃথক দুটি স্থানে গিয়ে ফসলি জমিতে মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত দুটি এস্কেভেটর পায় অভিযানকারী দল। ভারী যন্ত্র দুটি সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ না থাকায় ঘটনাস্থলেই সেগুলো সম্পূর্ণ অকেজো করে দেওয়া হয়। এ সময় চারটি ব্যাটারি জব্দ এবং আরও দুটি ব্যাটারি ধ্বংস করা হয়। অভিযানকালে ঘটনাস্থল থেকে শফিকুল ইসলাম ও আলী আজগরকে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রত্যেককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন পুঠিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিবু দাস।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ফসলি জমির টপসয়েল কেটে নেওয়ার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। কৃষিজমির উর্বরতা ও স্বাভাবিক গঠন রক্ষায় অবৈধভাবে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

dainik madhumati

জনপ্রিয় পোস্ট

পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা

ফসলি জমির টপসয়েল লুটের অভিযোগে ২ এস্কেভেটর অকেজো করেছে উপজেলা প্রশাসন, আটক ২জনকে কারাদন্ড ও জরিমানা

আপডেটের সময় : ১১:৪৮:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

দিনের আলোয় কৃষিজমি, আর রাত নামলেই যেন মাটি লুটের ময়দান! রাজশাহীর পুঠিয়ায় রাতের আঁধারে ফসলি জমির বুক চিরে অবাধে কেটে নেওয়া হচ্ছিল জমির সবচেয়ে উর্বর উপরিভাগের মাটি। খবর পেয়ে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে দুটি এস্কেভেটর ঘটনাস্থলেই অকেজো করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। জব্দ করা হয়েছে চারটি ব্যাটারি, ধ্বংস করা হয়েছে আরও দুটি। আটক দুই ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রবিবার (৩০ আগস্ট) রাত ১০টা থেকে সোমবার (৩১ আগস্ট) রাত ১টা ১০ মিনিট পর্যন্ত পুঠিয়া উপজেলার কৈহাড়িয়া, শিলমাড়িয়া ও বারোপাখিয়া এলাকায় চলে প্রশাসনের এ অভিযান। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—শফিকুল ইসলাম (পিতা: নহির উদ্দিন) ও আলী আজগর (পিতা: সেকান্দর আলী)। তাদের প্রত্যেককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলায় প্রশাসনের নজর এড়িয়ে রাতের আঁধারকে বেছে নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমির টপসয়েল কেটে নেওয়া হচ্ছে। জমির ওপরের এই উর্বর মাটি সরিয়ে নেওয়ায় একদিকে যেমন কৃষিজমির উৎপাদনক্ষমতা কমছে, অন্যদিকে বদলে যাচ্ছে জমির স্বাভাবিক গঠন। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে মাটি বিক্রির ব্যবসা জমলেও দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরা।

অভিযোগের ভিত্তিতে গভীর রাতে অভিযানে নামে উপজেলা প্রশাসন। পৃথক দুটি স্থানে গিয়ে ফসলি জমিতে মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত দুটি এস্কেভেটর পায় অভিযানকারী দল। ভারী যন্ত্র দুটি সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ না থাকায় ঘটনাস্থলেই সেগুলো সম্পূর্ণ অকেজো করে দেওয়া হয়। এ সময় চারটি ব্যাটারি জব্দ এবং আরও দুটি ব্যাটারি ধ্বংস করা হয়। অভিযানকালে ঘটনাস্থল থেকে শফিকুল ইসলাম ও আলী আজগরকে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রত্যেককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন পুঠিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিবু দাস।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ফসলি জমির টপসয়েল কেটে নেওয়ার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। কৃষিজমির উর্বরতা ও স্বাভাবিক গঠন রক্ষায় অবৈধভাবে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।