দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে ফরিদপুরের ভাঙ্গার কুমার নদ। ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই শতাধিক বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশ্বকর্মা পূজা উপলক্ষে আয়োজিত এ নৌকা বাইচ ঘিরে নদীর দুই পাড়ে নামে মানুষের ঢল। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার কুমার নদের চরকান্দা পয়েন্ট থেকে ভাঙ্গা খাদ্যগুদাম এলাকা পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটারজুড়ে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২৬টি বাইচের নৌকা অংশ নেয়। সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ঐতিহ্যবাহী এ নৌকা বাইচের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
নৌকা বাইচ দেখতে বিকেল থেকেই কুমার নদের দুই পাড়ে জড়ো হতে থাকেন হাজারো মানুষ। আশপাশের ভবনের ছাদ, ব্রিজ ও নদীর তীরে ছিল দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে ট্রলার ও নৌকা ভাড়া করে নদীতে নেমে উপভোগ করেন রোমাঞ্চকর এ প্রতিযোগিতা। উৎসবকে কেন্দ্র করে নদীর দুই তীরে বসে নানা ধরনের অস্থায়ী দোকান। মিষ্টি, খাবার ও গৃহস্থালি পণ্যের দোকানে ছিল ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড়। সব মিলিয়ে পুরো এলাকা পরিণত হয় উৎসবের মিলনমেলায়। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ও আয়োজনের মূল উদ্যোক্তা ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, দীর্ঘদিন পর ভাঙ্গাবাসীর প্রাণের দাবি পূরণ হয়েছে। লোকসংস্কৃতির শেকড়ের টানে নৌকা বাইচসহ জারি ও সারি গানের মতো আমাদের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যগুলো ফিরিয়ে আনতে হবে।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী বড় বাইচের নৌকাগুলোকে ফ্রিজ এবং ছোট নৌকাগুলোকে রঙিন টেলিভিশন পুরস্কার হিসেবে তুলে দেন অতিথিরা। ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজালুর রহমান খান পলাশ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. শামীমুজ্জামান, ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লা এবং ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
ফরিদপুর প্রতিনিধি : 


















