ঝালকাঠির রাজাপুরে বিষখালী নদীর ঢেউয়ে ধসে গেছে একটি গ্রামীণ সড়কের বড় অংশ। এতে ছয়টি গ্রামের মানুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। গত রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার মঠবাড়ি ইউনিয়নের পূর্ব বাদুরতলা গ্রামের বাদুরতলা বাজারের দক্ষিণ মাথা এলাকায় নদীতীরের সড়কটি ভেঙে যায়। পাশাপাশি তলিয়ে যায় ৪০-৫০ শতক জমিও। বাদুরতলার বাসিন্দা বেল্লালের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে বিষখালী নদীতীরে ভাঙন চলছে। তবে ভাঙন রোধে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। রোববার সকালে যে সড়কটি ভেঙে গেছে, বাকি অংশও যেকোনো সময় নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। রোববার থেকে দক্ষিণ বাদুরতলা, বাদুরতলা, পশ্চিম বাদুরতলা, গুরাভাঙ্গা, চল্লিশকাহনিয়া, পূর্ব উত্তমপুর, চুনপুরিসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েছেন। এসব এলাকার অন্তত পাঁচটি বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা রয়েছে। সেখানকার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও বিপাকে পড়েছেন।
একই এলাকার আবু হানিফ, শহিদুল, নাসির মল্লিক, সেন্টুসহ কয়েকজনের দেওয়া তথ্যমতে, বাদুরতলা বাজারের দক্ষিণ মাথার এই সড়কটি আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচলের অন্যতম প্রধান পথ। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণিপেশার হাজারো মানুষ সড়কটি ব্যবহার করেন। নদীভাঙনে সড়কের বড় একটি অংশ বিলীন হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বর্ষা ও নদীর পানি বাড়লে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে তারা বলেন, না হলে শুধু সড়ক নয়, আশপাশের বসতভিটা ও ফসলি জমিও নদীতে চলে যেতে পারে।
সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের কথা জানিয়ে মঠবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফোরক সিকদার বলেন, নদীভাঙনের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। ভাঙনের কারণে স্থানীয় মানুষের চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি জানান, বিষখালী নদীতীরে সড়কের একাংশ তলিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জেনেছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি তাঁকে বিষয়টি জানিয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
ঝালকাঠি প্রতিনিধি : 


















