ঢাকা ০৯:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদের শিরোনাম :
পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা ডাকসুতে ইতিহাসের বিতর্ক, বাংলাদেশের জন্মপথ কি মুছে ফেলা যায়? জেডএফসি-২: বাংলাদেশের কমব্যাট স্পোর্টসে নতুন দিগন্ত মোংলায়  জীবাশ্ম জ্বালানির নতুন প্রকল্প না করার দাবিতে মানববন্ধন রাজশাহীতে নারীসহ আলোচিত সাবেক ওসি মাহবুব আলম আটক  বাউফলে তিন লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে দোকানে তালা দেওয়ার অভিযোগ যুবদল কর্মীর বিরুদ্ধে ভোলায় ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ মাদারীপুরে বেশি লাভের আশায় পচে গেল ৩ কোটি টাকার আলু পাথরঘাটায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির দাবিতে মানববন্ধন ভোলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ড্রেজার-বাল্কহেডসহ আটক ৭

ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার ট্রাম্পের পরিকল্পনায় বড় বাধা চীন-রাশিয়া

ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে চাপ প্রয়োগের পরিকল্পনা করছেন, তা চীন ও রাশিয়ার কারণে বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ইরানের গুরুত্বপূর্ণ দুই বাণিজ্যিক অংশীদার চীন ও রাশিয়ার ওপর ওয়াশিংটনের প্রভাব সীমিত হওয়ায় ট্রাম্পের অর্থনৈতিক চাপ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা করা দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন ট্রাম্প। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে এটিকে ‘এখন পর্যন্ত কোনো দেশের বিরুদ্ধে নেওয়া সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান’ এবং ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে অভিহিত করেন। ট্রাম্প বলেন, যেসব দেশ ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করবে, তাদেরও ‘বিরাট অর্থনৈতিক পরিণতি’ ভোগ করতে হবে। তেল পাচার, অর্থ স্থানান্তর, এক্সচেঞ্জ হাউস, জাহাজ নিবন্ধন ও বিভিন্ন ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইরানকে সহায়তা বন্ধ করারও আহ্বান জানান তিনি।

তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে এমন সমন্বিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে গেলে বড় বাধার মুখে পড়বে। কাতারের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি সহযোগী অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ বলেন, চীন, রাশিয়া এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের মতো শক্তিগুলোর সহযোগিতা ছাড়া ট্রাম্পের চাপ প্রয়োগের উদ্যোগ কার্যকর করা কঠিন হবে।

চীনকে চাপে ফেলা কঠিন: ইরানের সঙ্গে চীনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ভাঙা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হতে পারে। বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরান থেকে সমুদ্রপথে রপ্তানি হওয়া তেলের প্রায় ৮০ শতাংশ কিনেছে চীন। তবে চীনের অধিকাংশ তেল শোধনাগার স্বাধীনভাবে পরিচালিত হওয়ায় মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার ওপর তাদের নির্ভরতা তুলনামূলক কম। ফলে ইরানি তেল কেনার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে চীনের বাণিজ্য বন্ধ করা কঠিন হতে পারে।

ব্র্যান্ডাইস ইউনিভার্সিটির মধ্যপ্রাচ্য অর্থনীতির অধ্যাপক নাদের হাবিবি মনে করেন, ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চীনকেও চাপ দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। তবে চীনের সঙ্গে এমন পদক্ষেপ নেওয়া ওয়াশিংটনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

চীন-এশিয়া-প্যাসিফিক বিষয়ে চ্যাথাম হাউসের জ্যেষ্ঠ গবেষক ইউ জিয়ে বলেন, ইরানের অর্থনৈতিক সহযোগীদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের হুমকি চীনের সঙ্গে তেহরানের বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক বদলানোর সম্ভাবনা কম। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ানও বলেছেন, আরও নিষেধাজ্ঞা সমস্যার সমাধানে সহায়ক হবে না। তিনি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানের আহ্বান জানান।

রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের বিকল্প ব্যবস্থা: রাশিয়া ইরানের তুলনামূলক ছোট বাণিজ্যিক অংশীদার হলেও দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে বাণিজ্য পরিচালনার ক্ষেত্রেও মস্কো ও তেহরান নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রাশিয়া ও ইরান ২০ বছরের একটি কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি করে। রুশ জ্বালানিমন্ত্রী সের্গেই তসিভিলেভের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৮০ কোটি ডলারে। এর পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তেল এবং সামরিক সরঞ্জাম নিয়েও দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য রয়েছে। ক্যাস্পিয়ান সাগর দিয়ে ইরানে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে।

এনবিসি নিউজ সোমবার একটি ইউরোপীয় সরকারি নথির বরাত দিয়ে জানায়, রাশিয়া সমুদ্রপথে ইরানে ড্রোনের যন্ত্রাংশ, গোলাবারুদ ও টিএনটি পাঠিয়েছে। রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ব্যাপক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ফলে মস্কোকে নতুন করে অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে ইরান থেকে বিচ্ছিন্ন করার সুযোগও তুলনামূলক সীমিত।

বিকল্প অর্থনৈতিক পথ খুঁজছে ইরান: এদিকে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক চাপের সমালোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি মার্কিন নীতিকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ বিশ্ব অর্থনীতি ও দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। পশ্চিমা অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে বিকল্প অর্থনৈতিক পথ তৈরির চেষ্টাও করছে তেহরান। ব্রিকসের সদস্য ইরান সম্প্রতি ব্রিকস নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মাতি বলেছেন, ব্যাংকটিতে যোগ দিতে চায় তেহরান। পাশাপাশি ব্রিকসের দেশগুলোর নিজস্ব মুদ্রায় লেনদেন এবং দ্বিপক্ষীয় ও ত্রিপক্ষীয় মুদ্রা সহযোগিতার কথাও জানিয়েছে ইরান।

তেহরানের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের বিশ্লেষক আলী আকবর দারেইনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘শ্বাসরোধকারী’ নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইরান এগিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজে নেবে। তার মতে, ট্রাম্প এমন এক যুদ্ধে আটকে পড়েছেন, যা তিনি জিততে পারছেন না আবার বেরিয়েও আসতে পারছেন না। সূত্র : আল জাজিরা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

dainik madhumati

জনপ্রিয় পোস্ট

পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা

ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার ট্রাম্পের পরিকল্পনায় বড় বাধা চীন-রাশিয়া

আপডেটের সময় : ০৭:১৬:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে চাপ প্রয়োগের পরিকল্পনা করছেন, তা চীন ও রাশিয়ার কারণে বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ইরানের গুরুত্বপূর্ণ দুই বাণিজ্যিক অংশীদার চীন ও রাশিয়ার ওপর ওয়াশিংটনের প্রভাব সীমিত হওয়ায় ট্রাম্পের অর্থনৈতিক চাপ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা করা দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন ট্রাম্প। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে এটিকে ‘এখন পর্যন্ত কোনো দেশের বিরুদ্ধে নেওয়া সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান’ এবং ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে অভিহিত করেন। ট্রাম্প বলেন, যেসব দেশ ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করবে, তাদেরও ‘বিরাট অর্থনৈতিক পরিণতি’ ভোগ করতে হবে। তেল পাচার, অর্থ স্থানান্তর, এক্সচেঞ্জ হাউস, জাহাজ নিবন্ধন ও বিভিন্ন ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইরানকে সহায়তা বন্ধ করারও আহ্বান জানান তিনি।

তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে এমন সমন্বিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে গেলে বড় বাধার মুখে পড়বে। কাতারের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি সহযোগী অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ বলেন, চীন, রাশিয়া এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের মতো শক্তিগুলোর সহযোগিতা ছাড়া ট্রাম্পের চাপ প্রয়োগের উদ্যোগ কার্যকর করা কঠিন হবে।

