ঢাকা ০৮:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা ডাকসুতে ইতিহাসের বিতর্ক, বাংলাদেশের জন্মপথ কি মুছে ফেলা যায়? জেডএফসি-২: বাংলাদেশের কমব্যাট স্পোর্টসে নতুন দিগন্ত মোংলায়  জীবাশ্ম জ্বালানির নতুন প্রকল্প না করার দাবিতে মানববন্ধন রাজশাহীতে নারীসহ আলোচিত সাবেক ওসি মাহবুব আলম আটক  বাউফলে তিন লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে দোকানে তালা দেওয়ার অভিযোগ যুবদল কর্মীর বিরুদ্ধে ভোলায় ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ মাদারীপুরে বেশি লাভের আশায় পচে গেল ৩ কোটি টাকার আলু পাথরঘাটায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির দাবিতে মানববন্ধন ভোলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ড্রেজার-বাল্কহেডসহ আটক ৭

কাঁচপুর-ইলিশা ফেরি চালু, বাড়ছে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগের সম্ভাবনা

  • ভোলা প্রতিনিধি :
  • আপডেটের সময় : ০৯:২২:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৩ সময়-দৃশ্য

দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুক্ত করতে বড় ধরনের যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে সরকার। আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সড়ক ও সেতু নির্মাণের মাধ্যমে ভোলাকে স্থলপথে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের কাঁচপুরে ঢাকা-ইলিশা ফেরি সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, ভোলার সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ না থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষকে নৌপথনির্ভর যোগাযোগ করতে হচ্ছে। স্থায়ী সমাধানের অংশ হিসেবে সড়ক ও সেতু নির্মাণের মাধ্যমে ভোলাকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নের আগ পর্যন্ত মানুষের যোগাযোগের সুবিধা বাড়াতে ফেরি সার্ভিস চালু রাখা হবে। তিনি বলেন, গত ২৭ আগস্ট থেকে কাঁচপুর-ইলিশা নৌপথে পরীক্ষামূলকভাবে ফেরি চলাচল শুরু হয়। কয়েকদিনের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এ রুটে যাত্রীদের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ি, পিকআপ ও পণ্যবাহী ট্রাকের ব্যাপক চাপ ও আগ্রহ রয়েছে। বর্তমানে ‘বেগম সুফিয়া কামাল’ ও ‘বেগম রোকেয়া’ নামে দুটি ফেরি প্রতিদিন চলাচল করছে। এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে সময় লাগছে প্রায় আট ঘণ্টা।

নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, মানুষের সাড়া বিবেচনায় নিয়ে এই রুটে ফেরির সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি ভাবা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভাড়া যৌক্তিক করা, যাত্রীসেবা বাড়ানো এবং ফেরিঘাটে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। তিনি আরও বলেন, ঢাকার চক্রাকার নৌপথ ও ওয়াটার বাস সার্ভিসকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়সূচি, যাত্রীদের জন্য আরামদায়ক পরিবেশ এবং নৌপথের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের সমন্বয় করা গেলে এসব সেবা আরও জনপ্রিয় হবে। এতে একদিকে মানুষের দুর্ভোগ কমবে, অন্যদিকে নৌপরিবহন খাতের লোকসানও কমানো সম্ভব হবে।

বর্ষা ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সেতুর আশপাশে অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। নিয়মবহির্ভূতভাবে বালু উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান এ টি এম আব্দুল বারী, পরিচালক (প্রশাসন) মো. রবিউল আলম, পরিচালক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামান, পরিচালক (কারিগরি) ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ হাসেমুর রহমান চৌধুরী এবং পরিচালক (অর্থ) শেখ মো. নাসিমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কাঁচপুর-ইলিশা ফেরি সার্ভিস চালুর ফলে ভোলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ী, ট্রাকচালক ও সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে এ সেবা ইতোমধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, সরাসরি এই নৌযোগাযোগ ভোলার ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতেও ভূমিকা রাখবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

danik madhumati

জনপ্রিয় পোস্ট

পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা

কাঁচপুর-ইলিশা ফেরি চালু, বাড়ছে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগের সম্ভাবনা

আপডেটের সময় : ০৯:২২:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুক্ত করতে বড় ধরনের যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে সরকার। আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সড়ক ও সেতু নির্মাণের মাধ্যমে ভোলাকে স্থলপথে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের কাঁচপুরে ঢাকা-ইলিশা ফেরি সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, ভোলার সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ না থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষকে নৌপথনির্ভর যোগাযোগ করতে হচ্ছে। স্থায়ী সমাধানের অংশ হিসেবে সড়ক ও সেতু নির্মাণের মাধ্যমে ভোলাকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নের আগ পর্যন্ত মানুষের যোগাযোগের সুবিধা বাড়াতে ফেরি সার্ভিস চালু রাখা হবে। তিনি বলেন, গত ২৭ আগস্ট থেকে কাঁচপুর-ইলিশা নৌপথে পরীক্ষামূলকভাবে ফেরি চলাচল শুরু হয়। কয়েকদিনের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এ রুটে যাত্রীদের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ি, পিকআপ ও পণ্যবাহী ট্রাকের ব্যাপক চাপ ও আগ্রহ রয়েছে। বর্তমানে ‘বেগম সুফিয়া কামাল’ ও ‘বেগম রোকেয়া’ নামে দুটি ফেরি প্রতিদিন চলাচল করছে। এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে সময় লাগছে প্রায় আট ঘণ্টা।

নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, মানুষের সাড়া বিবেচনায় নিয়ে এই রুটে ফেরির সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি ভাবা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভাড়া যৌক্তিক করা, যাত্রীসেবা বাড়ানো এবং ফেরিঘাটে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। তিনি আরও বলেন, ঢাকার চক্রাকার নৌপথ ও ওয়াটার বাস সার্ভিসকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়সূচি, যাত্রীদের জন্য আরামদায়ক পরিবেশ এবং নৌপথের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের সমন্বয় করা গেলে এসব সেবা আরও জনপ্রিয় হবে। এতে একদিকে মানুষের দুর্ভোগ কমবে, অন্যদিকে নৌপরিবহন খাতের লোকসানও কমানো সম্ভব হবে।

বর্ষা ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সেতুর আশপাশে অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। নিয়মবহির্ভূতভাবে বালু উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান এ টি এম আব্দুল বারী, পরিচালক (প্রশাসন) মো. রবিউল আলম, পরিচালক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামান, পরিচালক (কারিগরি) ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ হাসেমুর রহমান চৌধুরী এবং পরিচালক (অর্থ) শেখ মো. নাসিমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কাঁচপুর-ইলিশা ফেরি সার্ভিস চালুর ফলে ভোলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ী, ট্রাকচালক ও সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে এ সেবা ইতোমধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, সরাসরি এই নৌযোগাযোগ ভোলার ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতেও ভূমিকা রাখবে।