বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে পারিবারিক কলহের চরম জেরে মাত্র দুই বছরের একটি অবুঝ শিশুকে রাস্তার পাশে ফেলে যাওয়ার অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের তৎপরতা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে শিশুটিকে শেষ পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। শিশুটির বাবা ঢাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় (গার্মেন্টস) চাকরি করেন এবং শিশুটি এতদিন নানীর কাছে লালন-পালন হচ্ছিল বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় মোড়েলগঞ্জের বারুইখালী এলাকার রাস্তার পাশে ছোট্ট শিশুটিকে একা কান্নাকাটি করতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শিশুটির পরিচয় শনাক্ত করে তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়ে শিশুটিকে গ্রহণ করতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানান। পারিবারিক কোন্দল ও কলহের বলি হয়ে এই নিষ্পাপ শিশুটির ঠাঁই হয় রাস্তার ধারে।
এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে মোড়েলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আমলে নেন। তিনি শিশুটির ঢাকার কর্মরতে থাকা বাবার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন। শিশুটির বাবা তিন দিনের সময় প্রার্থনা করেন।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে এবং শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, ওই তিন দিনের নির্ধারিত সময়ের জন্য শিশুটিকে তার ফুপুর জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
পারিবারিক কলহের জেরে এমন একটি ফুটফুটে শিশুকে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। সচেতন মহল মনে করছেন, পারিবারিক ভাঙন ও দায়িত্বহীনতা কোন পর্যায়ে পৌঁছালে মা-বাবা বা স্বজনরা এমন অমানবিক কাজ করতে পারে, এই ঘটনা তার একটি নির্মম উদাহরণ। প্রশাসন ও স্থানীয় সুধী সমাজ শিশুটির স্থায়ী নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।#
।
মোড়েলগঞ্জ প্রতিনিধিঃ 


