চীনকে চাপে ফেলা কঠিন: ইরানের সঙ্গে চীনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ভাঙা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হতে পারে। বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরান থেকে সমুদ্রপথে রপ্তানি হওয়া তেলের প্রায় ৮০ শতাংশ কিনেছে চীন। তবে চীনের অধিকাংশ তেল শোধনাগার স্বাধীনভাবে পরিচালিত হওয়ায় মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার ওপর তাদের নির্ভরতা তুলনামূলক কম। ফলে ইরানি তেল কেনার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে চীনের বাণিজ্য বন্ধ করা কঠিন হতে পারে।

ব্র্যান্ডাইস ইউনিভার্সিটির মধ্যপ্রাচ্য অর্থনীতির অধ্যাপক নাদের হাবিবি মনে করেন, ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চীনকেও চাপ দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। তবে চীনের সঙ্গে এমন পদক্ষেপ নেওয়া ওয়াশিংটনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

চীন-এশিয়া-প্যাসিফিক বিষয়ে চ্যাথাম হাউসের জ্যেষ্ঠ গবেষক ইউ জিয়ে বলেন, ইরানের অর্থনৈতিক সহযোগীদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের হুমকি চীনের সঙ্গে তেহরানের বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক বদলানোর সম্ভাবনা কম। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ানও বলেছেন, আরও নিষেধাজ্ঞা সমস্যার সমাধানে সহায়ক হবে না। তিনি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানের আহ্বান জানান।

রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের বিকল্প ব্যবস্থা: রাশিয়া ইরানের তুলনামূলক ছোট বাণিজ্যিক অংশীদার হলেও দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে বাণিজ্য পরিচালনার ক্ষেত্রেও মস্কো ও তেহরান নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রাশিয়া ও ইরান ২০ বছরের একটি কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি করে। রুশ জ্বালানিমন্ত্রী সের্গেই তসিভিলেভের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৮০ কোটি ডলারে। এর পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তেল এবং সামরিক সরঞ্জাম নিয়েও দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য রয়েছে। ক্যাস্পিয়ান সাগর দিয়ে ইরানে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে।

এনবিসি নিউজ সোমবার একটি ইউরোপীয় সরকারি নথির বরাত দিয়ে জানায়, রাশিয়া সমুদ্রপথে ইরানে ড্রোনের যন্ত্রাংশ, গোলাবারুদ ও টিএনটি পাঠিয়েছে। রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ব্যাপক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ফলে মস্কোকে নতুন করে অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে ইরান থেকে বিচ্ছিন্ন করার সুযোগও তুলনামূলক সীমিত।

বিকল্প অর্থনৈতিক পথ খুঁজছে ইরান: এদিকে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক চাপের সমালোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি মার্কিন নীতিকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ বিশ্ব অর্থনীতি ও দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। পশ্চিমা অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে বিকল্প অর্থনৈতিক পথ তৈরির চেষ্টাও করছে তেহরান। ব্রিকসের সদস্য ইরান সম্প্রতি ব্রিকস নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মাতি বলেছেন, ব্যাংকটিতে যোগ দিতে চায় তেহরান। পাশাপাশি ব্রিকসের দেশগুলোর নিজস্ব মুদ্রায় লেনদেন এবং দ্বিপক্ষীয় ও ত্রিপক্ষীয় মুদ্রা সহযোগিতার কথাও জানিয়েছে ইরান।

তেহরানের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের বিশ্লেষক আলী আকবর দারেইনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘শ্বাসরোধকারী’ নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইরান এগিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজে নেবে। তার মতে, ট্রাম্প এমন এক যুদ্ধে আটকে পড়েছেন, যা তিনি জিততে পারছেন না আবার বেরিয়েও আসতে পারছেন না। সূত্র : আল জাজিরা